নিজের শক্তি ও দুর্বলতা চিনে নাও ৮ বৈশিষ্ট্যে

“আমি কোন কাজে পারদর্শী?”-এর সাথেই যেটি সংযুক্ত তা হল, “আমি কোন কাজে অপারদর্শী?” প্রশ্নটি। এসব প্রশ্নের উত্তর আমরা অনেকেই খোঁজার চেষ্টা করি। নিজেকে নিয়ে অনেক চিন্তার পরও হয়ত এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় না। এই প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই নির্ভর করে অভিজ্ঞতার উপর।

কোন কাজ শুরুর আগে সবচেয়ে বেশি দরকার হয় নিজের শক্তি এবং দুর্বলতা সম্পর্কে জানা। এর উপর নির্ভর করে জীবনে সফলতা অর্জনে কোন দক্ষতার উন্নতি সাধন করতে হবে এবং কোন দক্ষতা কার্যকরভাবে ব্যবহার করে লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে। কীভাবে জানা যাবে নিজের শক্তি ও দুর্বলতার জায়গাগুলো? চলো দেখে নেই-

১। তোমার কাজের একটি তালিকা তৈরি করো

তুমি সারাদিন যে কাজগুলো করো তার একটি তালিকা তৈরি করো। সেসব কাজগুলোকেই তালিকাভুক্ত করবে যেখানে তুমি সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ করো এবং যে কাজে তোমার অনেক বেশি আগ্রহ। আসলে এসব কাজের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে নিজেদের শক্তি এবং দুর্বলতা।

 

এসব কাজেই তুমি নিজেকে আরও বেশি চিনবে এবং নিজেকে যত বেশি চিনবে ততই নিজের দক্ষতাগুলো সম্পর্কে জানতে পারবে। যেসব কাজে তোমার আগ্রহ রয়েছে তুমি সেসব কাজের জন্য পরিশ্রম করতেও প্রস্তুত। সুতরাং, সবকিছু বিবেচনা করেই একটি তালিকা তৈরি করতে হবে।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

২। নিজের চিন্তাকে বিবেচনা করো

তুমি কোন ধরনের কাজকে প্রাধান্য দাও এবং তোমার মূল্যবোধ কেমন তা নিয়ে একটু চিন্তা করো। তুমি কাকে অনুসরণ করছো এবং কেন করছো। তোমার সৃজনশীল কাজ পছন্দ হলে এবং অন্যের থেকে আলাদা কিছু করতে চাইলে মনে করবে তোমার চিন্তাধারা প্রতিযোগিতামূলক, উদ্ভাবনী এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী।

ঘুরে আসুন: মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার কার্যকর কিছু পদ্ধতি

তোমার চিন্তাধারা ভিন্নও হতে পারে, যেমন সমাজসেবামূলক। তোমার চিন্তাধারাটা যেমনই হোক সে সম্পর্কে তোমার পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার।

৩। পরিচিত মানুষকে জিজ্ঞেস করো

অনেক সময় আমাদের আশেপাশের মানুষ আমাদের ব্যাপারে এমন অনেক তথ্য দিতে পারে যা আমরা নিজেরা হয়ত কখনো লক্ষ্য করি না। এমন কাউকে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে যারা তোমাকে সঠিক পথ দেখাতে সাহায্য করতে পারে। তা হতে পারে তোমার পরিবারের কেউ, বন্ধু, শিক্ষক কিংবা তোমার সহকর্মী।

এভাবে সব ক্ষেত্র থেকে জিজ্ঞেস করলে তোমার অনেক অজ্ঞাত গুণ সম্পর্কে জানতে পারবে। সবার প্রতিক্রিয়াকে একসূত্রে গাঁথার চেষ্টা করো। সবার মতামতে যেখানে যেখানে মিল পাওয়া যাচ্ছে সেসব পরিস্থিতি উদাহরণসহ জেনে নাও। তুমি কোন পরিস্থিতিতে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছো সবই এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য।

৪। বিভিন্ন পরিস্থিতিকে বিবেচনা করো

একেক পরিস্থিতিতে আমরা একেক রকম প্রতিক্রিয়া দেখাই। আমাদের প্রতিক্রিয়াই কিন্তু বলে দিতে পারে আমাদের শক্তি কোনগুলো এবং দুর্বলতা কোনগুলো। কিছু পরিস্থিতিতে আমাদের বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে হয় আবার কিছু পরিস্থিতিতে শারীরিক বল।

কোন এক চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির কথা চিন্তা করো। ধরো তোমার গাড়ির ছোট একটি দূর্ঘটনা ঘটেছে, এখন তুমি যদি ভেঙ্গে না পরে সেই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করো এটি হবে তোমার শক্তি। কিন্তু তুমি যদি কোন পদক্ষেপ না নিয়ে হা হুতাশ করো তার মানে তুমি কঠিন পরিস্থিতিতে দুর্বল হয়ে পড়ো। তখন কিন্তু এটাই তোমার দুর্বলতা।

অনেকেই মনে করে কারও কাছে সাহায্য চাওয়া মানে দুর্বলতার লক্ষণ। কিন্তু, তা ভুল ধারণা। আরেকটি স্বাভাবিক পরিস্থিতির কথা চিন্তা করো, ধরো তুমি কোন অনুষ্ঠানে এসেছো। হতে পারে তুমি সবার সাথে সাক্ষাৎ বিনিময় করছো কিংবা হতে পারে তুমি নির্দিষ্ট কারও সাথে এসে কথা বলছো।

এক ক্ষেত্রে বোঝায় তুমি বহির্মুখী ও সামাজিক এবং আরেক ক্ষেত্রে বুঝায় তুমি অন্তর্মুখী ও ভালো শ্রোতা। দুটোই কিন্তু শক্তি যদি তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়।

জেনে নাও জীবনকে উপভোগ করার উপায় !

জীবনে সহজ ভাবে চলার জন্য জানা দরকার কিছু লাইফ হাক্স।

দেখে নাও আজকের প্লে-লিস্টটি আর শিখে নাও কিভাবে সাফল্য পাওয়া যায়!

১০ মিনিট স্কুলের Life Hacks সিরিজ

৫। মনের ইচ্ছাগুলোকে বিবেচনা করো   

তোমার মনের ইচ্ছাগুলো তোমার ব্যাপারে অনেক তথ্য দিতে পারে। তুমি সেসব কাজেই অনুপ্রেরণা পাবে যা তোমার জীবনের লক্ষ্য অর্জন করতে সাহায্য করবে। অনেক সময় নিজের ইচ্ছার উপরও নির্ভর করে তোমার শক্তিগুলো।

সারাক্ষণ তোমার দুর্বলতাগুলো নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে যেও না

তোমাকে যদি এমন কোন কাজ করতে দেয়া হয় যেখানে তোমার কোন আগ্রহ নেই সেগুলো কখনোই তোমার শক্তি হতে পারে না। তুমি যখন তোমার পছন্দের কাজ করতে যাবে কিংবা এমন কোন কাজ যা তোমাকে তোমার জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে সেখানে তোমার সঙ্কল্পই তোমার শক্তি। সুতরাং খুঁজে বের করো তোমার পছন্দের কাজগুলো।

৬। উন্নতি সাধন করতে হবে এমন ক্ষেত্রকে সনাক্ত করো

দুর্বলতা বলতে আসলে সেসব ক্ষেত্রকে বুঝায় যেখানে আরও উন্নতি সাধন করতে হবে। দুর্বলতা জিনিসটি ক্ষণস্থায়ী এবং ইচ্ছে করলেই তাকে স্থায়ী করা যেতে পারে। মানুষের আসলে দুর্বলতা বলতে কিছু নেই। যা আছে তা হল ঘাটতি।
সবাইকে সব কাজে পটু হতে হবে তা কিন্তু নয়। কেউ একটি কাজে দক্ষ হবে আবার অন্য কাজে ঘাটতিতে থাকবে এটিই স্বাভাবিক। সুতরাং দুর্বলতাগুলোকে উন্নতির ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করো। তাহলেই দেখবে দুর্বলতা চিন্তা করে আর ভেঙ্গে পড়বে না।

“What breaks you down is not the amount of pressure you feel at one time, but it’s the way you perceive and handle it.” 

ঘুরে আসুন: ডিপ্রেশনকে হারিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ায় গল্প

৭। যেই কাজে পটু এবং যেখানে উন্নতির প্রয়োজন তার একটি তালিকা তৈরি করো

সব কিছু বিবেচনা করে যেসব কাজ খুঁজে পেয়েছো তার একটি তালিকা তৈরি করো। ব্যতিক্রম কিছু কি খুঁজে পেয়েছো? যেই কাজে ঘাটতি রয়েছে তাতে দক্ষ হতে তুমি কি কোন পদক্ষেপ নিয়েছো? হেরে যাওয়ার ভয়ে সেই দুর্বলতার যদি সম্মুখীনই না হও তবে সারাজীবনই সেখানে ঘাটতি রয়ে যাবে।

তোমার যদি মনে হয় ব্যক্তিজীবন কিংবা চাকুরিজীবনে সেসব দুর্বলতাকে দূর করা অতি প্রয়োজনীয় তবে প্রথম পদক্ষেপটি আজই নিয়ে নাও। সেই কাজটি তোমার পছন্দের তালিকায় নাও থাকতে পারে কিন্তু ভালো কিছু অর্জনে এতটুকু করা যেতেই পারে।

ইংরেজি ভাষা চর্চা করতে আমাদের নতুন গ্রুপ- 10 Minute School English Language Club-এ যোগদান করতে পারো!

৮। Perfection এর চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসো

সবাই সবার কাজে Perfect হতে চায়। তাই বলে সারাক্ষণ তোমার দুর্বলতাগুলো নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে যেও না। যেসব কাজে তুমি ভালো সেগুলোতে আগে দক্ষ হও তারপর তোমার দুর্বলতার দিকগুলো নিয়ে কাজ শুরু করো।

কিছু করতে গেলে ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক। ভুল হলে তা নিয়ে হতাশ না হয়ে বার বার চেষ্টা করো এবং তা থেকে শিক্ষা নাও। দেখবে একবার না একবার সফল হয়েছ।

                     “A person’s strength was always his weakness and vice versa.” 
– Viet Thanh Nguyen

আমাদের মূল উদ্দেশ্য শুধু আমাদের শক্তি এবং দুর্বলতা বের করা নয় বরং আমরা আমাদের দুর্বলতা নিয়ে কতটা সচেতন সেটা দেখা। নিজেদের শক্তি এবং দুর্বলতা বের করার উদ্দেশ্যই হচ্ছে সেসব কাজগুলোকে আরও ঝালাই করে নেওয়া। আজ থেকেই শুরু করে দাও তালিকা তৈরি করা এবং এটিই হবে তোমার সফলতার প্রথম পদক্ষেপ।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Aysha Noman

Aysha Noman

Simplicity is the essence of her happiness. Loves to read books and watch movies. Enjoy being a business student during the day and a writer by night. She is currently studying at the Department of Marketing, University Of Dhaka.
Aysha Noman
এই লেখকের অন্যন্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?