কাজ আর জীবনের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখবে?

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

কাজ আর জীবন – এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করাটা কঠিনই বলা চলে। বেশিরভাগ মানুষই এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে পারে না। কেউ কেউ কাজকে সময় দিতে গিয়ে জীবনের দিকে তাকাতে পারে না।

আবার কেউ কেউ জীবনকে উপভোগ করতে গিয়ে কাজকে সময় দিতে পারে না। কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য আমাদের দুটোই সমান প্রয়োজন।

একবার নিজেকে জিজ্ঞাসা করে দেখো তো তুমি কাজ আর জীবনের ভারসাম্য কতটুকু বজায় রাখতে পেরেছ। আমি বাজি ধরে বলতে পারি বেশিরভাগের উত্তরই হবে যে তারা খুব কমই ভারসাম্য বজায় রাখতে পেরেছে।

এর কিছুটা কারণ হচ্ছে উচ্চাশা, যা পূরণ করতে গিয়ে জীবনের স্বাদ নেয়াটা অনেকাংশে অপূর্ণই থেকে যায়। আর কিছুটা দায়ী হচ্ছে আমাদের আলস্য, যার ফলে আমরা কাজ ফেলে জীবনকে উপভোগ করতেই ব্যস্ত থাকি।

খুব তাড়াতাড়ি গণনা করতে পারা যে কোন বিভাগের শিক্ষার্থীর জন্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই ১০ মিনিট স্কুল তোমাদের জন্যে নিয়ে এসেছে Beat the Numbers!

আবার অনেকেই আছে যারা আরামসে কাজ আর জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করে যাচ্ছে। তারা জানে কীভাবে এটি করতে হয়। কাজ আর জীবনের ভারসাম্য রক্ষার কিছু উপায় নিয়েই লিখছি তোমাদের জন্য।

১। টু-ডু লিস্ট:

টু-ডু লিস্ট হচ্ছে একটি তালিকা যেখানে তোমার কী কী কাজ করতে হবে তা লিখে রাখতে পারো যাতে ভুলে না যাও। তোমার টু-ডু লিস্টে দুইটি ভাগ রাখবে – একটি নিড টু-ডু, আরেকটি হবে ওয়ান্ট টু-ডু।

নিড টু-ডু তে থাকবে কী কী কাজ তোমার অবশ্যই করতে হবে, যেমন: বাড়ির কাজ, প্রেজেন্টেশন, প্রজেক্ট বা এমন কিছু যা তোমার কাজের সাথে সম্পর্কযুক্ত। আর ওয়ান্ট টু-ডু তে থাকবে কী কী কাজ তোমার করতে ইচ্ছে হচ্ছে, যেমন: কোথাও ঘুরতে যাওয়া, মুভি দেখা, পরিবারের সাথে ছুটি কাটানো বা এরকম কাজ অর্থাৎ যেগুলো তোমার জীবনকে উপভোগ করতে সহায়তা করবে।

একটি সাপ্তাহিক টু-ডু লিস্ট তৈরি করবে প্রতি সপ্তাহে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করবে। সবসময় চেষ্টা করবে দুইটি ভাগ থেকেই যেন কাজ করতে থাকো। এমন যেন না হয় যে শুধু নিড টু ডু থেকে একের পর এক কাজ করছো আর ওয়ান্ট টু-ডু থেকে কোন কাজ করাই হচ্ছে না।

উল্টোটাও যেন না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। এই দুই ভাগের টু-ডু লিস্ট তোমাকে তোমার কাজ আর জীবন দুটোর সাথেই সমানভাবে যুক্ত থাকতে সহায়তা করবে।

ঘুরে আসুন: সব দ্বিধাকে বিদায় জানাও এক তুড়িতেই!

চেষ্টা করবে টু-ডু লিস্টটা এমনভাবে তৈরি করতে যেন সেই সব কাজ শেষ করতে তোমার উপর কোন অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। যদি কোন সপ্তাহে নিড টু-ডু অর্থাৎ কাজের পরিমাণ বেশি থাকে তাহলে ওই সপ্তাহে ওয়ান্ট টু-ডু একটু কমিয়ে রাখবে এবং পরে ওয়ান্ট টু-ডু একটু বেশি রেখে পুষিয়ে নেবে।

২। কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখো:

আমাদের একটা বড় সমস্যা হলো আমরা কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখি না। এতে করে দেখা যায় যে কাজের সময় আর উপভোগের সময় দুটোতে মিলে জগাখিচুড়ি হয়ে যায়। হুট করে দেখি এত এত কাজ থাকা সত্ত্বেও কাজগুলো করার সময় হাতে থাকে না।

তাই প্রতিদিনের কাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় রাখা উচিত। একটা সময় নির্দিষ্ট করে রাখতে পারো যে তুমি প্রতিদিন ঠিক ওই সময়টাতে কাজ করতে বসবে এবং ৩ ঘণ্টা বা ৪ ঘণ্টা যা একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করবে।

আবার চাইলে প্রতিদিন সকালে একটা ছক করে ফেলতে পারো যে আজকে এই এই কাজ আছে, এতটুকু সময় লাগবে, আমি এই এই সময়ে কাজ করতে বসে কাজগুলো শেষ করে ফেলতে পারবো।

যেভাবেই পরিকল্পনা করো না কেন, চেষ্টা করবে পরিকল্পনাটি যথাযথভাবে মেনে চলতে যাতে অভ্যাস হয়ে যায়। একবার অভ্যাস হয়ে গেলে পরে আর সমস্যাই হবে না সঠিক পরিকল্পনা করতে আর সে অনুযায়ী কাজ করতে।

সহজেই শিখে ফেলো মার্কেটিং-এর খুঁটিনাটি!!

ব্যবসায় শিক্ষার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মার্কেটিং-এর খুঁটিনাটি বিষয়গুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

তাই ১০ মিনিট স্কুল তোমাদের সকলের জন্য নিয়ে এসেছে মার্কেটিং-এর উপর এক্সক্লুসিভ এই প্লে-লিস্ট!

১০ মিনিট স্কুলের মার্কেটিং ভিডিও সিরিজ

৩। কাজগুলো দলবদ্ধ করে সময় বাঁচাও:

আমরা একেকটি কাজ একেকবার করতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট করে ফেলি। এতে করে দেখা যায় যে পরে কোন কাজ করার জন্য অথবা একটু বিশ্রাম নেয়ার জন্য সময় থাকে না। কিন্তু আমাদের কাজগুলোকে যদি ছোট ছোট দলে ভাগ করে ফেলতে পারি তাহলে আমাদের অনেক সময় বেঁচে যায়।

যেমন: কাপড় ইস্ত্রি করতে দেয়ার জন্য একবার বাইরে যাওয়া আর বাজারে যাওয়ার সময় আরেকবার বাইরে যাওয়ার পরিবর্তে যদি বাজারে যাওয়ার সময়ই কাপড় ইস্ত্রি করতে দিয়ে যাই তাহলে কিছুটা সময় বাঁচে।

এভাবে আমাদের দৈনন্দিন অনেক কাজকে একসাথে করে নিলে অনেক সময় বাঁচাতে পারবো যেটা আমাদের কাজে লাগবে।

সময় বাঁচানোর আরেকটা বড় উপায় হল নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ আনা। আমরা প্রায় সবাই যেটা করি সেটা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক সময় দেই। একই নিউজফিড বারবার স্ক্রল করতেই থাকি কোন কারণ ছাড়াই।

আবার কম্পিউটারে কোন কাজ করতে বসলেই কাজের চেয়ে ফেইসবুকিং আর ইউটিউবিং এই দুটোই বেশি হয়। এগুলো হচ্ছে সময়ের অপচয়। আমাদের নিজেকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সময়ের অপচয় রোধ করতে হবে।

ঘুরে আসুন: নিজের কাজটিকে ভালোবাসতে শিখছি তো?

কাজের মধ্যে চার-পাঁচ মিনিট ফেইসবুক ব্যবহার করাই যায়, কিন্তু দশ মিনিট পর পর চার-পাঁচ মিনিট করে ফেইসবুক ব্যবহার করাটা নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

৪। পরিবারকে সময় দাও:

আমরা অনেকেই কাজের চাপে আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যস্ত থাকার দরুন পরিবারকে সময় দেই না। কিন্তু তোমার পরিবার মানে হচ্ছে তোমার সবচেয়ে কাছের মানুষগুলো। পরিবারকে সময় দেয়াটাও কাজ আর এ কাজ জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করে থাকে।

পরিবারকে সময় দিলে, তাদের সাথে নিজের কথা ভাগাভাগি করে নিলে তোমার জীবনে পরিবারের গুরুত্ব বোঝা যায়।

বেশি কাজ যেমন ভালো নয়, তেমনি সবসময় শুধু আনন্দ করে সময় কাটিয়ে দেয়া ভালো নয়

জীবনটা যে শুধু কাজ না, এর বাইরেও অনেক কিছু আছে তা বোঝা যায় পরিবারের সাথে থেকেই। আর তাছাড়া পরিবারের বড়দের পরামর্শও তোমাকে কাজ আর জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

কোনো সমস্যায় আটকে আছো? প্রশ্ন করার মত কাউকে খুঁজে পাচ্ছ না? যেকোনো প্রশ্নের উত্তর পেতে চলে যাও ১০ মিনিট স্কুল ফোরামে!

প্রতিদিন পরিবারের সবাই মিলে একটা সময়ে একটু গল্পগুজব করলে অনেক কিছু শেখা যায়। আর তখন দেখবে সময়টাও অন্য সময়ের চেয়ে ভালো কাটবে। তাই কাজ আর জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে পরিবারকে একটু সময় দেয়া জরুরি।

কাজ আর জীবনের ভারসাম্য বজায় থাকলে আমাদের মন ভালো থাকে। বেশি কাজ যেমন ভালো নয়, তেমনি সবসময় শুধু আনন্দ করে সময় কাটিয়ে দেয়া ভালো নয়। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য আমাদের ভবিষ্যতে উন্নতি করতেও সহায়তা করে।

তাই ভেবে দেখ তুমি তোমার জীবন আর কাজের ভারসাম্য কতটুকু রক্ষা করে চলছ। যদি ঘাটতি থাকে তাহলে উপরের বিষয়গুলো মেনে চল। তুমি সফল হবেই।


১০ মিনিট স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত লাইভ ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?