আইনস্টাইনের ৭ life changing উপদেশ


পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

আমরা সকলেই জানি ১৯২১ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তো নোবেলপ্রাপ্তির বেশ কয়েকদিন পর জাপান সফরে যান, একটি বক্তৃতায় অংশ নিতে। সেখানে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি নগদ অর্থের পরিবর্তে জনগণকে উপদেশ দিয়ে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন।

যদিও এটি একটি যুক্তিযুক্ত পদক্ষেপ, কারণ এটি নিশ্চিত করে যে আপনার দূর্বিষহ দিনগুলো পার করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা পাবেন এর মাধ্যমেই।

১৯২২ সালে টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে লিখিত একটি হস্তাক্ষর নোট মানুষের সুখী জীবনের জন্য পরামর্শ প্রদান করে। সেখানে লিখা ছিল:

“A calm and modest life brings more happiness than the pursuit of success combined with constant restlessness.”

একই সময়ে আইনস্টাইনের কাছ থেকে তারই এক পরিচিত মুখ আরেকটি নোট পেয়েছিল, সেখানে লেখা ছিল ‘’Where there is a will, there is a way’’। নোটগুলো সম্ভবত গতবছর বিক্রি হয় নিলামের মাধ্যমে।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

প্রথম নোট $১,৫৬,০০০ ডলারে এবং দ্বিতীয়টি $২,৪০,০০০ ডলারে বিক্রি হয়।

আইনস্টাইন কিন্তু এমনি এমনিই সফলতার চরম শিখরে পৌঁছাননি। ছিল অধ্যবসায়, চিন্তাশক্তি ছিল প্রখর। আর জীবনের গুরু সময়টুকু অধ্যবসায়ের সাথে ভাব বিনিময় করে যে সকল বিষয় উপলদ্ধি করতে পেরেছিলেন তা সবই উপদেশ হিসেবে রেখে গেছেন আমাদের জন্য। দেখি তো এরকম ৭টি উপদেশের সাথে আমাদের জীবনের প্রতিফলন না প্রতিসরণ হয়।

“The only failure is giving up.”

আমরা কেনো যেনো বেশিক্ষণ পরিশ্রম করতে আগ্রহী নই। রবার্ট ব্রুস যদি ৭বার যুদ্ধে হেরেই তল্পিতল্পা নিয়ে পালাতো তবে কিন্তু আজ তাকে নিয়ে সফলতার গল্প তৈরি হতো না, অধ্যবসায়ের উদাহরণ হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নাম থাকতো না।

আপনি একটি কাজে সফল নাও হতে পারেন, আবার সফল হতেও পারেন। ফিফটি-ফিফটি। এখন ফিফটির ঘর থেকে ডানে বামে সরানোর বাকি দায়িত্বটুকু আপনার। ফিফটি পার হয়ে ষাট, সত্তর, আশি, নব্বই। আর নব্বইকে পেছনে ফেলে শেষমেশ শতকের ঘরে দাঁড়িয়ে শেষ হাসি হাসার জন্য আপনাকে ‘ধৈর্য্য’ নামক অস্ত্রের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতে হবে। যদি আপনি প্রথম দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারে সফল না হতে পেরে প্রতিযোগিতা থেকে সরে যান, আপনার মতো কাপুরুষ আর দ্বিতীয়টি নেই। আপনি শূণ্যের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তখন সৃষ্টিকর্তার দোষ ধরবেন আর ভাগ্যকে করবেন আসামী।

ঘুরে আসুন: Productivity বাড়বে এবার সহজ কিছু কৌশলে!

হেরে যাওয়া মানে নতুন কিছুর সূচনা। সূচনা যতবারই আসুক, উপসংহারটি আপনাকেই স্মরণীয় করে রাখবে। সুতরাং চেষ্টা করুন। হেরে গেলে বিশ্রাম করুন, সকালবেলা উঠতে হবে। আবারও ধরতে হবে হাতিয়ার।

“Imagination is the highest form of research.”

চিন্তাশক্তি ব্যাপারটা গাদা গাদা কয়েকটি বইয়ের চেয়েও বাঘা একটি ডোজ হিসেবে কাজ করে। আপনি প্রতিদিন চিন্তাশক্তি দ্বারা অনেক প্রশ্নের উত্তর নিজেই সমাধান করে ফেলতে পারবেন। রকেটের ইঞ্জিন বার্ণের মতো ব্যাপারটা। যতো পোড়াবেন ততো বেশি বেগ অর্জনের জন্য গর্জন করতে থাকবে। আর ছেড়ে দিলে পেড়িয়ে যাবেন দিগন্ত।

চিন্তাশক্তি দ্বারা সূত্রের মারপ্যাঁচের সাথে বনিবনা করার দক্ষতা অর্জন করেছিলেন স্যার অাইনস্টাইন। ভাবতেন আর কাগজে কী যেন লিখতেন। মাঝে মাঝে কাগজে কলম দ্বারা ফুটো করে সূর্যের আলোর দিকে ধরতেন। ভাবতেন, ঘুমিয়ে পড়তেন। আবার উঠতেন। বোর্ডে একভাবে তাকিয়ে থাকতেন। ভুলে যেতেন নিজের কথা, পরিবারের কথা। চিন্তা করতে করতে মাঝে মাঝে ল্যাবে ২-৩ দিন এভাবেই কাটিয়ে দিতেন। এ নিয়ে মজার একটি কাহিনী আছে। অন্য একটি ব্লগে বলবো।

যাই হোক চিন্তাশক্তি বা চিন্তা করার ক্ষমতা সকলেরই আছে। তবে কী নিয়ে চিন্তা করবেন? কী নিয়ে ভাববেন? আপনার চিন্তায় কী নিয়ে গবেষণা হচ্ছে? আর তাই বলবো, বই আর আর্টিকেল পড়ুন প্রচুর। যে বিষয়টি ভালো লাগে, চিন্তার টেবিলে খাবার হিসেবে সাজিয়ে রাখুন।

“A person starts to live when he can live outside himself.”

দৃষ্টিভঙ্গি। সবসময় নিজের চোখ দিয়ে যা দেখেন, যা বিশ্বাস করেন তা-ই যে সত্য তা কিন্তু নয়। আচ্ছা কার্ল স্যাগানের জীবনের সবচেয়ে ইমোশনাল একটি মুহূর্তের কথা জানেন? ভয়েজার-১ যখন পৃথিবী থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন দূরে, সেই ১৯৯০ সালের ভালোবাসা দিবসে কার্ল স্যাগানের অনুরোধে নাসার বিজ্ঞানীরা ভয়েজারের ক্যামেরা পৃথিবীর দিকে ঘুরালেন। একটি ছবি তোলা হলো আমাদের বাসভূমির। বিন্দুর মতো নীলচে সেই গ্রহটিকে দেখে সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে যান। কত ক্ষুদ্র আর নগণ্য আমাদের বাসভূমি। ভয়েজার-১ হয়তো এখন ইন্টারস্টেলার স্পেসে ৬২ হাজার কিমি বেগে ছুটে চলছে অসংখ্য তথ্য নিয়ে।

ফিজিক্সের অলিগলিতে ভ্রমণ!

ফিজিক্স এমন একটি সাবজেক্ট যা বুঝে বুঝে না পড়লে কোনভাবেই ভালো করা সম্ভব না।

আর ফিজিক্সকে ভালোভাবে বুঝতে দেখে এসো এই প্লে-লিস্টটি!
১০ মিনিট স্কুলের পদার্থবিজ্ঞান ভিডিও সিরিজ

ক্ষুদে গ্রহটির দিকে তাকিয়ে আমরা সকলেই ভাবি, এই ক্ষু্দ্র গ্রহের প্রাণী হয়ে আমরা যা ভাবছি, যা বিশ্বাস করছি তা-ই কি ঠিক? আমাদের জীবন কি শুধু আমাদের চোখ দিয়ে দেখেই পার করার মতো? উত্তর হচ্ছে- না। আপনি কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে আসুন। নিউট্রাল পয়েন্টে বসুন। তারপর বিচার করুন। এই দৃষ্টিভঙ্গি আপনাকে জ্ঞানী বানাবে, আপনাকে বিচারবুদ্ধিতা এনে দিবে। নিজের শরীর নিজেরই থাক, কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি কিন্তু বিভিন্ন চোখে নিয়ে দেখা যায়। আজ থেকে চেষ্টা করুন।

“I never think of the future – it comes soon enough.”

ক্ষুদ্র জীবন। এখন যা করছেন মনযোগ দিয়ে সেটাই করুন। ভবিষ্যত নিয়ে ভাবা ভালো, কিন্তু ভবিষ্যতের কথা ভাবতে ভাবতে অনেকসময় আপনার চলমান কাজ তার নিজস্ব গতি হারিয়ে ফেলে, পথভ্রষ্ট হয়ে যায়।

আইনস্টাইন কাগজ কলম আর হিবিজিবি লেখা নিয়ে পড়ে থাকার সময় যদি ভবিষ্যত ভাবতেন ‘এগুলো করে কী হবে’, তাহলে তখনই তিনি তার প্রখর চিন্তাশক্তি থেকে বেরিয়ে আসতেন। কাজের স্পৃহা চলে যেত, উঠে দাঁড়ানোর শক্তি পেতেন না। আমাদের দেশে এটি ভাইরাসের মতো। অতিরিক্ত ভবিষ্যত চিন্তা করতে করতে শেষমেশ হতাশ হয়ে ঘুম দেই। ব্যস বর্তমানের কাজ হয়ে যায় নষ্ট। আপনার এখনের কর্মই ভবিষ্যতের সুতো বুনছে। সুতরাং বুনতে থাকুন। ভালো কাজের ফলাফল আপনাকে সফলতার নায়ক বানাবে। এই পৃথিবী ভালো কাজের বিনিময়ে কাউকে ঠকায় না, ঠকায় শুধু ধৈর্যহীনদের।

“A person who never made a mistake never tried anything new.”

ভুল কি তিনবার করে ফেলেছেন? অনেকেই উদাহরণ হিসেবে তিন সংখ্যা পর্যন্ত টানেন। একবার না হলে ২য় বারে হবে, ২য় বারে না হলে তৃতীয়বারে হবে। তাই অনেকেই যখন তৃতীয়বারেও বিফল হোন, একই ভুল করেন, তখন হতাশ হয়ে যান। ভুল জীবনের একটি অংশ। এটা হবেই। ছায়ার মতো।

ঘুরে আসুন: সাফল্য পেতে চাও? এই ৩টি সূত্র জেনে নাও!

ভুল থেকে কিন্তু অনেক সময় নতুন সৃষ্টির সূচনা হয়। আমাদের পৃথিবীতে অনেক প্রয়োজনীয় জিনিসও কিন্তু ভুলবশত তৈরি হয়ে গিয়েছিল। পেইন কিলার বানাতে গিয়ে কোকাকোলা বানানো হয়ে গিয়েছিল। আবার পেনিসিলিনও একই উদাহরণ। এরকম আরো আছে। এই নিয়ে কোনো এক সময় লিখবো। সুতরাং ভুল করতে থাকলে হতাশ হওয়া চলবে না। ভুলের কারণগুলো নোট করে ফেলুন। নতুন নতুন কাজে উদ্বুদ্ধ হোন। ভুল আপনাকে কিন্তু অন্য একটি পথ দেখায়।

“Have no fears.”

আমি নিজের ক্ষেত্রেই অনেকবার দেখেছি। কোনো বিষয়ে ভয় পেয়ে যে সময় নষ্ট করেছি, তার চেয়ে যদি ভয় না পেয়ে কাজে বসে পড়তাম, যা হয় হোক এমন মনোভাব নিয়ে, তাহলে কিন্তু ভয়ের কোনো কারণই থাকতো না।

অঙ্ক আর খেলা এখন হবে একসাথে! আর তাই তোমাদের জন্য ১০ মিনিট স্কুল নিয়ে এসেছে Beat the Numbers!

ভয় পাবেন না কোনো কিছুতে। সহজভাবে নিতে শিখুন। ভয় প্রথমেই আপনাকে হতাশ করে দেয়। যারা ভয়কে জয় করেছে তাদের মুখে তাকিয়ে দেখুন একই রকম চেখ নাক মুখ কান। হাতেও ৫ আঙুল। আপনারও আছে। তার মানে আপনারও যোগ্যতা আছে। শুধু কচুরীপানাগুলো ছেঁটে ফেলুন।

“Life is like riding a bicycle. To keep your balance, you must keep moving.”

ছোটবেলায় সাইকেল চালানোর প্রথম অভিজ্ঞতা কিন্তু একদিক দিয়ে বেশ মজার আবার কষ্টেরও। পড়ে গিয়ে হাত পা কাঁটাছেঁড়া। তবে শেখার প্রথম ধাপ কিন্তু এমনই হওয়া ভালো। কেউ যখন পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে বা ধরে রেখে আমাদের সাইকেল চালানো শেখাতো, তখন কিন্তু ব্যালেন্স ধরে সামনে প্যাডেল মারতে মারতে কিছুদূর চলে যেতাম। এরপরই পড়ে যেতাম।

কোনো সমস্যায় আটকে আছো? প্রশ্ন করার মত কাউকে খুঁজে পাচ্ছ না? যেকোনো প্রশ্নের উত্তর পেতে চলে যাও ১০ মিনিট স্কুল লাইভ গ্রুপটিতে!

আস্তে আস্তে ব্যালেন্স ধরে রাখতে শিখে যাই। যতই প্যাডেল দিয়ে সামনে এগোতে থাকি ততোই মনে হয় সাইকেল হালকা হয়ে আসছে, সহজ হচ্ছে চালানো। কিন্তু সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে কখনো ব্যালেন্স রাখতে পারবেন? না। জীবনটাও এরকম। দৌড় দিন। থামবেন না কোথাও। ভয়, ভবিষ্যত ইত্যাদি রোডব্রেকারের মতো। একটু ব্রেক ধরে মোকাবেলা করুন তারপর আবার সামনে এগিয়ে যান।

আমরা উপদেশ বা মোটিভেশন নিয়ে অনেক সময় জোক করি। মজা করি ট্রল করি। কিন্তু ভেবে দেখুন সফল মানুষদের মধ্যে আর মজা করা মানুষদের মধ্যে কিরকম আকাশ পাতাল তফাৎ! আইনস্টাইনের এই বাণীগুলো তিনি নিজের জীবনে প্রয়োগ করেছেন আগে, তারপর সবার জন্য রেখে গেছেন। জীবনকে বদলানোর সুযোগ এখনই। দেখুন তো পরিবর্তন আসে কি না!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author

Zehad Rahman

3150 BC old ancient egyptian hieroglyphs are still fascinating me to be a different thinker. Being a passionate kid, strongly I can confide myself as I’m a slow walker but never step back. I’m a fan of Carl Sagan, like to walk on space when it’s time to sleep.
I’m studying Agricultural Engineering at Bangladesh Agricultural University.
Zehad Rahman
এই লেখকের অন্যন্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?