আপনি কি নিজেকে পুরোপুরি চেনেন?

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

‘What the mind of man can conceive and believe, it can achieve.’- Napoleon Hill

একজন ব্যক্তি যা কল্পনা ও বিশ্বাস করে, তা সে অর্জন করতে পারে- নেপোলিয়ান হিল

হাতি নিয়ে একটা গল্প প্রচলিত আছে। গল্পটা সত্য না মিথ্যা জানি না, তবে গল্পের মধ্যে খুঁজে পাওয়ার মতো অনেক কিছু আছে। হাতির কান কুলার মতো। চোখের পেছনে কুলার মতো কান থাকায় হাতি তার নিজের শরীর দেখতে পায় না। ফলে হাতি জানে না, তার শরীর কত বিশাল! হাতি যদি একবারও বুঝতে পারত, সে দেখতে এত্ত বিশাল, সবকিছু নাকি ওলটপালট করে দিত!

মানুষের কান বা শরীর কোনোটাই হাতির মতো বড় না। ফলে সাধারণত মানুষ ওলটপালট করে দেওয়ার চিন্তা করে না। অধিকাংশ মানুষ চোখের সীমানায় যা দেখে তা-ই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে।

সত্য কথা হলো, হাতির মতো শরীর না থাকলেও উন্নত মস্তিষ্কের কারণে মানুষের ক্ষমতা সীমাহীন। যারা সেই ক্ষমতা উপলব্ধি করতে পারে, তারা আসলেই ওলটপালট করে দিতে পারে। যারা সেই ক্ষমতা বুঝতে পারে না, তারা চুপচাপ থাকে। অন্যের ক্ষমতা দেখে অবাক হয়ে বলে, আরে বাহ! কী চমৎকার ব্যাপার! মানুষ কী না করতে পারে?

২০০৪ থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু করেছে সুমন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত সে নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এই অ্যাকাউন্ট, সেই আইডি, ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়া কোনটাতে সে নেই! ২০০৪ সালে তার বয়স ছিল ১৯। এখন ৩৩। পড়ালেখা শেষ হয়েছে, স্থায়ী কোনো ক্যারিয়ার হয়ে ওঠেনি। ফেসবুকে দারুণ সক্রিয়। অন্যের ছবি, মজার কমেন্ট, বাণী চিরন্তনী, অলৌকিক-কুদরতি ঘটনা নিয়মিত শেয়ার দিয়ে বন্ধুদের জ্ঞান আর বিনোদন দিয়েই চলছে।

২০০৪ সালে মার্ক জাকাবার্গরা ফেসবুক চালু করল। ২০১৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত তাঁর উদ্ভাাবিত ফেসবুকে সুমনের মতো দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৯৩ দশমিক ৬ কোটি। এই সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ব্যবসা, বাণিজ্য, ফ্যাশন, রুচি, চিন্তাধারা, রাজনীতি, সরকার- সবই যেন ঠিক করে দিচ্ছে একজন মানুষ। হয়েছেন সবচেয়ে কম বয়সে বিলিয়নিয়ার।

সুতরাং কী দেখা গেল? প্রতিদিন একই টি-শার্ট পরা হালকা-পাতলা গড়নের একটা ছেলে পুরো দুনিয়া ওলটপালট করে দিচ্ছে। অন্যদিকে একই সময়ের ও বয়সের আরেকজন ছেলে এত দিন ধরে একই জায়গায় আছে। দুজনের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

একজন আমেরিকায়, অন্যজন বাংলাদেশে জন্মেছে?

এটা একটা খোঁড়া যুক্তি।

একজন নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়েছে। স্বপ্ন দেখেছে, বড় হওয়ার বাসনাকে সঠিক সময়ে, সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।

অন্যজন অন্যকে দোষারোপ করে গেছে, সিস্টেমকে গালিগালাজ করে গেছে, মানুষের ভুল ধরে গেছে, সরকারের ভুল ধরে গেছে, রাজনীতির ভুল ধরেছে। নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বিশালাকার হাতিটাকে অদৃশ্য এবং অবাস্তব কান দিয়ে ঢেকে রেখেছে। ফলে ছোট শরীর নিয়ে ছোট হয়েই আছে। এই তো!

সফলতার জন্য বিশেষ কোনো দেশ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের অন্তর্ভুক্ত হওয়া লাগে না। ফেসবুকের মতো আরও যা কিছু আবিষ্কার, উদ্ভাবন দেখে আমরা অবাক হই, তা সব মানুষই করেছে। তাঁদের জীবিত অবস্থায় করেছে। এর জন্য প্রয়োজন নিজের ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তোলা। অধিকাংশ মানুষ সেই লুকায়িত শক্তিকে দেখতে পায় না। যাঁরা সেটা পারে, তাঁরা হয় উদ্ভাবক, নেতা আর বাকিরা হয় ফ্যান বা ফলোয়ার।

ব্যর্থ হওয়ার ভয়, লজ্জা, পরিবার ও সমাজ থেকে আসা আরও কিছু ভাইরাস মিলেমিশে এমন সব বড় ‘কান’ তৈরি করেছে, যাতে নিজের ভেতরের অসীম শক্তি একেবারে ঢাকা পড়ে গেছে। বিজ্ঞাপনে শুধু শুনেই চলি ‘জ্বলে উঠুন আপন শক্তিতে’, কিন্তু শক্তির দেখা পাই না। দেখি শুধু অন্ধকার!

প্রিয় পাঠক, আপনার নিজের ক্ষমতা নিয়ে কি আপনি সন্দিহান? পারব না, আমার দ্বারা হবে না, এসব আমার কাজ না ইত্যাদি কথা কি অবচেতন থেকে আপনার চিন্তায় বারবার চলে আসে? উত্তর যদি হয় হ্যাঁ, তবে আপনাকেও সেই ভিত্তিহীন, কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা বিশাল আকৃতির ‘কান’ ঢেকে ফেলেছে। এই কান আপনার আত্মশক্তিকে উপলব্ধি করতে দিচ্ছে না। আপনি হয়ে যাচ্ছেন ভীত, হতাশাগ্রস্ত।

আপনাকে বলছি, ছিঁড়ে ফেলুন সেই মিথ্যা ও অদৃশ্য ‘কান’। উপলব্ধি করুন আপনার ভেতরের বিশালাকার হাতিটাকে। অন্তত ১০০ জনের গল্প আমি বলতে পারব, যাঁরা জীবনে নিদারুণ প্রতিকূলতা আর সীমাবদ্ধতাকে পাশ কাটিয়ে পৃথিবীতে তাঁদের কাজ দিয়ে অমর হয়ে গেছেন। অর্জন করেছেন সম্মান, প্রতিপত্তি। পরিবর্তন এনেছেন লাখো মানুষের জীবনে। গুগলে সার্চ দিয়ে দেখুন, কত-শত উদাহরণ আছে। অদম্য মেধাবীদের কথা প্রায়ই পত্রিকায় পড়েন। আমি তাই ওই সবের দিকে যাচ্ছি না। আপনি এমনিতেই ধরতে পারবেন।

প্রশ্ন হলো কীভাবে একজন তার ভেতরের লুকায়িত শক্তিকে চিনতে পারবে?

এটার একবাক্যে কোনো উত্তর নেই। এই বইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টাই করা হয়েছে, যাতে আপনি আপনার সত্যিকারের ভেতরের মানুষটার দেখা পান। আসল শক্তির সন্ধান পান এবং সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মর্যাদার জীবনযাপন করেন।

নিজের লুকায়িত ক্ষমতাকে বিকশিত করার সহজ একটি কৌশল নিয়ে এখন আলোচনা করব শিলা নামের একটি মেয়ের ঘটনা দিয়ে। ২২ বছরের শিলা ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে অনার্স পড়ছে। বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার প্রত্যন্ত গ্রামে। স্কুল-কলেজের রেজাল্ট ভালো থাকলেও সে কোনো ভার্সিটিতে চান্স পায়নি। এ নিয়ে ছিল তার ভীষণ মনোকষ্ট। তিন বছর ধরে ঢাকায় থাকলেও তার কথায় স্পষ্ট আঞ্চলিকতার টান। দেহের গড়ন শ্যামলা, ফলে সেলফ ইমেজ নিয়েও সে অসন্তুষ্ট। এদিকে একটি এনজিও থেকে কিছু বৃত্তি আর বাবা-মায়ের পাঠানো সামান্য করে কিছু টাকা দিয়ে কোনোমতে তার মাস চালাতে হয়। যার প্রায় পুরোটাই যায় মেসের খরচ মেটাতে। নিজে কিছু করার প্রচণ্ড তাগিদ অনুভব করতে থাকে সে, যেন বাবা-মায়ের দেওয়া খরচের ভারটা কিছুটা কমে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। বিষণ্নতায় একেবারে ডুবে গিয়ে এল একদিন আমার কাছে।

বিষণ্নতা পরিমাপের স্কেলে তার স্কোর হলো ‘সিভিয়ার’। বললাম, তোমার কী আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় আসে?

হুঁ, ইদানীং প্রায়ই আসছে।

আমি প্রাথমিক কয়েকটা সেশনে দিয়ে তাকে স্বাভাবিক হতে সাহায্য করলাম। এরপর তার আত্মশক্তি বাড়ানোর জন্য ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি কৌশল অবলম্বন করলাম। যারা ব্যবসা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন তারা ভালো জানেন। কৌশলটার নাম SWOT Analysis- Strength, Weakness, Opportunity and Threat বিশ্লেষণ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য চারটা এরিয়াতে এই বিশ্লেষণটা করা হয়ে থাকে। একজন মানুষের বেলায় কী ফল আসে, তাই দেখার ইচ্ছা আমার।

 

 

শক্তি (Strength)- ব্যক্তিগত সম্পদ যা আপনাকে শক্তিশালী করে।

 

·      তোমার মধ্যে কী কী ইতিবাচক দিক আছে বলে তুমি মনে করো? এর মধ্যে পার্থিব (যেমন- অর্থ-কড়ি, সম্পদ) এবং অপার্থিব (যেমন- আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী থাকা, শিক্ষা, দক্ষতা ইত্যাদি)

·      তুমি কি কোনো বিশেষ কিছুতে দক্ষ বা অন্যদের চেয়ে ভালো?

·      তোমার কোন দিকটা নিয়ে তুমি গর্ববোধ করো?

·      তোমার কোন জায়গাগুলোকে অন্যেরা                   তোমার শক্তি  হিসেবে দেখে?

·      তোমার কোন মূল্যবোধ, আদর্শ আছে, যা অন্যদের থেকে আলাদা?

শিলার বিশ্লেষণ

শিলার শক্তি

 

·         আমি পরিশ্রম করতে পারি।

·         এনজিও থেকে কিছু বৃত্তি পাই।

·         বাবা-মা খুব ভালোবাসেন।

·         ছোটদের সাথে মিশতে পারি।

·         আমি সৎ।

·         আমার শান্তশিষ্টতা অন্যরা পছন্দ করে।        নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই, অনেকেই তা চায় না।

 

দুর্বলতা (Weakness)- নিজের ভেতরের বৈশিষ্ট্য

·          আত্মবিশ্বাস না থাকার কারণে তুমি              সাধারণত  কী করতে পারো না বা করা থেকে  বিরত থাকো?

·         তোমার কোন জায়গাগুলোকে অন্যরা দুর্বলতা হিসেবে দেখে?

·         তুমি কি তোমার বর্তমান শিক্ষা, দক্ষতা নিয়ে সন্তুষ্ট?

·         তোমার মধ্যে কী নেতিবাচক বা বদ অভ্যাস  আছে, যা পরিবর্তন করা দরকার?

·         তোমার কোন আচরণগুলো তোমাকে টেনে  ধরে রেখেছে বলে মনে হয়?

শিলার দুর্বলতা

·         অপরিচিত মানুষের সাথে কথা বলতে ভয় লাগে। তাই নিজে থেকে কারও সাথে কথা বলি না।

·         চুপচাপ থাকা।

·         যে সাবজেক্ট নিয়ে পড়ছি, তা দিয়ে কী হবে, বুঝছি না!

·         খাবার-দাবার খুব অনিয়ম করি। কেউ না বললে খেতে ইচ্ছে করে না।

·         অন্তর্মুখী স্বভাব, অন্যের সাথে মিশতে ভয়।

 

সম্ভাবনা বা সুযোগ (Opportunity)-

·         নতুন কোন প্রযুক্তি বা শিক্ষা তোমাকে  সামনে এগোতে সাহায্য করবে বলে তুমি মনে করছ?

·         তোমার বর্তমান অবস্থায় কোথায় কোথায়       তোমার সুযোগ আছে বলে তুমি মনে করো?

·         তোমার কোনো পরিচিত সম্পর্ক আছে, যা তোমাকে সহযোগিতা করতে পারে?

·         তোমার দ্বারা কী করা সম্ভব, যা অন্যের কাজে লাগতে পারে?

শিলার সম্ভাবনা বা সুযোগ

·       ক্লাস এইট পর্যন্ত সব বিষয়ে ভালো করে আয়ত্ত  করা, যাতে অন্তত এইট পর্যন্ত টিউশনি করাতে    পারি।

·       ছোট বাচ্চাদের পড়াতে পারব।

·       কলেজের ম্যামকে বলতে পারি।

·       আমি ধৈর্য নিয়ে কাজ করতে পারি।

ঝুঁকি (Threat)-

·          এই মুহূর্তে তোমার কী কী বাধা কাজ করছে?

·         তুমি কি তোমার লেখাপড়ার সাথে মানিয়ে নিতে পারছো?

·         তোমার থাকার জায়গায় কি কোনো               অসুবিধা  হচ্ছে, যা তোমাকে মনোনিবেশ                 করতে বাধা দিচ্ছে?

·         তোমার কোনো দুর্বলতা কি ঝুঁকি হয়ে দেখা দিচ্ছে?

শিলার ঝুঁকি

·          প্রতি মাসে ঠিক সময়ে টাকা পাব কি না,                      সেটা  নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকি।

·          কলেজের ক্লাস ভালো লাগে না।

·          হোস্টেলের খাবার খুব বাজে।

·          পরিষ্কারভাবে গুছিয়ে কথা বলতে পারি না,      ফলে নিজের চাহিদা অন্যকে বলতে পারি                   না।

এভাবে আত্মবিশ্লেষণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো, আত্মশক্তিকে খুঁজে বের করা, দুর্বলতাকে কমিয়ে ফেলা, সম্ভবনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে ঝুঁকি নিরসন করা। এই অনুশীলনের ফলে, শিলার নিজের সম্পর্কে অনেক বেশি পরিষ্কার ধারণা তৈরি হয়েছে। নিজের শক্তির জায়গাগুলো দেখে সাহস জন্মেছে, দুর্বলতা কাটানোর কৌশল বের করেছে। সুযোগ কীভাবে কাজে লাগিয়ে ঝুঁকি কমানো যায়, তার উদ্যোগ নিয়েছে।

শিলা কলেজের পাঁচজন শিক্ষকের কাছে আলাদাভাবে তার চাহিদার কথা দৃঢ়ভাবে বলল। একজন শিক্ষক তাকে পঞ্চম শ্রেণির দু’জন বাচ্চাকে পড়ানোর টিউশনি জোগাড় করে দিলেন। মাসে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। শিলা পঞ্চম শ্রেণির সব বই জোগাড় করে নিজে দারুণ খাটাখাটুনি শুরু করে দিল। কীভাবে বিষয়গুলো সহজ ও সাবলীলভাবে বাচ্চাদের বোঝানো যায়। হোস্টেলের একজন রুমমেটের কাছে সাহস করে জানতে চাইল, আমার কথার মধ্যে কোন শব্দগুলোতে বেশি বেশি আঞ্চলিকতা আসে। রুমমেটরা এটা শুনে প্রথম প্রথম হাসত। শিলা তাতে কিছু মনে করল না। তার কথায় সমস্যা হচ্ছে, মানুষ হাসতেই পারে। মানুষের হাসি কি সে থামাতে পারে?

এভাবে চলতে লাগল, নিজেকে পরিবর্তন করে মর্যাদার সাথে বাঁচার লড়াই।

ছয় মাস পর বাচ্চাদের পরীক্ষা হলো। দু’টো বাচ্চাই ভালো ফল করল। তাদের বাবা-মা খুশি হয়ে শিলার বেতন ৪ হাজার টাকা করল। শিলা এখন বাড়ি থেকে টাকা নেয় না। নিজের ভেতর কেমন যেন কনফিডেন্স জন্মাতে থাকল। তার উচ্চারণে অনেক উন্নতি হলো। সচেতনভাবে তার এখন আর কোনো আঞ্চলিকতা আসে না।

এবার সেই আত্মবিশ্লেষণ-কৌশল অবলম্বন করে পড়ালেখা আর ক্যারিয়ারের দিকে মনোনিবেশ করল। চার বছরের অনার্স ছয় বছরে শেষ করল শিলা। ৩৪তম বিসিএস দিল। প্রথমবারেই শিক্ষা ক্যাডার পেল। কুড়িগ্রামের অজপাড়া গাঁয়ের শিলা এখন বিসিএস ক্যাডার।

আপনি যে স্বপ্ন দেখছেন, যে অবস্থানে গেলে স্বাচ্ছন্দ্যে মর্যাদার সাথে বাঁচতে পারবেন, সেটা খুব দূরে নয়। আপনি মন থেকে চাইলেই তা পারবেন। অসংখ্য ছেলেমেয়ের সাথে কাজ করে আমার অভিজ্ঞতা হলো, বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদের এতটা বেগ পেতে হয় না, তাদের স্বপ্নে পৌঁছাতে। একটু উদ্যোগ নিলেই সময়ের আগেই গন্তব্যে পৌঁছে যায়।

ভেবে বের করুন আপনার লুকায়িত শক্তি। কীভাবে সেটাকে উন্মুুক্ত করবেন। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করে কীভাবে সেই দিকে আগাবেন। পৃথিবীর কেউ আপনাকে বিশ্বাস না করলেও আপনি নিজে কখনো এক সেকেন্ডের জন্য আত্মবিশ্বাস হারাবেন না। সোনালি দিন অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।

এই লেখাটি নেয়া হয়েছে লেখকের “মানসিক প্রশান্তি আর মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জাদুকাঠি” বইটি থেকে। বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যান এই লিংকে!

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে তাওহিদা আলী জ্যোতি


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?