নতুন চাকরি খোঁজ করার সময় যে কাজগুলো করা উচিত না

গ্র্যাজুয়েশনের পর অনেকদিন হয়ে গেলো চাকরি পাচ্ছো না। নানাদিকে খোঁজ চালিয়েও কোনো সুবিধা করতে পারছো না। দিন দিন চারদিক অন্ধকার হয়ে আসছে। ক্রমেই হতাশা বেড়ে চলেছে। অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে আর কতো দিন? কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও একটি চাকরি জোগাড় হচ্ছেই না। আবার অনেকে হয়তো পুরনো চাকরি ছেড়ে দিয়ে নতুন চাকরির খোঁজ করছো। কিন্তু কোনোভাবেই গুছিয়ে উঠতে পারছো না। কিছু একটা ভুল হয়তো বারবার হয়ে যাচ্ছে যা তোমার চোখে পড়ছে না।


গ্র্যাজুয়েশনের পরপর পছন্দ মতো চাকরি পাওয়ার কাজটা যথেষ্ট কঠিন; ছবিসূত্র – Lynda.com

এমন কিছু কাজ রয়েছে, যা কখনোই চাকরি খোঁজ করার সময় করা উচিত না। এই ভুল কাজগুলোর জন্যই তোমার অনেক ভালো ভালো সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। কী এমন সেই সব কাজ? চলো দেখে নেই সেই কাজগুলো এবং এর সমাধান কী হবে তাও জেনে নেই।

IQ তথা Intelligence Quotient পরীক্ষা সবখানেই অনেক সমাদৃত। এখন ১০ মিনিট স্কুলের সাথে ঘরে বসেই পরীক্ষা করে নাও তোমার IQ! পরীক্ষা করে নাও তোমার IQ

সিভি ঠিকমতো না লিখা

তুমি হয়তো ভাবছো একটা রেজুমে জমা দিবে। সেখানে আবার ঠিক/ভুল কীসের? কিন্তু, যারা তোমাকে চাকরি দিচ্ছে, তাদের কাছে একই পোস্টের জন্য প্রতিদিন এইরকম শতখানেক রেজুমে জমা হয়। এর মধ্যে থেকে তাদের কাছে যেগুলো যোগ্য মনে হয়, সেই প্রার্থীদেরকেই তারা ডাকে। তারা দেখতে চায়, তোমার রিজিউমে যা আছে তা দিয়ে তাদের কোম্পানিকে তুমি কতোটা সাহায্য করতে পারবে। তুমি তাদের প্রয়োজন মিটাতে পারছো কি না।


সিভি লেখার সময় চাকরির সাথে আনুষঙ্গিক সবকিছু লিখে দাও; ছবিসূত্র – Youth Village Kenya

এজন্য রেজুমে লিখার সময় তাদের কোম্পানিতে এবং পোস্টে সহায়তা করবে এমন কী কী স্কিল তোমার জানা আছে তা সব লিখে দাও। তুমি ছাত্রজীবনে কোথায় কোথায় কাজ করেছো, কোন কোন ক্লাবের সাথে যুক্ত ছিলে, কোথাও ইন্টার্নশিপ করেছো কিনা তা সব উল্লেখ করে দাও। হতে পারে এইসবের জন্যই তারা তোমাকে ডাক দিলো সাক্ষাৎকারের জন্য। অনেকেই সিভি এর সাথে একটি কভার লেটার দেয়ার কথা ভুলে যায়। তুমি যদি কারো কাছে সিভি পাঠাও, তাহলে কেনো তার কাছে সিভি পাঠাচ্ছো, সেটিও উল্লেখ করার নিয়ম আছে। এটি ভুলে গেলে চলবে না। তুমি যদি খামে করে সিভি পাঠাও, তাহলে সিভি এর পাশাপাশি আলাদা একটি কাগজে কভার লেটার লিখে একই খামে করে পাঠানো উচিত। আর যদি সিভি ইমেইলে পাঠাও, তাহলে কভার লেটারের জন্য আলাদা ফাইল তৈরি না করে, ইমেইলের বডিতেই সেই কভার লেটার লিখে দেয়া উত্তম।

ঘুরে আসুন: বিজি লাইফকে ইজি করতে গুগল: OK Google

সীমিত পর্যায়ে চাকরি খোঁজা

অনেকেই চাকরি খোঁজ করার সময় পড়ালেখার ব্যাকগ্রাউন্ড ধরে নিয়ে কেবল চাকরি খোঁজ করে। এটি আসলে মস্ত বড় একটি ভুল। তোমার যোগ্যতা অনুযায়ী যতো জায়গায় আবেদন করা সম্ভব, তার সব কটিতেই আবেদন করে রাখো। পাশাপাশি তোমার যদি মনে হয় অন্য কোথায় তোমার পক্ষে কাজ করা সম্ভব, তাহলে সেখানেও আবেদন করো। তুমি কখনোই জানো না তোমার শেষ গন্তব্য কোথায় হবে। তাই কেবল হাতে গোনা নির্দিষ্ট কয়েক জায়গায় আবেদন করে বসে না থেকে পছন্দমতো সব জায়গায় আবেদন করো। আর নতুন অভিজ্ঞতার জন্য হলেও তো আবেদন করা উচিত। একটি ব্যর্থ ইন্টারভিউ এর ভুল থেকে শিখার অভিজ্ঞতা হয়তো তোমাকে আরেকটি চাকরি পাইয়ে দিতে সাহায্য করবে।  


সীমিত পর্যায়ে চাকরি না খুঁজে সর্বত্র খোঁজ চালিয়ে যাও; ছবিসূত্র – Medium

অযথা আবেদন করা

এইমাত্র বললাম সব জায়গায় আবেদন করার জন্য, আবার এখনই বলছি অযথা আবেদনের কথা! ব্যাপারটা আসলেই একটু কেমন যেনো। আচ্ছা ধরো, সারাজীবন ব্যবসা ধারায় পড়াশোনা করা একজনকে সি++ প্রোগ্রামিং এর কাজ দেয়া হলো। সে কি তা পারবে? স্বাভাবিকভাবেই তার পারার কথা না। তুমি যদি কোনো রকমে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ঢুকেও পড়ো, পরবর্তিতে কিন্তু বেশ ভালো ঝামেলায় পড়বে। তাই কোনো মতেই নিজের যোগ্যতার বাহিরে কোথাও আবেদন করা উচিত নয়। তুমি হয়তো অনেক জায়গায় ঘুরে ঘুরে আবেদন করছো। কিন্তু কোথাও ডাক পাচ্ছো না। তার একটি বড় কারণ হতে পারে, তোমার যোগ্যতা সেই কোম্পানিকে সন্তুষ্ট করতে পারছে না। তাই যোগ্যতা বুঝে আবেদন করো।  

একেকজনকে একেক জবাব দেয়া

ভাইভা বোর্ডে কিন্তু একজন একা লোক বসে ভাইভা নেয় না। সেখানে অন্তত ৩-৫ জন সদস্য থাকেই। একটি প্রশ্নের জের ধরে তারা একাধিক প্রশ্ন করতেই পারে। তখন তুমি যদি দুইজনকে দুইরকম জবাব দাও, তাহলে সেটা তোমার জন্যই ক্ষতিকর। ভাইভার সময় নিজের ব্যাপারে সবকিছু সরলভাবে বলো। কখনো বেশি তথ্য আনতে যাবে না। তাহলে তুমি নিজেই সমস্যায় পড়ে যেতে পারো। চেষ্টা করবে সকল প্রশ্নের উত্তর সহজ ও বোধগম্যভাবে দেয়ার জন্য। যদি তুমি বেশি পেঁচাতে যাও, তাহলে ইন্টারভিউ বোর্ডও তোমাকে পেঁচাবে। যার ফল স্বরূপ তোমার চাকরির সুযোগটাই হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। মনে রাখবে, দুই মুখো তরবারি দুই দিকেই কাটে।


একেকজন প্রশ্নকর্তাকে একেক উত্তর দেয়া ঠিক না; ছবিসূত্র – blog.usejournal.com

পূর্বের সহকর্মীদের অপমান করা

ধরে নিলাম তোমার পূর্ববর্তী কাজের জায়গাটা বেশি একটা সুবিধার ছিলো না। স্বাধীনমত কাজ করার সুযোগ ছিলো না। বস খারাপ। অযথা কষ্ট দিতো অনেক। বেতন ঠিকমতো দেয় না। অন্যান্য সহকর্মীরা তোমার কাজে সহযোগীতা করতো না। কিন্তু তাই বলে নতুন জায়গায় ভাইভা দেয়ার সময় সেই বিষয়গুলো ভুলেও মাথায় রাখবেন না। তুমি যদি নতুন জায়গায় ইন্টারভিউ দিতে এসে তোমার আগের সহকর্মীদের ব্যাপারে নেতিবাচক মন্তব্য করো, তবে তা ইন্টারভিউ বোর্ড ভালো চোখে দেখবে না। তুমি আগের চাকরিটি কেনো ছেড়ে দিতে চাচ্ছো সেই ব্যাপারে তারা একটি ইতিবাচক মন্তব্য শুনতে চায়। আগের চাকরিটি ছেড়ে দিয়ে কেনো এখানে আসতে চাচ্ছো, তার একটি সুন্দর জবাব দেয়া উচিত। কিন্তু তুমি যদি পরিস্থিতির দোষ দিয়ে থাকো, তাহলে এখানেও যে আগের পরিস্থিতির শিকার হবে না, তার কী নিশ্চয়তা। 

জেনে নাও Google Analytics এর ব্যাপারে!

বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ছলতে গেলে জানা লাগে অনেক কিছু। তাই এখান থেকে দেখে নিতে পারো Google Analytics এর খুঁটিনাটি।

আর দেরি না করে, মজায় মজায় গণিত শিখতে আজই ঘুরে এস ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লে-লিস্টটি থেকে!

১০ মিনিট স্কুলের অঙ্ক ভিডিও সিরিজ

পোশাক নিয়ে খামখেয়ালি এবং বাড়াবাড়ি

তোমার বেশভূষার উপরও নির্ভর করে একটি জায়গায় তুমি চাকরি পাবে নাকি পাবে না। একটি ভাইভা বোর্ডের সামনে ফর্মাল ড্রেসে যাওয়াটাই নিয়ম। চাকরিদাতারা চায় একটি ফর্মালিটির মধ্যে দিয়ে যেতে। তারা চায় তোমার মধ্যে একটি প্রফেশনাল ভাব থাকুক। তোমার ড্রেস-আপ সেন্স যদি তাদের পছন্দ না হয়, তবে তারা তোমাকে বাদ দিতেও পারে। আবার অনেকে ড্রেস-আপের ব্যাপারে একটু বেশি বেশিই করে ফেলে। বেশিরভাগ ইন্টারভিউয়ারের মতে, অতিরিক্ত পারফিউম এবং মেকাপ তাদের পছন্দ নয়। তারা এমন অনেক যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়েছে কেবল এই বাড়াবাড়ির জন্য। তাই সুগন্ধি এবং মেকাপ যাতে দুইপক্ষের মাঝে বাঁধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।


পোশাক হওয়া চাই ফর্মাল; ছবিসূত্র – Financial Times

ছেলেদের ক্ষেত্রে ফর্মাল ড্রেস বলতে শার্ট এবং প্যান্ট বোঝায়। কেউ যদি স্যুট পরে থাকে, তাহলে স্যুটের রঙের সাথে প্যান্টের রঙ মিল হতে হবে। শুধু এইটুকুই নয়। তুমি কোন রঙের শু পরেছো, তার সাথে তোমার বেল্টের রঙও মিল হতে হবে। খয়েরি রঙের শু পরে যদি সাথে কালো রঙের বেল্ট পরো, তাহলে তা বেমানান দেখায়। হাত ঘড়ির বেল্টের রংটিও যাতে শু এবং বেল্টের রঙের সাথে মিল থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে ফরমাল ড্রেস বলতে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, শার্ট-প্যান্ট, স্যুট সবই চলে। তবে এক্ষেত্রে অতিরিক্ত মেকাপ পরিহার করাই শ্রেয়।

ঘুরে আসুন: লাইফ ইজি করতে গুগলের নানান সেবা!!

হতাশা প্রকাশ করা

তুমি হন্যে হয়ে চাকরি খুঁজছো ঠিকই। কিন্তু নতুন যাদের কাছে ইন্টারভিউ দিচ্ছো, তাদের তো এই ব্যাপারে কোনো কোনো হাত নেই। হতাশা জেঁকে বসলেও ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে যতটুকু সম্ভব, নিজের হতাশা লুকিয়ে রাখো। তাদের এমন ভাব দেখাও যেনো, এই চাকরির ব্যাপারে তুমি খুবই আগ্রহী। চাকরিটি পেলে তুমি তোমার নিজের শতভাগ ঢেলে দিতে পারবে। কিন্তু তারা যেনো ভুলেও বুঝতে না পারে যে, এই চাকরিটা না হলে তুমি অনেক সমস্যায় পড়বে। তারা চায় আত্মবিশ্বাসী লোককে সুযোগ দিতে। সেখানে তুমি যদি আরও হতাশা প্রকাশ করে আসো, তাহলে সেখানে তোমার কিছু হচ্ছে না ধরে নিতে পারো। তাই, নিজের আত্মবিশ্বাসের জোর অবশ্যই মজবুত রাখতে হবে।  


চাকরি না পাওয়ার পিছনে সম্ভাব্য কারণ; ছবিসূত্র – Resume Scanner for Job seekers

হাল ছেড়ে দেয়া

অনেক জায়গায় ইন্টারভিউ দিয়ে দিয়ে ফেলেছো। কিন্তু কোনো জায়গা থেকেই ভালো কোনো খবর পাচ্ছো না। এই অবস্থায় ভুলেও হাল ছেড়ে দেয়া চলবে না। চেষ্টা চালিয়ে যাও। তোমার যোগ্যতাই তোমাকে এক জায়গায় পৌঁছে দিবে। সৃষ্টিকর্তার প্রতি প্রার্থনা করো এবং তাঁর প্রতি ভরসা রাখো। পরিশ্রম করে গেলে সাফল্য আসবেই। “তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না” কথায় কান না দিয়ে, “তোমাকে দিয়েই সম্ভব” কথায় ভরসা রাখো।

এখন স্মার্টবুকের সাথে পড়াশোনা হবে আর স্মার্টভাবে! এই লিঙ্কে চলে যাও আর দেখে নাও আমাদের স্মার্টবুকগুলো। আমাদের স্মার্টবুকগুলো!


হাল ছেঁড়ে দেয়া চলবে না; ছবিসূত্র – Tenor

বর্তমানে চাকরি বাজার মানেই এক অসম প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকলে হলে চাই নিজের প্রতি প্রবল আত্মবিশ্বাস। নিজের উপর এবং সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা রাখো। তোমার যদি যোগ্যতা থাকে, তাহলে তোমার কোনো না কোনো গতি হবেই। আর তুমি যদি বর্তমানে শিক্ষার্থী হয়ে থাকো, তাহলে আজই একটি সিভি তৈরি করে ফেলো। সেখানে লিস্ট করে ফেলো গ্রেজুয়েশনের পর তুমি নিজেকে কোন উচ্চতায় দেখতে চাও এবং সেই মোতাবেক কাজও শুরু করে দাও। যখনই কোনো প্রতিযোগিতার আমন্ত্রণ পাবে, চেষ্টা করবে সেখানে অংশগ্রহণ করার। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্যই কোনো না কোনো ক্লাবের হয়ে কাজ করবে। দেখবে বছর শেষে তোমার সিভি এমনিতেই অনেক ভারী হয়ে গিয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ

১. https://www.thebalance.com/things-not-to-do-when-getting-hired-2062195         

২.https://www.forbes.com/sites/lizryan/2016/05/04/ten-things-never-to-do-when-youre-job-hunting/#427a5af268db


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?