কর্পোরেট লাইফে উন্নতির ১০ টিপস

সামাজিক অবস্থান থেকে কর্পোরেট দুনিয়া, প্রায় সব জায়গাতেই সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের সাথে তাল মিলিয়ে চলে আপনার প্রয়োজনটুকু আদায় করে নেয়া। এটি একদম কথা বলা থেকে শুরু  হয়। আপনার কথা বলা থেকে যদি কেউ অভিভুত না হয় তবে কিন্তু আপনার সাথে কেউ বিজনেস করতে চাইবে না।

কর্পোরেট জগতে হাজারো রকমের মানুষের সাথে আপনার ওঠাবসা করতে হবে। করতে হবে সমালোচনা কোনরকম কটু কথা ছাড়াই। আজ আমরা দেখবো কর্পোরেট দুনিয়ার উন্নতির জন্য এমন ১০ টি টিপস যা শাণিত করতে পারে আপনার বিজনেসের উন্নতির মাত্রা। শুধু যে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেই আপনি এগুলো ব্যবহার করতে পারবেন তা কিন্তু নয়; বরং যে কোন প্রোজেক্ট বা অন্য কোন ক্ষেত্রেও কাজে লাগাতে পারেন এসব টিপস। তো চলুন দেখে নেয়া যাক।

১. হাতে কলমে শেখানো:

বছর পাঁচেক আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা সংস্থা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যাতে মানুষের শেখা ও মনে রাখার পদ্ধতির কার্যকারিতা প্রকাশ করে। সেখানকার তথ্যমতে, সাধারণ একজন মানুষ শুধুমাত্র শুনে যতটা শিখতে পারে তার থেকে দেখে দেখেই শিখে ফেলার সম্ভাবনা প্রায় ৭০% বেশি। অর্থাৎ মানুষ যদি শুনে ১১% শেখে তবে দেখার মাধ্যমে কোন জিনিস শিখতে পারে ৮৩%এর মাধ্যমে একটা জিনিস স্পষ্ট।

আমরা যদি কাউকে কিছু শেখাতে চাই তবে মোবাইল ফোন, মেসেঞ্জার কল বা অন্য কোনভাবে শুনিয়ে শুনিয়ে শেখানোর চেয়ে হাতে কলমে শেখানোটা অনেক বেশিই কার্যকরি। আপনি যাকে শেখাতে চান সে যদি ঠিকমতো নাই শিখতে পারে তবে আপনার উদ্দেশ্য কিন্তু ঠিকমতো হাসিল হলো না। আবার সাথে সাথে তার পেছনে ব্যয় করা সময়টাও মাঠে মারা গেলো। আর যদি সে শিখেও ফেলে তবুও শুনে শুনে কেউ মনে রাখতে পারে ২০%। আর দেখে মনে রাখতে পারে তার দ্বিগুণ অর্থাৎ ৪০%। এই তথ্যই প্রমাণ করে হাতে কলমে শিখিয়ে দেয়ার গুরুত্ব কতটুকু।

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশান ইত্যাদি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য 10 Minute School Skill Development Lab নামে ১০ মিনিট স্কুলের রয়েছে একটি ফেইসবুক গ্রুপ।

২. মানুষকে বুঝতে চেষ্টা করা:

মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহার রপ্ত করতে হলে বা কারো সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার দক্ষতা অর্জন করতে হলে প্রথমেই যেটা দরকার তা হলো মানুষের স্বরূপ অর্থাৎ তার প্রকৃতি সঠিকভাবে বুঝতে পারা। যখন আপনি  ভালোভাবে মানুষকে বুঝতে পারেন অথবা জানতে পারেন মানুষের এক একেকটা আচরণের পেছনে কী ধরনের কারণ থাকতে পারে তখন আপনি বুঝে যাবেন বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে মানুষের আচরণ বা কোন কথার সময় কোন ধরণের প্রতিক্রিয়া মানুষের থেকে পাওয়া যায়।

যেমন ধরুন আপনি  ও আপনার বন্ধু মিলে ছোটখাটো একটা ব্যবসা দাঁড় করাতে চাচ্ছেন। ধরা যাক তার রাগ একটু বেশি। কিন্তু এসব ছোটখাটো বিষয়ে রাগারাগি ব্যবসার উন্নতিতে ক্ষতি করতে পারে। এখন আপনি যদি বুঝে নিতে পারেন আপনার বন্ধু আসলে কী ধরনের কথা বললে রাগের প্রতিক্রিয়া দেখায় তবে কিন্তু আপনারই লাভ। আপনি  সহজেই সেগুলো এড়িয়ে গিয়ে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারেন।

ঘুরে আসুন: সব দ্বিধাকে বিদায় জানাও এক তুড়িতেই!

৩. অন্যকে প্রাধান্য দেয়া:

এটা জীবনের সর্বক্ষত্রে প্রযোজ্য। আমরা একদম জন্মলগ্ন থেকেই নিজেদের নিয়ে ভাবি। সত্যি বলতে, এ জগতের বেশিরভাগ মানুষেরই মাথাব্যথা তার নিজের ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে। অথবা এটাও বলা যায় কোন ব্যক্তি আপনার সম্পর্কে বা অন্য কারো সম্পর্কে যতই না আগ্রহী তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি আগ্রহী তার নিজের সম্পর্কেসুতরাং আপনি যদি অন্যকে প্রাধান্য দেন তবে সে কিন্তু যারপরনাই খুশি হবে। অন্যকে প্রাধান্য দিলে সহজেই যে কোন সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

অন্যকে আপনি যদি গুরুত্ব দেন তবে সেও আপনার কাজের বেলায় সঠিক গুরুত্বটাই দেবে। সহজভাবে বলতে গেলে আপনি যদি অন্যকে গুরুত্ব না দেন তবে অন্যদের থেকে কিভাবে আপনার বেলায় গুরুত্ব আশা করতে পারেন! সুতরাং নিজের মতামত দেবার আগে অন্যের মতামত নেয়াটা আসলেই বুদ্ধিমানের কাজ। গ্রুপ ডিসিশানে দরকার হলে সবার পরে নিজের মতামত দিন। অন্যের মতামতগুলো গুরুত্বের সাথে নিন। এবং তাদের বুঝান যে আপনার কাছে তাদের সবার মতামত সমান গুরুত্বপূর্ণ।

৪. হতে হবে ভালো শ্রোতা:

যত বেশি অন্যদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন ততই বক্তার ভালো লাগবে। মজার ব্যাপার হলো বক্তা এও বুঝবে যে আপনি আসলে খুবই বোধসম্পন্ন লোক। সে ভাববে তার যে কোন কথাই আপনি  বেশ ভালভাবে বুঝতে পারছেন। ভালো শ্রোতা হবার কিছু টিপস রয়েছেযেমন,

  •     যিনি কথা বলছেন তার মুখের দিকে তাকিয়ে কথা শোনা।
  •     প্রশ্ন করা। এতে যিনি কথা বলছেন তিনি নিশ্চিত হবেন যে আপনি আসলেই তার কথা মনোযোগ সহকারে শুনছেন।
  •     আলোচনার বিষয়বস্তু থেকে সরে না পড়া বা মাঝখানে বাধা না দেয়া। একটা বিষয় শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঝপথে কখনোই অন্য প্রসঙ্গে যাওয়া ঠিক নয়। কারণ এতে বক্তার কথার ছন্দপতন হয়। এবং তিনি এর জন্য আপনাকে দায়ী মনে করবেন।

এছাড়াও আর অনেক টিপস রয়েছে ভালো শ্রোতা হবার। চাকরি থেকে ব্যবসা যে কোন কাজেই ভালো বক্তা হবার পাশাপাশি ভালো শ্রোতা হবার বিকল্প নেই। আরো বিস্তারিত জানতে আমাদের টেন মিনিট স্কুলের একটি ব্লগের একটি চমৎকার লেখা “ভালো শ্রোতা হবেন যেভাবে” পড়ে ফেলুন এক্ষুণি! (লিংক: http://10minuteschool.com/blog/how-to-be-a-good-listener/)

৫. অর্জন করুন সবার বিশ্বাস:

মানুষ মানুষকে যতটা না বিশ্বাস করে তার চাইতে বেশি করে সন্দেহ। অথবা বিশ্বাস একবার ভেঙ্গে গেলে তার থেকে বিশ্বাস অর্জন করাটা খুবই মুশকিলে বিষয়। কারণ ধরা যাক, আমি আপনাকে বললাম যে আপনার পরবর্তী ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশে আমি আপনাকে সাহায্য করবো। আপনি সহজেই এটা বিশ্বাস করতে পারেন। কিন্তু পরবর্তীতে আমি কোন অজুহাত দিয়ে সেটা না করে পাশ কাটিয়ে গেলাম। পরবর্তীতে আপনি কি আর আমাকে আগের মতো বিশ্বাস করবেন? নিশ্চয়ই না।

আর পরে যে কোন কাজেই আপনার সন্দেহ হবে ‘আসলেই এটা ও করবে তো!’। বিশ্বাস অর্জন করা যে কারো জন্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণএটা হোক আপনার নিজের ব্যবসায়িক জায়গা অথবা হোক আপনার বন্ধুদের মাঝে। মনে রাখবেন বিশ্বাস কিন্তু চারিত্রিক গুণাবলির মাঝে সবচেয়ে উপরে।

চল স্বপ্ন ছুঁই!

আমাদের ছোট-বড় অনেকরকম স্বপ্ন থাকে। কিন্তু বাস্তবায়ন করতে পারি কতগুলো?

এই দ্বিধা থেকে মুক্তি পেতে চল ঘুরে আসি ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লে-লিস্ট থেকে!

লাইফ হ্যাকস সিরিজ!

৬. বাদ দিন অজুহাত:

আমাদের খুব কমন সমস্যা হলো আমরা কারণে অকারণে অজুহাত দেই। ক্লাসের টিচার থেকে শুরু করে অফিসের বস সব জায়গায় আমাদের অজুহাতের শেষ নেই। এসব দেখলে মনে হয় আমরা নিমিষেই লিখে ফেলতে পারবো ‘অজুহাত সমগ্র’ নামের এক পেট মোটা সাইজের বই। কিন্তু আপনি কি জানেন সামান্য অজুহাতের কারণে অন্যের নিকট আপনার গ্রহণযোগ্যতা কমতে পারে!

ধরুন আপনি  একটা কর্পোরেট অফিসে চাকরি করেন। আপনার কাজও বেশ ভালোই। কিন্তু আপনি মাঝেমধ্যেই অফিসে দেরি করে ঢোকেন। আর বসের কাছে আস্ত অজুহাতের বুলি ঝাড়তে থাকেন। একদিন জরুরি কাজ, অন্যদিন ছোট ভাইকে স্কুলে দিয়ে এসেছেন অথবা রাস্তার জ্যাম তো আছেই। কিন্তু হয়তো এ কারণেই ভবিষ্যতে কোম্পানীর বড় কোন প্রোজেক্টে কাজ করার সুযোগ আপনি হারাতে পারেন।

কেননা উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শুধু আপনার কাজই দেখবেন না; বরং সাথে সাথে দেখবেন আপনার কাজের গতি এবং চালচলন এমনকি কথা বার্তাও। যেখানে আপনি  সামান্য দেরিতে ইয়া বড় বড় অভিযোগ দেন সেখানে বিশাল এক প্রোজেক্টে আপনাকে নেবার ঝুঁকি নেবেই বা কেন! সুতরাং অন্যদের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে অথবা মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে নিতে হলে কিন্তু আপনার বাদ দিতে হবে সকল ধরণের অজুহাত।

৭. তারিফ করতে দোষ কী!

একটা গল্প বলি আগে। একবার এক রাজা নিজের একই রকম দু’টো ছবি বানাতে বললো তার রাজসভার শিল্পীকে। তো ছবি দুটো নিয়ে একটা রাজ্যের দরজায় লাগানো হলো। এবং ঘোষণা করা হলো এটা রাজসভার শিল্পীর আঁকা ছবি। ছবিতে কোন ভুল দেখলে সেখানে দাগ দেয়ার জন্য। তো এক সপ্তাহ পর দেখা গেলো দাগাদাগিতে ছবির আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। পরের সপ্তাহে অন্য ছবিটা দরজায় ঝুলিয়ে সেই একই ঘোষণা। কিন্তু এবার সবাইকে বলা হলো ছবিটা এঁকেছেন ভীনদেশের এক বিখ্যাত চিত্রকর। সপ্তাহ যায় মাস যায় কিন্তু কোন দাগ ছবিতে পড়েনা। এভাবেই রাজা বুঝতে পারলেন যে আসলে আমরা নিজেদের মানুষকে কখনোই প্রশংসা করতে পারি না।

এটা অবশ্য আমাদের শুধু অভ্যাস না; বরং বিশাল বদ অভ্যাস। তারিফের বেলায় আমরা বেজায় কৃপণ। অথচ বয়সে ছোট একটা মানুষকে সামান্য প্রশংসা করলে সে অনেক অনুপ্রাণিত হতে পারে। যেটিতে হয়তো আপনার নিজেরও বড় কোন উপকার লুকিয়ে আছে। আমরা ঐ রাজ্যের প্রজাদের মত সবার কাজের মন্তব্যে দাগ দাগ দিতে দিতে তবে নষ্ট করে ফেলছি। কিন্তু সামান্য কাউকে ধন্যবাদ বা ছোট কাজে যদি একটু বড় প্রশংসা দিন তবে সমস্যাটা কোথায়! বরং মানুষ আপনাকেই পছন্দ করবেন।

আপনারা নিশ্চয়ই আয়মান সাদিক ভাইয়ার ভিডিওটা দেখেছেন যে সামান্য সালামের মত দুইটা বাক্য ব্যবহার করে কিভাবে অন্যদের মনে বিশাল প্রভাব ফেলা যায়। আপনার বড় হোক বা ছোট, যে কাউকে তার কাজের প্রাপ্য সম্মান থেকে একটু বেশিই প্রশংসা করুন। এতে করে ভবিষ্যতে সে আপনার কাজ করার প্রতি বেশি আগ্রহী হবে। ভালো কাজ হবে তাকে দিয়েই। এতে অবশ্য কিছু ক্রেডিট কিন্তু আপনারও থাকছে। তবে আর দেরি কেন! আজ থেকেই শুরু হোক তারিফের বাহাদুরী!

১০ মিনিট স্কুলের পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য আয়োজন করা হচ্ছে অনলাইন লাইভ ক্লাসের! তা-ও আবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে!

৮. সমালোচনায় সাবধান:

সবার তারিফ করতে হবে ঠিকই কিন্তু কিছু না কিছু সমালোচনা তো থাকবেই। সেটাও করতে হবে নিয়মমাফিক। এক্ষেত্রে আপনি  সমালোচনায় বিশ্ববিখ্যাত বার্গার পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। এটি খুবই জনপ্রিয় ও কার্যকরী। আমরা জানি বার্গার সাধারণত তিন ভাগে বিভক্ত। উপরে একটি রুটির স্তর। পরের স্তরে বিফ বা চিকেন এবং সবশেষে আবার রুটি। অর্থাৎ শুরুতেও রুটি এবং শেষেও রুটি। মাঝখানে শুধু আসল জিনিস।

সমালোচনার শুরুতে তার ভালো দিক দিয়ে শুরু করে মাঝখানে তার খারাপ দিকটা উল্লেখ করতে পারেন। সবশেষে আবারো তার ভালো কাজের তারিফ। এভাবে শুরু ও শেষে প্রশংসা ও মাঝে সমালোচনা করলে সেটি বেশি কার্যকরী হয়। আপনি ও সমালোচনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন বার্গার পদ্ধতি। তবে সমালোচনার সময় আরো যেসব জিনিস মাথায় রাখতে পারেন

 

  •   নৈর্ব্যক্তিক সমালোচনা করুন। লোকটার নয় ; বরং লোকের কাজের সমালোচনা করুন।
  •   রাস্তাটাও দেখিয়ে দিন। সে যা ভুল করেছে তা বলার সাথে সাথে সমাধানের রাস্তাটাও আপনিই দেখান।
  •   একটি কাজের সমালোচনা একবারই করুন। বারবার সমালোচনা করলে মনে হতে পারে আপনি আসলে তার দোষ ধরতে    ব্যস্ত। ন্যায্য সমালোচনা একবারই ন্যায্য হয়।
  •   সংশোধনের জন্য সমালোচনা করুন, ছোট করার জন্য নয়।
  •   সবশেষে হয়ে যান ভালো বন্ধু। কারণ সমালোচনা হওয়া উচিত সংশোধন করবার জন্য। আপনি যদি বলেন, ‘আমার যা বলবার আমি বলে নিলাম। এবার আপনি  আপনার পথ দেখুন।’ তাহলে কিন্তু আপনার সমালোচনায় সে আদৌ শুধরাবে কিনা তা বলা মুশকিল। বরং আপনি এটা বলতে পারেন, ‘আর আমাদের মাঝে কোন সমস্যা নেই। আমরা পরস্পরের বন্ধু।’ তাহলে আপনার সমালোচনা কাজে আসার সম্ভাবনা শতভাগ। আর সবগুলো নিয়মের মধ্যে এটিই বেশি কার্যকর।

৯. বসতত্ত্ব থেকে বিরত থাকুন :

কোন অফিস বা কোম্পানি তে বস নিয়ে সবারই কোন না কোন সমস্যা থাকে। কারো কারো বসদের সাথে একদমই যায়না। আবার কেউ কেউ ভয়ে কোম্পানির স্বার্থে বর্তমানের কোন ভুলের কথাও বলতে পারেনা। বেশিরভাগ মানুষের কাছেই সব ব্যাপারে ‘ইয়েস বস’ বলতে হবে বলে একটা গৎবাঁধা বসতত্ত্বের ধারণা রয়েছে। কিন্তু ব্যাপারটা কি তাই হওয়া উচিত? অথবা আপনি  যদি একজন বস হন আপনার কর্মকর্তাদের সাথেই বা কী রকম সম্পর্ক থাকা উচিত!

টেন মিনিট স্কুলের কথাই ধরা যাক। টেন মিনিট স্কুলকে যদি আমরা একটা কর্পোরেট অফিস ধরি তবে সেখানকার সবার বস হলেন আয়মান সাদিক ভাইয়া। অথচ দেখুন আমি এখানেও তার নামের সাথে ‘ভাইয়া’ বলে সম্বোধন করেছি। অর্থাৎ এখানে সবার সাথে আয়মান ভাইয়ার সম্পর্ক খুব কাছের। এজন্য যে কেউ টেন মিনিট স্কুল নিয়ে যে কোন আইডিয়া বা ভুল ত্রুটি নিয়ে তার সাথে খুব সহজেই শেয়ার করতে পারে।

এজন্য সবার মাঝে থাকা বসতত্ত্ব দূর করা বেশ দরকার। এতে সবাই একসাথে মিলে কাজ করে উন্নতি করা বেশ সহজ। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে থাকতে হবে ভালো ও সৎ সম্পর্ক। এতে করে যে কোন বড় কাজ আপনার মাধ্যমে করতে দেয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর যে কোন কোম্পানিতে উপরে-নিচে সব কর্মকর্তার মাঝে সম্পর্ক যত ভালো, কোম্পানির উন্নতি তত তাড়াতাড়ি হবে বলেই আমাদের ধারণা।

ঘুরে আসুন: সময় বাঁচানোর ৫টি অভিনব উপায়!

১০. শেখার নেইকো শেষ :

Never stop learning-বাক্যটার সাথে নিশ্চয়ই আগে থেকে পরিচিত। আমরা বেশিরভাগ সময়ই যেটা মনে করি যে, যেহেতু আমি এই বিষয়ের সাথে অনেক দিন ধরে আছি, তাই হয়তো অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি জানি। এই ধারণা পোষণ করাটা কিন্তু একদম বোকামি। আপনি একটা বিষয়ের সাথে অনেকদিন ধরে কাজ করছেন মানে এটা হতে পারে যে আপনি আপনার সামনে বসে থাকা মানুষ থেকে বেশিই অভিজ্ঞ। কিন্তু এর মানে এই না যে আপনি তার থেকে সবসময়ই বেশি জানেন।

সুতরাং তার থেকে আপনি কিছু শিখতে পারবেননা এটা ভুল। বরং এই ভেবে রাখা উচিত যে আপনি  সবার থেকে শিখবেন। ব্যক্তিগতভাবে আমার নিজেরও প্রতিদিন নতুন নতুন জিনিস শিখতে ভালো লাগে। আমার থেকে ক্লাসে জুনিয়র একটা মেয়ে আমাকে ডিকশনারির হার্ড কপি থেকে শব্দের অর্থ খুঁজে বের করার কৌশল শিখিয়েছিলো। এজন্য এখনো আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ। শেখার মনোভাব নিয়ে থাকলে আপনার উন্নতির ধাপ বাড়বে। শেখার ক্ষেত্রে ছোট বড় বা দাম্ভিকতা রাখা মোটেও উচিত নয়। এজন্যই কিন্তু টেন মিনিট স্কুলের ট্যাগলাইন হলো নেভার স্টপ লার্নিং।

এ তো গেলো সামান্য কয়েকটা টিপস। এরকম হাজারো টিপস রয়েছে কর্পোরেট উন্নতির জন্য। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমরা কতটুকু তা বাস্তবে পরিলক্ষিত করতে পারছি। বেশির ভাগ সময়তেই দেখা যায় আমাদের কাজের ভাবনার সাথে কাজের কোনই মিল পাওয়া যায়না। এজন্য আরেকটি এক্সট্রা টিপস হিসেবে এটা দেয়া যেতে পারে যে, কোন কাজের আগে প্ল্যান মোতাবেক একটা খসড়া চূড়ান্ত করা।

ধরুন আপনি একটা নতুন প্রোজেক্ট হাতে নিয়েছেনএখন প্রোজেক্টে কী কী হবে সেটার প্ল্যান করতে হবে। সেটাতে কী কী থাকবে কী কী থাকবে, না সেটা নিয়ে একটা খসড়া তৈরি করে ফেলুন। ওখানেই নির্ধারণ করে ফেলুন কার উপরে কোন কাজের দায়িত্ব পড়বে। এরকম একটি খসড়ার কাগজ সহজ করে দিতে পারে কাজের ইয়া বিশাল বোঝাও। সুতরাং প্ল্যান আর খসড়াও মাস্ট।

তো যাইহোক, উপরের সহজ সহজ কথাগুলো সহজ সহজ ভাবে পালন করে আপনিও কর্পোরেট দুনিয়ায় উন্নতিতে এক ধাপ এগোতে পারেন খুব সহজেই। এখন থেকেই বন্ধুদের সাথে এ নিয়ে আলোচনা করে ছক কষে ফেলুন বিশাল কিছু করার। মহাযজ্ঞের শুরু না হয় হোক এখান থেকেই!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?