এবার ফেসবুকে সময় নষ্ট হবে আরো কম

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

আজকের ডিজিটাল যুগের ডিজিটালাইজেশনের অংশ হবার প্রথম শর্তই হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোর অংশ হওয়া। কিন্তু আমাদের এই প্রজন্মের একটা বড় সমস্যা হচ্ছে, আমরা ভার্চুয়াল জীবনে এত বেশি সময় নষ্ট করি যার ফলে পিছিয়ে পড়ে আমাদের বাস্তব জীবন। অনেকে হয়ত মাঝে মাঝে “ধুর! কাল থেকে আর ফেসবুকে যাচ্ছি না।” এই ধরণের সংকল্প করলেও, সেই ‘কাল’টা আর আসে না। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে ফেসবুকের মত বৃহদাকারের সামাজিক যোগাযোগের সাইট থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা হয়তবা সম্ভব নয়। একারণেই এখন আপনাকে কিছু বুদ্ধি দিব যাতে করে আপনি ফেসবুক ব্যবহারের সময়টাকে ফেসবুকে থেকেই আলাদা করে কাজে লাগাতে পারেন।

বিভিন্ন ধরণের শিক্ষামূলক গ্রুপ/পেইজে জয়েন করে।

ফেসবুকে এখন অনেক ধরণের শিক্ষামূলক গ্রুপ কিংবা পেইজ রয়েছে, যেমন ধরুন 10 Minute School LIVE!। এছাড়াও আপনি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা যেই শ্রেণীই অধ্যায়নরত থাকেননা কেন, প্রত্যেক শ্রেণীর জন্যই প্রচুর গ্রুপ রয়েছে যেখানে সারাদিন বিভিন্ন বিষয়ের সমস্যা সমাধান, নৈর্বেত্তিক পরীক্ষা ইত্যাদি চলতেই থাকে। তাই এসব গ্রুপে জয়েন করা থাকলে আপনার ‘নিউজফিড’-এ সারাদিন এখানকার পোস্টগুলো আসতে থাকবে এবং আপনি ফেসবুকিং করতে করতেই শিখে যাবেন অনেক কিছু, পেয়ে যাবেন অনেক রকম সমস্যার সমাধান।

কোনো সমস্যায় আটকে আছো? প্রশ্ন করার মত কাউকে খুঁজে পাচ্ছ না? যেকোনো প্রশ্নের উত্তর পেতে চলে যাও ১০ মিনিট স্কুল লাইভ গ্রুপটিতে!

২। নিজের শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিয়ে গ্রুপ খুলে।

একটা শ্রেণীতে বিভিন্ন ধরণের মেধার অধিকারী শিক্ষার্থী থাকে, আমরা যতটুকু সময় প্রতিষ্ঠানে কাটাই, তাতে সবার সাথে যোগাযোগ করাটা আমাদের জন্যে যেমন সহজ হয় না তেমন সহজ হয় না শিক্ষকদের জন্যও। এ কারণেই, নিজেদের শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য ফেসবুকে যদি আলাদা করে একটা গ্রুপ খোলা যায়, তবে সেখানে বিভিন্ন নোট, সাজেশন ইত্যাদি একজনের থেকে সবাই পেতে পারে। আবার একটু মেধাবী যারা, তারা ঐ গ্রুপের মাধ্যমে কম মেধাবী শিক্ষার্থীটাকে বিভিন্ন পড়া বুঝিয়ে দিতে পারে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নোটিশও সেই গ্রুপের মাধ্যমে সবাই জানতে পারে।

৩। অন্যান্য ভাষাভাষীদের সাথে বন্ধুত্ব করে।

ফেসবুকে স্বদেশী মানুষদের সাথে সাথে ভিনদেশী, বিশেষ করে ইংরেজী ভাষাভাষীদের সাথে যোগাযোগ রাখুন। এতে করে আপনার তাদের সাথে কথা বলতে গেলে ইংরেজী ভাষার চর্চা হবার পাশাপাশি টুকটাক অন্যান্য ভাষাও শেখা হবে। হ্যাঁ আমি জানি যে, এই পয়েন্টটা পড়ে আপনার একটু হাসি পাচ্ছে। কিন্তু মনে রাখবেন, যেকোনো ভাষা আয়ত্তে আনার জন্য ‘ইনফর্মাল পদ্ধতি’ই কিন্তু সেরা! আর এই টুকটাক ভাষা শেখা কিন্তু অনেক জায়গায় আপনার অনেক উপকারে আসবে।

ঘুরে আসুন: লেখাপড়ার মাঝেও বিনোদন? কি করে সম্ভব?

৪। বাংলার পাশাপাশি ইংরেজীতে স্ট্যাটাস দিয়ে এবং চ্যাট করে।

আপনার স্ট্যাটাসটা আপনি বাংলার পরিবর্তে ইংরেজীতে দিলে এবং চ্যাট করতে গিয়ে ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করলে কিন্তু আপনার ইংরেজী অনেকটা শুধরে যাবে। এর পাশাপাশি, ফেসবুকে কিছু ‘গ্রামার নাৎসি’ রয়েছে যাদের কাজই হচ্ছে আপনার ইংরেজী স্ট্যাটাসের ভুল ধরা। আপাতদৃষ্টিতে এদের যতই বিরক্তিকর লাগুকনা কেন, পরোক্ষভাবে এরাও কিন্তু আপনার স্কিল ডেভেলপমেন্টের কাজটা করে যাচ্ছে। এবং ইংরেজী ব্যবহারের সময় অবশ্যই শর্টফর্ম পরিত্যাগ করে যথাসম্ভব ফর্মাল হবার চেষ্টা করবেন। নাহলে কিন্তু আমার এক বান্ধবীর মত, পরীক্ষার খাতায় ‘Going to’  এর জায়গায় ‘Gonna’ লিখে দিয়ে আসবেন এবং শিক্ষক সুন্দর করে কেটে দিয়ে পাশে লিখে দিবে “এসব কি?!”

যেকোনো অভ্যাস বদলানোর জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিষটা হচ্ছে আপনার ইচ্ছাশক্তি

… এই ছিল ফেসবুককে আপনি কীভাবে স্কিল ডেভেলপমেন্টের কাজে ব্যবহার করতে পারেন তার পদ্ধতি। এরপরও যদি আপনার মনে হয় যে, “নাহ! ফেসবুক অনেক সময় নষ্ট করছে, এবার একে ছেড়ে দেয়া উচিৎ” তবে আমি বলব যে, বিংশ শতাব্দীতে এসে ফেসবুক ব্যবহার ছেড়ে দেয়া মানে হচ্ছে সুবিশাল এক নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। তাই, এর ব্যবহার পুরোপুরি বাদ না দিয়ে বরং কমিয়ে আনুন। আর যেহেতু এর ব্যবহার চাইলেই কমানো যায়না তাই আপনাকে এখন কিছু পদ্ধতি বলব যা আপনাকে ফেসবুক থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করবে।

মজায় মজায় ইংরেজি শিখ!

তোমার স্বপ্নের পথে পা বাড়ানোর ক্ষেত্রে তোমার ইংরেজির জ্ঞান কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে!

তাই আর দেরি না করে, আজই ঘুরে এস ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লে-লিস্টটি থেকে!

১০ মিনিট স্কুলের ইংরেজি ভিডিও সিরিজ

১। পিসি কিংবা সেলফোনের ওয়ালপেপারে নিজের ‘গোল’ এর ছবি রাখুন।

মনে করুন, আপনার লক্ষ্য হচ্ছে ঢাবির এফবিএসে ভর্তি হওয়া। তাহলে আপনি ওয়ালপেপারে এফবিএসের সুন্দর একটা ছবি দিয়ে রাখুন। এতে করে আপনি যতবার সেলফোন/পিসি অন করবেন ততবার আপনার সেই লক্ষ্য অর্জনের কথা মনে পড়ে যাবে এবং আপনি নিজে থেকেই ফেসবুক ব্যবহার করা কমিয়ে দিবেন।

২। ফোনের চার্জ ৫০% এর নিচে রাখুন।

ফোনে যদি চার্জই না থাকে তাহলে অনেক সময় নিয়ে ফেসবুক ব্যবহার করবেন কীভাবে? তাই ফোনে ঠিক ততটুকু পরিমাণ চার্জ দিন যতটুকু দিলে আপনি শুধুমাত্র আপনার জরুরী কাজগুলোই করতে পারবেন।

৩। ফেসবুকে অতিরিক্ত এবং অযথা পোস্ট দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

আপনি ফেসবুকে যত বেশি পোস্ট দিবেন, আপনার নোটিফিকেশনও তত বেশি আসবে। এভাবে আপনার সময়টাও বেশি অপচয় হবে। তাই সময় বাঁচাতে হলে পোস্টের পরিমাণ সীমিত রাখুন।

ঘুরে আসুন:  ছুটির দিনে শিখে ফেলো এই ৫টি জিনিস!

৪। বিভিন্ন ধরণের গেইম খেলা বন্ধ করুন।

ফেসবুক গেইম গুলো একরকমের নেশার সৃষ্টি করে। একবার গেইম খেলা শুরু করলে, সেগুলোর টানেই আপনাকে বারবার ফেসবুকে লগ-ইন করতে হবে। তাই সময় অপচয় না করতে চাইলে এসব গেইম খেলা থেকে বিরত থাকুন।

কথায় বলে, MUN is fun! আসলেই কি তাই? নিজেই দেখে নাও এই প্লে-লিস্ট থেকে।

৫। অতিরিক্ত গ্রুপগুলো থেকে লিভ করুন।

একেবারেই প্রয়োজনীয় গ্রুপগুলো বাদে বাকি গ্রুপ গুলোতে না থাকাই ভাল কেননা হরেক রকমের গ্রপ থেকে হরেক রকমের পোস্টে যখন আপনার নিউজফিড ভাসবে, তখন আপনি না চাইলেও ফেসবুকের পিছে আপনার অনেকটা সময় ব্যয় হয়ে যাবে।

…সবশেষে বলব যে, যেকোনো অভ্যাস বদলানোর জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিষটা হচ্ছে আপনার ইচ্ছাশক্তি। যতদিন না আপনি নিজে থেকে দৃঢ়ভাবে ঠিক করে নিচ্ছেন যে কাল থেকে ফেসবুকে অযথা সময় অপচয় বন্ধ করব না, ততদিন আপনাকে কেউ সাহায্য করতে পারবে না।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?