পাঠকপ্রিয় সেরা পাঁচ: প্রবন্ধ

সেরা বই [Fetching...]

১। গবেষণায় হাতেখড়ি- রাগিব হাসান

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বইটির ভূমিকায় লিখেছেন, “রাগিব হাসান আমাদের বিভাগে থেকে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে। তার সমাজ ভাবনা, সবাইকে নিয়ে চলার আকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়। কোন এক সময়ে আমার সুযোগ হয়েছিল তার গবেষণা কর্মের সাক্ষী থাকার। তখনই দেখেছি তার গবেষণা করার প্রতিভাই যে শুধু আছে, তা নয়, তার আগ্রহ সীমাহীন। চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে রাগিব হাসান পিছপা হয় না। আইনস্টাইন বলেছেন তিনি খুব তীক্ষ্ণধী নন, তবে একটি সমস্যা নিয়ে তিনি দীর্ঘক্ষণ লেগে থাকতে পারেন। গবেষণায় সফলতা অর্জন করতে যদি কোন গোপন মূলমন্ত্র থাকে, তা হলো লেগে থাকা। রাগিব অত্যন্ত কর্মঠ এবং সক্রিয়।”

রাগিব হাসান নিজেই একজন আন্তর্জাতিক মানের গবেষক। গোল্ড মেডেল পাওয়া কম্পিউটার বিজ্ঞানের সেরা ছাত্রটি এই বইতে গবেষণার বিষয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেছেন। ফলে দেশে গবেষণা করতে ইচ্ছুক তো বটেই- যারা বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গবেষণা করতে চান, তাদের জন্যও বইটি অত্যন্ত উপকারী। গবেষণাকর্মের নানামাত্রিক দিক নিয়ে এমন গ্রন্থ সম্ভবত বাংলা ভাষায় এটাই প্রথম।

বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

২। পরার্থপরতার অর্থনীতি- আকবর আলি খান

বাস্তব জীবনের অর্থনৈতিক সমস্যা সম্পর্কে মূলধারার অর্থনীতির বক্তব্য তুলে ধরার লক্ষ্যে এই গ্রন্থে লেখকের পনেরটি প্রবন্ধ সন্নিবেশিত করা হয়েছে। বইটির শুরু দান-খয়রাতের অর্থনীতি নিয়ে । আরও রয়েছে দুনীতির অর্থনীতি, সংস্কারের রাজনৈতিক অর্থনীতি, মেরামত ও পরিচালনার অর্থনীতি, বাংলাদেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণের রাজনৈতিক অর্থনীতি, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের অর্থনীতি সম্পর্কে মনোজ্ঞ বিশ্লেষণ।

অর্থনীতির সবচেয়ে জটিল সমস্যা অর্থনৈতিক অসাম্য সম্পর্কে রয়েছে দু’টি নিবন্ধ। লেখকের দৃষ্টি শুধু বর্তমানেই নিবদ্ধ নয় । ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রবণতা সম্পর্কে বিশ্লেষণ রয়েছে “আজি হতে শতবর্ষ পরে’ শীর্ষক প্রবন্ধে । অতীতের প্রসঙ্গ এসেছে দুটি নিবন্ধে: “সোনার বাংলা: অর্থনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত” এবং “ভারতীয় অর্থনীতির উত্থান ও পতন” । তিনটি মূল্যবান রচনা রয়েছে অর্থনীতিবিদদের সম্পর্কে । “অর্থনৈতিক মানুষ ও মানুষ হিসাবে অর্থনীতিবিদ” রচনায় দেখানো হয়েছে কীভাবে অর্থনীতির পূর্বানুমান এবং পক্ষপাত করেছে। একটি প্রবন্ধে অর্থনীতির দর্শনের বিবর্তন অর্থনীতিবিদ হলেন মোল্লা নসরুদ্দীন ।

মোল্লা দেখিয়েছেন যে, মোল্লার গালগল্প ও কৌতুক-চুটকির মধ্যেই আধুনিক অর্থনীতির অনেক মূল্যবান সূত্র লুকিয়ে রয়েছে। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ রয়েছে, যুদ্ধ এতই গুরুত্বপূর্ণ যে তা শুধু সেনানায়কদের কাছে ছেড়ে দেওয়া যায় না। অর্থনৈতিক সমস্যাও এত জরুরি যে, এ সব সমস্যার সমাধানের জন্য শুধু অর্থনীতিবিদদের উপর নির্ভর করা বাঞ্ছনীয় নয়। আশা করা হচ্ছে যে, এই বই অর্থনীতি নামক হতাশাবাদী ও দুর্বোধ্য বিজ্ঞান সম্পর্কে বিতর্কে অংশগ্রহণের জন্য সাধারণ পাঠকদের উদ্দীপ্ত করবে ।

বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

৩।  একজন সাদাসিধে মা এবং অন্যান্য-মুহম্মদ জাফর ইকবাল

বই প্রসঙ্গে লেখক বলেছেন:

“আমার মনে হয় আমাদের বাংলাদেশ যে পৃথিবীর অন্য দশটা থেকে ভিন্ন তার একটা বড় কারণ মুক্তিযুদ্ধের পর এই দেশের অনেক মায়েরা ঘর থেকে বের হয়ে সংগ্রাম শুরু করেছেন। বেঁচে থাকার জন্যে সেই সংগ্রামের কথা কতজন জানে?
মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধক্ষেত্রে যে যুদ্ধ করেছেন, মুক্তিযুদ্ধের পর আমাদের দেশের সেই মায়েদের যুদ্ধ তাঁদের থেকে কোনো অংশে কম নয়, আমরা কি সেটা মনে রাখি?

একদিন যখন বাংলাদেশ মাথা তুলে দাঁড়ারে তখন আমরা কি বাংলাদেশের সেই অসংখ্য মায়েদের কথা স্মরণ রাখব? যে সাদাসিধে মায়েরা সন্তানদের রক্ষা করার জন্যে সিংহীর সাহস নিয়ে কঠিন পৃথিবীর মুখোমুখি হয়েছিলেন? বুক আগলে তাদের রক্ষা করেছিলেন।

আমি আজকে আমার নিজের মায়ের সাথে সাথে বাংলাদেশের এ রকম অসংখ্য মায়েদের কাছে একটুখানি ভালোবাসা, একটুখানি শ্রদ্ধা পৌঁছে দিতে চাই”।

বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

 ৪। নারী-হুমায়ুন আজাদ

“নারী” প্রথম নারীবাদী বাংলা গ্রন্থ যেখানে নারীবাদী কাঠামোতে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর অবস্থান বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কেউ নারী হয়ে জন্ম নেয় না, পুরুষতন্ত্র একজন মানুষকে নারী করে তুলে।পুরুষ সৃষ্টি করেছে নারীর ধারণা, নির্ধারণ করেছে নারীর সংজ্ঞা, নির্দেশ করেছে নারীর অবস্থান, তৈরী করেছে নৃশংস বিধিমালা, করে তুলেছে তাকে কামসঙ্গী ও পরিচারিকা। ইহুদি-খ্রীষ্টান-মুসলমানের চোখে নারী এক অবাধ্য বক্রহার যে স্বর্গে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে; হিন্দুর চোখে সে আরও নিকৃষ্ট।

লেখক এখানে বর্ণনা করেছেন নারী-পুরুষের লৈঙ্গিক রাজনীতির রুপ, রুশো-রাসকিন-ফ্রয়েড-রবীন্দ্রনাথের নারীবিরোধীতার মিল এবং রাজা রামমোহন রায় এবং বিদ্যসাগরের নারীমুক্তির তাত্ত্বিক ও বাস্তব কর্মরাশি। তিনি দিয়েছেন ওলস্টোনক্র্যাফট ও বেগম রোকেয়ার গভীর ব্যাখ্যা, বর্ণনা করেছেন নারীর লিঙ্গ ও শরীর, বালিকা কিশোরী তরুণীর বেড়ে ওঠা ও নারীর স্বপ্ন-সমস্যা-প্রেম-কাম-সংসার। হুমায়ুন আজাদ পরিচয় দিয়েছেন নারীবাদী সাহিত্যতত্ত্বের, বিশ্লেষণ করেছেন বঙ্গীয় ভদ্রমহিলার উৎপত্তি এবং ব্যাখ্যা করেছেন বাংলার নারী ঔপন্যাসিকদের নারীবাদী দৃষ্টিতে, যা আগে কখনও করা হয়নি।

বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

 ৫। নাগরিকদের জানা ভালো-বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

নাগরিক হিসেবে আমাদের যেমন কিছু অধিকার আছে, তেমনি রাষ্ট্র ও সমাজ, এমনকি পরস্পরের প্রতি কর্তব্যও আছে। এই অধিকার ও কর্তব্য সম্বন্ধে সচেতনতা উন্নত সমাজের একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। এমনিতে একজন নাগরিক তাঁর পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন সময় বিক্ষিপ্তভাবে নাগরিক অধিকার ও দায়িত্ব সম্বন্ধে ধারণা বা জ্ঞান লাভ করেন। তবে তা অনেক সময় নাগরিকের মনে স্থিতি পায় না। আমাদের বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকদের অধিকার ও দায়িত্বে অবহেলার শাস্তির বিধানাবলি উল্লেখিত আছে দণ্ডবিধিতে।

কিন্ত সকল নাগরিকের পক্ষে তো সব সময় সংবিধান, দণ্ডবিধি ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন গ্রন্থর পাতা ওল্টানো সম্ভব নয়। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, ধর্মজীবন ইত্যাদি সম্পর্কে জানাও একজন নাগরিকের পক্ষে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এত সব জরুরি জ্ঞাতব্য বিষয়কে একটি গ্রন্থের পরিসরে আবদ্ধ করে সাধারণ নাগরিকদের কাছে সহজলভ্য করে তুলতে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান তাঁর জীবনের একেবারে শেষ দিকে আমাদের জন্য এই বইটি রচনা বা সংকলনের কাজে হাত দিয়েছিলেন। তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে বইটি প্রকাশিত হয়।

বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

৫টি বই একইসাথে এক লিস্ট থেকে কিনতে চাইলে ঘুরে এসো এই লিংকটি থেকে!

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?