রক্তে রাঙ্গানো একুশের গল্প

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

ছোট্ট খোকন বর্ণমালা শিখতে বসেছে। মামণি বইটা মেলে ধরেন খোকনের সামনে। আদর্শলিপি। বইয়ের পাতায় পাতায় রং বেরংয়ের ছবি খোকন অবাক চোখে দেখে।

“বলো বাবা, ‘ঐ’ তে ঐরাবত!”

খোকনের মন নেই পড়ায়। “ড-য়ে শূন্য ড়” এমন খটোমটো জিনিস কিছুতেই শেখানো যাচ্ছে না তাকে। বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টা করে হাঁপিয়ে পড়েন মামণি।

দাদুভাই গ্রাম থেকে এসেছেন। ঘরে পা দিয়ে দেখেন খোকন তখনো মেঝেতে হাত পা ছড়িয়ে বসে আছে সামনে বই নিয়ে।

“কিগো বৌমা! খোকন বর্ণমালা শিখছে বুঝি?”

“চেষ্টা তো করছি। কিন্তু একদম আগাচ্ছে না পড়া!”

“এটা কোন সমস্যা না। মায়ের ভাষা তো, এমনিই শিখে নেবে। দেখি আমাকে দাও একবার।”

দাদুভাই আদর্শলিপি হাতে নিলেন। বয়সের ভারে চোখে ভাল দেখতে পান না। তবু চশমাটা চোখে দিয়ে বইয়ের পাতা উল্টান।

“দাদুমণি। পড়ো তো আমার সাথে, অ আ ই ঈ!”

“এগুলো পারি তো আমি।”

“আবার পড়ো। পড়ার সময় অক্ষর গুলিতে হাত বুলাও পরম মমতায়। “

খোকন আগেও পড়েছে বর্ণমালা। তবু আজ কেমন যেন লাগছে ওর। একটা অন্যরকম অনুভূতি।

ঘুরে আসুন: কোন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের সাথে মিল রয়েছে তোমার?

খোকনকে পড়াতে গিয়ে দাদুভাই কেমন অন্যমনস্ক হয়ে পড়েন। অনেক স্মৃতির ডালা ভিড় করেছে মনে। বইয়ের একেকটা অক্ষর যেন একেকটা ইতিহাসের সাক্ষী।

দাদুভাই বলেন, “এই যে তুমি বর্ণমালা পড়ছো। এগুলো একদম হৃদয়ে গেঁথে নেবে। এর ইতিহাস জানতে হবে তোমায়। এ যে রক্ত ও ভালবাসার দামে কেনা একেকটা অক্ষর।”

ভাষা আন্দোলনের সৈনিক দাদুভাই খোকনকে কোলে নিয়ে শুরু করেন গল্প। যে গল্পের দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই। প্রাণের বিনিময়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার এক অনন্য গল্প। বাঙালির ইতিহাসের এক হার না মানা গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের গল্প।

বাংলা মায়ের দামাল তরুণেরা

ধর্মের দ্বৈরথে ভাঙ্গলো ভারত। মুসলিম জাতিসত্তার ভিত্তিতে গড়ে উঠলো পাকিস্তান রাষ্ট্র। কিন্তু এক ধর্মের মানুষে এত বৈষম্য কেন? ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের প্রশ্নে দুই প্রান্তে আকাশ পাতাল ব্যবধান। পশ্চিম পাকিস্তানিদের অন্যায় শাসন মেনে নেওয়া যাচ্ছে না আর। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে উর্দু ভাষা।

মন ব্যথিত হয়ে ওঠে আবদুস সালামের। অভাবের সংসারে একটু সচ্ছলতা আনতে ঢাকায় এসেছেন তিনি। পড়ালেখার বড় শখ ছিল। অভাবের তাড়নায় মেট্রিক ফাইনালটা দেওয়া হলো না। শিক্ষার চেয়ে পেট বাঁচানো আগে জরুরী। এখন ছোটখাটো একটা চাকরিতে আয়েশ না হোক, পরিবারের খরচটা জুটে যায়। এই কদিন আগে গ্রাম থেকে ঘুরে এলেন। বিয়ের কথাবার্তা চলছে। মা নিজের হাতে পাত্রী পছন্দ করছেন। সামনের শীতে বিয়ে হবে। কাজের ফাঁকে সালামের বড় ভাল লাগে এসব ভাবতে।

মানিকগঞ্জের রফিক উদ্দিনের গল্পটা আবার অন্যরকম। জগন্নাথ কলেজে পড়ার পাশাপাশি বাবার সাথে প্রেসের ব্যবসা শুরু দিয়েছেন। অনেকের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে এই প্রেসে আদর্শলিপি ছাপান তিনি। প্রতিটা অক্ষর ছাপানোর সময় গভীর মমতায় ছুঁয়ে দেখেন। একদিন এই ভাষা ব্যবহারের উপর শাসকের বাধার কালো হাত থাকবে না। সে হাত ভেঙ্গে দিতে হবে। মায়ের ভাষার উপর কারো খবরদারি চলবে না। তাই তো ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় রফিক উদ্দিন।

ময়মনসিংহের আব্দুল জব্বারের পড়ালেখা একদমই আগায় নি। একদম ছেলেবেলায় ঘর পালিয়ে বার্মা পাড়ি জমান। এক যুগ পরবাসে কাটিয়ে দেশে ফিরেন তিনি। জীবনটাকে গুছিয়ে নিয়ে বিয়েটা করে সংসারী হলেন। একটা ফুটফুটে পুত্রসন্তান এলো ঘর আলো করে। এতটুকু পুতুলের মত একটা মানুষ! আব্দুল জব্বারের বুকটা মায়ায় ভরে যায় ছেলেকে কোলে নিয়ে। কিন্তু বাস্তবতা যে বড় কঠিন। শাশুড়ির চিকিৎসা করাতে ঢাকায় আসেন তিনি। ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করান। চার মাস বয়সী দুধের সন্তানের কথা ভেবে বুকে অনবরত রক্তক্ষরণ হয় তাঁর।

সদ্য তারুণ্যে পা দেওয়া  আবুল বরকত বরাবরই পড়ালেখায় ভাল। উচ্চ পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে পাড়ি জমালেন তিনি। ভর্তি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। অত্যন্ত মেধাবী বরকতকে আলোড়িত করলো ভাষা আন্দোলন।  ভাষার টান যে প্রাণের প্রতি স্পন্দনে।  আন্দোলন দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়লো সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, অফিস আদালতে এবং রাজপথের সবখানে। ছাত্র জনতার সাথে মিছিলে নেমে পড়লেন বরকত। ভাষার দাবী যে সবার আগে!

১০ মিনিট স্কুলের পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য আয়োজন করা হচ্ছে অনলাইন লাইভ ক্লাসের! তা-ও আবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে!

বায়ান্নর সেই উত্তাল দুপুর

সকাল এগারোটা থেকেই শিক্ষার্থীদের সমাবেশ শুরু। সমগ্র বাংলা আজ উত্তাল। ভাষার প্রশ্নে কোন ছাড় নয়। রক্ত ঢেলে দেবো রাজপথে, তবুও উর্দুকে মেনে নেবো না। মুসলিম লীগের নেতৃবৃন্দ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিক্ষকদের সাথে নিয়ে অনুরোধ করেন ছাত্রদের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করার জন্য। কিন্তু আজ তো থেমে যাবার দিন নয়। ঢাকার রাজপথ কেঁপে উঠেছে চেতনার উচ্ছ্বাসে। শত বছরের শোষণের জবাবে আজ জন্ম নিয়েছে সচেতনতার ধান। সমবেত ছাত্ররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সিদ্ধান্ত নিলেন ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার। বিপুল সংখ্যক জনতা এগিয়ে যাচ্ছেন দৃপ্ত পদক্ষেপে। তারুণ্যের উদ্দীপনায় উজ্জ্বল একেকটা মুখ। তাতে নেই কোন ভয়, দ্বিধা, সংকোচ। মৃত্যুর ভয় যার নেই তাকে ঠেকাবে সাধ্য কার? বিপ্লবের স্ফূরণ মিছিলের প্রাণে। সমুদ্রে মত গভীরতা আজ জনতার ঢলে।

তাঁর ছেলে আজ মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় শহীদ হলো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সন্নিকটে এগিয়ে যাচ্ছে মিছিল। শাসক গোষ্ঠী পেশিশক্তির নির্লজ্জ প্রদর্শনীর মহড়া বসালো। হিংস্র পশুর মত ঝাঁপিয়ে পড়লো পুলিশ অস্ত্র হাতে নিরীহ ছাত্রদের উপর। কিন্তু আজ তো প্রাণ দেবে বলেই মিছিলে নেমেছে জনতা। নির্লজ্জ দানবের মুহুর্মূহু গুলিবর্ষণে কেঁপে ওঠে রাজপথ।

ঢাকা মেডিকেলের হোস্টেল প্রাঙ্গনে অবস্থানরত রফিকউদ্দিনের মাথায় আঘাত করে একটি গুলি। সেই গুলিতে মাথার খুলি উড়ে যায় বীর তরুণ রফিকের। যে হৃদয়ের সবটুকু ভালবাসা দিয়ে আদর্শলিপি প্রকাশ করতেন গভীর মমতায় তাতে আজ নেই প্রাণের স্পন্দন।  মেডিকেলের বারান্দায় পড়ে থাকে বাংলার প্রথম ভাষা শহীদের নিথর দেহ।

মিছিলের অগ্রভাগে থাকা সালামের বুকে এসে বিঁধে পুলিশের গুলি। ভাষার দাবীতে স্লোগান দিতে থাকা সালাম লুটিয়ে পড়েন মাটিতে। তাজা রক্তে ভেসে যায় রাজপথ। সংসার আর করা হলো না জনমদুখী সালামের। ভাষার অধিকার রক্ষার মহৎ দাবীতে প্রাণ দিলেন তিনি।

জব্বার শাশুড়িকে হাসপাতালে রেখে ছাত্রদের সাথে নেমে এসেছিলেন মিছিলে। দানবের নিষ্ঠুর গুলি খুঁজে নেয় তাঁকে। গলগল রক্তে ভেসে যায় জব্বারের দেহ। চার মাসের শিশু সন্তানকে রেখে যেই হাসপাতালে শাশুড়ির চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন, সেই হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জব্বার।

ঘুরে আসুন: বিজয়ের গল্পের কতটুকু জানো তুমি?

মেধাবী ছাত্র আবুল বরকত “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই” বজ্রকণ্ঠের স্লোগানে মুখরিত করে রেখেছিলেন মিছিলের অগ্রপ্রান্ত। পুলিশের সাথে ছাত্র জনতার সংঘর্ষে একটি গুলি ছুটে আঘাত করে বরকতের তলপেটে। সুঠামদেহী উচ্ছ্বল বরকতের পরনের নীল হাফ শার্ট, খাকি প্যান্ট ভেসে যায় রক্তে। দু তিনজন ধরাধরি করে বরকতকে কাঁধে তুলে জরুরী বিভাগের দিকে দৌঁড়াতে থাকেন। ডাক্তাররা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন বরকতকে বাঁচাতে। কিন্তু কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। রক্তে ভেসে যাচ্ছে হাসপাতালের বিছানা। বহুকষ্টে বরকত একবার মুখ তুলে বলেন, “খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি বোধহয় বাঁচবো না ডাক্তার! আপনার কাছে অনুরোধ রইলো, মাকে পৌঁছে দেবেন আমার খবর। তাঁর ছেলে আজ মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় শহীদ হলো।” যে বরকত ঝড় তুলতেন মিছিল-মিটিঙে, যাঁর ডাকে জোয়ার উঠতো আন্দোলনে, তিনি আজ প্রাণহীন পড়ে রইলেন রক্তের সাগরে। সাতাশ বছরের টগবগে তরুণ বরকত শহীদ হলেন মাতৃভাষার আন্দোলনে।

আরেক দুঃসাহসী তরুণ শফিউর সাইকেলে করে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন। হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করা হয় তাঁকে। কিন্তু সে প্রচেষ্টা সফল হয়নি। শফিউরের মেয়ে শাহনাজের বয়স মাত্র তিন বছর। তিনি মৃত্যুশয্যায় আকুতি করেন ভাইয়ের কাছে, “আমার মেয়েকে দেখে রেখো তোমরা। আমার যে আর কখনো ফেরা হবে না তার কাছে!” শফিউরের মৃত্যুর তিন মাস পর জন্মগ্রহণ করে তাঁর ছেলে শফিকুর রহমান। বাবাকে কোনদিন দেখা হয়নি তার। কিন্তু যে ভাষার জন্য প্রাণ দিলেন বাবা, সেই ভাষায় চিরদিন গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হবে তাঁর নাম।

এই নির্মম আগ্রাসনের শিকার কেবল ছাত্রজনতাই হয়নি। সেদিন ঢাকার রাজপথ অহিউল্লাহ নামের এক নয় বছরের শিশুর রক্তেও রঞ্জিত হয়েছিল। রাজমিস্ত্রীর সন্তান নাবালক অহিউল্লাহর নবাবপুর রোডের সামনে মাথায় গুলি লাগে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে এই ক্ষুদে বিপ্লবী। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে অমর হয়ে রইলো এক দুঃসাহসী শিশুর নাম। রক্ত ও ভালবাসার বিনিময়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার যে অনন্য ইতিহাস তাতো কোনদিন ম্লান হবার নয়।

এবার বাংলা শেখা হবে আনন্দের!

আমাদের প্রতিটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাংলা ভাষা চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম!

তাই আর দেরি না করে, আজই ঘুরে এস ১০ মিনিট স্কুলের এক্সক্লুসিভ বাংলা প্লে-লিস্টটি থেকে!

১০ মিনিট স্কুলের বাংলা ভিডিও সিরিজ

একুশের রাঙা প্রভাত

রাত পেরিয়ে ভোর হয়নি এখনো। ক্যালেন্ডারের পাতায় তারিখ একুশে ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাঙালির ইতিহাসের এক অসম্ভব গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। আবছা অন্ধকারে খোকন এসে দাঁড়ায় বারান্দায়। শ্বাস নেয় বুকভরে ভোরের নির্মল বাতাসে। দূর থেকে ভেসে আসছে একুশের গান। খোকনের মনে ভিড় করে নানা স্মৃতি। অনেক বছর পেরিয়ে গেছে। দাদুভাই আর নেই পৃথিবীতে। স্বাধীন বাংলার মাটিতে পরম তৃপ্তিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। আজ খোকনেরই আছে দুটি ফুটফুটে সন্তান। তাদের কোলে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে সে প্রভাতফেরিতে। ভোরের মৃদু হিমেল হাওয়ায় ঝরাপাতা সরে যায় রাস্তা থেকে। তার মাঝে উদোম পায়ে নেমে এসেছে অজস্র মানুষ। দলে দলে এগিয়ে যায় তারা শহীদ মিনারের পথে, ভাষা শহীদদের স্মরণে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসায়।

কি অসম্ভব সুন্দর একটি দিন আজ! যেই রাজপথে বায়ান্নয় বাংলার দামাল ছেলেরা রক্ত দিলো, প্রাণ দিলো, আজ সেখানে কী ভীষণ সুন্দর মুক্তির আবাহন! এই যে স্বাধীন দেশের রাজপথে স্বাধীন কণ্ঠে গেয়ে যাই বাংলার গান- এ অনুভূতির কি তুলনা হয় আর কিছুর সাথে? ঐ যে পূর্ব আকাশে আঁধার কেটে রক্তলাল একটা সূর্য উঠেছে, খোকন তার দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। দিগন্তের ঐ লাল আবীরে মিশে আছে অগণিত ভাষা শহীদের রক্ত। তাঁরা পরম মমতায় চেয়ে দেখছেন আজ জনতার মিছিল। মায়ের ভাষার টানে যখন মানুষ নেমে আসে রাজপথে, তাঁরা কি চুপচাপ বসে থাকতে পারেন? তাঁরাও নেমে আসেন মিছিলে। রক্ত ও ভালবাসার দামে কেনা মাতৃভাষার জন্য ভালবাসার মিছিলে।

বাতাসে ভেসে আসছে সুমধুর কণ্ঠে সংগীত, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি…’

খোকন তার বাচ্চাদের কোলে নিয়ে তাল মিলায় গানের সঙ্গে। গাইতে গিয়ে অনুভব করে তার গলার ভেতর দলা পাকিয়ে হু হু করে কান্না আসছে।

“বাবা তোমার চোখে পানি কেন?”

বাচ্চারা অবাক হয়ে প্রশ্ন করে অবোধ বিস্ময়ে। খোকন আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ওদের বুকের সাথে। গভীর শ্রদ্ধায় শহীদ মিনারে অর্পণ করে পুষ্পস্তবক। স্তবক রাখার সময় গাল বেয়ে এক ফোঁটা অশ্রু ঝরে পড়ে ফুলের উপর। একুশের প্রথম প্রভাতের সূর্যের আলোয় চিকচিক করে ওঠে সে অশ্রুকণা।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author

Tashfikal Sami

Tashfikal Sami is a diehard wrestling & horror movie fan. Passionately loves bodybuilding, writing, drawing cartoons & a wannabe horror film director. He's currently studying at the Institute of Business Administration (IBA), University of Dhaka.
Tashfikal Sami
এই লেখকের অন্যন্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?