যে কারণে তোমার একজন মেন্টর প্রয়োজন

ইউটিউবে প্রতিনিয়তই এক-দুইটা ভিডিও যাচ্ছে আমার। মজার ব্যাপার হলো, আমি নিজে কিন্তু এই ভিডিও এডিটিংয়ে খুব বড় কোন এক্সপার্ট না, এডিটিংয়ের বর্ণমালা শিখছি কেবল। এই ভিডিওগুলোর এডিটিং আমি শিখি আমার ছোটভাই, সাদমানের কাছ থেকে। কীভাবে এডিট করতে হয়, নতুন নতুন ফিচার কীভাবে যোগ করতে হয়, সবমিলিয়ে এডিটিং ফীডব্যাকটা পাই সাদমানের কাছ থেকেই।

সাদমান নিজেও ভিডিও বানায়। প্রায়ই অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখি, আর মনে মনে ভাবি, “আরে! ওর এই ভিডিওটা দেখি আমারগুলোর থেকে অনেক ভালো হয়েছে!”

পরিবারের দুইজন ইউটিউবার থাকলে এই একটা ভালো বিষয় হয়। একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা চলে, কার ভিডিও কত বেশি ভালো- এই প্রতিযোগিতা চলতে চলতে অজান্তেই নিজেদের কাজের মান ভালো থেকে আরো ভালো হয়। সে কথা থাক। আমি বরং মেন্টরশীপের কথায় আসি।

সঠিকভাবে কোন ইংরেজি শব্দ উচ্চারণ করতে পারা ইংরেজিতে ভাল করার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

এই যে সাদমান আমার ভিডিওর এডিটের কাজ শিখিয়ে দেয়, আমার ভিডিওর এডিটিং ফীডব্যাক দেয়, ভিডিওর ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়, সাদমান হচ্ছে আমার ভিডিও এডিটিং মেন্টর।

 

আরেকদিক দিয়ে কিন্তু আমিও সাদমানের মেন্টর। ও এডিটিংয়ে পাকা, আর মার্কেটিংয়ে হাতটা ভালোই পাকিয়েছি গত কয়েক বছরে। আমি ওর ভিডিওর মার্কেটিংয়ের দিকটা দেখি, কীভাবে মার্কেটিংটা ভালো করে করা যায়- সেসব নিয়ে ফীডব্যাক দেই। সেভাবে দেখলে আমিও সাদমানের মেন্টর, মার্কেটিং মেন্টর।

খেয়াল করে দেখবে, তুমি যে কাজই করো না কেন, কাজে তোমার একজন মেন্টর বা গুরু না থাকলে কাজটা তুমি নেক্সট লেভেলে বা পরের ধাপে নিয়ে যেতে অনেক সমস্যায় পড়বে।

মেন্টর বলতে যে তোমার আশেপাশের পরিচিত মানুষই হতে হবে, তা কিন্তু না। আমি নিজেই টোনি রবিন্স, ব্রায়ান ক্রেসিদের বই পড়ি, তাঁরা আমার মেন্টর। তবে আশেপাশের কেউ মেন্টর থাকলে যেটা হয়, একদমই সাথে সাথে ফীডব্যাকটা পেতে পারো তুমি, আর তাতে নিজের উন্নতির জায়গাটা বের করে ফেলা যায় সহজে।

ঘুরে আসুন: যে ৯টি বই ইংরেজিকে করবে সহজ!

প্রশ্ন জাগতেই পারে, “কিন্তু মেন্টর খুঁজে পাবো কীভাবে? আর বুঝবোই বা কীভাবে কাকে মেন্টর বানানো উচিত আমার?”

মেন্টর খুঁজে পাবার কিছু কৌশল আছে। কয়েকটা ধাপ আছে। ধাপে ধাপে এগোলেই বলা যায় সঠিক মেন্টরের দেখা মিলবে। আমি বরং ধাপগুলোর কথা বলি।

 

ধাপ ১:

এমন কাউকে মেন্টর বানাবে না, যে তোমার পছন্দের চাকরিটা করছে বা তোমার প্রিয় কোন জায়গায় আছে। প্রথমেই খুঁজবে এমন মানুষকে যার সাথে তোমার আচার-আচরণ, চিন্তাধারা মিলে যায়। যার স্কিলগুলো তুমিও অর্জন করতে পারবে!

এমন কাউকে যদি মেন্টর বানাও যার কাছ থেকে শেখার চেয়ে হতাশই বেশি হবে, তাহলে আর মেন্টরশীপের মানেটা কী? দরকার হলে এক-দুই-তিনজনকে যাচাই করে দেখো, তারপরেই সিদ্ধান্ত নাও কে হবে তোমার মেন্টর।

 

ধাপ ২:

ধরা গেলো মনে মনে তুমি ঠিক করে ফেলেছো কাকে মেন্টর বানাবে। এবার মানুষটাকে ভালোভাবে বিশ্লেষণ করো। তাঁর দুর্বলতা কোথায়, শক্তির জায়গাটা কোথায়। তার সাফল্যের রাস্তাটা কেমন ছিল- সবকিছু।

 

ধাপ ৩:

এবার তুমি নিশ্চিত, কে হবে তোমার মেন্টর। যাকে পছন্দ করেছো, সেই মানুষটিরও তো তোমাকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে হবে, তাই না?

এই কাজটা দুইভাবে করতে পারো। মানুষটিকে প্রথমেই মেন্টরশীপের জন্যে না বলে কোন একদিন, কোন এক কফি শপে বসে, আড্ডা দিতে দিতে বলে বসতে পারো। অবশ্য সেটা নির্ভর করবে তোমার পরিচয় কতোটা, মানুষটির সাথে। আবার, যদি তোমার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাজ করে, একেবারে সোজাসুজি বলে দিতে পারো। সোজাসাপটা বললে প্রায়শই উত্তরটা ‘হ্যা’-ই হয়।

 

মজায় মজায় ইংরেজি শিখ!

তোমার স্বপ্নের পথে পা বাড়ানোর ক্ষেত্রে তোমার ইংরেজির জ্ঞান কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে!

তাই আর দেরি না করে, আজই ঘুরে এস ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লে-লিস্টটি থেকে!

১০ মিনিট স্কুলের ইংরেজি ভিডিও সিরিজ

ধাপ ৪:

তোমার মেন্টরের সাথে তোমার দেখা হলো, কথাবার্তা হলো। তিনি রাজি হলেন। এরপরে কি তুমি চুপ করে বসে থাকবে? অপেক্ষা করবে মেন্টরের জন্য?

মোটেও না। তোমার মাথায় রাখা দরকার, মেন্টর তোমাকে শেখাবেন, দরকারটা তোমার। তাই উদ্যোগটাও তোমাকেই নিতে হবে। মেন্টরকে বার বার প্রশ্ন করতে হবে, জানতে হবে শিক্ষাটা শুরু কবে থেকে করবেন তিনি।

 

ঘুরে আসুন: মজায় মজায় ইংরেজি শেখা: Error Finding Game

ধাপ ৫:

হেরে যাবে না। তোমার মেন্টর তোমাকে বেশকিছু কঠিন কাজ দেবেন, দেয়াই স্বাভাবিক। এর অনেকগুলোই তুমি পারবে না, অনেকগুলো করতে গিয়ে হিমশিম খাবে। কিন্ত এতে হাল ছেড়ে দেয়ার মানে হলো তুমি হেরে গেলে।

হাল ছাড়বে না। একবার না পারলে পরেরবার পারবে। এই দৃঢ় মনোবলই তোমাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

 

১০ মিনিট স্কুলের পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য আয়োজন করা হচ্ছে অনলাইন লাইভ ক্লাসের! তাও আবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে!

ধাপ ৬:

সবসময় মেন্টরের কাছে ফীডব্যাক চাইবে। সেটা প্রায়শই নেতিবাচক হবে, তোমার ভুলগুলো চোখে আঙ্গুল দিয়ে ধরিয়ে দেবেন তিনি। সেটা তোমার খারাপও লাগতে পারে। কিন্তু সেগুলো থেকে শিক্ষা না নিলে ভালো করবে কীভাবে?

 

ধাপ ৭:

ধৈর্য ধরতে হবে। মেন্টরশীপ কোন জেটপ্লেন না, যে এই শুরু করলে এই সব শিখে ফেললে। সময় নাও। ধৈর্য ধরো। একটা সময়ে দেখবে ঠিকই সঠিক পথে চলে এসেছো!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল করো এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?