সারাদিন মনোঃসংযোগ ধরে রাখার ১০টি উপায়

আমরা প্রতিদিন বিক্ষিপ্তভাবে নানা কাজ করি। আর এ কাজগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী সুবিন্যস্তভাবে করা হয় না। দিনশেষে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আপনি একরাশ অসমাপ্ত কাজের হতাশা নিয়েই বিছানায় ঘুমাতে যান। এভাবেই আরো একটি দিন আপনার জীবন থেকে চলে যায় এবং আবারো পরের দিন সে অপূর্ণ কাজটি করার মন্ত্রে নিজেকে দীক্ষিত করে নিজেকে দেন সান্ত্বনা।

অথচ কাজ করার সময় আরেকটু মনোযোগী হলে হয়তো দিনের কাজ আপনি দিনেই শেষ করতে পারতেন! এক্ষেত্রে  Mary Oliver  এর বলা একটি কথা আমার মনে বেশ ভালোভাবে দাগ কাটে। তিনি বলেন-
“Lack of direction, not lack of time, is the problem. We all have twenty-four hour days.”

সঠিকভাবে মনোঃসংযোগ করতে পারলে তা দিনের কার্যক্রম ঠিকভাবে করতে সহায়ক হবে। এ লেখায় দেওয়া হলো কোনো একটি নির্দিষ্ট কাজে মনোযোগী হওয়ার কিছু উপায়।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

১. একসঙ্গে একাধিক কাজ বাদ দিন

বিভিন্ন গবেষণাতে দেখা গেছে, একসঙ্গে একাধিক কাজ বা মাল্টিটাস্কিং আপনার পাদনশীলতা কমিয়ে দেয়। এর মূল কারণ, মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি যেখানে হয় সেখানেই একাধিক বিষয় একসঙ্গে চালানো যায় না।ব্রেইন ফিটনেস’ নামক একটি বইয়ে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

ঘুরে আসুন: মনের উপর প্রভাব খাটানোর ৭টি চমৎকার কৌশল!

সেখানে জানানো হয়েছে, মাল্টিটাস্কিং তথ্য প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষেত্রে বাস্তবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং নতুন বিষয় শেখার ব্যবস্থায় বাধা দেয়। এ কারণে হাতের কাজটি শেষ করাতেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা।

২. কর্মতালিকা করুন

আপনার সারা দিনে কোন কোন কাজ করতে হবে তার একটি তালিকা করুন। সময় বাঁচাতে হলে কোন কোন খাতে সময় ব্যয় করছেন তার আসল হিসেবটি বের করুন। প্রতি ঘণ্টা কোথায় কী কী কাজে যাচ্ছে তার তালিকা করুন। সেখান থেকে কোন কাজগুলোতে অতিরিক্ত সময় দিচ্ছেন তা বোঝার চেষ্টা করুন।

৩. বিরতি নিন

একটানা কাজ করতে থাকলে তা কোন কাজ সফলভাবে শেষ করতে নিরুসাহিত করে। কারণে নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিরতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

এখন জীবন হবে আরও সুন্দর!

জীবনে শুধু পড়াশুনা করলেই হয় না। এর সাথে প্রয়োজন এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি। আর তার সাথে যদি থাকে কিছু মোটিভেশনাল কথা, তাহলে জীবনে চলার পথ হয়ে ওঠে আরও সুন্দর।

আর তাই তোমাদের জন্যে আমাদের নতুন এই প্লে-লিস্টটি!

Motivational Talks সিরিজ!

৪. কাজের সময় কাজ

কাজের সময় শুধুই কাজ করুন। ব্যক্তিগত সময়ে শুধুই ব্যক্তিগত কাজ করুন। উভয় বিষয়ের মিশ্রণ আপনার জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কাজের সময় ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা বাদ দিন। কিছু সময় শুধুই কাজের জন্য বরাদ্দ রাখুন। কাজ করুন মনোযোগের সাথে!

To pay attention, this is our endless and proper work

৫. মস্তিষ্কের অনুশীলন করুন

কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য মস্তিষ্ককে প্রশিক্ষণ দিন। এজন্য আপনার ঐকান্তিক ইচ্ছা ও প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি যদি কোনো একটি দিকে মনোযোগী না হয়ে হাজার বিষয়ে মনোযোগ দিতে চান তাহলে তা কোনো কাজে আসবে না।

৬. নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন

শারীরিক অনুশীলন শুধু শরীরই ভালো করে না এটি মনের স্বাস্থ্যও ঠিক করে। কোনো একটি বিষয়ে মনোযোগী হওয়ার ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য শারীরিক অনুশীলনের গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শারীরিক অনুশীলন মস্তিষ্কের উন্নতি করে এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করে।

৭. অফলাইনে কাজ করুন

অনলাইনের কারণে আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে ক্রমাগত ব্যাঘাত ঘটে। আর এ ব্যাঘাত থেকে বাঁচতে অফলাইনে থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করুন। এতে কাজের গতি ও মনোযোগ যেমন বাড়বে, তেমন কাজের মানও বাড়বে।

৮. আদর্শ পড়ার স্থান ঠিক করুন

মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনার জন্য প্রয়োজন আদর্শ স্থান। ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন আপনার পড়ার মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। আর তাই পড়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান ঠিক করুন। সে স্থানে বসে নিয়মিত মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করার চেষ্টা করুন।

এবার ঘরে বসেই হবে মডেল টেস্ট! পরীক্ষা শেষ হবার সাথে সাথেই চলে আসবে রেজাল্ট, মেরিট পজিশন। সাথে উত্তরপত্রতো থাকছেই!

৯. একঘেয়েমিকে উপভোগ করুন

কাজ করতে গিয়ে যদি আপনি ক্লান্ত হয়ে যান তাহলে একঘেয়েমিতে আক্রান্ত হতে পারেন। আর এ একঘেয়েমিও মাঝে মাঝে আপনার কাজে লাগতে পারে। যেমন ক্লান্ত হওয়ার পর একঘেয়েমিতে আক্রান্ত হয়ে অন্য কোনো কাজ না করে তা কিছুক্ষণ উপভোগ করুন।

ঘুরে আসুন: মনের উপর প্রভাব খাটানোর ৭টি চমৎকার কৌশল!

১০. সময় ধরে কাজ করুন

প্রত্যেকটি কাজ সমাধান করতেই একটি নির্দিষ্ট সময় লাগবে। আর এ সময়টি যদি আপনি আগে থেকে ঠিক করে রাখেন তাহলে তা কাজটি মনোযোগ দিয়ে করতে সহায়তা করবে। এজন্য করতেই হবে এমন কাজগুলো পৃথকভাবে তালিকাবদ্ধ করুন। এবার এই কাজগুলো প্রতিদিন নিয়মমাফিক করে ফেলার পরিকল্পনা করে ফেলুন। চেষ্টা করবেন পুরো ঝরঝরে মন নিয়ে কাজগুলো করতে। এর পাশাপাশি তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন কাজের তালিকা করে সেগুলো করার সময় বেঁধে নিন।

সারাদিন ধরে একটি কাজই অপরিকল্পিতভাবে না করে, বরং মনোযোগ সহকারে কয়েক ঘণ্টা করুন। পার্থক্যটা আপনি নিজেই উপলব্ধি করতে পারবেন। আর কাজ করার সময় মনে রাখবেন,

“The difference between something good and something great is attention to detail.”

– Charles Swindool.


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?