নতুন স্কুল? মানিয়ে নিবে কী করে?

 

school, school change, school life, school tips, নতুন স্কুল, স্কুল লাইফ

মনে আছে “দীপু নাম্বার টু”-এর দীপুর কথা? কীভাবে একটার পর একটা স্কুল সে পরিবর্তন করতেই থাকে? সেই স্কুলে কোনো শিক্ষক খুবই বন্ধুসুলভ হয়, কেউবা আবার করে ধুমসে বেত্রাঘাত। কিংবা “লিটু বৃত্তান্ত”-এর লিটুর কথা? হঠাৎ করে নতুন জায়গার নতুন স্কুল-এ ভর্তি হবে শুনেই সে কীভাবে ভড়কে গিয়েছিল?

ঘুরে আসুন: কী হবে এতো পড়ালেখা করে?

বাস্তবেও, আমাদের অনেকেরই বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন সময় স্কুল পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসেই একদম স্কুল পরিবর্তনের হিড়িক পড়ে যায়। স্কুল পরিবর্তন করা যেন পুরোপুরি একটা নতুন জগতে চলে যাওয়া। নতুন সহপাঠী, নতুন ক্লাসরুম, নতুন শিক্ষক, নতুন পরিবেশ। এই নতুন জায়গায় নিজেকে মানিয়ে নেয়াও খুব একটা সহজ হয় না। তাই এখানে নিজেকে মানিয়ে নিতে হলে কী কী করতে হবে তাই জেনে নিব আজকে।

 এবার ঘরে বসেই হবে মডেল টেস্ট! পরীক্ষা শেষ হবার সাথে সাথেই চলে আসবে রেজাল্ট, মেরিট পজিশন। সাথে উত্তরপত্রতো    থাকছেই!

প্রথমত, স্কুলটাকে জানো।

১। পুরো স্কুলটাকে ঘুরে দেখো:

স্কুলের আনাচে-কানাচে যত জায়গায় তোমার প্রবেশাধিকার রয়েছে, সব জায়গা ঘুরে দেখ তবে অবশ্যই কাউকে সাথে নিয়ে। না হলে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২। শিক্ষকদের সাথে কথা বল:

যতটা সম্ভব ক্লাস শুরুর আগেই শিক্ষকদের সাথে কথা বলো। বর্তমানে শিক্ষকরা খুবই বন্ধুসুলভ স্বভাবের হয়ে থাকেন। তুমি যদি নিজে থেকে স্কুল সম্পর্কিত কোনো বিষয় নিয়ে তাঁদের কারো সাথে কথা বলতে চাও, তাহলে তাঁরা কখনোই মানা করবেন না। এতে করে নতুন জায়গায় মানিয়ে নেয়া সহজ হয়ে যাবে।

৩। স্কুল সম্পর্কিত হ্যান্ডবুকটা পড়ে ফেল:

প্রত্যেক স্কুল থেকেই একটা হ্যান্ডবুক বা প্রস্পেক্টাস দেয়া হয়। সেখানে স্কুল সম্পর্কিত সবকিছু লেখা থাকে। আমাদের সমস্যাটা কী, এই হ্যান্ডবুককে আমরা এত যত্নে রাখি যে, সেটাকে যে খুলে পড়ার জন্য দেয়া হয়েছে তা একদম ভুলে যাই।

একেক স্কুলের রয়েছে একেক রকমের নিয়মাবলি। তাই নতুন স্কুলে কোনোভাবে কোনো ঝামেলায় না পড়তে চাইলে প্রথমেই হ্যান্ডবুকটা ভালোমত পড়তে হবে। যদি দেয়া হয়, তবে স্কুলের ক্যালেন্ডারটাও দেখে নিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, প্রথম দিনের প্রস্ততি নিয়ে নাও।

১। আগের দিন একবার স্কুল পর্যন্ত গিয়ে এসো:

বর্তমানে রাস্তাঘাট খুবই আনপ্রেডিক্টেবল। তাই প্রথম ক্লাসের আগেরদিন একবার স্কুলে গিয়ে দেখে আসো যাতে রাস্তাটা কীরকম, যেতে মোটামুটি কতক্ষণ লাগে তার একটা আইডিয়া হয়।

তোমার কাছে মনে হতে পারে যে, আগে তো অনেক গিয়েছি। তাহলে আবার শুধু শুধু যাওয়ার কী দরকার! কিন্তু যেমনটা বললাম, রাস্তাঘাট দিনে দিনে পরিবর্তন হচ্ছে, তাই আগের দিন যেয়ে একবার দেখে আসা ভাল। কারণ তুমি নিজেও কিন্তু চাও না প্রথম দিনেই একটা বাজে অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ী ফিরতে।

২। রাতেই সব গুছিয়ে রাখো:

শুধু প্রথম দিনের জন্যই না, প্রতিদিনই পরের দিনের জিনিষপত্র সব আগের রাতেই গুছিয়ে রাখো। কারণ তুমি জানো না সকালটা কেমন হবে। আদৌ তুমি সময় পাবে কিনা সব গুছানোর, তাও জানো না।

জেনে নাও জীবনকে উপভোগ করার উপায় !

জীবনে সহজ ভাবে চলার জন্য জানা দরকার কিছু লাইফ হাক্স।

দেখে নাও আজকের প্লে-লিস্টটি আর শিখে নাও কিভাবে সাফল্য পাওয়া যায়!

১০ মিনিট স্কুলের Life Hacks সিরিজ

আবার এমনও হতে পারে যে কিছু একটা সকালে খুঁজে পাচ্ছ না। রাতে গুছিয়ে রাখলে তখন সেটা খোঁজার জন্য বেশি সময় পাওয়া যায় আবার একদমই না পাওয়া গেলে কোনোভাবে ম্যানেজ করে নেয়া যায়। ইউনিফর্মও আগের দিনই ঠিক করে রাখতে হবে।

৩। রাতের ঘুমটা যেন ভাল হয়:

স্কুলের প্রথম দিন মানে হচ্ছে একদম বিগ ডে, আর ভাল একটা দিনকে আসলেই ভাল করতে হলে রাতের ঘুমটা ভাল হওয়া খুব দরকার। আর রাতে ঘুমের এই ধারা যেন পুরো স্কুল লাইফই থাকে সেটারও চেষ্টা করতে হবে।

৪। হাতে সময় রেখে বের হতে হবে:

রাস্তায় কখন কী সমস্যা হয় তুমি বলতে পারো না, তাই হাতে কিছু সময় রেখে বের হতে হবে। এছাড়াও আগে আগে স্কুলে চলে গেলে তুমি তোমার সহপাঠীদের সাথে ক্লাস শুরুর আগেই খানিকটা কথা বলে পরিচিত হয়ে নিতে পারবে।

৫। মা-বাবার সাথে কথা বলো এই নিয়ে:

মা-বাবার থেকে বড় কাউন্সেলর আর কেউ হতে পারে না। আর তাঁরাও এমন দিন দেখেছেন, তাই যেকোনো সমস্যার কথা তাঁদের জানাও। আর যদি নতুন কোনো জায়গায় গিয়ে নতুন স্কুলে ভর্তি হও, তাহলে তো তোমার মা-বাবাও নতুন পরিবেশে এসে পড়েছেন, তখন তাঁরা কীভাবে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে তাও প্রশ্ন করে নিতে পারো।

নতুনত্ব আসবেই আর এই নতুনত্বকে সাদরে বরণ করে নিতে হবে

তৃতীয়ত, তোমার সেরাটা দাও!

১। শিক্ষকের কথামত চল:

অনেকেই মনে করে যে শিক্ষকের কথামত চললেই বুঝি একদম নার্ড হয়ে গেলো, আসলে এমনটা না। শিক্ষক আমাদের ভালটাই ভাবেন, তাহলে তাঁর কথা মেনে চললে ক্ষতি কোথায়? আমাদের মাঝে একটা মাইন্ডসেট আছে যে, স্কুলের নিয়ম না মানার মাঝে আর শিক্ষকের কথা না শোনার মাঝে অনেক কুলনেস আছে, যেটা একদম ভুল। বরং এসব মেনে চললে, স্কুল লাইফটাকে আর কষ্টের মনে হবে না।

২। আগের স্কুল থেকে এক ধাপ এগিয়ে আসো:

আগের স্কুলে যেই অবস্থায় ছিলে, তার থেকে একটু সামনে এগুনোর চেষ্টা করো। সামনে আগাতে না পারলেও পিছে যেন পড়ে না যাও, সেদিকে খেয়াল রাখো।

 ব্লগটা পড়তে পড়তে চল খেলে আসি সংখ্যা নিয়ে কিছু ব্রেইন টিজার গেইম!

সবশেষে, বন্ধু বানাও!

১। নিজের পরিচয় দিতে শেখো:

প্রথম পরিচয় সবাইকে কী বলবে তা আগেই ঠিক করে রাখো যাতে কেউ তোমার সাথে কথা বলতে আসলে হুট করে তুমি থতমত খেয়ে না যাও। কারণ, প্রথমে একটা মানুষ তোমাকে যেভাবে দেখবে, সারাজীবনই সেভাবে দেখবে। স্কুল সম্পর্কিত বিভিন্ন কথা বলতে পার। আবার অন্যের কোনো একটা জিনিষের প্রশংসা করেও কথা শুরু করতে পারো। তবে নতুন বন্ধু বানাতে গিয়ে যেন কোনোভাবে পুরোনো বন্ধুদের যোগাযোগের বাইরে না চলে যাও!

ঘুরে আসুন:  নতুন স্কুলে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে তুমিও!

২। বি ইয়োরসেলফ:

কোনো মেকি ভাব এনে কারো সাথে মেশার কোন দরকার নেই। এর চেয়ে, নিজে যেমন ঐভাবেই থেকো।

৩। বিভিন্ন এ্যাক্টিভিটিতে যোগ দাও:

খেলাধুরা, সংস্কৃতি, ক্লাব ইত্যাদিতে যোগ দাও এতে করে তোমার মত একই ধাঁচের মানুষগুলোর সাথে মেশার সুযোগ পাবে আর পরিচিতিও পাবে।

জীবন কখনোই একভাবে চলে না। এতে নতুনত্ব আসবেই আর এই নতুনত্বকে সাদরে বরণ করে নিতে হবে। বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন সময় স্কুল পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়তেই পারে, তখন ভড়কে না গিয়ে এর ইতিবাচক দিকগুলো বিবেচনা করে এর সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য নিজের সেরাটা দিতে হবে।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?