অস্কার ওয়াইল্ডের যে ৭টি উক্তি আপনার জীবনবোধ বদলে দিতে পারে

অস্কার ওয়াইল্ড এর নাম জানা আছে নিশ্চয়ই সকলের। তিনি ছিলেন একজন আয়ারল্যান্ডীয় নাট্যকার, ঔপন্যাসিক এবং কবি। তিনি তাঁর চাতুর্যময় নাট্যরচনার মাধ্যমে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। উনিশ শতকের অন্যতম সেরা নাট্যকার ছিলেন ওয়াইল্ড। তাঁর অসাধারণ সৃজনশীলতা, তির্যক লেখনী ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার প্রয়াসে ওয়াইল্ড খুব সহজেই মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তিনি তার প্রবাদগুলোর জন্য, ব্যাপক জনপ্রিয় উদ্ধৃতিগুলোর জন্য বিখ্যাত। তাঁর লেখা উপন্যাস The Picture of Dorian Gray এর জন্যেও তিনি সমাদৃত। The Importance of Being Earnest আর Lady Windermere’s Fan – এই নাটকগুলো এখনো মঞ্চস্থ করা হয়। তিনি বিখ্যাত হয়েছেন তাঁর লেখা, অসামান্য বৈদগ্ধ্যের জন্য। তাঁর জীবন-চর্চা ও নানা স্বভাবের জন্য মানুষের কাছে খুব বেশি গ্রহণযোগ্য না হলেও সাহিত্যকর্মের জন্য সব সময়ই সমাদৃত হয়ে এসেছেন। জীবনে তিনি অনেক ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। কারাবাসও বাদ যায়নি।  অপমানে, বঞ্চনায় কেটেছে তাঁর অন্তিম কয়েক দিন। কিন্তু তাঁর প্রভাব অস্বীকার করা যায়নি।

খুব তাড়াতাড়ি গণনা করতে পারা যে কোন বিভাগের শিক্ষার্থীর জন্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই ১০ মিনিট স্কুল তোমাদের জন্যে নিয়ে এসেছে Beat the Numbers! Beat The Numbers!

জীবনকে খুব কাছে থেকে তিনি দেখেছেন। জীবন সম্পর্কিত তাঁর কিছু বিখ্যাত উক্তি তাই আজও মানুষের মনে থেকে গেছে।

১। জীবনের নিগূঢ় সত্যটি হচ্ছে, কখনো এমন কোনো আবেগকে প্রশ্রয় না দেওয়া যা অশোভন।

জীবনে চলার পথে আমাদের সব সময় আবেগ সংবরণ করতে হয়। মাত্রাতিরিক্ত কোনো কিছুরই ফলাফল শোভন হয়না। আবেগ এমন এক অনুভূতি যার সূত্রপাত ঘটে আমাদের মস্তিষ্কে, কিন্তু প্রতিফলন ঘটে আমাদের কথাবার্তা ও বাহ্যিকতায়। সময় মত আবেগের নিয়ন্ত্রণ করা তাই বাঞ্ছনীয়। নাহয় সে আবেগ অশোভন হিসেবে ধরা দেয়।

২। “মানুষ নিজেদের ভুলগুলোকে যে নামে ডাকে তাই হল অভিজ্ঞতা।“

প্রতিনিয়ত চলার পথে নিজের ইচ্ছায় কিংবা মনের অজান্তে আমরা হাজারো ভুল করি। কিন্তু একবার চিন্তা করে দেখুন তো একবার ভুল হবার পর কী সতর্ক হন না? ধরুন কিছুদিন আগে নীলক্ষেতের ভিড়ে আপনার খুব পছন্দের মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে গেল। হতে পারে আপনার অসতর্কতা ছিল অথবা ভাগ্যের পরিণতি। কিন্তু পরের বার আপনি যখন আবার একই জায়গায় যাবেন আপনি অবশ্যই আগের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকবেন। কারণ আগের বারের অসতর্ক থাকার ভুলটি আপনার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে জমা হয়ে গেছে। শত চেষ্টা করেও সে অভিজ্ঞতার প্রভাব আপনি মুছতে পারবেন না।

৩। “সব সময় শত্রুদের ক্ষমা করে দাও। আর কিছুই তাদের এর চেয়ে বেশি অস্বস্তিতে ফেলবে না।“

কেউ যদি আপনাকে একের পর এক অপদস্ত করার চিন্তা করে যা আপনাকে কষ্ট দিয়ে যায় দিনের পর দিন আপনি তাকে শত্রু হিসেবে ধরে নেন। মন থেকে তাকে অপছন্দ করাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ওয়াইল্ড বলেছেন ভিন্ন কথা। ওয়াইল্ডের মতে, কেউ যদি আপনার শত্রু হয় তবে আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন। শত্রুকে বিভ্রান্তিতে ফেলার জন্য তাকে ক্ষমা করে দেয়ার চেয়ে বড় আর কোনো টোটকা নেই।

৪। “তুমি তোমার মত হও, সবাই যে যার মত হয়ে গেছে।“

অনুকরণ করার কিংবা যা নিজের স্বভাব বিরুদ্ধ তা করার কোনো প্রয়োজন নেই। এই পৃথিবীতে অনুকরণ করে কেউ কোনোদিন বিখ্যাত হতে পারেনি। থ্রি ইডিয়টস সিনেমার একটি লাইন মনে পড়ে, “খ্যাতির পেছনে দৌড়ীও না, জ্ঞান অর্জনের পেছনে দৌড়াও; খ্যাতি আপনা আপনি তোমার পেছনে আসবে।” আপনি যে বিখ্যাত মানুষকে অনুসরণ করবেন সে তো একজনই, তাকে অনুসরণ করে আপনি হয়তো তার মত হতে পারবেন কিন্তু সেই মানুষটা তো হতে পারবেন না। তাই আপনি নিজের স্বকীয় স্বত্তাকে অনুসরণ করুন। দেখবেন, একদিন আপনি নিজেই অনুকরণীয় ব্যক্তি হয়ে গেছেন।

৫।একজন সত্যিকারের বন্ধু তোমাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আমাদের চারপাশে অনেক বন্ধুবান্ধব আছে তাই না? কিন্তু একবার নিজেকে প্রশ্ন করে দেখুন তো, এর মধ্যে কয়জন বন্ধুকে আপনি বিপদে পাশে পাবেন? কয়জন আপনাকে সাহায্য করবে?

একজন সত্যিকারের বন্ধু সব সময় আপনাকে ভালো পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সৎ পরামর্শ দিবে। এদিক থেকে অস্কার ওয়াইল্ডের বন্ধুভাগ্য ভাল ছিল। দুর্দিনে কিংবা একেবারে অন্তিম মুহূর্তেও ওয়াইল্ড তার বন্ধুদের পাশে পেয়েছিলেন যারা প্রকৃতপক্ষেই তাঁকে অতল গহবরে হারিয়ে যেতে না দিয়ে সামনের দিকে নিয়ে গিয়েছিল।

আবিষ্কার করো পাওয়ারপয়েন্ট এর খুঁটিনাটি!

পাওয়ার পয়েন্টকে এখন আমাদের জীবনের অনেকটা অবিচ্ছেদ্য একটা অংশ বলা যায়। ক্লাসের প্রেজেন্টেশান বানানো কী বন্ধুর জন্মদিনের ব্যানার, সবক্ষেত্রেই এর ব্যাপক ব্যবহার।

তাই ১০ মিনিট স্কুল তোমাদের জন্য নিয়ে এসেছে পাওয়ার পয়েন্টের এক আকর্ষণীয় প্লে-লিস্ট!
১০ মিনিট স্কুলের পাওয়ার পয়েন্ট সিরিজ!

৬। “যখনই লোকে আমার সাথে একমত হয় তখনই আমার মনে হয় আমি নিশ্চয় ভুল করছি।“

অস্কার ওয়াইল্ডের অন্যতম বিখ্যাত উক্তি এটি। আপনার চারপাশের মানুষ যখন আপনার ভুল ধরবে কিংবা একমত পোষণ করবে না তখন আপনি ধরে নেবেন যে আপনি ঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছেন। শুরুটা কখনোই খুব মসৃণ হয়না। শুরুর পথটা সব সময়ই বন্ধুর হয়। সাহস করে এগিয়ে যেতে হয়। বিশ্বের অনলাইন জগতের সব থেকে বড় কেনাবেচার ওয়েবসাইট আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস যখন যাত্রা শুরু করেন তখন তার আশেপাশের বন্ধুবান্ধব সবাই বলেছিল সে ভুল করছে। কিন্তু এক যুগ পেরোতে না পেরোতেই যখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনলাইন কেনাবেচার সাইটে পরিণত হল আমাজন আর বেজোস হয়ে গেলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের একজন তখন তার সে বন্ধুবান্ধবের ভুল ভাঙল। ততদিনে বেজোস তাঁর গণ্ডি পেরিয়ে গেছেন।

৭। আমাদের নিজেদের কিছু অভ্যাসের কারণেই জীবনটা ক্রমশ হয়ে ওঠে কঠিন।“

আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন জীবনটা কত সহজ ছিলো তাইনা? খুব সাদামাটা জীবনে কোনো জটিলতাই ছিলোনা। কোনো দুঃখ কষ্ট স্পর্শ করতে পারতো না আমাদেরকে। কিন্তু যত বড় হয়েছি তত দুঃখ কষ্ট আঘাত করেছে আমাদেরকে। জীবনটা বড্ড কঠিন হয়ে গিয়েছে ধীরে ধীরে। আমরা আসলে নিজের জীবনটাকে নিজেরাই কঠিন করে তুলি। জীবনটাকে খুব সহজভাবে দেখা উচিত। আপনি যত কঠিন করে ভাববেন, সব কিছু আপনার কাছে তত কঠিনভাবেই ধরা দিবে।

বিখ্যাত লেখক অস্কার ওয়াইল্ড ছিলেন যেমন রসিক তেমন বাকপটু। তিনি একবার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডিভ ভার্স’ বিষয়ে মৌখিক পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন। পরীক্ষক তাকে গ্রিক ভাষায় লেখা ‘নিউ টেস্টামেন্ট’ থেকে ‘প্যাশন’ অংশের কয়েক লাইন অনুবাদ করতে বললেন। ওয়াইল্ড ১০-১২ লাইন নির্ভুল অনুবাদ করার পর পরীক্ষক সন্তুষ্ট হয়ে বললেন- ‘ঠিক আছে আর করতে হবে না।’

ওয়াইল্ড পরীক্ষকের কথা যেন শুনতেই পাননি এমন ভাব করলেন। এক পৃষ্ঠা অনুবাদ করে ফেলার পর পরীক্ষক রাগান্বিত হয়ে বললেন ‘আরে থামুন তো। বাকিটা অন্যরা অনুবাদ করবে।’ ওয়াইল্ড মিনতি জানিয়ে বললেন-‘স্যার, দয়া করে গোটা অংশটাই আমাকে অনুবাদ করতে দিন। বাড়তি অনুবাদ করার জন্য আমাকে বাড়তি কোনো মার্কস দিতে হবে  না।

কোনো সমস্যায় আটকে আছো? প্রশ্ন করার মত কাউকে খুঁজে পাচ্ছ না? যেকোনো প্রশ্নের উত্তর পেতে চলে যাও ১০ মিনিট স্কুল লাইভ গ্রুপটিতে! 10 Minute School Live!

শেষ কৌতুক

বুদ্ধিদীপ্ত কথা বলাটা একটা শিল্প। আশপাশে অনেকের মধ্যেই যখন আমরা এই গুণ দেখি তখন আফসোস হয় বৈকি! ইস্! আমি কেন এমন পারি না? কিন্তু ভাবুন তো,মৃত্যুর সময়ও কী এই গুণ বজায় রাখা সম্ভব? মরার আগে কৌতুক করতে পারে এমন মানুষ কয়জন আছে। অস্কার ওয়াইল্ড ছিলেন সেই দুর্লভদের একজন। তাঁর জীবনের শেষ সংলাপটিও ছিল বুদ্ধিদীপ্ত ও কৌতুকপূর্ণ। তিনি মৃত্যুশয্যায় শুয়ে তাঁর জানালার ময়লা পর্দাগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, “হয় ওই পর্দাগুলো যাবে, নয়তো আমি যাব।” এটিই ছিল অস্কার ওয়াইল্ডের শেষ কথা।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]


লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?