নায়াগ্রা জলপ্রপাত-এক অপার বিস্ময়ের নাম

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

পৃথিবীতে এমন অনেক কিছু আছে, যা দেখে আমাদের মনে বিস্ময় জাগে। নায়াগ্রা জলপ্রপাত এদের মধ্যে অন্যতম। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত এটিবাংলাদেশ থেকে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নায়াগ্রা জলপ্রপাত প্রকৃতির এক মহাবিস্ময়। এই জলপ্রপাতের নাম শোনেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ভ্রমণ পিপাসু সকল প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের কাছে নায়াগ্রা জলপ্রপাতটি একটি রোমাঞ্চকর স্থান।

এখানে গেলে যে কারো মনে হতে পারে এই বুঝি আকাশ ভেঙ্গে জগতের সব বৃষ্টি দানব আকার ধারন করে সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ছে। স্ট্যাচু অব লিবার্টি যেমন আজ  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিতির চিহ্ন, ঠিক তেমনি ২৮ অক্টোবর ১৮৮৬ সালের আগে নায়াগ্রাই ছিল এখানকার প্রধান আকর্ষণ। নায়াগ্রা জলপ্রপাত নিয়ে কিছু মজার আর বিস্ময়কর তথ্য নিয়েই সাজানো হয়েছে আজকের লেখাটি।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

নায়াগ্রা জলপ্রপাত কোথায় অবস্থিত?

নায়াগ্রা জলপ্রপাতটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক এবং কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের মধ্যবর্তী আন্তর্জাতিক সীমানার ওপর অবস্থিত। জলপ্রপাতটি বিমান, সড়ক ও রেল পরিবহন মাধ্যম দ্বারা সু-সংযুক্ত হওয়ায় এই জলপ্রপাতে পৌঁছানো খুবই সহজ। এর নিকটবর্তী বিমানবন্দরগুলি হল- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাফেলোয় অবস্থিত বাফেলো নায়াগ্রা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কানাডার ওন্টারিওতে অবস্থিত লেস্টার বি. পিয়ারসন্ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। কানাডার, ওন্টারিও-তে অবস্থিত নায়াগ্রা জলপ্রপাতটি টরন্টো থেকে ১২৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

নায়াগ্রার উৎপত্তি:

Onguiaahra শব্দ থেকে নায়াগ্রা কথাটির উৎপত্তি যার অর্থ জলরাশির বজ্রধ্বনি। অনুমান করা হয়, আজ থেকে প্রায় দশ হাজার নয়শ বছর আগে এই জলপ্রপাতকে প্রথম চিহ্নিত করা হয়েছিল।

দেশীয় আমেরিকাবাসীরা সম্ভবত এই জলপ্রপাত দর্শনকারী প্রথম মানুষ ছিলেন। যদিও এই জলপ্রপাতটির সম্পর্কে লিখিত আকারে উল্লেখিত প্রথম ইউরোপীয় ব্যাক্তিটি ছিলেন ফাদার ল্যুইস হেনেপিন। এই ফরাসি যাজক তাঁর আ নিউ ডিসকভারি নামক পুস্তকে এটির বর্ণনা করেছিলেন।

উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী জলপ্রপাত এটি। নায়াগ্রা জলপ্রপাতের তিন ভাগের এক ভাগ আমেরিকায়। এর নাম আমেরিকান ফলস। বাকি দুই ভাগ কানাডায়। যার নাম কানাডিয়ান ফলস। এটার আকার অনেকটা ঘোড়ার খুরের মতো বাঁকা। জলপ্রপাতটি মূলত তিনটি জলপ্রপাতের সমষ্টি। সবচেয়ে বড় জলপ্রপাতটির নাম হলো হর্সশু ফলস বা কানাডা ফলস। এটি প্রায় ১৬৭ ফুট উঁচু থেকে ২৬০০ ফুট চওড়া পানির স্রোত নিয়ে নিচে আছড়ে পড়ে। বলা হয় নায়াগ্রা জলপ্রপাতের প্রায় ৯০ ভাগ পানি এই ফলস দিয়েই পতিত হয়। এর পরের ফলসটির নাম আমেরিকান ফলস। এটি প্রায় ৭০ ফুট উঁচু এবং ১৬০০ ফুট চওড়া। অন্যটির নাম ব্রাইডল ভেইল ফলস।

এখন শেখা হবে ঘরে বসে, নিজে নিজে!

জীবনে চলার ক্ষেত্রে ইংরেজি শেখার গুরুত্ব অপরিসীম সেটা তুমি ভালো করেই জানো। কিন্তু এই শেখার শুরু কিভাবে করা উচিত কিংবা শেখার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় কোনটি হবে সেটা নিয়ে কি তুমি সন্দিহান?

ঘুরে এস আমাদের English Language Club থেকে। কথা দিচ্ছি, নিরাশ হবে না! 😀

English Language Club!

নায়াগ্রা ইতিহাস:

নায়াগ্রা জলপ্রপাতের উৎপত্তির ইতিহাসটা বেশ মজার। নায়াগ্রা নদীটি প্রায় ১২০০ বছরের পুরনো। এরও আগে ১৮০০ বছর পূর্বে ওন্টারিওর দক্ষিণে প্রায় ২ থেকে ৩ কিলোমিটার বরফে ঢাকা ছিল। সময়ের সাথে সাথে আর নিয়মিত গ্রীষ্মমন্ডলীয় পরিবর্তনের ফলে গলতে শুরু করে বরফ। আর গ্রেট লেকস বেসিনে প্রচুর পানি জমতে থাকে এবং লেক ইরি, নায়াগ্রা নদী আর লেক ওন্টারিও থেকে আসা পানি মিলে এই বিশাল জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়।

নায়াগ্রা উদ্যানে অবাক কাণ্ড:

জলপ্রপাতের দিকে তাকালে একদিকে যেমন ভয়ে আপনার বুক কেঁপে উঠে তেমনি কিছুতেই এর মোহময় আকর্ষণকে আপনি উপেক্ষা করতে পারবেন না। এই আকর্ষণই অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষকে টেনে আনে নায়াগ্রাকে ছুঁয়ে দেখার কিংবা তার উপর হেঁটে যাওয়ার এক অদম্য বাসনাকে। ১৮২৯ সালের অক্টোবরের দিকে স্যামপেচ নামের এক দুঃসাহসী অভিযাত্রী ঝাঁপ দিয়েছিলেন নায়াগ্রায়। অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় এই যে, ঝাঁপ দেয়ার পরও এই ভদ্রলোক কিন্তু বেঁচে গিয়েছিলেন।

স্যামের এই অদ্ভুত কাণ্ড আরও অনেক মানুষকে দু:সাহসী করে তোলে। কেউ দড়ির উপর দিয়ে হেঁটে ভয়ংকর এই জলপ্রপাত পার হয়েছেন, কেউ নিজেদের একটা ব্যারেলে ভরে নিয়ে ভেসে গিয়েছেন জলপ্রপাতের উত্তাল জলস্রোতের মধ্যে, ব্যারেলসুদ্ধ আছড়ে পড়েছেন ১৬৭ ফিট উচ্চতা থেকে। এদের নাম দেওয়া হয়েছিল ফাঁনামবুলিস্ট

১৮৫৯ থেকে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত এরকম উপায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় নায়াগ্রা পার হওয়া একটা নেশায় পরিণত হয়েছিল। মার্কিন গৃহযুদ্ধের কয়েকটা বছর পর এই খেলা বন্ধ হয়ে যায়।

পর্যটকদের কাছে এটি এক ভয়ংকর সুন্দর জলপ্রপাত

শক্তির এক অন্যতম উৎস: 

শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, নায়াগ্রার পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। প্রতিদিন  প্রতি মিনিটে নায়াগ্রা জলপ্রপাত 60 লক্ষ ঘনফুট মাত্রাধিক জল প্রবাহিত করে। যার গড় পরিমাণ হল 40 লক্ষ ঘনফুট। নায়াগ্রা সমগ্র নিউইয়র্ক ও ওন্টারিও-র জলবিদ্যুৎ শক্তির এক অন্যতম প্রধান উৎস। অন্যান্য জলপ্রপাতগুলোর চেয়ে নায়াগ্রার স্রোত ঢের বেশি। নায়াগ্রা জলপ্রপাতের এই স্রোতকে কাজে লাগিয়ে প্রতি বছর ব্যাপক পরিমাণে তড়িৎ শক্তিও উৎপাদন করা হয়।  

নায়াগ্রা জলপ্রপাতে স্রোতের শব্দ এতটাই তীব্র যে, অন্য কোনো শব্দ, স্রোতের শব্দের কারণে কানে পৌঁছায় না।

অপার সৌন্দর্যের উৎস:

আমেরিকাতে জলপ্রপাতটি পিছন থেকে দেখতে হয়। কানাডাতে সরাসরি সামনে থেকে দেখা যায় ফলে সম্পূর্ণ জলপ্রপাত ভালোমত দেখা যায়।
রঙধনু দেখতে আকাশের দিকে তাকাতে হয় না এখানে। মুগ্ধ পর্যটকদের দৃষ্টির খুব কাছেই জলপ্রপাতের জলরাশিতেই রঙধনু যেন নিজেই এসে ধরা দেয়।

কখন জলপ্রপাতটি জমে বরফে পরিণত হয়েছিল?

পোলার ভার্টেক্স বা মেরুপ্রবণ ঘূর্ণাবর্তের দরুণ, ২০১৪ সালে নায়াগ্রা জলপ্রপাতটি আংশিকভাবে হিমায়িত হয়ে নিথর হয়ে গিয়েছিল। এছাড়া ১৮৪৮ সালের মার্চ মাসে বরফের কারণে নায়াগ্রা জলপ্রপাত বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো এবং ৪০ ঘণ্টা পর্যন্ত কোনো পানি পড়েনি।  ফলে জলবিদ্যুৎ কারখানার চাকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো, বিদ্যুতের অভাবে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো।

রাজধানীর নাম জানাটা সাধারণ জ্ঞানের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ১০ মিনিট স্কুলের এই মজার কুইজটির মধ্যমে যাচাই করে নাও নিজেকে!

বিশ্বখ্যাত পর্যটন এলাকা:

আমেরিকায় নায়াগ্রা জলপ্রপাত বিখ্যাত এক পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটকদের কাছে এটি এক ভয়ংকর সুন্দর জলপ্রপাত। মূলত, অষ্টাদশ শতক থেকে এটি পর্যটন এলাকা হিসেবে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়তা পায়। এখানে প্রতি বছরে প্রায় ৩০ মিলিয়ন পর্যটক আসেন। এই মনোরম ও প্রাণবন্ত জলপ্রপাতটি পরিদর্শনের সেরা সময় হল বসন্ত ও গ্রীষ্মকাল।

জলপ্রপাতের পাশাপাশি পর্যটকেরা ঘুরে আসতে পারবে প্রজাপতি ভাণ্ডারে, যেখানে আছে দুই হাজারেরও বেশি প্রজাতির প্রজাপতি। পর্যটকেরা আরো যেতে পারেন নায়াগ্রার আ্যকোয়ারিয়াম, নায়াগ্রা সায়েন্স মিউজিয়াম, ওয়ার্লপুল স্টেট পার্ক, ডেভিলস হোল স্টেট পার্ক, নায়াগ্রা আ্যডভেঞ্চার থিয়েটার এবং হাইড্ পার্ক।

নায়াগ্রা জলপ্রপাত প্রকৃতির এক অপার সৃষ্টি। ১৬৭ ফুট উঁচু এই জলপ্রপাত থেকে প্রতি সেকেন্ডে ৬৪ হাজার ৭৫০ ঘনফুট পানি নদীতে আছড়ে পড়ে। মেড অব দ্য মিস্ট নামের বোটটি জলপ্রপাতের পাড়ে সর্বদা অপেক্ষমান থাকে পর্যটকদের নায়াগ্রার অপার সৌন্দর্যের আরো সান্যিধ্যে নিয়ে যাবার জন্য। এখানে জলপ্রপাতের পানি পতনের কলকল গর্জন কানে মধুর সংগীতের মতো বাজে। সব মিলিয়ে জলপ্রপাতটি বিস্ময় আর রোমাঞ্চের এক অপরূপ সৌন্দর্যের সম্ভার।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?