যদি ধরে রাখতে চান ফোকাস জেনে নিন ৭টি কাজ

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

বছরের শুরুতে আমরা সবাই নতুন নতুন পরিকল্পনা করি। প্রথম দিকে উৎসাহ-উদ্দীপনার অভাব না থাকলেও দিন বাড়ার সাথে সাথে আগ্রহ কমতে থাকে। কিছুদিন পর দেখা যায়, অনেকেই হাল ছেড়ে দিয়েছে। এর কারণ মূলত সঠিক ফোকাসের অভাব। কোন কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লেগে থাকতে যে জিনিসটি প্রয়োজন তা হল ফোকাস। সঠিকভাবে ফোকাস ধরে রাখার জন্য যে জিনিসগুলো জানা দরকার চলুন সেগুলো জেনে নেওয়া যাক:

৭। মাল্টিটাস্কিং না করা:

আমরা অনেকেই মনে করি, একসাথে অনেক কাজ করার মাধ্যমে অধিক কার্যক্ষমতা প্রকাশ পায়। কিন্তু এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। এটি কোন কাজের প্রতি ফোকাস ধরে রাখাকে ব্যাহত করে। মাল্টিটাস্কিং বাহ্যত সময় বাঁচাতে বা সময়ের যথাযথ ব্যবহার করতে আমাদের সাহায্য করছে বলে মনে হলেও হাল আমলে এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলো নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন বিশ্লেষকগণ।

স্নায়ুবিজ্ঞানী ডেনিয়েল জে. লেভিটিন  মানব-মস্তিষ্কে মাল্টিটাস্কিং-এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বলেন, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদী মাল্টিটাস্কিং করার ফলে মস্তিষ্কে ঐ কাজগুলোর প্রতি রাসায়নিক আসক্তির একটি চক্র তৈরি হয়।

এখানে যুগপৎ আসা বিভিন্ন কাজের যাচাইকার্য সম্পন্ন করার জন্য মস্তিষ্ক এগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন সংকেত হিসেবে গ্রহণ করে। এটি করতে গিয়ে আমাদের মস্তিষ্ক এই কাজগুলোর ফোকাসকে লঘু করে তোলে। অর্থাৎ ফোকাস কমিয়ে দেয়।

রাজধানীর নাম জানাটা সাধারণ জ্ঞানের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ১০ মিনিট স্কুলের এই মজার কুইজটির মধ্যমে যাচাই করে নাও নিজেকে!

৬। সময় বেঁধে দেওয়া:

কোন কাজ শুরু করার আগে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। এতে কাজটি করার প্রতি যেমন আগ্রহ সৃষ্টি হয়, তেমনি নিজের মধ্যে এক প্রকার দায়িত্ববোধও কাজ করে। প্রতিদিন কতটুকু সময় লক্ষ্য অর্জনে ব্যয় করবেন তা এখনই ঠিক করে ফেলুন।

হতাশ না হয়ে নিজেকে চ্যালেঞ্জ করুন, নতুন উদ্যমে লক্ষ্য স্থির করে আবার শুরু করুন

ঘুরে আসুন: যদি চাও perfection ছুঁড়ে ফেলো distraction

৫। একটানা বেশি সময় কাজ না করা:

একটানা অনেক সময় একই কাজে ব্যয় করলে কাজটিকে একঘেয়ে মনে হবে এবং কাজের প্রতি অনাগ্রহ সৃষ্টি হবে। ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করলে কাজটির প্রতি ফোকাস ধরে রাখা কষ্টকর। তাই একটানা বেশি সময় কাজ না করে কাজের মাঝে বিরতি নিন। প্রয়োজনে গান শুনুন কিংবা সহপাঠী বা সহকর্মীর সঙ্গে আড্ডা দিন, মন খুলে কথা বলুন।

৪। টেকনোলজির সঠিক ব্যবহার:

ফোকাস ঠিক রাখতে চাই টেকনোলজির যথাযথ ব্যবহার। অনেক অ্যাপ ও ওয়েবসাইট আছে যা শুধু শুধু সময় অপচয় করে এবং আসক্তি সৃষ্টি করে। এগুলো বর্জন করে এমন কিছু অ্যাপ ব্যবহার করা উচিত যা আমাদের ফোকাস ধরে রাখতে সাহায্য করবে। এক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে: Focus booster, Panda Focus Mode ইত্যাদি অ্যাপ।

জেনে নাও জীবন চালানোর সহজ পদ্ধতি!

আমাদের বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের একটা বড় সমস্যা হতাশা আর বিষণ্ণতা।

দেখে নাও আজকের প্লে-লিস্টটি আর শিখে নাও কীভাবে এসব থেকে বের হয়ে সাফল্য পাওয়া যায়!

১০ মিনিট স্কুলের Life Hacks সিরিজ

৩। গান শোনা:

গান আমাদের মস্তিষ্ককে শান্ত ও স্থির রাখতে সাহায্য করে। মনোমুগ্ধকর সুর যান্ত্রিক কলহ থেকে মনকে প্রশান্তি দেয়। কাজেই ফোকাস ধরে রাখতে গান অত্যন্ত চমৎকারভাবে কাজ করে।

ঘুরে আসুন:  অস্থিরতাকে বিদায় জানাও সহজ ৭ কৌশলে!

২। মোটিভেশন:

চলার পথে নানা ঘটনা আমাদের হতাশ করে তুলে। মন খারাপ করে আমরা প্রায়ই থমকে যাই। হতাশা বা ব্যর্থতার ভয়ে হাল ছেড়ে না দিয়ে নিজেকে মোটিভেট করুন। মনে রাখবেন, হেরে যাওয়া মানে থেমে যাওয়া নয়। বরং ভুলগুলো শুধরে নিয়ে নতুন করে শুরুর প্রস্তুতি নিন। হতাশ না হয়ে নিজেকে চ্যালেঞ্জ করুন, নতুন উদ্যমে লক্ষ্য স্থির করে আবার শুরু করুন।

অঙ্ক আর খেলা এখন হবে একসাথে! আর তাই তোমাদের জন্য ১০ মিনিট স্কুল নিয়ে এসেছে Beat the Numbers!

১। কাজ করার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নির্বাচন করা:

অনেক সময় কাজের পরিবেশ ভাল না হলে সঠিকভাবে ফোকাস করা সম্ভব হয়ে উঠে না। তাই কাজ করার জন্য এমন পরিবেশ বাছাই করা প্রয়োজন যা কাজে মনোযোগ ও ফোকাস বাড়াতে সহায়তা করবে। কোলাহলমুক্ত নির্জন পরিবেশ যে কোন কাজের জন্য সবচাইতে উপযুক্ত।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?