খারাপ অভ্যাসকে দিয়ে দাও ছুটি!

ধরো তুমি ভাইভা বোর্ডে বসে আছো। খুব নার্ভাস তুমি। সবাই যখন প্রশ্ন করা শুরু করলো তুমি অতিরিক্ত নার্ভাস হওয়ার কারণে দাঁত দিয়ে নখ কামড়ানো শুরু করলে। একবার ভেবে দেখো তো কী হাস্যকরই না হবে এই দৃশটি তাদের জন্য যারা সেখানে বসে আছে। হয়ত এটার উপরই ভিত্তি করে তোমাকে মূল্যায়ন করা হতে পারে।

রাজধানীর নাম জানাটা সাধারণ জ্ঞানের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ১০ মিনিট স্কুলের এই মজার কুইজটির মধ্যমে যাচাই করে নাও নিজেকে!

মানুষ অভ্যাসের দাস। ভালো অভ্যাস যেমন আমাদের অনেক দূরে যেতে সাহায্য করে ঠিক তেমনি খারাপ অভ্যাস আমাদের জীবনের পথে বাঁধা হয়ে থাকে। এটি আমাদের জীবনে ঝুঁকি বয়ে নিয়ে আসে, এটি আমাদের সময় ও শ্রম দুটোকেই অপচয় করে। প্রশ্ন হলো তাহলে আমরা কেন তা করে যাই? এবং তা থেকে বের হয়ে আসতে চাইলে কী করা যেতে পারে?

প্রথমেই বলতে চাই কোন কারণে এই খারাপ অভ্যাসের এর তৈরি হয়। এটি তৈরি হয় একঘেয়েমি জীবন, মানসিক চাপ কিংবা অবসন্নতা থেকে। এসব খুবই স্বাভাবিক বিষয়। সবসময় যে একই পথ অবলম্বন করতে হবে তা নয়।

অনেক ভালো অভ্যাস এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে পারে। নিজের খারাপ অভ্যাসকে স্বীকার করাই হচ্ছে তা থেকে বের হয়ে আসার প্রথম পদক্ষেপ। অনেকেরই সেই সৎ সাহস থাকে না তা স্বীকার করার কিংবা তা থেকে বের হয়ে আসার।

কেউ যদি তা থেকে বের হয়ে আসতে চায় তবে তার জন্য প্রয়োজন প্রচেষ্টা এবং পরিকল্পনা।আজকে দেখব কয়েকটি টিপস যার সাহায্যে সহজেই দূর করতে পারো তোমার খারাপ অভ্যাসগুলোকে।

ঘুরে আসুন:গোছানো মানুষদের ১০টি স্বভাব

১। খারাপ অভ্যাসকে ভালো অভ্যাসে পরিণত করো:

অভ্যাস খারাপ কিংবা ভালোর পেছনে কোন একটা কারণ থাকে। এটি শারীরিকও হতে পারে যেমন – ধূমপান করা; তেমনি মানসিকও হতে পারে কিংবা তা শুধুমাত্র মানসিক চাপ কমানোর উপায়ও হতে পারে যেমন – দাঁত দিয়ে নখ কাটা, আঙ্গুল ফোটানো ইত্যাদি। এটি এখন হাস্যকর মনে হলেও ঐযে প্রথমের ঐ পরিস্থিতিতে পড়লে হয়ত উপলব্ধি করতে পারবে। কিন্তু তখন হয়ত অনেক দেরি হয়ে যাবে।

সব অভ্যাসের পেছনে যে কারণই থাকুক তা দূর করা সম্ভব নয় কিন্তু সেই খারাপ অভ্যাসকে কোন একটি ভালো অভ্যাসে পরিণত করা যেতেই পারে। তুমি মানসিক চাপ দূর করার জন্য ধূমপান না করে অন্য কোন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি করতে পারো। সেই অভ্যাস দ্বারা তোমার সেই চাহিদাও পূরণ হয়ে যাবে।

২। অভ্যাসের পারিপার্শ্বিক দিকগুলো বিস্তারিত লিখো:

যখন তুমি সেই কাজটি করছো কিংবা তা করার ইচ্ছা হয় তখন একটি ডায়েরিতে লিখে ফেলো কেন তোমাকে সেই কাজটি করতে হচ্ছে এবং তা করার পর তোমার কেমন অনুভব হয়। সেই সঙ্গে লিখে রাখতে পারো তুমি সেই কাজটি কখন সবচেয়ে বেশি করো, যখন চিন্তিত থাকো নাকি ভীত? কোন নির্দিষ্ট সময় রয়েছে? এসব কিছু লিখে রাখলে তুমি একটু হলেও তোমার ব্যবহারের গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা পাবে।

৩। প্রণোদনা দেয় এমন কাজকে বর্জন করো:

যেসব জিনিস, মানুষ কিংবা যায়গা তোমাকে সেসব কাজ করতে প্রণোদনা যোগায় তা বর্জন করো। মনে রেখো তোমার পরিবেশই তোমার খারাপ অভ্যাসগুলোকে আরও প্রশ্রয় দেয় এবং ভালো অভ্যাসের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। পরিবেশ তোমার ব্যাবহারে অনেক প্রভাব ফেলতে পারে। ভালো ফলাফল চাইলে পরিবেশেরই পরিবর্তন করে ফেলো।

একটি ভালো উপায় হতে পারে “Goal chart” তৈরি করা

ধরো তোমার অভ্যাস কিছুক্ষণ পর পরই ফেসবুকে ঢুঁ মেরে আসা তার কারণ তোমার রুমে ইন্টারনেট কানেকশনের ব্যবস্থা রয়েছে। অবশ্যই তার খুব দরকার। এই অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসতে চাইলে তুমি ইন্টারনেটের কাজ শেষ হয়ে গেলে তা বন্ধ রাখতে পারো।

ফোনের নোটিফিকেশানও বন্ধ করে রাখতে পারো। যার যার প্রয়োজন অনুযায়ী তোমাদের পরিবেশ পরিবর্তন করে ফেললে দেখবে খারাপ অভ্যাস দূর করা অনেকখানি সহজ হয়ে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে কাজে লাগাও সঠিকভাবে!

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমরা প্রায়ই দ্বিধায় পড়ে যাই- সিজিপিএ ঠিক রাখবো, নাকি নিজের জন্যে কিছু অর্থোপার্জন করবো।

এই দ্বিধা থেকে মুক্তির জন্যে ঝটপট ঘুরে এসো ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লেলিস্ট থেকে!

১০ মিনিট স্কুলের Life Hacks সিরিজ!

৪। নিজেকে ব্যস্ত রাখো:

যখন তোমার সেই কাজের ইচ্ছে তৈরি হবে তখন অন্য কোন কাজে মনোনিবেশ করো। ধরো তোমার খুব ইচ্ছে করছে ফেসবুকে ঢুঁ মেরে আসার কিন্তু তুমি তা না করে কোন বন্ধুর সাথে কথা বলা শুরু করে দাও কিংবা আশেপাশে যারা আছে ওদের সাথেই কথা বলো না! দেখবে, ফেসবুকের ফানি ভিডিওর থেকে এই সামান্য কথোপকথনে অনেক কিছু শেখার আছে।

ভালো কোন অভ্যাস তৈরি করে ফেলতে পারো যেমন – বই পড়া, লেখালেখি করা ইত্যাদি। অনেক সময় ভালো অভ্যাসগুলো খারাপ অভ্যাসগুলোকে প্রতিস্থাপন করে ফেলতে পারে। এখন অনেক স্বেচ্ছাসেবীমূলক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সুতরাং সময়কে কাজে লাগাতে পারো।

ঘুরে আসুন:যে গুণটি বদলে দেবে তোমার জীবন

৫। নিজেকে পুরস্কৃত করো:

কোন অভ্যাস পরিবর্তন করতে প্রয়োজন অনেক সময় এবং প্রবল ইচ্ছার। নিজের উপর বিশ্বাস থাকাটা খুব প্রয়োজন এবং সেই সাথে প্রয়োজন ধৈর্যের। অনেকেই আমরা “Cold turkey solution” এর কথা শুনেছি। এর মানে আমরা মাঝে মাঝে পণ করি কোন খারাপ অভ্যাস না করার কিন্তু কয়েকদিন পরই আমরা সেই কাজটি নিয়মিত করা শুরু করি। এর সাথে “Perfection” শব্দটি যুক্ত। এটিতে মনে করা হয় One mistake = FAILURE!

এটি মনে করলে তুমি কখনোই তোমার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না। কোন অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসাটা খুব সহজ নয়। অনেকবার ব্যর্থ হওয়ার পরই তা পাওয়া সম্ভব। ছোট একটি সফলতার জন্য ও নিজেকে পুরস্কৃত করো।

৬। জীবনের লক্ষ্যকে বারে বারে স্মরণ করো:

ঘুম থেকে উঠে সর্বপ্রথম কাজ হতে পারে নিজের জীবনের প্রধান লক্ষ্যকে স্মরণ করা। সেটি তাহলে সারাদিনের কাজের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। মূল লক্ষ্যই সাহায্য করতে পারে তোমার খারাপ অভ্যাসগুলোকে দূরে রাখতে। সব খারাপ অভ্যাসের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর না-ও হতে পারে তবে অযথা সময় নষ্ট করা, ঘুম থেকে দেরি করে উঠা এসব থেকে নিজেকে দূরা রাখার জন্য লক্ষ্যকে স্মরণ করা অনেক কাজে আসতে পারে।

একটি ভালো উপায় হতে পারে ‘Goal chart’ তৈরি করা। সকালে উঠে দেখে ফেলো কী কী করা হয়েছে কিংবা কী কী করা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। তাহলেই দেখবে সেই কাজগুলো সম্পূর্ণ করতে কোন কিছুই তোমার বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। নিজের লক্ষ্যকে আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলো, দেখবে এটিই হবে তোমার সারাদিনের কাজের প্রেরণা।

অঙ্ক আর খেলা এখন হবে একসাথে! আর তাই তোমাদের জন্য ১০ মিনিট স্কুল নিয়ে এসেছে Beat the Numbers!

৭। নিজেই হও নিজের প্রশিক্ষক:

নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে একটি ভিডিও তৈরি করে ফেলতে পারো। কেন সেই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে চাও, সেই কাজটির পরিবর্তে কী করছো এগুলোও বলা যেতে পারে। প্রতিদিন নিজের বলা কথাগুলো দেখে নিলে তা তোমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করতে পারে। নিজেকে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে এবং তুমি যদি তা সম্পন্ন করতে পারো তবে তার জন্য নিজেকে পুরস্কৃত করো।

খারাপ অভ্যাস দূর করার কখনো সঠিক সময় থাকে না। তা তোমার ইচ্ছের ওপরই নির্ভর করবে। সুতরাং আজ থেকেই তোমার সব খারাপ অভ্যাসকে দূর করতে থাকো।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Aysha Noman

Aysha Noman

Simplicity is the essence of her happiness. Loves to read books and watch movies. Enjoy being a business student during the day and a writer by night. She is currently studying at the Department of Marketing, University Of Dhaka.
Aysha Noman
এই লেখকের অন্যন্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?