যে ৫টি ঘটনা পাল্টে দিয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাস!

বাংলার ইতিহাস সংগ্রামের ইতিহাস, বাংলাদেশের ইতিহাস রক্তত্যাগের ইতিহাস। ২০১৯ এর বাংলাদেশের উন্নয়নের জোয়ার এসেছে নানা বাধা বিপত্তির রোলার কোস্টারে চড়ে। আধুনিক বাংলাদেশের রূপান্তরের জন্য কতবার যে এর ছাঁচের পরিবর্তন ঘটেছে, তা গুণে শেষ করার মত নয়। কখনো বৈদেশিক শক্তি এসে আমার তোমার মুখ চেপে ধরে রেখেছে, কখনওবা হাতে পড়িয়েছে চকচকে শিকল। যে পাঁচটি ঘটনা আক্ষরিক অর্থেই আমাদের মানচিত্রকে দিয়েছে পরিপূর্ণতা, আমাদের পতাকাকে দিয়েছে স্বকীয়তা, আমাদের দেশকে দিয়েছে সার্বভৌমত্ব, একে কে তা বলা যাক-

ভাষা আন্দোলন

সময়কাল: ১৯৫২

৪৭’ সালে ব্রিটিশের কাছে থেকে ভারতবর্ষ অর্জন করে বহুল প্রতীক্ষিত স্বাধীনতা, জন্ম হয় হিন্দুস্তান বা ভারত ও পাকিস্তানের। পাকিস্তান ছিলো দুই অংশে বিভক্ত- ভারতের একপাশে অবস্থিত পূর্ব পাকিস্তান ও অন্য পার্শ্বে পশ্চিম পাকিস্তান। ভারতবর্ষ বিভক্তের অনেক আগ থেকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়। এই ধোঁয়াশা জন্ম দেয় এক বিতর্কের, যেই বিতর্ক সর্বপ্রথম শুরু হয় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এর হাত ধরে। তিনিই প্রথম মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমরা প্রায়ই দ্বিধায় পড়ে যাই- সিজিপিএ ঠিক রাখবো, নাকি নিজের জন্যে কিছু অর্থোপার্জন করবো। এই দ্বিধা থেকে মুক্তির জন্যে ঝটপট ঘুরে এসো ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লে-লিস্ট থেকে!  লাইফ হ্যাকস সিরিজ!

পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে এই বিতর্ক আরো জোরালো হয়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মত দেশবরেণ্য ভাষাবিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবীরা তাদের লেখনীর মাধ্যমে প্রতিবাদ শুরু করেন। তমদ্দুন মজলিস নামক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি সেই প্রতিবাদেরই অংশবিশেষ।

২১ শে মার্চ, ১৯৪৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এক ভাষণে ঘোষণা করেন,

“উর্দু এবং কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা”


(source: londoni)

১৯৪৮-১৯৫২, সারাবছর ব্যাপীই চলমান থাকে বাংলার মানুষদের নানান সংগ্রাম, কারণ? শুধু মায়ের ভাষায় কথা বলতে চাওয়া ! গড়ে ওঠে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ, পালিত হয় বাংলা ভাষা দাবী দিবস, চলে ব্যাপক গ্রেফতার, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। এমনকি পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে ৮ দফা চুক্তিও সই করেন।

ঘুরে আসুন: জেনে নাও জিমেইলের ১০টি প্রয়োজনীয় তথ্য

জিন্নাহর অনুকরণে ১৯৫২ সালে ঢাকার পল্টনে এক জনসভায় নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনও উর্দুকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে আখ্যা দেন। ৪ঠা ফেব্রুয়ারি থেকেই ঢাকায় ছাত্র বিক্ষোভ শুরু হয়। ভাষার দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেয়া হয়। কারাবন্দি নেতা শেখ মুজিব ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২১শে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি পালনে ছাত্র ও আওয়ামী মুসলিম লীগের নেতা কর্মীদের ডেকে পরামর্শ দেন। সরকারী এক ঘোষণায় ঐদিন ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। ২১শে ফেব্রুয়ারির সকালে ১০জন করে বের করা মিছিল ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিকে এগোলে পুলিশ ছাত্রজনতার উপর গুলিবর্ষণ করে। শহীদ হন সালাম, বরকত, জব্বার, শফিউর ও রফিক।


(source: alamy)

১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় এবং প্রাণের ভাষা বাংলা রূপ পায় আমাদের মুখের ভাষায়। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

গণঅভ্যুত্থান:

সময়কাল: ১৯৬৯

বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি এই গণঅভ্যুত্থান। এখানেই বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দেয় একতার এক পরিপূর্ণ দৃষ্টান্ত। বই পুস্তকে এটি পরিচিত উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে।


(source: risingbd)

পূর্ব পাকিস্তানের সকল গণতান্ত্রিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকেই মাটি আঁকরে ধরে এই আন্দোলনে অংশ নেয়। নিহতের সংখ্যার তালিকাটা এখানেও এসে হাজির হয়, তালিকায় ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান আসাদ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শামসুজ্জোহার নাম। এই অভ্যুত্থানের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য ছিলো ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিঃশর্ত মুক্তি। অবশেষে ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের সামরিক শাসক আইয়ুব খান শেখ মুজিবকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়, নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দকেও। প্রত্যাহার করে নেয়া হয় আগরতলা মামলা।


(source: daily star)

গণঅভ্যুত্থানের আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে, এই আন্দোলনের ফলে মুক্তি পাওয়া শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তির পরপরই বাংলার জনগণের বন্ধু তথা বঙ্গবন্ধু নামের উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

ঘুরে আসুন: স্মার্টফোন হ্যাকিং থেকে বাঁচতে হলে জানতে হবে যে বিষয়গুলো

গণঅভ্যুত্থানের প্রভাবের জের ধরেই পাক শাসক আইয়ুব খান বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করেন। জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সালে গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হন। ঊনসত্তর মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চিন্তার আবির্ভাব ঘটায়। এর পরপরই বাংলাকে পাক বাহিনীর কাছ থেকে স্বাধীন করার প্রয়োজনীয়তাটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সাধারণ নির্বাচনে বাংলার বিজয়ের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে দেশের জনগণকে একত্র করারও একটি বিশেষ মহরা হয়ে এই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। তাই বলা যায় ১৯৬৯ সালের এই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন ইতিহাসে ব্যাপক ঐতিহাসিক প্রভাব বিস্তার করেছিলো।

৭ই মার্চের ভাষণ

সময়কাল: ১৯৭১

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ের পরও বাংলাদেশের মানুষ আক্ষরিক অর্থের বিজয় পায়নি। কারণটাও ছিলো স্পষ্ট যে পাকিস্তান সরকার কিছুতেই এত বড় বাংলাকে কখনোই হাতছাড়া করতে রাজি হয়। ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা থেকে শুরু করে অনির্দিষ্ট কালের জন্য সংসদ অধিবেশন স্থগিত, হরতালে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুলি চালনা- এসবের ন্যায় নানা চক্রান্ত শুরু হয় বাংলাকে ঘিরে। ১৯৭০ সাল থেকেই বাংলার মানুষের ক্ষোভ চূড়ান্ত পর্যায়ে যাওয়া আরম্ভ করে। সবকিছু সহ্যের সীমার বাইরে চলে গেলে মঞ্চে উঠে আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, হাতে তুলে নেন মাইক্রোফোন, ডাক দেন স্বাধীনতার। এটিই পরিচিত ঐতিহাসিক “৭ই মার্চের ভাষণ” নামে।


(source: cloudfront)

সোহরাওয়ারর্দী উদ্যানের তখনকার নাম ছিল রেসকোর্স ময়দান। পড়ন্ত এক রোদে মঞ্চে উঠে আসেন কালো কোট, সাদা পাঞ্জাবি ও পায়জামায় মোড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর মনে ছিলো সকল বঞ্চনার এপিটাফ, প্রাণে ছিলো বিজয়ের তৈলচিত্র। হাজারো জনস্রোতের সামনে তিনি তুলে ধরেন বহুকাল ধরে চলে আসা বাংলার প্রতি পাকিস্তানীদের বৈষম্যের কথা, তুলে ধরেন বিভিন্ন রাজনৈতিক পটভূমি। পৃথিবীর ইতিহাসে বিখ্যাত সকল ভাষণের সঙ্গে একই কাতারে থাকবে এই ভাষণও।

৭ই মার্চের ভাষণে বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা ও মুক্তিযুদ্ধের নির্দেশনা পায়। এ ভাষণের পরপরই বাঙালী জাতির সামনে একটি মাত্রই গন্তব্য ছিল- স্বাধীনতা । এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু যেই স্বাধীনতার ডাক দেন, সেই ডাকেই বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণে পরবর্তী করণীয় ও স্বাধীনতা লাভের দিকনির্দেশনা ছিল,

“প্রতি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করো।”

তাঁর ভাষণের মূলমন্ত্র ছিল-

“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে বাংলাদেশের মানুষকে একত্র করে একটা “পুশ” দরকার ছিল। ৭ই মার্চে শেখ মুজিব ঠিক একই কাজটা করেছিলেন। তিনি চোখে আঙ্গুল দিয়ে মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছিলেন যে বাঁধ ভাঙার সময় অতি নিকটে।

জয় বাংলা স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে এই ভাষণটা যে খুব দরকার ছিলো !

মুক্তিযুদ্ধ

সময়কাল: ১৯৭১


(source: daily star)

যে যুদ্ধ জন্ম দেয় একটি দেশের, যেই যুদ্ধ জ্বালানি দেয় দেশের মানুষগুলোর স্বাধীনতার চেতনাকে, যেই যুদ্ধ ৩০ লক্ষ নিরপরাধ মানুষের গনহত্যার বাক্যে “ফুল স্টপ” নিয়ে আনে, সেই মুক্তিযুদ্ধ ছিলো বাংলাদেশের মানুষের ক্ষমতা, বুদ্ধিমত্তা ও দেশকে স্বাধীন করার দৃঢ় প্রত্যয়ের অন্যতম এক নিদর্শন। দীর্ঘ নয় মাস ব্যাপী এই যুদ্ধে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয় পূর্ব পাকিস্তান, জন্ম হয় নতুন বাংলাদেশের ।

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশান ইত্যাদি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য 10 Minute School Skill Development Lab নামে ১০ মিনিট স্কুলের রয়েছে একটি ফেইসবুক গ্রুপ। গ্রুপে জয়েন করুন!

২৫শে মার্চের রাতে নির্বিচারে গনহত্যার সাক্ষী হওয়া থেকে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী এই স্বাধীনতা সংগ্রাম। পাকিস্তানী বাহিনীর অপারেশন সার্চলাইটের শিকার হয় রাজারবাগ পুলিশ লাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, ইপিআর ক্যাম্পের মত গুরুত্বপূর্ণ স্থান গুলো। নিহত হয় সামরিক-বেসামরিক হাজারো জনতা। গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরেই বঙ্গবন্ধু রেডিওযোগে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং ওয়্যারলেসে তা পৌঁছে যায় সারা দেশে। মুক্তিযুদ্ধের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো হলো-

মুজিবনগর সরকার গঠন:


(source: bdhc)

মুক্তিযুদ্ধের সার্বিক পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গড়ে তোলা হয় মুজিবনগর সরকার। শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে এই সরকারের নাম মুজিবনগর সরকার দেয়া হয়। এটিই ছিলো প্রথম বাংলাদেশ সরকার। ঐ দিনই ঘোষণা করা হয় “বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আদেশ।” শপথ গ্রহণের পর মোট ৬জন ব্যাক্তি মুজিবনগর সরকারের হাল ধরেন, যা শুরু হয় রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দিয়ে। বাকিরা হলেন,

উপরাষ্ট্রপতি- সৈয়দ নজরুল ইসলাম

প্রধানমন্ত্রী- তাজউদ্দীন আহমদ

অর্থমন্ত্রী- এম. মনসুর আলী

স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রী- এ. এইচ. এম. কারারুজ্জামান

পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী- খন্দকার মোশতাক আহমেদ

রাজনৈতিক দল:

আওয়ামীলীগ ছাড়াও আরো অনেক রাজনৈতিক দল এগিয়ে এসেছিলো বাংলাদেশের পানে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিচালিত ন্যাপ, ন্যাপ (মোজাফফর), কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় কংগ্রেস।

অবশ্য এসময় বাংলাদেশ দেখেছে মুদ্রার বিপরীত পিঠও। মুসলিম লিগ, জামায়াতে ইসলামী, পিডিপি কয়েকটি দল বাংলাদেশী হওয়া সত্ত্বেও যুদ্ধের বিরোধিতা করে। তারা নিজেরা গঠন করে রাজাকার, আলবদর, আলশামস, শান্তি কমিটির মত পাক সমর্থিত দলগুলো। এসব দলের মুখ্য উদ্দেশ্যই ছিল যুদ্ধের পথ আটকে দেয়া।

গণমাধ্যম:

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মত গণমাধ্যমগুলো নয় মাসব্যাপীই নানাভাবে এদেশের মানুষকে যুদ্ধের অনুপ্রেরণা দিয়ে গেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, রণাঙ্গনের নানা ঘটনা দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরে ও সাধারণ মানুষকে যুদ্ধের প্রতি অনুপ্রাণিত করে এসব গণমাধ্যম। বিবিসির মত বিদেশি গণমাধ্যমগুলোও বিশ্ববাসীকে বাংলাদেশের একের পর এক ঘটনার জানান দেয়।

বহির্বিশ্ব:

        মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশ যেমন পেয়েছে বহির্বিশ্বের করতালি, তেমনি পেয়েছে কিছু দেশের নাক ছিটকানিও। যুক্তরাষ্ট্র, চীনের মত বিশ্বপরাশক্তি আমাদের বিরোধিতা করেছে যেমন, তেমনি আমরা পেয়েছি রাশিয়া, গ্রেট ব্রিটেনের সমর্থনের আচ্ছাদন। মুক্তিযুদ্ধে প্রভাব বিস্তার করতে যখনই যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে প্রস্তাব দিয়েছে, তখনই তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেটো প্রদান করে প্রস্তাব বাতিল করে দেয়। এমনকি বঙ্গোপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহরের মুখোমুখি ছিলো সোভিয়েত ইউনিয়নের অষ্টম নৌবহর। এভাবেই বহির্বিশ্ব নানাভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রভাব বিস্তার করে।

সবশেষে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর প্রবল সংগ্রামযুদ্ধের কাছে নতি স্বীকার করে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর প্রায় ৯৩ হাজার সৈন্য নিয়ে পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করে, জন্ম হয় স্বাধীন বাংলাদেশের !

সপরিবারে শেখ মুজিব হত্যা

সময়কাল: ১৯৭৫

কি বলা যায় এই হত্যাকাণ্ডকে? পৈশাচিক? নির্মম? নিষ্ঠুর? এই ঘটনাকে বিশ্লেষণ করতে গেলেই যেন শব্দসংকটে ভুগতে হয়। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের সকালটা শুরু হয়েছিল আর দশটা সকালের মতই। বাড়িজুড়ে ছিল ছোট্ট রাসেলের খেলাঘর। মুখ থেকে তামাকের ধোঁয়ার নিঃশ্বাস ফেলেই শেখ মুজিব হয়তো চলে যেতেন তাঁর দাপ্তরিক অফিসে। কে জানতো, রাতের আঁধারেই ঘরজুড়ে শুরু হবে রক্ত দিয়ে চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতা। সেনাবাহিনীর উচ্চাভিলাষী ও উচ্ছৃঙ্খল একটি গোষ্ঠী সবসময়ই চাইতো, শেখ মুজিব যেন বাংলার নাটাই ধরে রাখতে না পারে। তারা এও জানতো যে, শুধুমাত্র মুজিবকে বিনাশ করেই ক্ষান্ত হওয়া যাবে না। রাত নেমে আসলেই পুরো বাড়িটি কেঁপে ওঠে মেশিনগানের শব্দে। থেমে যায় রাসেলের খলখলানি, সিঁড়িতে পড়ে থাকে রক্তমাখা সাদা পাঞ্জাবি ও ভাঙ্গা চশমার কাঁচ।


(source: londoni)

হত্যাকারীরা জানতো, দেশ পুনর্গঠনের “দ্বিতীয় বিপ্লব” বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সফল হবেন, মুক্তিযুদ্ধেও যেমন সফল হয়েছিলেন, ঠিক তেমনি। তাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেয়ার জন্যেই ১৫ই আগস্টের নৃশংস হত্যাকান্ড করা হয় পুরো মুজিব পরিবারকে। দেশের বাইরে থাকার জন্য বেঁচে যান শেখ মুজিবুর রহমানের দুই মেয়ে- শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

এই হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়েই দেশে পুনঃপ্রতিষ্ঠা পায় পাকিস্তানি সাম্প্রদায়িক ভাবাদর্শ। দেশে দেখা দেয় রাজনৈতিক সংকট।


(source: open edition journals)

শোষণ থেকে সংগ্রাম, সংগ্রাম থেকে বিজয়- বাংলাদেশের ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য পাঁচটি ঘটনাকে এভাবেই এক বাক্যে বলা যায়। চায়ের চুমুকে আধুনিক বাংলার প্রশংসা কিংবা সমালোচনা করতে যাওয়ার আগে উপরোক্ত ৫টি ঘটনা না জানলেই নয়, যে ঘটনায় ভর করে পাল্টে যায় গোটা বাংলাদেশেরই ইতিহাস।


Source:

http://www.londoni.co/index.php/islam/11-history-of-bangladesh/67-bhasha-andolon-bangladesh-language-movement-1948-1952-summary-history-of-bangladesh

http://en.banglapedia.org/index.php?title=Mass_Upsurge,_1969

https://www.daily-sun.com/post/266653/2017/11/06/Bangabandhu%E2%80%99s-7th-March-Speech:-The-Real-Significance

http://www.astronomy.ohio-state.edu/~nahar/cv/bdliberation-essay8.pdf

https://www.dhakatribune.com/opinion/2017/08/14/assassinating-bangabandhu-murdering-history


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Fardin Islam

Fardin Islam

Fardin Islam believes that it only takes a few good sense of humors to make another person happy. He's a tech freak and pretty much addicted to Netflix related stuffs. He is currently majoring in Economics at Bangladesh University of Professionals.
Fardin Islam
এই লেখকের অন্যন্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?