লেখক লেখেন গল্প, লেখকের গল্প লেখেন কে?

বিবিধ [Fetching...]

ত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত চরিত্র ‘তারিণী খুড়ো’ আমাদের সকলেরই চেনা। ন্যাপলা ও তার সাঙ্গপাঙ্গ যখন খুড়োর কাছে গল্প শোনার জন্য জড়ো হয়, তখন তারিণী খুড়ো তাঁর উত্তরে একটা কথা বলেন যা আমি আমার লেখালেখির অভ্যেসে রপ্ত করে নিই।

স্বভাবত তারিণীর গল্পে, যাকে বলে exaggeration এতই বেশি থাকে, যে একবার ন্যাপলা হঠাৎ বলে উঠে, ‘আচ্ছা তারিনী খুড়ো, তুমি আমাদের যেসকল গল্প শোনাও তা কি সর্বৈব সত্যি?’ তারিণী খুড়ো তখন দুধ-চিনি ছাড়া চায়ের কাপ মুখ থেকে সরিয়ে বললেন, ‘দ্যাখো, গল্প আদতে একটা শ্রুতিবিদ্যা। তার উপরে গল্প বলাও একটা আর্ট। আর্টের খাতিরে অনেক সময় সত্য ঘটনা exaggerate করে বলতে কোনো পাপ নেই।’

– এই চরিত্র আর কেউই নন, আমাদেরই সত্যজিৎ রায়ের একটি সত্তা। শুধু তাই নয়, যেকোনো লেখকের আকাঙ্ক্ষার মানুষই অনেকসময় হয়ে ওঠে তার চরিত্র, আর না-হতে-চাওয়া মানুষই হয়ে ওঠে ওই আখ্যানের খলনায়ক। কিন্তু চরিত্রগুলো ভাঙলে তলায় যা থেকে যায়, তা দৈবকলম হাতে একজন লেখক মাত্র।
আখ্যান বা গল্প উপন্যাস হয়ে ওঠে। ফলে ব্যাকস্টেজে কর্মরত মানুষটি নিয়ে আমাদের মাথাব্যাথা স্বভাবতই কম। কিন্তু কী হবে, যদি বলি আদতে এই লেখকের জীবনটা সবসময় তার গল্প থেকেও বেশি ট্রেইঞ্জ? চলুন, কিছু ঘটনা বলি
:

শিবরাম চক্রবর্তী

Image result for shibram chakraborty

(১) ইন্টারভিউয়ার: আপনি লেখালেখি করেন কখন?
শিবরাম চক্রবর্তী
: সকালে ঘুম থেকে উঠি। ঘুম তো একটা বড় পরিশ্রমসাধ্য কাজ। তাই প্রচন্ড ক্লান্ত লাগে। তাই আবার ঘণ্টা-দুই ঘুমাই।
– তারপর? শেষমেশ উঠেন কখন?
– ওই বেলা এগারোটা-বারোটা বেজে যায়।
– তারপর?
– তারপর মুখ ধুই, কাগজ উলটে-পালটে দেখি, চা খাই, স্নান সেরে নিই। এই করতে করতে খাওয়ার সময় হয়ে যায়। খাওয়া-দাওয়া করি। আর দুপুরের খাওয়া-দাওয়ার পর একটু ঘুমাতে হয়। ঘুমাই।

ঘুরে আসুন: গণিত নিয়ে ভাবনা? আর না!

– তারপর?
– ঘুম থেকে উঠতেই তো বিকেল হয়ে যায়। একটু চা-টা খাই। তারপর বাইরে হাঁটতে বের হই। আর হাঁটতে বের হওয়া মানেই তো রাবড়ি! আমার জীবনের প্রথম প্রেম। শেষ প্রেম। শোনো, রাবড়ি হচ্ছে পৃথিবীর পরমাশ্চর্য। দিনে একবার রাবড়ি না খেলে কি চলে! সুতরাং রাবড়ির দোকানে যাই। খাওয়া হলে মুখটা পরিষ্কার করতে পানির বদলে রাবড়ি ব্যবহার করি। আরেকটা পার্থক্য আছে। তোমারা পানি দিয়ে মুখ সাফ করে তা ফেলে দাও। আর আমি কুলি করে রাবড়ি গিলে ফেলি। তা… এইভাবে বিকেল শেষ। সন্ধ্যায় একটু বইটই দেখি। সাহিত্যিক মানুষ। বোঝোই! সাধনার ব্যাপার আছে। এই করতে করতে রাত গড়িয়ে যায়। তখন বাসায় ফিরে হালকা কিছু খেয়ে-দেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। হা-হা!
– মানে! তবে লিখেন কখন?
– কেন, পরের দিন!

১০ মিনিট স্কুলের পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য আয়োজন করা হচ্ছে অনলাইন লাইভ ক্লাসের! তা-ও আবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে!

(২) তখন ভারত স্বাধীন হয়েছে খুব বেশিদিন হয়নি। শিবরাম তখন প্রাথমিক স্কুলের ছাত্র। ক্লাসে খুব একটা মনোযোগী ছিলেন না। হবেন কী করে? যে মানুষ জীবনের চক্রকেই ঠাট্টার রূপে দেখেন, তাঁর আবার সিরিয়াসনেস কীসের? একদিন ক্লাসে শিক্ষক রচনা লিখতে বললেন ‘আমি বড় হয়ে যা হতে চাই’ বিষয়ে। যথারীতি মধ্যবিত্তের ভাল সন্তানের মতো একজন বলল সে ডাক্তার হতে চায়। কেউ হতে চায় ইঞ্জিনিয়ার। কেউ বা উকিল। শিবরাম লিখেছে যে বিপ্লবী হতে চায়। এ নিয়ে শিক্ষকের আশ্চর্যের শেষ ছিল না। যদিও এ নিয়ে তিনি কিছু বললেন না। ক্লাস শেষে ওই ক্লাসের কিছু ছেলে শিবরামকে এক কোণায় নিয়ে গিয়ে বলল, ‘বিপ্লবী হতে চাস?’ শিবরামের জবাব এলো, ‘জীবনে এক রাবড়ি ছাড়া আছেই বা কী! হ্যাঁ, চাই!’

এ কথা শুনে খুদে বিপ্লবীর দল তো মহাখুশি। তারপর এই তো কয়েকদিন পরের কথা। স্কুলের কী-একটা অনুষ্ঠানে এক ইংরেজ সাহেবকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত করা হল। বাঘের গুহায় পদার্পণ করলে যা হয় আর কি! বিপ্লবীর দল কোথা থেকে এক পিস্তল সংগ্রহ করে শিবরামের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল, ‘ওই যে! ওই সাহেবকে দেখছিস? ওকে মারতে হবে। তারপর যাতে… ঐ তদন্ত-টদন্ত না হয়, সেজন্য তাকে গুলি করে নিজেকে গুলি করবি। কেমন?’
– আচ্ছা।
অনুষ্ঠান ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। দর্শকদের মাঝেই পকেটে পিস্তল নিয়ে বসে আছেন কিশোর শিবরাম। যখন প্রধান অতিথি, মানে ওই ইংরেজ লোক মঞ্চে উঠে গেছেন, শিবরামও পকেট থেকে পিস্তলটা বের করবেন-করবেন বলে, ঠিক সেই সময় মঞ্চের উপস্থাপক মাইকে বলে উঠল, ‘শিবরাম চক্রবর্তী, মঞ্চে চলে আসো!’ কেন? গান গাইতে হবে। এবার শিবরামের আফসোস আর দেখে কে? আফসোস করে তিনি বলতে লাগলেন, ‘ভাগ্যের এই পরিহাস! তাই বলে gun না ধরে শেষমেষ গানই ধরতে হল!’

(৩) আগেই বলেছি। শিবরাম কোনোদিনই অর্থের পাগল ছিলেন না। একপ্রকার বৈরাগে, ঠাট্টা-মজা করে গোটা জীবন কাটিয়ে পৃথিবী ত্যাগ করেছেন। তিনরামবাবুর মেসে হালকা-পাতলা, ভালমন্দ খেয়ে দিন কাটাতেন। ঘরের গঠনটা বেশ! মেসের এই ঘরে আসবাবপত্র বলতে কিচ্ছু নেই। আছে একটা তক্তপোশ; আর দেয়ালে কিছু ফোন নম্বর, আর নিজের রচনার অল্প কিছু অংশ। দেয়ালে লিখা কেন ভাবছেন? আরে! বড়ই শিবরামীয় একটা ব্যাপার! কাগজ চুরি গেলে যাবে। দেয়ালটা নিবে কে বলুন!

যা হবার তাই হল। কলকাতায় তখন চোর-ডাকাতির বড় বাড়াবাড়ি। হঠাৎ কোনো একদিন সত্যি সত্যিই শিবরামের অনুপস্থিতিতে তাঁর মেসের ঘরে চোর ঢুকে পড়ল। কাপড়-চোপড়, তক্তপোশ ঘেটে ফুটো পয়সাও জোগাড় করতে পারল না চোর। কাজেই সে ফিরে চলে গেছে। ঘরে ফিরে শিবরাম ভ্রু কুঁচকে দেখেন তাঁর কাপড় এলোমেলো করা, তক্তপোশও তাই। তবে একটা কড়কড়া দশ টাকার নোট, আর সাথে একটা চিঠি দেখতে পেলেন শিবরামবাবু। ওতে লেখা-
‘কেমন মানুষ গো তুমি, দাদা? তোমার অবস্থা দেখি আমার চেয়েও খারাপ। মায়া লেগে গেল। কাজেই দশটা টাকা রেখে গেলুম। একটা চাকরি খুঁজে নাও গে। এভাবে আর কয়দিন?’

চিঠি রেখে ওই দশ টাকার নোট নিয়ে তিনরামবাবুর দোকানে রাবড়ি খেতে চলে গেলেন শিবরাম। তারপর খেয়ে এসে দৈব ঢেকুর তুলতে তুলতে মেঝেতে পড়া একটা কাগজে লিখতে লাগলেন,

‘ওহে মমতাময় চোর,
এখানে দেবতার রূপে তোমার মতো শত চোর জন্ম নিলেও দেশটা ‘স্বর্ণরূপ ধারণ করিবে’! তোমার টাকা দিয়ে বেশ আয়েশ করে তিনরামবাবুর রাবড়ি খেয়ে আসলুম। তোমায় ধন্যবাদ! তা বলছিলাম, তুমি আমাকে কিছু খেতে না বলে চাকরির কথাই কেন তুললে হে?
ইতি,
শিবরাম চক্রবর্তী’

লিখে দরজার সামনে রেখে দিলেন চিঠিটা। বিকেলে বাইরে থেকে আসার পর তক্তপোশে আরেকটা চিঠি দেখতে পেলেন তিনি। হ্যাঁ, উত্তর চলে এসেছে। লিখা-
‘দ্যাখো বাবু,
চুরি করে আমার বাপ-ঠাকুরদারা ভালই চলেছে। তাদের সময়ে তোমার মতো ভবঘুরে তেমন-একটা দেখতে পেতাম না। এখন কলকাতায় যদি তোমার মতো বেকারের সংখ্যা বেড়ে যায়, তবে আমরা খাব কী!

ইতি

তোমার মমতাময় চোর’

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
Image result for vidyasagar

ঈশ্বরচন্দ্র তখন বিদ্যাসাগর হয়ে গেছেন। তাঁর বহুল সমাদৃত ব্যাকরণ লিখছেন সকাল থেকে। এখন দুপুর হয়ে গেছে। লিখতে লিখতে ক্লান্ত বিদ্যাসাগর স্নান করার জন্য উঠে পড়লেন। এমন সময় বাইরে থেকে এক ভিখিড়ির আওয়াজ আসতে লাগল। কেউ বলছে, ‘কেউ আছেন, একটু সাহায্য করুন। কেউ আছেন কি!’

বিদ্যাসাগরের মমতাময় সত্তা সম্পর্কে আমরা সকলেই কমবেশি জানি। বাইরে কিছু পয়সা ভিক্ষা দেবেন বলে বাইরে চলে আসলেন। গিয়ে দেখলেন এক বেশ মোটাসোটা লোক। শরীর-স্বাস্থ্য দেখলে ভিক্ষুক মনে করার কোনো উপায় নেই। ভিক্ষুকের উদ্দেশে জিগ্যেস করলেন, ‘কী হে? কী চাও?’

– বাবু, আপনি তো সর্বজনপূজ্য। কিছু করুন!
– কী করতে পারি তা আগে বলো দেখি।
– খুব 
দুরাবস্থা যাচ্ছে আজকাল। যদি… ইয়ে আর কী… হে-হে, কিছু পয়সা মেলে, তবে খুউব ভাল হয়!
শুনে ঈশ্বরবাবু ঘরের ভেতর থেকে কিছু খুচরা পয়সা এনে ভিক্ষকের হাতে দিয়ে বললেন, ‘এই নাও, ধরো। তোমার দুরবস্থার ‘া’ (আকার) দেখেই তোমার প্রতি মায়া জন্মে গেছে আমার!

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Image result for rabindranath tagore
(১) আমার ঘরের দেয়ালে এক বিষণ্ণ রবীন্দ্রনাথের পোর্ট্রেট ঝুলানো আছে। এজন্য মাঝে মাঝে ভাবতেই অবাক লাগে যে রবিবাবু অতটাও বিষণ্ণ মনের না যতটা আমরা মনে করি। সত্যি বলতে তিনি পেশাদার ঠাট্টাবাজ ছিলেন বইকি!

এবার বাংলা শেখা হবে আনন্দের!

আমাদের প্রতিটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাংলা ভাষা চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম!

তাই আর দেরি না করে, আজই ঘুরে এস ১০ মিনিট স্কুলের এক্সক্লুসিভ বাংলা প্লে-লিস্টটি থেকে!

১০ মিনিট স্কুলের বাংলা ভিডিও সিরিজ

গল্পটা বেশ আগের। রবীন্দ্রনাথ তখন ভারত চষে বেরাচ্ছেন। নোবেল তখনও পাননি। যদিও খ্যাতি তখন কম ছিল না। কলকাতার রাস্তায় ঘুরে বেরালে ছাদের পর ছাদ মেয়েরা ভিড় করতো আর বলতো, ‘এই যে সবাই, দ্যাখো রবিবাবু রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন!’

সে যা হোক, ওটা নিয়ে আরেকদিন বলা যাবে। একবার দার্জিলিং-এ ঘুরে কলকাতার ট্রেনের এক কামরায় বসে কবিগুরু খোলা আকাশ দেখছিলেন। মেঘমালার ছেলেমানুষি দেখতে দেখতে কবি যেই ধ্যানস্থ হয়ে গেলেন, তেমনি কামরার ভেতরে বসে থাকা ভদ্দরলোক খু-খু করে কাশি দিয়ে উঠলেন। তারপর বললেন, ‘আচ্ছা আপনিই কি রবিবাবু? আপনার বাবার সঙ্গে আমার অনেকদিন আগে একবার আলাপ হয়েছিল। কী অমায়িক একজন মানুষ! এমন কোনো মানুষ আজকাল দেখতেই পাওয়া যায় না!’
– বাহ্! আমি বাড়ি গিয়ে বাবাকে আপনার কথা বলবো।
– জ্বী! বেশ হয় তবে। তা… তিনি কি দার্জিলিং এসেছিল?
রবীন্দ্রনাথ কিছুক্ষণ ভদ্দরলোকের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। তারপর বললেন, ‘হ্যাঁ, তিনি দার্জিলিং এসেছিল। কিন্তু দার্জিলিং তখন খুব ঠান্ডা ছিলেন। ফলে তিনি কলকাতায় ফিরে গেছে!’

(২) শান্তিনিকেতনের চমৎকার একটা বৈশিষ্ট্য হলো এর ভেতরে পূর্ব ও পশ্চিমকে একটি কেন্দ্রবিন্দুতে আনার প্রবণতা। সেই সুবাদেই শান্তিনিকেতনে কিছু জগৎ-বিখ্যাত অধ্যাপকগণ পড়াতেন। তেমনি একজন হলেন ফরাসি সাহিত্যের মায়েস্ট্রো, অধ্যাপক মরিস। একদিন তাঁকে বড় গুনগুন করে গান করতে শোনা যাচ্ছিল। প্রখ্যাত সাহিত্যিক প্রমথনাথ বিশি তখন শান্তিনিকেতনের ছাত্র। অধ্যাপক মরিস প্রমথনাথ বিশিকে দেখে সানন্দে বলতে লাগলেন, ‘ওহে প্রমথ, গুরুদেব (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) আজ ‘চিনি’ নিয়ে বেশ চমৎকার একটা গান লিখেছেন। গানটা খুব মিষ্টি! গানের লাইনটা হলো, ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে, ওগো বিদেশিনী… আমি চিনি গো চিনি…!’
প্রমথনাথ হতভম্ব হয়ে জিগ্যেস করলেন, ‘এই গান যে চিনি নিয়ে লেখা, এ কথা আপনাকে কে বলল?’
অধ্যাপক মরিস আনন্দের সাথে বললেন, ‘কেন? গুরুদেব নিজেই!’

শামসুর রাহমান

Related image
শামসুর রাহমান আমাদের দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন কবি। সেই ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ক্রমশ ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান ও ৭১’র মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ কবিতার বাহক তিনি। মূলত যে কারণে এ জাতি তাঁর কাছে চিরঋণী। জাতীয় সম্মানপ্রাপ্ত এই কালজয়ী কবিকে একবার এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয়-
– আমি বিশ্বাস করি কলম একজন কবির সবচেয়ে বড় সঙ্গী। তা আপনি কোন কলম ব্যবহার করেন?

ইংরেজি ভাষা চর্চা করতে আমাদের নতুন গ্রুপ- 10 Minute School English Language Club-এ যোগদান করতে পারো!

– আমার বন্ধুর উপহার দেয়া এক ঝর্ণাকলম ব্যবহার করি। আর বলে রাখা ভাল, আমি খুব সাদামাটা একটা টুথব্রাস দিয়ে দাঁত মাজি।
– স্যার, টুথব্রাসের ব্যাপারটা তো গুরুত্বপূর্ণ নয়।
– এক্স্যাক্টলি! কলমের ব্যাপারে আমারও তাই মনে হয়েছে!

কাজী নজরুল ইসলাম

Image result for nazrul islam

একবার আব্বাসউদ্দিন কবি নজরুলকে অনেকদিন না পেয়ে চিন্তিত হয়ে তাঁর বাসায় চলে আসলেন। গিয়ে দেখলেন, যেন পৃথিবীর সব অসাড়তা নেমে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে সেখানে। বিদ্রোহী রণক্লান্তের ঘরে তখন শূন্যতার বঞ্চনা। হু-হু বাতাস, দুপুরে সূর্যের কিরণ কবির ঘাড়ে থেকে কাগজ পর্যন্ত উজ্জ্বল করে আছে। গভীর মনোযোগ দিয়ে দৈবকলম ছোঁয়াচ্ছেন তাঁর কাগজে- কী যেন একটা লিখছেন। কবি ইশারা করে আব্বাসউদ্দিনকে পাশের একটি চেয়ারে বসতে বললেন।

ঘুরে আসুন: লেখাপড়ার মাঝেও বিনোদন? কি করে সম্ভব?

যোহরের সময়ে তখন আজানে-আজানে এক মধুর সুরের ঐকতান ছড়াচ্ছে। তারই কিছুক্ষণ পর নামাজের সময় চলে যাবে বলে আব্বাসউদ্দিনের মধ্যে একপ্রকার চাঞ্চল্য কাজ করতে লাগল। কবি জিগ্যেস করলেন ‘কী, আব্বাস? যেতে হবে? তাড়া আছে কোনো?’ ‘কাজীদা, কোথাও যাবার নেই। নামাজ পড়তে হবে। সময় বেশি নেই তো! বলছিলাম, কোনো নতুন ইসলামী গজল বা হামদ হবে তোমার কাছে? লিখেছ এর মধ্যে?’ বললেন আব্বাসউদ্দিন। কবি না-সূচক জবাব দিয়ে ভেতর থেকে একটি জায়নামাজ নিয়ে আসলেন। প্রিয় আব্বাসের জন্য তা পেতে দিলেন মেঝেতে। তারপর নামাজ পড়া হলে আব্বাসের হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দিলেন নজরুল। ওতে লিখা-

‘হে নামাজী আমার ঘরে নামাজ পড় আজ
দিলাম তোমার চরণতলে হৃদয় জায়নামাজ!’

ঋণ স্বীকার: টিএসসিতে বসে লেখকদের জীবন নিয়ে শোনা শত শত কিংবদন্তিসমূহ। যার মধ্যে ক’টি সত্য, তা আমার জানা নেই!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?