ইন্টারভিউতে আপনার গুরুত্বপূর্ণ ৭টি অঙ্গভঙ্গি

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

আপনার প্রিয় প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সার্কুলার দিয়েছে। আপনি সিভি তৈরি থেকে শুরু করে সবগুলো পর্যায়ই অতিক্রম করলেন। কিন্তু ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে সবকিছু গণ্ডগোল করে ফেললেন! এমন ঘটনা প্রায়শই অনেকের ক্ষেত্রে ঘটে।

কারো সঙ্গে প্রথমবার দেখা হলে তার ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ থেকেই আপনি অনেক বিষয় বুঝতে চাইবেন। ইন্টারভিউয়ারদের ক্ষেত্রেও এ বিষয়টি প্রযোজ্য। তারা আপনার আত্মবিশ্বাস সহ নানা বিষয় নির্ণয় করার চেষ্টা করবে আপনার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে।  

ক্যারিয়ার বিল্ডার –এর এক  সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ৯১ শতাংশ ক্ষেত্রেই ১৫ মিনিটের মধ্যে বুঝে নেয়া যায়, প্রার্থীটি চাকরির যোগ্য কিনা। চাকরিপ্রার্থী কতটা পেশাদার এবং তিনি ওই পদের উপযুক্ত কিনা, নিম্নোক্ত ব্যাপারগুলো থেকেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

জেনে নিন কী সেই ভুল-

১. অঙ্গভঙ্গি:

সব সময় আপনার অঙ্গভঙ্গির বিষয়ে সতর্ক থাকুন। এ ক্ষেত্রে শুধু ইন্টারভিউ বোর্ডেই নয়, ওয়েটিং রুম ও রিসিপশনকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে। নিজেকে আত্মবিশ্বাসী দেখানোর জন্য আপনাকে অবশ্যই সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে, ঘাড় রাখতে হবে সম্প্রসারিত ও সোজা।

ঘুরে আসুন: LinkedIn সঠিকভাবে ব্যবহার করার ২০টি টিপস

এ অবস্থানে থাকলে আপনার মস্তিষ্কের রাসায়নিক অবস্থায় কিছুটা পরিবর্তন হয়, যা আপনাকে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী অনুভব এনে দেয়। শুধু প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দিলেন, তার উপরেই চাকরির সবটুকু নির্ভর করে না। আপনার ভাবভঙ্গি কেমন তার উপরও অনেক কিছু নির্ভর করে।

Have confidence in everything. No matter what it is that you are doing, know that you can do it better than anyone.

২. হ্যান্ডশেক:

ইন্টারভিউ বোর্ডে ‘হ্যান্ডশেক’ অনেকাংশেই আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশের সূচক হিসেবে কাজ করে। ইন্টারভিউয়ার হিসেবে আপনি গেলে, আগেই হাত মেলানোর চেষ্টা করবেন না। এ জন্য তাদের হাত এগিয়ে আসার অপেক্ষা করুন। ইন্টারভিউ বোর্ডে থাকা কর্তাব্যক্তির সাথে করমর্দনের ক্ষেত্রেও অনেকের দুর্বলতা রয়েছে। অনেকে আবার খুব জোরে হ্যান্ডশেক করেন যা প্রশ্নকর্তার ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।

ঘর্মাক্ত বা ভেজা হাতের কারো সঙ্গে হাত মেলানো সত্যিই বিরক্তিকর। আর, আপনার যদি এ সমস্যা থাকে তাহলে ইন্টারভিউয়ের আগেই প্রসাধনকক্ষে গিয়ে হাত ঠাণ্ডা পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এতে পরবর্তী কিছুক্ষণ আপনার হাত স্বাভাবিক থাকবে।

৩. চক্ষু সংযোগের অভাব:

ইন্টারভিউতে গিয়ে আপনার অবশ্যই উপযুক্ত মাত্রায় চক্ষু সংযোগ বা দৃষ্টি বিনিময় করতে হবে। এটি করতে ব্যর্থ হলে ইন্টারভিউয়ার ভাববেন, আপনি হয় প্রশ্নের জবাব দিতে অক্ষম অথবা কোনো একটা মিথ্যা বা প্রতারণা করছেন।

অনেকেই প্রশ্নকর্তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলেন না। এটাই চাকরিপ্রার্থীর ভঙ্গিমার সবচেয়ে বড় ভুল বলে বিবেচিত হয়। অধিকাংশ চাকরিদাতাই মনে করেন, চাকরিপ্রার্থীদের সবচেয়ে বড় ভুল হল চোখের দিকে না তাকানো।

স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাই আরো একধাপ!

আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছানোর জন্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে একটি সফল ইন্টারভিউ। ইন্টারভিউ বোর্ডে পারফরম্যান্সের ওপরে একটি চাকরি পাওয়া না পাওয়া অনেক বেশি নির্ভর করে।

আর তাই ইন্টারভিউকে ভয় না পেয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে এর বাধা উৎরে যেতে দেখে নাও এই ভিডিও সিরিজটি!

১০ মিনিট স্কুলের Interview Skills সিরিজ

৪. নার্ভাস:

ইন্টারভিউতে আপনার চুল ঠিক করা বা চুল নিয়ে খেলা, মুখ স্পর্শ করা ও এ ধরনের অন্য যেকোনো কাজ আপনার নার্ভাসনেস প্রকাশ করবে। আমরা যখন আমাদের মুখ বা চুল স্পর্শ করি, তা আমাদের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতির কথা জানান দেয়। ইন্টারভিউয়ারদের যদি আপনি এ বার্তা দিতে না চান, তাহলে নার্ভাস ও অপ্রস্তুত ভাব প্রকাশ করা বাদ দিন।

কারও বসে থাকার মধ্যে অস্থিরতা দেখা যায়। ফলে অনবরত নড়াচড়া করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। নিজের মধ্যে অস্থিরতা প্রকাশ করাও অযোগ্য প্রমাণিত হওয়ার অন্যতম কারণ। ভালো করে প্রতিটি প্রশ্ন শুনুন। না বুঝতে পারলে নার্ভাস না হয়ে আবার জিজ্ঞেস করুন।

৫. অপ্রস্তুত ও অনাগ্রহী মনে হওয়া:

ইন্টারভিউতে গিয়ে আপনি যদি দ্রুত নিজের পায়ের অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকেন বা ক্রস ও সোজা করতে থাকেন ঘন ঘন, সেক্ষেত্রে ইন্টারভিউয়ারদের মনে হবে, আপনি একঘেয়ে হয়ে গেছেন। তার বদলে আপনার আগ্রহ প্রকাশ করুন সামনে সামান্য ঝুঁকে বসে, মাথা সোজা করে মনোযোগের সঙ্গে ইন্টারভিউতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে।

৬. হাসতে ব্যর্থ হওয়া:

হাসি আপনার আত্মবিশ্বাস, খোলা মন, আন্তরিকতা ও কর্মোদ্যমকে প্রকাশ করে। এটি অন্যদের পাল্টা হাসি দিতে অনুপ্রাণিত করে। ইন্টারভিউতে সামান্য পরিমাণ হাসিও যারা দিতে পারে না, তাদের গোমড়ামুখো ও দূরে থাকার অভ্যাস রয়েছে বলে ভেবে নেয় অনেকেই।

৭. অতিমাত্রায় বন্ধুসুলভ হবেন না:

সাক্ষাৎকার কক্ষে প্রবেশের সময় অবশ্যই অনুমতি নিনকক্ষে প্রবেশ করার পর সবাইকে সালাম দিন বা সম্ভাষণ জানান। যারা ইন্টারভিউ নেবেন তাঁদের সাথে তো বটেই, প্রতিষ্ঠানের সবার সাথে ভালো ব্যবহার করুন। কারণ, ইন্টারভিউ শুধু মিটিং রুমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, যেকোন কর্মীর কাছ থেকে প্রার্থী সম্পর্কে মতামত নেওয়া হতে পারে।

প্রশ্নকর্তার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের আভাস থাকতে পারে। এতে আপনার অস্বস্তি ঘুচবে। কিন্তু এর বিপরীতে আপনিও তাঁর সঙ্গে অতি বন্ধুত্বপরায়ণতা দেখাতে যাবেন না। সেখানে আপনি একজন  চাকরিপ্রার্থী ছাড়া আর কিছুই নন। কাজেই কারো বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করবেন না।

চাকরির বাজার নাকি ভীষণ খারাপবর্তমান সময়ে কথাটি খুব প্রচলিত। চাকরির বাজার যেমনই হোক না কেন, অনেকেই নিজের কারণে চাকরি পাওয়ার আগেই তা খুইয়ে বসেন!

চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে অনেকেই নিজেকে ঠিকমতো উপস্থাপন করতে পারেন না। কেউ ভয় পেয়ে যান। সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হলো, যে প্রতিষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দিতে যাচ্ছেন, তাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে কোনো ধারণা না নিয়েই যাওয়া

ফলে নিয়ে প্রশ্ন করলে মাথা চুলকানো ছাড়া আর করার কিছু থাকে না! আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং নেতিবাচক আচরণের কারণেও অনেকে বাদ পড়ে যান।

তোমার স্বপ্নের পথে পা বাড়ানোর ক্ষেত্রে তোমার ইংরেজির জ্ঞান কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে! কিন্তু সঠিক ইংরেজি আমরা কতজন-ই বা জানি? তাই এই কুইজগুলো দিয়ে যাচাই করে নাও ইংরেজিতে তোমার দক্ষতা!

সাধারণ প্রশ্ন করে প্রার্থীর উপস্থিত বুদ্ধি যাচাই করে পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা পরীক্ষা করাই মূলত ইন্টারভিউ বোর্ডের উদ্দেশ্য। তাই সব কিছু সামলে নিজেকে যোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে পারলে তবেই না মিলবে চাকরি!

Never put off till tomorrow what you can do today Thomas Jefferson


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?