ভালো সিভি তৈরিতে ফরম্যাটের গুরুত্ব

‘ভাইয়া আমাকে একটা ভালো ফরম্যাট দিন।’

সিভি রাইটিং প্রফেশনে থাকার জন্য আমাকে অনেকেই এই কথাটি বলেন। আমাদের সবার ধারণা একটি ভালো ফরম্যাট পেলেই বুঝি সবাই ইন্টারভিউ কলের জন্য ডাকবে। খুব সহজ করে বলি, পৃথিবীতে হাজার হাজার ফরম্যাট রয়েছে, গুগল করলেই সেগুলো পেয়ে যাবেন। কিন্তু আপনি কি আজও বানাতে পেরেছেন মনের মতো সিভি?
পৃথিবীর সব সিভি ফরম্যাটগুলো লক্ষ্য করে দেখুন। দুনিয়ার সব সিভির ফরম্যাটে আপনাকে নাম, ঠিকানা, কন্টাক্ট, স্কাইপ, লিঙ্কডইন ইত্যাদি দিতে বলবে। আপনাকে ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ লিখতে বলবে, আপনাকে আপনার কাজগুলো ফুটিয়ে তুলতে বলবে। আপনার একাডেমিক ও প্রফেশনাল অর্জনগুলো উল্লেখ করতে হবে। আপনি কি কি ট্রেনিং করেছেন সেসব লিখতে হবে। আপনার কম্পিউটার স্কিল, সফট স্কিল আপনি যদি কাজই না করেন, তাহলে যত রঙ্গিন ফরম্যাটেই আপনার সিভি দেন না কেন, আপনি কি ইন্টারভিউ কল পাওয়ার যোগ্য দাবিদার? নিজের বিবেককে প্রশ্ন করে দেখুন তো, বিবেক কি উত্তর দেয়।
ফ্রেশাররা একটু বেশিই ফরম্যাট খুঁজেন। কিন্তু নিজের কাজের প্রতি বা কো-কারিকুলার এক্টিভিটিজের প্রতি খুবই উদাসীন। ফ্রেশারদের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনি গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন ২৫ বছর বয়সে। এই ২৫ বছরে কি আপনার অভিজ্ঞতা হয়নি?

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশান ইত্যাদি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য 10 Minute School Skill Development Lab নামে ১০ মিনিট স্কুলের রয়েছে একটি ফেইসবুক গ্রুপ।

আপনি কি আপনার বোনের বিয়ের আয়োজন করেননি? তাহলে আপনি কেন একটা কোম্পানির নতুন প্রোডাক্ট লঞ্চ করতে পারবেন না? আপনি কি ভাইয়ের বিয়ের দাওয়াত দিতে যাননি, তাহলে কেন আপনি প্রোডাক্ট লিফলেট বিতরণ করতে পারবেন না? আপনি কি ছাত্রাবস্থায় পিকনিক করেননি, তাহলে কেন আপনি কোম্পানির হয়ে ইভেন্ট আয়োজন করতে পারবেন না? আপনি কি গ্রাজুয়েশনের ৪টা বছর নিয়মিত ল্যাব রিপোর্ট, পেপার তৈরি করেননি, তাহলে কেন আপনি কোম্পানির জন্য রিপোর্ট করতে পারবেন না? আপনি কি গ্রুপে রিপোর্ট তৈরি করেননি, তাহলে কেন আপনি টিম ওয়ার্কার নন? আপনি কি কোথাও ঘুরতে যাননি, তাহলে কেন আপনি ওয়েল কম্যুনিকেটর নন? ভেবে দেখুন, সবকিছু আপনার মধ্যেই আছে। শুধু জায়গামতো ব্যবহার করতে পারছেন না।
আপনার কাছ থেকে একজন ইন্টারভিউয়ার কিন্তু এসবই শুনতে চান। যিনি ভালো গান জানেন, তিনি একজন ভালো বক্তা, উপস্থাপক ও প্রেজেন্টর। যিনি নাচ জানেন, তিনি খুবই পরিশ্রমী ও উদ্যমী। যিনি আর্ট জানেন, তিনি খুবই ধৈর্যশীল। এগুলোই আপনার গুণ।

ছাত্রাবস্থায় ৫৫% সময় পড়াশোনার পিছনে আর ৪৫% সময় নেটওয়ার্ক তৈরিতে কাজে লাগান। ফ্রেশাররা অভিজ্ঞতা শূন্য নন। তাদের ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা আছে। তারা ১০ বছর স্কুলে পড়েছেন, ২ বছর কলেজে, ৪ বছর গ্রাজুয়েশন ও ২ বছর মাস্টার্স। দিনগুলো তো আর এমনি এমনি কাটেনি? ২৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতাকে দুই পেজে আপনার সিভিতে ফুটিয়ে তুলুন। আপনি অভিজ্ঞতা শূন্য নন। আপনার চাকরি হবেই। ইন্টার্নশিপ আথবা ইন্ডাস্ট্রি ভিজিট থাকলে সেগুলো লিখুন।

লেখাটি তৈরি করার সময় আমি ১০ জন মানবসম্পদ বিভাগের লোকের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তারা কেউই রঙ্গিন সিভিকে মূল্য দেননা। ফরম্যাট বিষয়কে অতটা গুরুত্ব দেন না। সবাই কাজকে মূল্যায়ন করেন। তবে একেবারেই দৃষ্টিকটু কোনো ফরম্যাট, অতিরিক্ত স্পেসিং, বড় বড় ফন্ট ব্যবহার করা এগুলো কোনো বাড়তি সুবিধা এনে দেয় না। ফ্রেশার থেকে শুরু করে অন্তত ৮ বছর চাকরি করা পর্যন্ত সিভি ২ পৃষ্ঠায় ও এরপর ৯-২৫ বছর যাদের চাকরির বয়স তাদের ক্ষেত্রে ৩ পৃষ্ঠার সিভিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য।
যারা জব করছেন তাদের ক্ষেত্রেও ফরম্যাটের চেয়ে বেশি মূল্যায়ন করা হয় কাজ।

ফরম্যাট নয়, কাজগুলোকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলাটাই সিভির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সিভিতে তাদের উচিত তাদের পারদর্শিতা, সাফল্য ও কর্মদক্ষতাগুলোকে তুলে ধরা। আপনি কি করেছেন? কতটা নিখুঁতভাবে করেছেন? কতটা কম সময়ে করেছেন? কতটা কম বাজেটে করেছেন? কত জনের টিম নিয়ে কাজ করেছেন? কত টাকা কোম্পানির সেভ করেছেন? এভাবে আপনাকে কাজের বর্ণনা লিখতে হবে। কাজের বর্ণনাগুলো হতে হবে SMART (Specific, Measurable, Achievable, Realistic and Time Bounded).
ফরম্যাট নয়, সিভিতে বেশি খেয়াল করা হয় অ্যাচিভমেন্টগুলো।

মনে রাখবেন এক বছর ক্লাস করা একজন ছাত্রের নিত্যদিনের কাজ, কিন্তু বার্ষিক পরীক্ষায় পাস করে নতুন ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়াটা তার সাফল্য। তেমনি, আপনারাও নিত্যদিনের কাজ এবং সাফল্যকে আলাদা ভাবে তুলে ধরুন সিভির মধ্যে। পাওয়ারফুল ওয়ার্ড ব্যবহার করতে পারেন। গুগল করলেই সিভির জন্য পেয়ে যাবেন অনেক পাওয়ারফুল ওয়ার্ড।

অনেকে আছেন একই সিভি চালিয়ে দিচ্ছেন সেলস, মার্কেটিং, ব্রান্ডিং, একাউন্ট যে কোনো চাকরির জন্য। ভাই, আপনি জীবনে কি হতে চান আগে সময় নিয়ে ভাবুন। সিভির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ক্যারিয়ার প্লান। সঠিকভাবে সেটি গুছিয়ে লিখুন। আপনি কি গন্তব্য না জেনেই যাত্রা করছেন?

সহজেই শিখে ফেলো মার্কেটিং-এর খুঁটিনাটি!!

ব্যবসায় শিক্ষার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মার্কেটিং-এর খুঁটিনাটি বিষয়গুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

তাই ১০ মিনিট স্কুল তোমাদের সকলের জন্য নিয়ে এসেছে মার্কেটিং-এর উপর এক্সক্লুসিভ এই প্লে-লিস্ট!

১০ মিনিট স্কুলের মার্কেটিং ভিডিও সিরিজ

অনেকে ক্যারিয়ার অবজেক্টিভের মধ্যে ‘Seeking’, ‘Need’, ‘Looking for Position’, ‘Good Organization’ এসব ওয়ার্ড ব্যবহার করেন। এগুলোকে বলা হয় সিভির কিলার ফ্রেজ। এগুলো ব্যবহার করবেন না। অবজেক্টিভ হতে হবে শুধুই কাজ করার মেন্টালিটি। চাই, প্রয়োজন, দেন, খুঁজছি এগুলো দুর্বলদের কথা।
সিভিতে ট্রেনিংকে খুব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। নিজেকে দক্ষ করতে ট্রেনিং-এর কোনো বিকল্প নাই। যারা পড়াশোনা করছেন, তাদের উচিত পাওয়ার পয়েন্ট, এক্সেল, গ্রাফিক্সের ওপরে টুকটাক ট্রেনিং করা। যারা ইংরেজিতে দুর্বল, ঝালাই করে নিন। ৫২ সপ্তাহে এক বছর। প্রতি সপ্তাহে দুই দিন ছুটি। তাহলে কম করেও বছরে ১০৪ দিন ইউনিভার্সিটি বন্ধ থাকে। সময়টা কাজে লাগান। নতুবা পরে হা-হুতাশ করতে হবে।

http://10minuteschool.com/skill-development/courses/powerpoint/

পাওয়ারপয়েন্ট ব্যবহার করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে ফেলা যায়! তাই, আর দেরি না করে ১০ মিনিট স্কুলের এক্সক্লুসিভ এই প্লে-লিষ্টটি থেকে ঘুরে এসো, এক্ষুনি!

যাদের ট্রেনিং করা আছে তারা ট্রেনিং-এর হেডিং, ট্রেনারের নামসহ সিভিতে উল্লেখ করুন। দুনিয়ার সব ফরম্যাটই তথ্য চায়, আপনি কি করেছেন সেটা জানতে চায়। সেটাকে ফোকাস করুন। তাহলে যে কোনো ফরম্যাটই ব্যবহার করুন না কেন, আপনার জব হবে।
সর্বোপরি মনে রাখবেন, জব মানে চাকরি না, জব মানে কাজ। কাজ করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যান। দুনিয়ার সব ফরম্যাট কাজ খুঁজে। কাজেই ফরম্যাট নয়, কাজগুলোকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলাটাই সিভির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

এই লেখাটি শেয়ার কর!
Author
What are you thinking?

Loved this article?

Share it with your friends and show some love :)