ইন্টারভিউ দেওয়ার পরে করণীয়

একটি ইন্টারভিউ দিয়ে আসার পরপরই কিন্তু আপনার কাজ শেষ হয়ে যায় না। এর পরেও বেশকিছু কাজ থাকে, যেগুলো করে রাখলে ভবিষ্যতে চাকুরি পেতে অনেক সুবিধা হয়। চলুন দেখে আসি কী সেই করণীয় কাজ!

১। ইন্টারভিউ যখন শেষ, তখন প্রশ্ন করা হয়, আপনার কি আমাদের কাছে কিছু জানার আছে? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা উত্তর দেই, না। এটা আমাদের একটা কমন ভুল। “না” উত্তরটা দেয়ার সাথে সাথে আপনি কিন্তু পরবর্তী যোগাযোগের সকল রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছেন। আপনি রিক্রুটারের কাছে জানতে চাইতে পারেন- কোম্পানির বেতন, পলিসি, সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে।

২। এরপর হাসিমুখে বলতে পারেন, “তাহলে স্যার কবে থেকে জয়েন করতে হবে?” ইন্টারভিউ বোর্ডে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে অন্যরকম মনোভাব তৈরি হবে, আপনার ভিন্নরকম এই অ্যাপ্রোচে। তবে, এরকম স্মার্ট অ্যাপ্রোচে যাওয়ার আগে ইন্টারভিউয়ারের মানসিকতা বুঝতে চেষ্টা করুন। এছাড়া কবে নাগাদ ফলাফল জানা যাবে সেটা আপনি জিজ্ঞেস করতে পারেন।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

৩। “স্যার, আমি যে কোন কাজ করতে পারবো, আমার ব্যাপারটা একটু দেখবেন।” অথবা, “স্যার, আমি ফ্যামিলি নিয়ে খুব সমস্যায় আছি, চাকরিটা আমার খুব দরকার” এরকম কথা বলে শেষ করলে হবে না। নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করবেন না। অন্তত এভাবে বলুন, “আশা করি খুব শীঘ্রই আপনাদের সাথে আবার দেখা হবে” অথবা, “আশা করি, আপনাদের সাথে অচিরেই মিলেমিশে কাজ করতে পারবো”

৪। ইন্টারভিউ শেষে যিনি ইন্টারভিউ নিলেন, তার একটা কার্ড চেয়ে নিন।

৫। কোন কারণে যদি বুঝতে পারেন যে এই চাকরিটা আপনার হচ্ছে না, তাহলে সুযোগ বুঝে ইন্টারভিউয়ারের ফিডব্যাক নিন। আপনার ভুলগুলো জেনে নিন।

বেরিয়ে এসো নিজের খোলস থেকে!

কর্পোরেট জগতে চাকরির ক্ষেত্রে কিছু জিনিস ঠিক ঠাক রাখা অত্যন্ত জরুরি।

বিস্তারিত জানতে ঘুরে এসো ১০ মিনিট স্কুলের এক্সক্লুসিভ এই প্লেলিস্টটি থেকে। 😀

১০ মিনিট স্কুলের Presentation Skills সিরিজ

৬। বাসায় পৌঁছে ইন্টারভিউয়ারকে “থ্যাংক ইউ” ই-মেইল দিন। এই ধরণের ই-মেইলগুলোতে কী লিখবেন? আপনি এভাবে লিখতে পারেন, আমি আপনাদের কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত (ইন্টারভিউ ডেট ও কোন পোস্টের জন্যে ইন্টারভিউ দিয়েছেন সেটা উল্লেখ করুন)। ইন্টারভিউ থেকে আপনি কী কী শিখেছেন এরকম দুটো পয়েন্ট উল্লেখ করুন।

এরপর নিজের সবল দিকগুলো দিয়ে কিভাবে আপনি কোম্পানির উন্নতি করতে পারবেন ২-৩ টা বাক্যে লিখুন। শেষে গিয়ে পুনরায় কল পাওয়া বা সিলেক্টেড হওয়ার আশাবাদ জানিয়ে ই-মেইল শেষ করুন। মোট ৪ প্যারায় ৭-৮ টা বাক্য লিখবেন।

৭। ইন্টারভিউ খারাপ হলে সামাজিক কোন গণমাধ্যমে কোন বাজে কমেন্ট করবেন না। এতে করে আপনার সাথে যারা পরিচিত, তারা আপনাকে আর রেফার করবে না। ধরুন, আপনি এসিআইতে ভাইভা দিয়েছেন। ভালো হয়নি, যাচ্ছে তাই লিখে পোস্ট দিলেন। আপনার ফেসবুকেই রয়েছে স্কয়ারের কেউ একজন। সে কি আপনাকে আর জীবনেও রেফার করবে? ভেবে দেখুন, ব্যাপারটা বেশ বাজে দেখায়।

কর্পোরেট জীবনে প্রবেশ করার জন্যে বা প্রবেশ করার পর একটি সফল ক্যারিয়ার গড়তে হলে দরকার সঠিক দিক নির্দেশনা। আর সে নির্দেশনা পেতে ঘুরে এসো কর্পোরেট গ্রুমিং নিয়ে আমাদের প্লে-লিস্টটি থেকে!

৮। ইন্টারভিউ দেওয়ার পর আমরা আর ফলোআপ করি না, এটা আমাদের মস্ত বড় ভুল। ফলোআপই যদি না করবেন, তাহলে গিয়েছিলেন কেন?

৯। বার বার ফোন দিয়ে রিক্রুটারকে বিরক্ত করবেন না। এক সপ্তাহ পরে থ্যাংক ইউ মেইলের নিচে একটি ফলোআপ মেইল ড্রপ করতে পারেন। একটি মেসেজ দিতে পারেন।

১০। ইন্টারভিউ যারা দিতে গিয়েছে, তাদের সাথে পরিচিত হোন, তাদের কার্ড নিন, নম্বর নিন। নিজের সম্পর্কে তাদের জানান। তাদের মাধ্যমে আপডেট জানতে পারবেন। তাদের মাধ্যমে নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে।

রুমে ঢোকার সময়ের ইম্প্রেশন ও বের হবার সময় ইম্প্রেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাসিমুখে বের হোন। আপনার হাসিমুখ ও স্কিলের এমন একটা ইমেজ ইন্টারভিউ রুমে দিয়ে আসুন, আপনাকে যেন তারা নিতে বাধ্য হয়।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

এই লেখাটি শেয়ার কর!
Author
What are you thinking?

Loved this article?

Share it with your friends and show some love :)