আমার দেখা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব

থায় আছে, ‘অভিজ্ঞতা ঢের শিল্পের কাঁচামাল’। এই উপমহাদেশ প্রবহমানকাল ধরে দেখে এসেছে শাসন, উপনিবেশবাদ, কড়া দুর্ভিক্ষ, প্রিয়জনদের অকালমৃত্যু। জীবনচক্র স্তব্ধ হয়ে যায়নি। অসহনশীলতাকে পুঁজি করেও তো এগোতে হয়। তাই বলে জীবনের ধারা পাল্টেছে। আর এই জীবনের সঙ্গে জীবনের যোগই সাহিত্যের আদত কাজ। যা শুধু ‘Art for the sake of art’ নয়, অস্তিত্বের মাধ্যমও বইকি। এই উপমহাদেশে সাধনায়, চর্চায়, চর্যায় নিয়োজিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী, সাহিত্যিক পদার্পণ করেন যারা তাঁদের জীবনে প্রাপ্য সম্মানটুকু পাননি বটে, কিন্তু দিয়ে গেছেন ‘অমূল্য রতন’। আর আমার আগ্রহের জায়গা তাঁরাই।

আমার বই পড়ার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা থেকে একটা জায়গায় এসে স্থির হয়েছি যেখানে ‘খ্যাতিমান লেখক’ আর ‘গুরুত্বপূর্ণ লেখক’ এর একটা লাইন টানা সম্ভব। পার্থক্যটা বলি। সহজ হিসেব- খ্যাতিমান লেখক অনেকটা চানাচুরের মতো। খেতে বেশ সুস্বাদু। অকারণে চিবোতে ভাল লাগে। কিন্তু পুষ্টি বিশেষ নেই। [বি.দ্র. খ্যাতিমান লেখকরা ভাল লিখেন না, এমন কোনও কথা নেই।] গুরুত্বপূর্ণ লেখক সবজির মতো। গিলে নিতে কষ্ট হয় ঠিকই। তবে দিনশেষে শরীরের জন্য ভাল। আমার আজকের আলোচনার জায়গা সেই সবজিগুলো, মানে, গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের নিয়ে। 

Related image

সাদাত হাসান মান্টো

উর্দু সাহিত্য নিয়ে আমরা খুব একটা জানি না, জানতে চাইও না। সাহিত্য কোনও দেশ-জাত বিবেচনা করে না- এই সহজ সত্য থেকে বঞ্চিত হবার কারণেই আমরা এক প্রকার উর্দু-বিদ্বেষী মনোভাব পুষে রেখেছি। যার দরুন আমরা কখনো আল্লামা ইকবাল পড়ি না, মির্জা গালিব সম্পর্কে জানি না, মীর তকি মীর কিংবা মুনীর নিয়াজী কে- এই প্রশ্নগুলো আমাদের কাছে অত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। আর আমার বিশ্বাস, উর্দু সাহিত্য আমাদের পাঠের রাজ্যে জায়গা পায়নি মূলত একটাই কারণে: উর্দু পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

সেদিন বাংলাবাজারের এক বইয়ের দোকানে মান্টোর বই খুঁজছিলাম। হঠাৎ খেয়াল করলাম এক বয়সী ভদ্রলোক আমার দিকে একনজরে তাকিয়ে আছেন। হাতে তাঁর জাঁক দেরিদার লেখা ‘আরকাইভ ফিভার’। বয়স ৭৫-৭৬ হবে। আমাকে কাছে ডাকতেই জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার আগ্রহ দেখে বেশ খুশি হলাম, বাবা। আমি নিজে পাকিস্তানী। দুঃখের বিষয়, এদেশের মানুষ ওই অর্থে উর্দু সাহিত্য পড়ে না। আগ্রহও তেমন দেখায় না। তুমি বললে আমি উর্দু সাহিত্যের তাক থেকে মান্টোজির বই নামিয়ে দিতে পারি।’ বুঝলাম তিনিই এই দোকানের মালিক।

ধুলায় জর্জরিত তাক থেকে বই নামানো হল, কিনে তা পড়াও হলো, কিন্তু মান্টোর সাহিত্য প্রথম প্রথম ঠিক ‘হজম’ করে উঠতে পারলাম না। মনে হচ্ছিল, সার্কাসের যে টানটান দড়িতে একজন শিল্পী সবসময় আশ্রয় নেন, যেখানে কী লিখতে হবে, কতটুকু লিখতে হবে, কতটুকু ঢাকতে হবে- তা নিয়ে প্রতিনিয়ত বোঝাপড়া করতে হয় তাকে, মান্টো অনেক আগেই সে দড়ির ঊর্ধ্বে চলে গেছেন। তাঁর কাছে ‘censorship’ বলতে কিছু নেই। যেহেতু কেবল সত্যই ঘটমান, তাকে অস্বীকার করা কেন! 

প্রিয় পাঠকগণ, এখানেই মান্টোর মাহাত্ম্য। যা দেখা, তা লেখার কারণে তাঁর এক বিশেষ নামডাক আছে। মান্টোর জন্ম ভারতে। কিন্তু দেশভাগের পর পাকিস্তানে চলে যান। দেশভাগ ও এর প্রতিক্রিয়া তিনি মেনে নিতে পারেননি। যে কারণে পাকিস্তান চলে যাওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না। সে থেকেই তাঁর বম্বে থেকে লাহোরে গিয়ে পদে পদে এক আগন্তুকের জীবন যাপন করা। কখনও তিনি লাহোরের রাস্তা থেকে রাস্তায়, ফুটপাত থেকে ফুটপাতে, কখনও বা করাচির ট্রামের সারির সামনে স্তব্ধ হয়ে বসে থেকে, লাহোরের কাঁচাবাজের হৈ-হুল্লোরের মধ্যে বসবাস করে তিনটা মাস কাটিয়ে দিলেন অনায়াসে।

তাঁর এই ভবঘুরে হবার অভিজ্ঞতা; সংকীর্ণ রাজনৈতিক কারণে দেশভাগের আবির্ভাব, সেখান থেকে নিহিত হিংসা, সামাজিক নৈরাজ্য, হেটে চলা সাধারণ মানুষ থেকে সামাজিকভাবে অস্বীকার করে রাখা দালাল, দেশচ্যুত, উদ্বাস্তু, বেশ্যা সুদ্ধ হয়ে ওঠে তাঁর গল্পের চরিত্র- যারা, মান্টোর মতে, তাঁর রাতের পর রাত বাতচিত করে গড়ে ওঠা চরিত্র। তবে সব তো আর চাইলেই ছাপানো যায় না। একদিকে যেমন কলমের ধার আর তির্যক দৃষ্টি নিয়ে সত্যের মুখোমুখি মান্টো, আরেকদিকে সেসময়কার গৌণ, গতানুগতিক পাকিস্তান দফায় দফায় তাঁকে ‘অশ্লীলতা’র অভিযোগে দায় দিয়ে চলেছে। কিন্তু সময় সবচেয়ে বড় দার্শনিক।

এক মান্টোর সাথে পেরে উঠল না পাকিস্তান। একান্তই অতৃপ্তি থেকে যখন একজন লেখক কলম ওঠাতে বাধ্য হোন, তখন তাঁর কাছে কোনও কিছুই পরোয়া করার মতো থাকে না। ‘খোল দো’, ‘ঠান্ডা গোস্ত’, ‘পেরিন’, ‘শাহদৌলার ইঁদুর’ প্রভৃতি গল্প তারই নিদর্শন। দেখতে দেখতেই জীবনের তীব্র নৈরাস্য নিয়ে লেখা গল্পে ডুবে যায় সমগ্র ভারতবর্ষ। যে গল্পে দিন-রাত, চরিত্র, বাস্তবতা, সব কালচে। যেখানে আশাবাদের কোনও স্থান নেই। যা আছে, তা কেবলই একটি অসুস্থ, বর্বর সমাজের আয়না- ভাবুকতা জাগ্রত করার কিছু কাঁচামাল মাত্র।

“যে-সময়ে আমরা বেঁচে আছি, তার সঙ্গে যদি আপনার পরিচয় না থাকে, আমার গল্পগুলো পড়ুন। আপনি যদি আমার গল্পকে সহ্য না করতে পারেন, তবে বুঝবেন, এই সময়টাই অসহনীয়।

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

Related image

শৈশব থেকে পড়াশুনা করতে করতে ‘রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক’ এই তিনটি শব্দ সমান্তরালভাবে দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। মনে হতো, এই কথাটা হাওয়ায় কেন ভাসে? এমন কি কেউ নেই, যিনি এই শব্দগুলো কোথায়, কোন বিন্দুতে গিয়ে মিলিত হয়, আমাদের প্রত্যেকের জীবনে কীরকম ছাপ ফেলে তা হাতে-কলমে ধরিয়ে দেবেন? এই সংশয় আশা করছি অনেকেরই রয়েছে। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বপ্রথম আমাকে এই সংশয় থেকে মুক্তি দেন।

তাঁর এক গল্পেই রয়েছে: এক লোক রাতে আধো-ঘুমের মধ্যে বাড়ির একজন মানুষকে খুন করে বসে। সকালে উঠে সে দেখে ইতোমধ্যে খুনের তদন্ত শুরু হয়ে গেছে। সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সী তদন্তে নেমে পড়েছেন। কিন্তু খুনীর মনেই নেই যে খুনটা আদতে সে নিজ করেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নটা চলে আসে: কেন খুনী সব ভুলে গেল? বলছিলাম রাজনীতি, সমাজ আর অর্থনীতি এক বিন্দুতে মিলিত হবার কথা। বিষয়টা এইরকম যে, একটি দেশে যখন অনেকদিন যাবৎ দাঙ্গা চলতে থাকে, চারিদিকে যখন এক ঘোর বিভীষিকা নেমে আসে, তখন এক প্রকার মনস্তাত্ত্বিক নৈরাজ্য মানুষের বিবেকের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে। তখন সে আর নিজের বিবেকের মধ্যে নেই। 

এভাবে গল্পে গল্পেই শরদিন্দু হয়ে ওঠেন নেহাত রাজনৈতিক। মজার আদলে গড়ে ওঠে তাঁর সামাজিক-রাজনৈতিক পর্যালোচনা, ব্যঙ্গের বিপুল সমাহার। ছোটবড় গল্প, ঐতিহাসিক উপন্যাস, নাটক সব মিলে অসংখ্য সাহিত্যকর্মের বাহক তিনি। ব্যোমকেশ, বরদা চরিত্রগুলোর সঙ্গে পরিচিত নয় এমন বাঙালি পাঠক খুঁজে পাওয়া শক্ত। গল্পের সঙ্গে যদি রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে আপনার জানার আগ্রহ থাকে, তবে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় রীতিমত একজন প্রতিষ্ঠান!

“জ্ঞানী মানুষরা এমন উদ্ভট বিষয়বস্তুতে বিশ্বাস রাখেন যা মুর্খদের পক্ষে বিশ্বাস করাও রীতিমত লজ্জাকর।”

রবিশংকর বল

Related image

রবিশংকর বল এ যুগের বিরলতম লেখকদের মধ্যে একজন। মার্ক্সীয় সময়ের পর যে জড়বাদ সাহিত্যে জর্জরিত হয়ে পড়ে, সবখানে যখন কেবলই যুক্তি আর বুদ্ধির একঘেয়ে সীমাবদ্ধতার তুমুল চর্চা আর আধিপত্য, সেখানে রবিশংকর বলকে এক অবিস্মরণীয় প্রতিবাদী হয়ে উঠতে দেখা যায়। 

তিনি মূলত ইসলামী ইতিহাস, মধ্য এশিয়া ও প্রাচ্য-দর্শনের পন্ডিত। যা পদে পদেই প্রমাণিত হয় তাঁর সাহিত্যকর্মে, বিশেষ করে ‘আয়নাজীবন’ আর ‘দোজখনামা’ বইয়ের ভেতর। বলার ভঙ্গি থেকে বিচার করলে সেগুলো রীতিমত আশ্চর্য উপন্যাস; আখ্যানের ভেতরে অসংখ্য উপখ্যানের অদ্ভুত আরশিনগর। ‘আয়নাজীবন’ উপন্যাসের কথাই শুনুন- ইবনে বতুতার মহাজীবনবৃত্তান্তের এক অপ্রকাশিত, যাদুময় খোলশের উন্মেষ ঘটতে চলেছে। বলা বাহুল্য, মধ্যপ্রাচ্যে তখন কিছু দরবেশ, ফকিরদের মুসাফিরানা।

ঘোরের, কবিতার শহর কোনিয়াতে ইবনে বতুতা একজন প্রেমপুরুষের মতো জালালুদ্দিন রুমীর খোঁজে দিকহারা হয়ে ওঠেন। সুফি শমায় শুনতে পান বিধাতার নিরানব্বইটি নামের ওঙ্কার। কবির খোঁজ তিনি আদৌ পান কি? দেখা পেলেও বতুতার অভিজ্ঞতায় কীভাবে  হলেন মাওলানা রুমী? ইবনে বতুতা বারবার এই গুপ্তসাধনায় উপলব্ধি করেন, তিরিশ বছরের এই ভ্রমণ কেবলই তাঁর ‘ঘরে ফেরার তাড়না’!

যাদের আমার মতো এমন আবেগীয় বিশ্বাস রয়েছে, যে বইয়ের মধ্যে গোটা বিশ্বের অধরা সত্তাকে ধরা সম্ভব, তাঁদের কাছে রবিশংকর বল পৃথিবীর বিরলতম রুবির চেয়ে কম নয়।

“একদিন রাস্তায় এলোমেলো হাঁটতে হাঁটতে আপনি যদি এমন কাউকে দেখে ফেলেন, যাকে চিত্রে বা স্বপ্নে দেখা যায়, হয়তো একটি মুহূর্তের জন্য মুখোমুখিও দেখা হয়ে যেতে পারে, তবে কী মনে হবে আপনার? মনে হবে না, এক আশ্চর্য দরজা খুলে গেছে আপনার সামনে?”

কুমারপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

Image result for kumar prasad mukherjee

মার্গ সঙ্গীতের হৃদপিন্ড হচ্ছে এর মজলিশ। অর্থাৎ হরেক রকমের জলসাঘরে খাইয়ে-দাইয়ে, আরাম-আয়েস করে গানে মত্ত হওয়া। মার্গ মাত্রই বহু ঘর-ঘরানার চক্র। গুরুবাদ, গুরুপরম্পরার ‘ব্যাপার-স্যাপার’। সকালে রাগ বিভাস থেকে শুরু করে সন্ধ্যায় রাগ ইমন পর্যন্ত অসংখ্য ঘর-ঘরানার ম্যহফিল। কুমারপ্রসাদ সেই জলসাঘরেরই একজন শ্রোতা মাত্র। তবে খোদ বড় মাপের মার্গ সঙ্গীতশিল্পী। ভালোবাসেন এ প্রাসাদে, ও প্রাসাদে সব ঘরানার গান ও গাইয়েদের সঙ্গে সময় কাটাতে, তাঁদের জীবনের সঙ্গে নিজের জীবনের সংযোগ ঘটাতে।

মার্গ সঙ্গীত জটিল। আর তারচেয়েও জটিল এই সঙ্গীত ব্যাখ্যা করা। কুমারপ্রসাদ জানতেন- কোনও মজলিশি বিষয়কে একঘেয়ে, তাত্ত্বিক করে তোলা বড় স্পর্ধার কাজ। ওই দোষে দোষী তিনি হলেন না। কাজেই মজলিশকে মজলিশি আঙ্গিকে, গুরুপরম্পরার সকল রস-রসিকতা আড্ডাবাজীর ভঙ্গিতে লেখাই কাম্য। তাঁর বহুল আলোচিত উপন্যাস ‘কুদরত্ রঙ্গিবিরঙ্গি’, ‘মজলিশ’, ‘ম্যহফিল’ (হ্যাঁ, শব্দগুলো তাঁর আদলেই পাওয়া) যে কেবল সঙ্গীত উস্তাদদের রসে ভরা, আকর্ষণীয়, ঘটনাবহুল জীবনকে, তাঁদের গানকেই তুলে ধরে, এমনটা নয়। বরং কীভাবে যেন বইগুলির গল্পে জলসাঘরের পরিপূর্ণ আবহ আপনার চোখের সামনে জ্যান্ত হয়ে উঠবে। আপনিও পাড়ি দিয়ে বসবেন গানের আড্ডার চৌহদ্দিতে। এমন লেখক আজকাল খুঁজে পাওয়া শক্ত। 

ওস্তাদ বিসমিল্লা খাঁ, বাহাউদ্দিন খাঁ, বিষ্ণু দিগম্বর, বিলায়েৎ হুসেইন খাঁ থেকে শুরু করে ক্রমশ সত্যেন্দ্রনাথ বসু এমনকী শৈশবে দেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও কখনও-সখনও চলে আসতেন তাঁর গল্পের ভেতরে। গল্প বললে একদিক দিয়ে ভুল হবে, কেননা তাঁর কোনও উপন্যাসই কাল্পনিক নয়। সবই সর্বৈব সত্য। এ সত্যি- ঘটনাগুলো গল্পের চেয়েও বেশি রসসমৃদ্ধ। এখনও তাঁর ধার না ঘেঁষলে কী এক রস থেকে যে নিজেকে বঞ্চিত করলেন, তা বলে বোঝানো অসম্ভব। কাজেই কুমারপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আপনার বইয়ের তাকে না থাকলে পাঠাগার খালি-খালি, নীরস লাগা নেহাত অস্বাভাবিক নয়! 

“যৌবনে অন্য পাঁচটা পাপকার্যের সঙ্গে কলকাতার একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকায় আমি বেশ কিছুদিন সঙ্গীত সমালোচনা করতাম। এই ভরসায় যে, বেশির ভাগ গাইয়ে বাজিয়ে ওস্তাদরা ইংরেজি জানেন না, আর যাঁরা জানেন তাঁরা এসব রাবিশ পড়তে যাবেন কোন্ দুঃখে!”

প্রশান্ত মৃধা 

আমার এসময়ের প্রিয় কথাসাহিত্যিক। আচ্ছা ভাবুন তো, আপনা বয়স এখন চল্লিশ বছর। আপনার শৈশবে যে ধরনের মানুষের বসবাস, যেসব জীবিকা, পথের মুখরোচক খবার, মোটকথা যে জীবনটা ছিল, তা বয়সের সাথে সাথে কীভাবে ফুরিয়ে গেল! কতরকমের জীবিকা ছিল! মানুষ কী কী করে খেত! হয়তো শৈশবটা খুব সহজ ছিল! আহা! ঠিক এমন একটি স্মৃতিকাতর বিষয় নিয়ে প্রশান্ত মৃধার একটা বই প্রকাশিত হয়। বলছিলাম তাঁর ‘হারিয়ে যাওয়া জীবিকা’ বইটি নিয়ে। একদম নস্টালজিয়া শপ! একেক করে চোখের সামনে ভেসে যাচ্ছে- শৈশবের শাশ্বত সব বিষয়বস্তু। ভাড়ার সাইকেল, আরামপ্রিয়দের তেল মালিশ, বানরখেলা, কুলফি-মালাই, বায়োস্কোপ, টাইপ রাইটার- কী নেই হারিয়ে যাওয়া জীবিকার সারিতে! পড়া শেষ হতেই বাস্তবকে অস্বীকার করে সেই সময়ে ফিরে যাওয়ার সাধও জাগছে! 

রম্যরচনা, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও ব্যক্তিগত প্রবন্ধে আগ্রহী পাঠকদের জন্য প্রশান্ত মৃধা বাংলা সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করা একজন লেখক। তাঁর কিছু বই: মৃত্যুর আগে মাটি, নদীর তৃতীয় তীর, জল ও জালের তরঙ্গ, হরবোলাসুন্দরীর অসমাপ্ত পালা প্রভৃতি। 

“এখন বলপয়েন্টের প্রয়োজনও যেন পরীক্ষার উত্তর লিখতে, বাকি কাজ কম্পিউটারের বোতাম টিপে। আর ঘড়ির চেইনে আজকাল কে নাম লেখে? মোবাইল কি মুঠোফোনের কল্যাণে সেও কমেছে। প্লাস্টিকের নেইম প্লেট দেখাই যায় না। স্ক্রিম প্রিন্ট সেখানে জায়গা নিয়েছে।”

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?