সেমিস্টার ব্রেকে অবশ্যপালনীয় ১৫টি কাজ!

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

নোটিশ বোর্ডে সেমিস্টার ব্রেকের খবর দেখার আনন্দটি আমাদের কাছে আকাশে ঈদের চাঁদ দেখার আনন্দের সমতুল্য। কয়েকটা দিনের জন্য ভোর ৬টায় উঠতে হবে না ভেবেই আনন্দে মন জুড়িয়ে যায়। যখন ইচ্ছা ঘুম থেকে উঠা, সারাদিন টিভি দেখা ইত্যাদি করেই আমরা লম্বা এই ছুটিটা কাটিয়ে দিই।

তবে পাঠক, বুদ্ধিমান কিন্তু তারাই যারা এই লম্বা ছুটিতে শুধু ঘুমিয়ে সময় ‘ব্যয়’ না করে সময় ‘বিনিয়োগ’ করে।

সারা মাস অ্যাসাইনমেন্ট, টার্ম পেপারের  যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে নিজের জন্য কিছু করার সুযোগ যখন হয়ে উঠে না তখন সেমিস্টার ব্রেকই আপনার শেষ ভরসা। তাই ছুটি শুধু আরামের জন্যই নয়, কাজে লাগানো আর শেখার জন্যেও। নিচে দেখে নিন কীভাবে আপনি কাটাতে পারেন আপনার মূল্যবান এই দিনগুলি।

(পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটিগুলো খুব দীর্ঘ হলেও, প্রাইভেটে খুব অল্প সময় ছুটি পাওয়া যায়। তাই তাদের জন্য বলছি- হয়তো সব নয়, কিন্তু অন্তত একটি চেষ্টা করা হয়তো অবশ্যই সম্ভব হবে আপনাদের জন্য)

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

১। হয়ে উঠুন বহুভাষী!

শুরু করে দিন নতুন কোন ভাষা শেখা! বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শিখে প্রতিযোগিতামূলক এই যুগে নিজেকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে কে না চাইবে? এই সুযোগে ক্যাম্পাসের ভিনদেশি সহপাঠীটির সঙ্গেও আপনার গড়ে উঠতে পারে দারুণ এক সখ্যতা। তাছাড়াও, ঠিক মতো রপ্ত করতে পারলে আপনি পেয়ে যেতে পারেন কোন প্রতিষ্ঠানে আকর্ষণীয় সম্মানীর একজন অনুবাদকের চাকুরিও! কিংবা হয়ে যেতে পারেন ঐ ভাষারই একজন শিক্ষক। সেমিস্টার ব্রেকেই ভাষা শেখার এই শুভ সূচনাটা হলে মন্দ হয় না কিন্ত!

২। সিভিতে যোগ করুন নতুন একটি মাত্রা!

(ক) স্নাতকটি যে সবাই নিজের পছন্দের বিষয়েই করছেন, এমন নিশ্চয়ই নয়।

(খ) অনেকেই আবার পছন্দের বিষয়েই করছেন, কিন্তু সিলেবাসে থাকা সবগুলো কোর্স নিয়ে হয়তো আপনি সন্তুষ্ট নন। কোন একটি কোর্সের অনুপস্থিতি আপনাকে চিন্তাগ্রস্ত করছে

(গ) চাকুরির বাজারে অনেকেই হতে চান প্রতিযোগীদের চেয়ে একটু ভিন্ন  

উপরোক্ত তিন ক্যাটাগরির এই মানুষগুলোর জন্যই বলছি, সেমিস্টার ব্রেকে করে নিতে পারেন দারুণ কিছু অনলাইন কোর্স!

শুধু প্রয়োজনের জন্যই নয়, সিভিতে নতুন একটি মাত্রা যোগ করার জন্য হলেও তা করা উচিত। বিরিয়ানির আলুর  মতই অনলাইন কোর্সের একটি সার্টিফিকেটও আপনার সিভির জন্য হবে দারুণ একটি সংযোজন।

ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থী হিসেবে ২০১৭ সালে আমি বেছে নিয়েছি ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি অনলাইন কোর্স। পরীক্ষা শেষে আমিও নেমে পড়ব এই অভিযানে। আপনি কোনটা শিখছেন তাহলে? আমাদের জানিয়ে দিন কমেন্ট সেকশনে!

৩। ইন্টার্নশিপ/ পার্ট টাইম চাকুরি

কেমন হবে বলুন তো যখন আপনার বন্ধুরা চতুর্থ বর্ষ শেষে ইন্টার্নশিপ করবে শুধু ১টি, আর আপনি ইতোমধ্যেই ৪ বছর শেষে ঝুলিতে রাখবেন ৩/৪টি পার্ট টাইম চাকুরি বা ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা? বন্ধুরা যখন সবেমাত্র পা রাখবে চাকুরি জীবনে, আপনি ততক্ষণে সে জীবনে হেঁটে অর্ধেক পারও হয়ে যাবেন! চিন্তা করছেন কীভাবে? খুবই সহজ!

সেমিস্টার ব্রেকের ১/২ মাস আগে থেকেই খোঁজ নেওয়া শুরু করুন আপনার পছন্দের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। দেখুন সেখানে ইন্টার্নশিপ বা পার্ট টাইম কাজ করার সুযোগ রয়েছে কি না, তারা কোন সার্কুলার দিয়েছে কি না। চাইলে তাদের ওয়েবসাইটে মেসেজ বা ইমেইল পাঠানোর মাধ্যমে সেরে নিন আপনার জিজ্ঞাসা। সুযোগ থাকলেই তা লুফে নিন এবং ঝুলিতে তুলে নিন পেশাদারি কিছু অভিজ্ঞতা। সেমিস্টার ব্রেকটিকে এভাবে কাজে লাগানো কিন্তু মন্দ হবে না।

আর হ্যাঁ, সিনিয়রদের সাথে অবশ্যই নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন, নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বড় ভাইয়া-আপুরাই এনে দেন দারুণ কিছু সুযোগের খবর!

[ এরকম নেটওয়ার্কিং গড়ে তুলার টিপস জানতে পড়ে ফেলুন এই লেখাটিঃ]

http://testhome.10minuteschool.com/blog/networking-know-hows/ ]

বি.দ্র. টাকা নয়, চিন্তা করুন অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার কথা। শেখার উদ্দেশ্যটাই যেন হয় আপনার কাজ করার পেছনে মূল অনুপ্রেরণা।  

৪। দেখে নিন ভালো কিছু…

… সিনেমা, ডকুমেন্টারি ও ভিডিও। এগুলো দেখার জন্য সেমিস্টার ব্রেকের চেয়ে উত্তম সময় আর হয়ই না!

এই যে যেমন আমি। খুব প্রেরণা নিয়ে একটি সিনেমা দেখতে বসলেই সাথে সাথে মনে পড়ে যায় পরের দিনের অ্যাসাইনমেন্টের কথা। সিনেমাটি দেখা হয় ঠিকই, কিন্তু মাথায় চেপে থাকে রাজ্যের চিন্তা। তাই ভারমুক্ত হয়ে সেমিস্টার ব্রেকের প্রতিটি দিনই আমি দেখে নিই দারুণ কিছু সিনেমা ও ভালো কিছু ডকুমেন্টারি।

গত বছরের ব্রেকে দেখা হয়েছিলো সারা বিশ্বে ঝড় তোলা কিছু প্লেইন হাইজ্যাকিংয়ের ঘটনা নিয়ে বানানো ডকুমেন্টারি। এবার ভাবছি দেখে নিব অ্যাডলফ হিটলার, নেলসন ম্যান্ডেলাদের মতো কিছু ব্যক্তিবর্গের জীবন নিয়ে বানানো ডকুমেন্টারি। এছাড়া অনুপ্রেরণামূলক ভিডিওগুলোর জন্য ইউটিউব তো আছেই!

TED Talks এর ভিডিওগুলো কিংবা Tony Robbins, Simon Sinek, Nicholas James Vujicic, Stephen Covey এর মত ব্যক্তিবর্গের অনুপ্রেরণামূলক ভিডিওগুলোর কথা হয়তো পরীক্ষায় আসবে না। তবে জীবন যুদ্ধে লড়তে এগুলো দারুণ সহায়ক হয়।

শেখা বিষয়গুলো বন্ধুদের আড্ডায় শেয়ার করলে আপনার আড্ডাগুলোও হয়ে উঠবে দারুণ প্রোডাক্টিভ! এগুলো দেখে যদি ভালো কিছু হয়, তবে এগুলো দেখাই না হয় ভালো। সেমিস্টার ব্রেকেই তবে দেখে ফেলুন না!

৫। ঝালাই করে নিন কিছু কম্পিউটার স্কিল

মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট, ওয়ার্ড, এক্সেল – এই তিনটি সফটওয়্যার আমাদের ছাত্র জীবনে প্রতিনিয়তই কাজে লেগে থাকে। এছাড়াও রয়েছে ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর ইত্যাদির মতো ডিজাইনিং সফটওয়্যারগুলো। কিন্তু ভাবার বিষয় হল, এগুলোর কতটুকু রপ্ত করেছেন আপনি?

যদি এগুলোতে আপনার দক্ষতার লেভেল সন্তোষজনক না হয়ে থাকে, তবে সেমিস্টার ব্রেকেই তা ঝালাই করে নিন! চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিন নিজের প্রতিই, প্রতিজ্ঞা করুন যে ছুটির প্রতিদিনই অন্তত দুই ঘণ্টা সময় বিনিয়োগ করবেন কোন একটি সফটওয়্যারের কাজ শেখার পিছনে। ব্যস! সময়ের সদ্ব্যবহার করে শিখতেও পারবেন এবং সারা জীবন কাজেও লাগাতে পারবেন।

MS Word এখন হাতের মুঠোয়!

চাকুরিজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে MS Word এবং এরকম বিভিন্ন স্কিলে পারদর্শিতা তোমাকে এনে দিতে পারে নানাবিধ সাফল্য।

এমন সব স্কিলের বেসিক শিখে নিতে দেখে ফেলো এই প্লেলিস্টটি!

১০ মিনিট স্কুলের MS Word সিরিজ

৬। আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ

আপনাকে হঠাৎ পড়তে হয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত কোন অবস্থায়। আত্মরক্ষার জন্য হয়তো সাথে রেখেছিলেন ছোট ছুরি ও পেপার স্প্রে(pepper spray) কিন্তু তা ব্যাগ হতে বের করার উপায়ই নেই ঐ মুহূর্তে। ঠিক তখনই আক্রমণকারীর পরিকল্পনায় পানি ঢেলে দিয়ে আপনি কাজে লাগিয়ে নিলেন আপনার বহুদিনে শেখা karate moves গুলো।  

প্রিয় পাঠক, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, হানাহানি, মারামারির মতো যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার আমরা যে কোন সময়েই হতে পারি। তাই আত্মরক্ষার জন্য ক্যারাতে (Karate) , তায়েকওয়ান্দো (Taekwondo), জুডো (Judo), জিউ জিতসু (Jiu jitsu) ইত্যাদির মতো martial arts গুলো জানা থাকলেই আমরা পরিস্থিতির ‘শিকার’ না হয়ে তা মোকাবিলা করতে পারি।

তবে পাঠক, আমি বলে রাখতে চাই যে, মার্শাল আর্টস কেবল মাত্র আত্মরক্ষা নিয়েই নয়, জীবন নিয়েও শিক্ষা দেয়। আত্মনিয়ন্ত্রণ, লক্ষ্য পূরণ, শৃঙ্খলা, ইতিবাচকতা, শ্রদ্ধাশীল হওয়া ইত্যাদির সবকিছুই আমরা শিখতে পারি এই চর্চার মধ্য দিয়ে। তাই শুধু আত্মরক্ষাই নয়, জীবন গড়তেও রপ্ত করুন মার্শাল আর্টসের কোন একটি ফর্ম।   

সেমিস্টার ব্রেকে ভর্তি হয়ে যান নিকটবর্তী কোন প্রশিক্ষণ সেন্টারে কিংবা ইউটিউব দেখেই শিখে নিন বেসিকগুলো। ধীরে ধীরে এগিয়ে যান উচ্চতর প্রশিক্ষনের দিকেও।

 

৭। রপ্ত করে নিন প্রয়োজনীয় একটি লাইফ স্কিল

কাপড় ইস্ত্রি, ঘর পরিষ্কার, বাজার করার দক্ষতার মতই রান্না জানাটাও যে একটি লাইফ স্কিল, তা আমরা অনেকেই জানি না।

“রান্না জেনে কী হবে? মা-ই তো সব রেঁধে দেন! যখন যা বলি তাই-ই!”

এমন মনোভাব নিয়ে চলাটা অত্যন্ত ভুল। এমন নয় যে বিরিয়ানি, কোফতা, চাইনিজ ইত্যাদি সবকিছু রান্না আপনার শিখে ফেলতে হবে। তবে অন্তত ভাত, মাছ-মাংস, সবজির মতো নিয়মিত খাদ্যতালিকার কিছু  রান্না শিখে রাখলে আপনার জন্যই ভালো নয় কি? মাকে তো সাহায্য করতে পারবেনই, তাছাড়াও ঘর ছেড়ে যাদের হল-হোস্টেলে থাকতে হয়, তারা মন চাইলে কখনো নিজেরটা নিজেই রেঁধে খেতে পারবেন।

তাই এই লাইফ স্কিলটিকে ছোট মনে না করে সেমিস্টার ব্রেকেই শিখে নিন টুকটাক কিছু রান্না।

৮। ‘স’ তে ‘সাঁতার’!

নদীমাতৃক দেশে বাস করছেন, অথচ সাঁতার জানেন না, তাই কি হয়? তাই সেমিস্টার ব্রেকেই সেরে রাখুন সাঁতার শেখার কাজটি।

পড়াশোনা ও শখ-সাধনার বিষয়ে তো ডুব দিয়েছেন সেই শৈশব থেকেই। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে  ডুবাটা যে কোনদিন পানিতেও হতে পারে, সেই খেয়ালটা আছে কি? বিপদ এসে নিজের ঘাড়ে না পড়লেও, আরেকজনের ঘাড়ের বিপদ নামাতেও এই সাঁতার শেখাটি হয়তো কোন এক সময় কাজে লেগে যেতেও পারে। তাছাড়া, আপনি যে দ্বিতীয় ফেল্পস হবেন না, এ কথাটির কোন প্রমাণ কি রয়েছে? হাহাহা!

৯। ভর দিন দু’চাকায়!

এ পাড়া হতে ও পাড়া হোক কিংবা শহরের এ প্রান্ত হতে ও প্রান্ত হোক, দু’চাকায় ভর করে আপনি চলে যেতে পারবেন যে কোন কোথাও! বলছি সাইকেলের কথা।

বই যদি হয় প্রকৃত বন্ধু, তবে বন্ধু থেকে নিজেকে দূরে ঠেলে রাখবেন কেন?

সাইকেল চালানোর মতো সুখকর একটি অভিজ্ঞতা হতে যারা এতদিন নিজেদের বঞ্চিত রেখেছেন, তারা অনতিবিলম্বে সেমিস্টার ব্রেকেই তা শিখে নিন। মাত্র ১ দিন এবং সর্বোচ্চ ২ দিনেই শিখে ফেলা যায় সাইক্লিং

“When the spirits are low, when the day appears dark, when work becomes monotonous, when hope hardly seems worth having, just mount a bicycle and go out for a spin down the road, without thought on anything but the ride you are taking” – Arthur Conan Doyle

অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি- সাইকেল চালানো শুধু শরীরের উপকারের জন্যেই নয়, মনের জন্যও স্বাস্থ্যকর। মন খারাপের সময়টিতে তৎক্ষণাৎ নিজেকে উজ্জীবিত করতে সাইক্লিংয়ের চেয়ে ভালো কিছু হতেই পারে না!

১০। নতুন কোন বাদ্যযন্ত্র

প্রিয় পাঠক, ইউটিউবে বিভিন্ন গানের acoustic version, guitar cover, piano cover দেখতে দেখতে এমনই কোন বাদ্যযন্ত্র শেখার চিন্তায় হয়তো আপনি প্রায়শই মগ্ন হয়েছেন । হয়তো শুরু করব করব করেও শেখা শুরু করতে পারেন নি। এবার তবে সেমিস্টার ব্রেকেই সূচনা হোক আপনার এই বাদ্যযন্ত্র শেখার ও চর্চার। গিটার, পিয়ানো, বাঁশি, ড্রামস, হারমনিকা, তবলা, হারমোনিয়াম- যাই হোক না কেন, তাদের সাথে এই পথচলাটা তবে শুরু করুন সেমিস্টার ব্রেক থেকেই!

১১। মানুষ মানুষের জন্যে…

নিজের জন্য তো  রোজই খাটছেন। এবার না হয় অন্যদের জন্যই একটু খাটুন। সেমিস্টার ব্রেকে নিজেকে সামিল করুন স্বেচ্ছাসেবামূলক কোন প্রকল্প কিংবা কাজে। আমাদের দেশে JAAGO Foundation, OBHIZATRIK Foundation ইত্যাদির মতো অনেক প্রতিষ্ঠানই সমাজকল্যাণমূলক কাজগুলোর জন্য নিয়মিত আয়োজন করে থাকে। নিবেদিত প্রাণ ও স্বতঃস্ফূর্ত তরুণদের খোঁজে থাকা এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যুক্ত করুন নিজেকে এবং অংশ নিন কিছু মঙ্গলময় কাজে।

কিংবা একটি কাজই করুন না! নিয়ত করে একদিন বন্ধুদের নিয়ে চলে যান কোন বৃদ্ধাশ্রমে, গল্প করুন শ্রান্ত প্রাণ কিছু প্রবীণ মানুষের সাথে এবং শুনুন তাদের জীবনের গল্প। হয়তো যাবার সময় তাদের জন্য নিয়ে যেতে পারেন ছোট্ট কিছু উপহার। স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ক্ষুদ্র এই উদ্যোগটি আপনাকে যেমন কৃতজ্ঞ হওয়ার শিক্ষা দিবে, ঠিক তেমনই তাঁদের মনেও এনে দিবে সাময়িক কিছু ভালো লাগা।

এমনই ছোটখাটো কিছু স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ বছরের অন্য সময় করার সুযোগ না পেলে তা করুন সেমিস্টার ব্রেকেই। ( এমনই ধরনের অন্য কোন পরিকল্পনা/আইডিয়া থাকলে আমাদের সাথেও শেয়ার করে ফেলুন কমেন্ট সেকশনে! )

কথায় বলে, MUN is fun! আসলেই কি তাই? নিজেই দেখে নাও এই প্লে-লিস্ট থেকে।

১২। বই যে মনের কথা বলে

ছুটি হয়েছে অথচ দুটো বই পড়বেন না, তা তো বইপোকাদের ক্ষেত্রে হতেই পারে না! তবে যারা আমার মতো বইপোকা নন, তাদের বলছি- বেছে বেছে হলেও অন্তত ১টি/২টি ভালো বই পড়ে ফেলুন।

বই যদি হয় প্রকৃত বন্ধু, তবে বন্ধু থেকে নিজেকে দূরে ঠেলে রাখবেন কেন?

এই সেমিস্টার ব্রেকে পড়ার জন্য আমি এই তালিকাটি থেকে বেছে নিয়েছি ৪ ও ৬ নম্বর বইটি।  

http://testhome.10minuteschool.com/blog/book-suggestions-01/

১৩। ঘুরে আসুন অজানাতে!

কোন জায়গায় ঘুরতে যাবার জন্য ‘যাবো যাবো’ কে ‘যাচ্ছি-গিয়েছি’তে রূপান্তর করার উপযুক্ত সময় সময় হল সেমিস্টার ব্রেক। ঘুরে আসুন সমুদ্র কিংবা পাহাড়ে, অবলীলায় মনকে জড়িয়ে নিন প্রকৃতির সৌন্দর্য ও স্নিগ্ধতায়। কিংবা ঘুরে আসুন নিজ গ্রাম থেকেই!

ঘুরাঘুরির এই সময়টিতে দূরে থাকুন প্রযুক্তি হতে কেননা নির্মল কিছু সময় কাটানোই যে এই  ঘুরতে যাওয়ার উদ্দেশ্য!

বি.দ্র. ক্ষুধা শুধু উদরেই নয়, রয়েছে মনেও। মনের খাদ্য অপর্যাপ্ত হলে শরীর ভরা শক্তিও নেতিয়ে পড়ে এক পর্যায়ে। তাই ঘুরতে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে অবহেলা না করে অবশ্যই ঘুরে আসুন এবং মিটিয়ে নিন মনের ক্ষুধাটিও!

১৪। পরিবারের সাথে মানসম্মত সময় কাটান

এই ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, তো ঐ প্রেজেন্টেশন, তো ঐ ক্লাবের মিটিং, তো পরীক্ষা……এই যাহ্‌! বলতে বলতে নাভিশ্বাস উঠে গেল!

সারা দিন-মাস নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত থেকে পরিবারকে হয়তো আপনারা অনেকেই মানসম্মত সময় (quality time) দিতে পারেন না। তাই সেমিস্টার ব্রেকে অবশ্যই আপনার পরিবারকে উপহার দিন ভালো কিছু সময়।

একসাথে বসে আড্ডা দেওয়া, লুডু খেলা, তারাভরা আকাশের নিচে ছাদে বসে সুখ-দুঃখের আলাপ বিনিময় করা, ছোট ভাই বা বোনটিকে  বিকালে খেলতে নিয়ে যাওয়া, মাকে ঘরের কাজে সহযোগিতা করা, বাবার সাথে একান্ত কিছুক্ষণ বসে গল্প করা, আত্মীয়দের সাথে সাক্ষাৎ করা ইত্যাদি এই কাজগুলো সকলেরই প্রতিদিনের কাজ হওয়া উচিত। তবে যারা এই কাজগুলো খুব একটা করার সময় পান না, ছুটির সময়টিতে এ কাজগুলোই করুন পরম যত্ন ও আন্তরিকতার সাথে।

তাদের বুঝার সুযোগ করে দিন যে আপনি তাদের নিয়ে আসলেই কতটুকু চিন্তা করেন ও ভালবাসেন। যান্ত্রিকতার ভিড়ে এই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করতেই যেন আর অবহেলা না হয় তা খেয়াল রাখুন প্রত্যেকেই।

১৫। অসমাপ্ত কাজগুলো সেরে নিন

অসমাপ্ত প্রবন্ধটি লিখে শেষ করা, আলমারি ও পড়ার টেবিল গুছানো, গত সেমিস্টারের বইগুলো গুছিয়ে তুলে রাখা, অসমাপ্ত তৈলচিত্রটি এঁকে শেষ করা ইত্যাদি কতশত কাজই হয়তো আমরা অসমাপ্ত অবস্থাতেই রেখে দিই । ছুটিতে তাই সেরে নিন এমন প্রতিটি অসমাপ্ত কাজ, এগিয়ে রাখুন নিজেকে এবং প্রস্তুতি নিন পরবর্তী কাজটির জন্য।

লম্বা সময়ের ছুটিটিকে শুধু ঘুমিয়ে কাটানো একান্তই বোকামি। উপরোক্ত কাজগুলো ছাড়াও অন্য কোন আইডিয়া থাকলে আমাদের সাথেও শেয়ার করে ফেলুন কমেন্ট সেকশনে। সত্যিকার অর্থে, সবাই মিলে শেখাই কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কার্যকরী, তাই নয় কি?

Happy vacation!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?