ভর্তি পরীক্ষা শেষে করতে পারো যে ৭টি মজার কাজ

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও

অনেকের সামনেই রয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা। কারো কারো আবার এস এস সি পরীক্ষা শেষে কলেজে ভর্তি হতে হবে। এছাড়াও স্কুল-কলেজ কত জায়গায়ই তো আমাদেরকে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয়! জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময় এটি, সঠিক প্রস্তুতি নেয়ার ওপরে নির্ভর করবে ভবিষ্যত। ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়তে হলে এই সময়টাতে একটু কষ্ট করতেই হবে। ভর্তি পরীক্ষার কঠিন প্রতিযোগিতা সবার সামনেই।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়তে পড়তে মাঝে মাঝে একটু বিরক্তি এসে যেতেই পারে। হয়তো মডেল টেস্টে নাম্বার খারাপ আসছে, মনের ভেতরে ভয় ঢুকে যেতে পারে। অথবা অনেকের মনে হতে পারে – এত পড়ে কী হবে? আমি আমার সময়টাকে নষ্ট করছি না তো?

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

এই সব চিন্তাকে দূরে রাখতে সবচেয়ে ভালো উপায় – ভর্তি পরীক্ষার পরে কী কী মজার মজার কাজ করবো – এই চিন্তাটা মাথায় রাখা। বিশ্ববিদ্যালয় বা স্কুল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার পরের বন্ধটা জীবনের সবচেয়ে চমৎকার বন্ধ – মাথায় কোনো চাপ থাকে না, সুন্দর ভবিষ্যতের অপেক্ষায় থাকে সবাই।

নতুন প্রতিষ্ঠানে জীবন শুরু করবার আগে এই ছুটিতে কিছু শিখে রাখা বা আনন্দময় কোনো কাজ করে সময়টা পার করা অত্যন্ত জরুরি। এতে করে তৈরি হবে কিছু আনন্দময় স্মৃতি, একই সাথে পরবর্তী জীবনে কাজে লাগাবার মতো কিছু দরকারি স্কিলও পেয়ে যাবে তোমরা।

ভর্তি পরীক্ষার পরের বন্ধটাকে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে অপচয় না করে কোনো ফলপ্রসূ কাজে ব্যয় করাই ভালো। দেখে নাও এরকম কিছু কাজের নমুনা, যেগুলো তোমার ছুটিকে আনন্দময় করবে – আর এগুলোর কথা ভেবে হলেও তুমি পড়ার জন্য ইন্সপিরেশন পাবে!

১। বেড়াতে যাওয়া

এতদিন হয়তো অনেকের বাবা-মা-ই বলে এসেছেন, “তুমি এখনও ছোট, ইন্টারের পরে যেও, এখনই এত দূরে যাবার কোনো দরকার নেই!”

এই কথাগুলো শুনতে শুনতে যারা হতাশ, তাদের জন্যেই এই সময়ে কোথাও বেড়িয়ে আসার খুব ভালো সুযোগ। বাবা-মাকে বুঝিয়ে ফেলো, তুমি এখন আর ছোট নেই, তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে গিয়েছ। নিজের যত্ন নিজের নিতে পারবার মতো বয়স এখন তোমার হয়েছে।

ঘুরে আসুন: জানো কি তুমি? বিভাগীয় শহরগুলোর গর্বের ঐতিহ্য

বাবা-মাকে বুঝিয়ে ফেলে তারপর বেরিয়ে পড়ো যেকোন দর্শনীয় স্থানের উদ্দেশ্যে। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার ভূমির অভাব নেই।  দেখে আসতে পারো পাহাড়কন্যা বান্দরবান-রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি। অথবা চলে যেতে পারো সাগরের কোলে কক্সবাজার দেখে আসতে। এছাড়াও রয়েছে সিলেটের চা বাগান, রাতারগুল, লালাখাল, মহাস্থানগড়, ময়নামতি, পাহাড়পুর ইত্যাদি জায়গা। তবে যারা এখনো স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরোওনি, তাদের এখনই একা একা বেরিয়ে না পড়াই ভালো। অন্তত একজন হলেও অভিভাবককে সাথে রাখো। 

২। নতুন শখ তৈরি করা

সবারই রয়েছে কিছু একান্ত শখ। কেউ বা গিটার শিখতে চায়, কেউ চায় ছবি আঁকা শিখতে, কেউ বা চায় কম্পিউটারে নিজের দক্ষতাটা ঝালাই করে নিতে। হয়তো তুমি আর্টসেল-শিরোনামহীনের অনেক বড় ভক্ত, চিরকালই চেয়েছো গিটারে অনিকেত প্রান্তর কিংবা হাসিমুখের সুর তুলতে, কিন্তু পড়াশোনার জন্যে কখনো সময় দেয়া হয়ে ওঠেনি। কোনো সমস্যা নেই, শুরু করে দাও এখনই!

তোমার থাকতে পারে ছবি তোলার শখ। করে ফেলো একটি প্রফেশনাল ফোটোগ্রাফি কোর্স, আর নেমে পড়ো মূহূর্তগুলোকে বন্দী করার কাজে। অথবা শিখে ফেলো নতুন কোনও ভাষা। চাইলে বিভিন্ন জরুরি সফটওয়্যার, যেমন অটোক্যাড, ইলাস্ট্রেটর বা ফাইনালকাট  শিখে নিতে পারো। অথবা প্রোগ্রামিং কোর্স করে নেমে পড়ো কোডিং-এর বিশাল জগতের পথে।

৩। মুভি বা সিরিজ দেখা

অনেকদিন ধরে জমিয়ে রেখেছো মুভি আর সিরিজের কালেকশন? একে একে শুরু করে দাও সব দেখা। কমেডি বা অ্যাকশনের পাশাপাশি দেখতে থাকো ক্লাসিক সব ছবি। কুরোসাওয়া, সত্যজিৎ, কুবরিক বা বার্গম্যানের অসাধারণ ছবিগুলো যেমন বিনোদনের খোরাক, তেমনই মনোজগতের দিগন্ত বাড়াতেও এগুলোর তুলনা নেই।

টিভি সিরিজ দেখার জন্যেও ভালো সময় এটা। ব্রেকিং ব্যাড, গেম অব থ্রোনস বা ভাইকিংসের কাল্পনিক জগতে ডুবে যাও, একের পর এক পর্বে কাহিনীর গতি তোমাকে ধরে রাখতে বাধ্য। দেখে ফেলতে পারো বাংলাদেশ টেলিভিশনের স্বর্ণযুগের ধারাবাহিক নাটকগুলো – এইসব দিন রাত্রি, অয়োময় বা আজ রবিবার।

একটা বিষয়ে সাবধান – মুভি বা টিভি সিরিজের জন্যে দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রেখো। নাওয়া-খাওয়া ভুলে দেখতে বসলে তোমারই ক্ষতি!

ফটোশপের দক্ষতায় মুগ্ধ কর সবাইকে!

ফটোশপের জগতটা খুব ইন্টারেস্টিং। একটা ছবি থেকে কতোকিছু যে করা যায় ফটোশপের সাহায্যে!

অদ্ভুত এই ছবি এডিটিংয়ের জগতে ঘুরে এসো প্লেলিস্টটি দেখে!

শিখে ফেল ফটোশপের জাদু!

৪। বন্ধু আর পরিবারের সাথে সময় কাটানো

বন্ধুরা চলে যাবে একেকজন একেক জায়গায়, হয়তো দেখা হবে না অনেকের সাথেই বহুদিন। অনেকেরই পরিবার ছেড়ে অন্য শহরে চলে যেতে হবে পড়াশুনার জন্যে। কেউ কেউ পাড়ি জমাবে বিদেশে অথবা যোগ দেবে সামরিক বাহিনীতে। এর আগে এটাই সবচেয়ে ভালো সময়, প্রিয় মানুষগুলোর সাথে সময় কাটানোর।

যদি লেখার অভ্যাস থাকে-শুরু করো টুকটাক লেখা

হোক সেটা চায়ের দোকানে, হোক স্কুল বা কলেজের মাঠে বসে, বা ড্রয়িংরুমে টিভির সামনে ঝালমুড়ি খেতে খেতে। ভালোবাসার মানুষগুলোর সাথে কিছু স্মৃতি বানিয়ে নেওয়ার এটাই মোক্ষম সময়।

ঘুরে আসুন:  সফল ব্যক্তিদের অবসর কীভাবে কাটে?

৫। বই পড়া

নিজেকে গড়ে নেবার জন্যে, উন্নত চিন্তাধারা গড়ে তুলবার জন্যে, বই পড়ার বিকল্প নেই। না-পড়া, জমিয়ে রাখা বইগুলো তুলে নাও, শুরু করে দাও পড়া। যার পড়ার অভ্যাস নেই, তুলে নাও মজার কোন বই।

হুমায়ূন-সত্যজিৎ-সুনীল-সমরেশে ডুবে যেতে সময় লাগবে না একেবারেই। যদি লেখার অভ্যাস থাকে শুরু করো টুকটাক লেখা। হয়তো কোনদিন এই লেখাগুলোই স্মৃতির সম্বল হবে, অথবা তৈরি করে দেবে তোমার নিজের উপন্যাসের ভিত্তি!

ইংরেজি ভাষা চর্চা করতে আমাদের নতুন গ্রুপ- 10 Minute School English Language Club-এ যোগদান করতে পারো!

৬। সমাজসেবামূলক কাজ

মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্বটাই আমাদেরকে সত্যিকার মানুষ করে তোলে। তুমিও যুক্ত হয়ে যাও কোনো সমাজসেবামূলক কাজে। গরীবদের সাহায্য করা, কিংবা বাচ্চাদের পড়ানো, অথবা কোন বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা – অনেক কাজের মাধ্যমেই অবদান রাখতে পারো তুমি সমাজে। এতে করে নিজের ভালো লাগবেই, একই সাথে পৃথিবীকে অল্প একটু সুন্দর করে তুলতে অবদান রাখাও হবে।

৭। নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া

হয়তো গত কয়েকটা বছর খেলাধুলা বা শারীরিক পরিশ্রম থেকে দূরে ছিলে সবাই। শরীরকে আবার ফিট করে নিতে এই সময়টা খুব উপযোগী। যোগ দিয়ে ফেলো জিমে, অথবা নেমে পড়ো মাঠে, ফুটবল-ক্রিকেটে সময় কাটাতে। শরীরের যত্ন নেয়ার কোন বিকল্পই নেই, কারণ স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?