যে খাবারগুলো খেলে বুদ্ধি খুলবে আপনার

কখনও কি পরীক্ষার মাঝে বসে মনে হয়েছে যে, “ইশ! কেনো যে ভুলে গেলাম। আমার স্মরণশক্তি যদি আরেকটু ভালো হতো!” কিংবা কখনও কি মনে হয়েছে যে বুদ্ধি করে যদি এই কাজটা করে ফেলতে পারতাম, কতই না ভালো হতো?  
আমরা অনেকেই অনেক সময় আমাদের স্মরণশক্তি নিয়ে আফসোস করি এবং অনেকে অনেক কিছুই করি এই স্মরণশক্তি বৃদ্ধির জন্য। অনেকে অনেক ধরণের ব্যায়াম করার চিন্তা করে। সেটি আবার একদিন করা হয় তো আরেকদিন করা হয়না। কিন্তু আমাদের স্মরণশক্তি, বুদ্ধি বৃদ্ধিতে, মস্তিষ্কের উপকারের জন্য আমরা এমন কিছু একটা করতে পারি যেটা আমরা না চাইলেও প্রতিনিয়ত করে থাকি। কী সেটা? খাওয়া।

আমরা প্রতিদিনই খাওয়াদাওয়া করছি। শুধু একটু খেয়াল করে এই খাওয়ার অভ্যাস এ কিছুটা পরিবর্তন আনলেই আমাদের মস্তিষ্কের অনেক উন্নতি সম্ভব। আমাদের পুরো শরীর একটি সিস্টেম এর মত কাজ করে যার কেন্দ্রই হচ্ছে আমাদের মস্তিষ্ক। মস্তিষ্ক থেকেই সমস্ত সংকেত আমাদের শরীরের সমস্ত অংশে পৌঁছে আমাদের শরীরকে কর্মক্ষম করে তোলে। আমাদের হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস, হাঁটা-চলা এমনকি আমাদের চিন্তাভাবনার কাজসহ শরীরের যাবতীয় কাজ করার জন্য মস্তিষ্ক সহায়তা করে। আর এই মস্তিষ্কের ক্ষমতা যাতে ঠিক থাকে সেদিকটা আমাদের খেয়াল রাখা উচিৎ।

এবার ঘরে বসেই হবে মডেল টেস্ট! পরীক্ষা শেষ হবার সাথে সাথেই চলে আসবে রেজাল্ট, মেরিট পজিশন। সাথে উত্তরপত্রতো থাকছেই! মডেল টেস্ট

চলুন আজকে দেখে নেয়া যাক মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে আমাদের স্মরণশক্তি ও বুদ্ধি বৃদ্ধি করে এমন কিছু খাবার সম্পর্কে-

১. মাছ

কথায় আছে, ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’। কিন্তু আমাদের এখনকার সময়ের অনেক ছেলেমেয়েই মাছের নাম শুনলে নাকমুখ কুঁচকে ফেলে। কিন্তু মস্তিষ্কের উপকারী খাবারের কথা বলতে গেলে কিন্তু এই মাছ এর নামই সবার আগে চলে আসে। বিশেষ করে স্যালমন মাছ, সামুদ্রিক পোনা মাছ আর মিঠা পানির বড় মাছ মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী। এগুলোতে রয়েছে ওমেগা-৩-ফ্যাটি অ্যাসিড।

ঘুরে আসুন: Google Keep এর ১০টি দারুণ সেবা!

আমাদের মস্তিষ্কের ৬০%-ই  চর্বি যার মাঝের আবার অর্ধেক হচ্ছে ওমেগা-৩-ফ্যাটি অ্যাসিড এর মত। আমাদের মস্তিষ্ক আর ভিতরকার কোষগুলো তৈরির জন্য ওমেগা-৩-ফ্যাটি অ্যাসিড এর সাহায্য নেয়। এমনকি এই ওমেগা-৩-ফ্যাটি অ্যাসিড আমাদের নতুন কিছু শেখার এবং মনে রাখার জন্য মস্তিষ্ককে সাহায্য করে।

এছাড়া এই ওমেগা-৩ এর আরও কিছু উপকার রয়েছে। যেমন – এটি মানবদেহে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে যে মানসিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয় তা রোধ করে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ওমেগা-৩ না পেলে আমাদের মস্তিষ্ক সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না এবং এতে করে আমাদের কোন কিছু শেখার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। ফলশ্রুতিতে আমাদের মাঝে বিষণ্নতা তৈরি হয়। 

সবচেয়ে বড় যে কথা সেটি হচ্ছে – আমাদের দেহ ওমেগা-৩-ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করতে পারে না। আর এই ওমেগা-৩-ফ্যাটি অ্যাসিড আছে মাছ এ। অর্থাৎ সহজ কথায় আমাদের মস্তিষ্কের উপকারের জন্য এবং বুদ্ধি বাড়াতে চাইলে মাছ খেতে হবে। এক গবেষণায় এটা জানা গেছে যে, যারা জীবনে বেশি মাছ খেয়েছে তাদের মস্তিষ্কে বেশি পরিমাণে গ্রে ম্যাটার (মস্তিষ্কের একটি উপাদান) ছিল। আর মস্তিষ্কে এই গ্রে ম্যাটার সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি এবং আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ মাছ বেশি খাওয়া ব্যক্তিরা তাদের এই ক্ষমতাগুলোকে অন্যান্যদের তুলনায় অধিক নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন।

২. কফি

এক কাপ কফি দিয়েই যদি আপনি দিনের শুরুটা করে থাকেন, তবে আপনার জন্য সুখবর!

কফির প্রধান যে দুইটি উপাদান- ক্যাফেইন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। ক্যাফেইনের মস্তিষ্কের জন্য উপকারিতাগুলোর মাঝে কয়েকটি হলো-

মনোযোগ বৃদ্ধি করে:  অ্যাডিনোসিন নামক একটি উপাদান আমাদের মস্তিষ্কে গিয়ে আমাদের ঘুম নিয়ে আসে। কফিতে থাকা ক্যাফেইন এই অ্যাডিনোসিন এর মস্তিষ্কে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেয়। এতে করে আমাদের ঘুম কম আসায় মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।

জেনে নাও জীবনকে উপভোগ করার উপায় !

জীবনে সহজ ভাবে চলার জন্য জানা দরকার কিছু লাইফ হাক্স।

দেখে নাও আজকের প্লে-লিস্টটি আর শিখে নাও কিভাবে সাফল্য পাওয়া যায়!

১০ মিনিট স্কুলের Life Hacks সিরিজ

মন ভালো করে: ক্যাফেইন আমাদের মন ভালো করে দিতে সাহায্য করে মস্তিষ্কে সেরোটনিন এর পরিমাণ বৃদ্ধি করে।

কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে: একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, যারা দিনের শুরুতে বেশ অনেকখানি কিংবা সারাদিন অল্প করে কয়েকবার কফি নেন, মনোযোগ দিয়ে করতে হবে এমন কাজে তাদের কর্মক্ষমতা অন্যদের চেয়ে বেশি থাকে।

এমনকি দীর্ঘমেয়াদে কফি খেলে পারকিনসন্স এর মত স্নায়বিক অসুখ হওয়ার প্রবণতাও কমে যায় বলে দাবী করা হয়েছে এক গবেষণায়। অর্থাৎ মস্তিষ্ক ভালো রাখতে চাইলে অভ্যাস না থাকলেও কফি খাওয়ার অভ্যাস করে ফেলুন আজই।

৩. হলুদ

হলুদ এর নাম শুনে অবাক লাগছে? বিভিন্ন তরকারির প্রধান উপাদান এই হলুদ মস্তিষ্কের জন্য কিন্তু বেশ উপকারী। হলুদের প্রধান একটি উপাদান হচ্ছে কারকিউমিন যেটি সরাসরি মস্তিষ্কে প্রবেশ করে সেখানকার কোষদের উপকার করতে পারে।

এছাড়া এটি মস্তিষ্কের আরও কিছু উপকার করে থাকে। যেমন-

  • স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে
  • এটি শরীরে সেরোটনিন এবং ডোপামিন এর পরিমাণ বৃদ্ধি করে বিষণ্নতা দূর করে।
  • হলুদে থাকা কারকিউমিন বয়স বৃদ্ধির সাথে বেড়ে যাওয়া মানসিক ভারসাম্যহীনতা রোধ করে।

তরকারিতে থাকা হলুদ এর সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান কম থাকলেও এটি কিন্তু প্রতিনিয়ত আমাদের মস্তিষ্কের উপকার করে চলেছে।

ব্লগটা পড়তে পড়তে চল খেলে আসি সংখ্যা নিয়ে কিছু ব্রেইন টিজার গেইম! Beat The Numbers!

৪. পালং শাক, ব্রোকলি এবং সবুজ শাক

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, সবুজ শাক, ব্রোকলি – বয়সজনিত রোগ এবং মনোযোগ কমে যাওয়া দূর করে। আবার এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে লৌহ রয়েছে। লৌহ পুরো শরীর জুড়ে অক্সিজেন এর সরবরাহ করতে সহায়তা করে।


লৌহ ছাড়া শরীরে অক্সিজেন বহন করা রক্তের লোহিত কণিকা তৈরি হয় না এবং এতে করে পরবর্তীতে মস্তিষ্কের উপর চাপ পড়ে। তাই মস্তিষ্কের ভালোর জন্য পালং শাক, ব্রোকলি এবং সবুজ শাক খুবই উপকারী।

৫. কুমড়ার বীজ

কুমড়ার বীজে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে যেটি আমাদের মস্তিষ্ককে বিভিন ফ্রি র‍্যাডিকেল ক্ষয় থেকে রক্ষা করে। এছাড়া কুমড়ার বীজে জিংক, ম্যাগনেসিয়াম, কপার এবং লৌহ রয়েছে।

এই সবগুলো উপাদানই আমাদের মস্তিষ্কের জন্য অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। কারণ-

জিংক:  আমাদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন স্নায়বিক সংকেত এর জন্য এই উপাদান অনেক বেশিই গুরুত্বপূর্ণ। জিংক এর অভাবে নানা ধরণের স্নায়বিক সমস্যা, বিষণ্নতা, অ্যালজাইমার্স এবং পারকিনসন্স রোগ হয়।

ম্যাগনেসিয়াম: নতুন কিছু শেখার এবং মনে রাখার জন্য ম্যাগনেসিয়াম বেশ দরকারি। ম্যাগনেসিয়াম এর অভাবে আমাদের মাইগ্রেন, বিষণ্নতা এবং এপিলেপ্সির মতন স্নায়বিক রোগগুলি হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

কপার: কপার এর সাহায্যেও আমাদের মস্তিষ্ক স্নায়বিক সংকেত আদান-প্রদান করে থাকে। এর অভাবে আমাদের স্মরণশক্তি তো কমে যায়ই, সাথে অ্যালজাইমার্স এর মত অসুখ হওয়ারও সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

লৌহ: লৌহের অভাবে মস্তিষ্কের কুহেলিকা তৈরি হয় আর মস্তিষ্কের কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

আর এই উপাদানগুলো কুমড়ার বীজে অনেক বেশী পরিমাণে আছে। অতএব মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে চাইলে আর সেই সাথে নিজের বুদ্ধি বাড়াতে চাইলে আজ থেকেই কুমড়ার বীজকে আপনার খাবারের লিস্ট এ রাখুন।

৬. বাদাম

রাস্তাঘাটে, পার্কে কোথাও একটা বসে আড্ডা দিতে গেলে কিংবা বাসে বসে যখন জ্যাম এর কারণে বিরক্ত হচ্ছেন, ঠিক তখনই ত্রাতা হিসেবে দেখা যায় বাদাম বিক্রি করতে আসা কাউকে। পার্কে, রাস্তাঘাটে, বাসে কিংবা কোনো সুপারশপে ঢুকে যদি আপনার নজর প্রথমেই চলে যায় বাদাম এর দিকে – তবে আপনার জন্য সুখবর!  

গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাদাম হার্ট ভালো রাখে। আর হার্ট ভালো থাকলে একজন মানুষের মস্তিষ্কও ভালো থাকে। ২০১৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাদাম খেলে মস্তিষ্কের ‘নিউরো-ডিজেনারেটিভ’ অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। নারীদের নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা কয়েক বছর থেকে নিয়মিত বাদাম খাচ্ছেন তাদের স্মৃতিশক্তি অন্যদের তুলনায় বেশী। 

বাদামে রয়েছে উপকারী চর্বি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আর ভিটামিন ‘ই’ যা আমাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় অনেক গুণ। অন্য সব বাদাম একইসাথে মস্তিষ্কের জন্য উপকারী হলেও ‘Walnuts’ বা আখরোট আমাদের মস্তিষ্কের জন্য সবচেয়ে বেশী উপকারী। কারণ এটিতে একইসাথে ওমেগা-৩-ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। আর ওমেগা-৩-ফ্যাটি অ্যাসিড আমাদের মস্তিষ্কের জন্য কতটা বেশি উপকারী তা তো আমরা দেখে এসেছি।

অর্থাৎ বুদ্ধি শাণিয়ে নিতে চাইলে আজকে থেকেই শুরু করে দিন বাদাম খাওয়ার অভ্যাস।

৭. কমলা

আপনার একদিনের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ভিটামিন সি আপনি পেতে পারেন কেবল একটি মাঝারি সাইজের কমলা খেয়েই। আর মানসিক ভারসাম্যহীনতা রোধ করতে ভিটামিন সি অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। একইসাথে ভিটামিন সি মস্তিষ্কের অন্যান্য অসুখ দূর করার পাশাপাশি মস্তিষ্ককে সুস্থ রেখে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।


আর একারণে মস্তিষ্ককে সুস্থ রেখে বুদ্ধি বাড়াতে চাইলে আপনার প্রতিদিনকার খাবারের লিস্ট এ কমলা রাখুন আজ থেকেই।

৮. টমেটো

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে টমেটোতে আছে লাইকোপেন নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা দেহে প্রবেশ করার পর মস্তিষ্কের কোষের ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে, সেই সঙ্গে নানারকম বিষাক্ত উপাদান যাতে মস্তিষ্কের কোনও ক্ষতি করতে না পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে অ্যালজাইমার্স এবং ডিমেনশিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে আসে।

৯. ডিম

ডিম এ রয়েছে প্রচুর মাত্রায় কোলিন এবং উপকারি কোলেস্টেরল, যা নিউরনের ক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্যে দিয়ে সার্বিকভাবে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন ডিম খেলে দেহে বিশেষ এক ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যা মস্তিষ্কের কোষগুলোর যাতে কোনও ভাবে ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে নানারকম মস্তিষ্কের অসুখ এ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস পায়।

১০. জাম 

জাম এ আছে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যেটি মস্তিষ্কের কোষ যাতে শুকিয়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখে। সেই সাথে মস্তিষ্কের ভিতরের প্রদাহ কমানোর মধ্যে দিয়ে নানারকম অসুস্থতাকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। যাদের পরিবারে অ্যালজাইমার্স বা ডিমেনশিয়ার মতো মস্তিষ্কের রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের জন্য জাম বেশ উপকারী। জাম খেলে মস্তিষ্ক রক্ষা করার পাশাপাশি আমাদের স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করা সম্ভব বলেও মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

১১. অলিভ ওয়েল

আমাদের দেশে সাধারণত রান্না করতে অলিভ ওয়েল ব্যবহার করা হয় না। কিন্তু যদি করা হয়, তাহলে দারুন উপকার হতে পারে। এই তেলে রয়েছে পলিফনল নামে একটি উপাদান, যা মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে অনেক বেশি সাহায্য করে। একাধিক গবেষণা চলাকালীন বিজ্ঞানীরা লক্ষ করে দেখেছেন যে, পলিফেনল নামক উপাদানটি স্নায়ু কোষের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়তে শুরু করে এবং মানুষের বুদ্ধি খুলতে থাকে।  

১২. গ্রিন টি

কফির মত গ্রিন টি-তেও থাকে ক্যাফেইন যা মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। কফির মত গ্রিন টি-ও মনোযোগ বৃদ্ধি করে এবং মন ভালো করে। এছাড়া কফিতে কিছু অ্যামিনো এসিড আছে যেগুলো মস্তিষ্কে রক্তস্বল্পতাজনিত অসুখ দূর করে এবং সমস্ত রকমের দুশ্চিন্তা দূর করতে সহায়তা করে। আর মস্তিষ্ক ভালো থাকলে যে বুদ্ধি শাণিয়ে নেয়া কত সহজ তা তো নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

১৩. ডার্ক চকলেট

খুব সম্ভবত সবগুলো খাবারের মাঝে এটিই অনেকের প্রিয় হবে। এতদিন যেসব ডার্ক চকলেটপ্রেমীরা দাঁত নষ্ট হবে, মোটা হয়ে যাবে শুনে এসেছেন তাদের জন্য এসব কথার পাল্টা জবাব দেয়ার সময় চলে এসেছে।

ডার্ক চকলেট মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী। এর ফ্ল্যাবনয়েড উপাদান কগনিটিভ স্কিলের উন্নতি ঘটায়। এছাড়া মস্তিষ্কে নিউরন তৈরি করে যা নতুন বিষয় মনে রাখতে সাহায্য করে। এমনকি মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতেও সাহায্য করে ডার্ক চকলেট।

অনেক ধরণের খাবারই আপনার মস্তিষ্ক ভালো রাখতে পারে। ফলমূল, শাকসবজি, চা, কফি – এগুলোর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আমাদের মস্তিষ্ককে কোনো ধরণের ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করে। আবার ডিম, বাদাম – এগুলোতে থাকা বিভিন্ন উপাদান আমাদের মস্তিষ্ককে উন্নত করে তোলে যাতে করে আমাদের স্মৃতিশক্তি বেড়ে যায় এবং আমরা অনেক নতুন কিছু শিখে সেগুলো মনে রাখতে পারি। এই খাবারগুলো খাওয়ার মাধ্যমে একইসাথে আমরা আমাদের মস্তিষ্ককে রক্ষা করতে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে পারি। তাই মস্তিষ্ককে সুস্থ রেখে যদি আপনি আপনার বুদ্ধিকে শাণিয়ে নিতে চান তাহলে আপনার প্রতিদিনকার খাবারের লিস্ট এ যোগ করুন এই খাবারগুলো।

Images collected from Shutterstock.

তথ্যসূত্র-

ওমেগা-৩

https://nccih.nih.gov/health/omega3/introduction.htm

কফি-

https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/26677204

হলুদ-

https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC2781139/

কুমড়ার বীজ-

https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/23561092

https://nutritiondata.self.com/facts/nut-and-seed-products/3066/2

জিংক- 
https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/25659970

https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/25130547

https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/24522515

ম্যাগনেসিয়াম-

https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/25540137

https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/23950577

বাদাম-

https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/24871475

https://academic.oup.com/jn/article/144/4/561S/4571638

কমলা-

https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC4179190/

https://www.healthline.com/nutrition/11-brain-foods#section12

https://www.businessinsider.com/brain-foods-to-make-you-smarter-2015-6


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?