জীবনের লক্ষ্য ঠিক রাখার দুই হাতিয়ার: Monitoring & Controlling

ব্যবস্থাপনা একটি বহুল পঠিত বিষয়। আমরা যারাই ব্যবস্থাপনা নিয়ে পড়েছি, তারা একটা Phrase এর সাথে খুব করে পরিচিত। তা হচ্ছে, “Monitoring and Controlling”। তো, যারা পড়েছি তারা তো আগে থেকেই জানি। কিন্তু, যারা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কখনো পড়েনি, তাদের সুবিধার্থে বলছি, Monitoring and Controlling শুদ্ধ বাংলায় নিয়ন্ত্রণ হল ব্যবস্থাপনার একদম শেষ ধাপ।

ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপেই, যখন কোনোকিছুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়, তখন সাথে সাথে ঐ জিনিসটার একটা আদর্শ মানও নির্ধারণ করে ফেলা হয় এবং লক্ষ্য মোতাবেক কাজ শেষে, একদম শেষ ধাপ, অর্থাৎ Monitoring and Controlling-এ এসে, কর্মফলের সাথে ঐ আদর্শ মানের তুলনা করে কাজ কতটুকু এগিয়েছে তা হিসেব করা হয়।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

দার্শনিক অ্যারিস্টটলের মতে, ব্যবস্থাপনা সার্বজনীন। তাই আজকে আমরা আমাদের জীবনের লক্ষ্য ঠিক রাখতে ব্যবস্থাপনার এই ধাপটির ব্যবহার কীভাবে করা যায় তা দেখবো:

১। লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ের ট্র্যাক রাখতে হবে

আমাদের স্বভাবগত একটা সমস্যা হচ্ছে যে, আমরা খুব সহজে ডিস্ট্র্যাক্ট হয়ে যাই। লক্ষ্যার্জনের পথে ছোট কোনো বাধা আসলেই আমরা খুব সহজে ‘বিগ পিকচার’ এর কথা ভুলে যাই। মনে করুন, আপনার খুব শখ একটা বই ছাপানোর।

আপনি প্রকাশকের কাছে গেলেন আর সেই প্রকাশক বড়সড় একটা টাকার বান্ডিল চেয়ে বসল। আপনি তখনই যদি হতাশ হয়ে যান তবে আপনি আপনার আসল লক্ষ্য হতে সরে গেলেন।

ঘুরে আসুন: শ্রোডিঞ্জারের বিড়ালঃ কোয়ান্টাম মেকানিক্সে বিড়ালের কী কাজ?

তাই লক্ষ্যার্জনের জন্য প্রতিটি ধাপের এবং এর সাথে জড়িত প্রতিটি বিষয়ের ট্র্যাক রাখতে হবে আর সব ধাপের সাথেই একটা করে প্ল্যান বি রাখতে হবে। এভাবে ট্র্যাক রাখলে আপনি যেখানেই আটকে যাবেন, সেখান বের হয়ে আসার পথ খুঁজে পাবেন এবং দিনশেষে লক্ষ্যের দিকে কতটুকু এগিয়েছেন তাও পরিমাপ করতে পারবেন।

২। লক্ষ্যকে নিয়মিত পর্যালোচনা করুন

নিয়ম করে লক্ষ্যকে পর্যালোচনা করুন। তা হতে পারে সকালে ঘুম থেকে উঠেই কিংবা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে। লক্ষ্যার্জনের জন্য যা করতে হবে সবকিছুকে লিখে রাখুন এবং প্রতিদিন দেখুন আপনি কতটুকু এগিয়েছেন।

আগানোর জন্য কী করেছেন, আর কী কী করা দরকার ছিল, যা যা করেছেন তাই আরো অন্যভাবে করা যেত কিনা। এভাবে ভাবতে ভাবতে একসময় আপনার মন আপনা আপনিই আপনাকে দিক নির্দেশনা দিতে শুরু করবে।

আর নয় সময় নষ্ট করা!

দেখে নাও আজকের প্লে-লিস্টটি আর শিখে নাও কীভাবে সময় ভাল পদ্ধতিতে ব্যবহার করা যায়!

১০ মিনিট স্কুলের Life Hacks সিরিজ

৩। বড় লক্ষ্যকে ছোট ছোট লক্ষ্যে ভেঙ্গে ফেলুন

মনে করুন একজন অভিনেতা অস্কার পেতে চান। আপাতদৃষ্টিতে এই লক্ষ্যটা অর্জন করা একজন অভিনেতার জন্য অনেক কঠিন কিন্তু লক্ষ্যটাকে যদি ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে নেয়া হয়, তবে কি তা এত কঠিন থাকে আর?

এমন অনেক লক্ষ্য আছে যা এত সহজে ধাপে ভাগ করা যায় না

যেমন, অস্কার পাওয়ার প্রথম স্টেপ কী হতে পারে? একজন অভিজ্ঞ ডিরেক্টরের অধীনে কাজ করা? একজন অভিনেতার জন্য কি তা খুব একটা কঠিন? এভাবে সব লক্ষ্যকেই ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে নিয়ে এক সময় শুধু একটা ধাপে ফোকাস করে করতে হবে, সেই ধাপকেই পর্যালোচনা করতে হবে এবং একটা ধাপ শেষ হওয়ার আগে আরেক ধাপ শুরু করা যাবে না।

ঘুরে আসুন: ভিনদেশীদের থেকে শেখার আছে অনেক কিছু!

কোনো ধাপ যদি একটু কঠিন লাগে, তবে ঐ ধাপকে আরো ছোট ভাগে ভাগ করতে হবে। আরো ভাল হয় যদি ধাপগুলো Numerical হয়। যেমন, লক্ষ্য যদি হয় ১০০০ পৃষ্ঠার একটা বই পড়া, তবে ১০০ হতে পারে প্রথমদিনের লক্ষ্য। এভাবে হিসেব রাখাটা আরো সহজ হয়।

ইংরেজি ভাষা চর্চা করতে আমাদের নতুন গ্রুপ- 10 Minute School English Language Club-এ যোগদান করতে পারো!

৪। সময় দিয়ে হিসেব রাখুন

এমন অনেক লক্ষ্য আছে যা এত সহজে ধাপে ভাগ করা যায় না। যেমন, ফ্রেঞ্চ শেখা। সেক্ষেত্রে, ফ্রেঞ্চ শিখতে আপনি কোনদিন কতটুকু সময় ব্যয় করবেন, তার হিসেব রাখুন এবং দিন শেষে দেখুন ঐটুকু সময়ে আসলেই কতটুকু শিখতে পেরেছেন।

Monitoring and Controlling এর একটি ধাপ হচ্ছে, Revising Standard অর্থাৎ ফলাফল আশানুরূপ না হলে আদর্শমানের পরিবর্তন আনা, যেটা এখন কাজে আসবে। যদি আপনার মনে হয় যে আপনার বরাদ্দকৃত সময় কম পড়ে যাচ্ছে, তবে তা প্রয়োজনমত বাড়িয়ে নিন।

আপনি কি জানেন যে, আমরা অনেক সময় অনেক সুন্দরমত লক্ষ্য নির্ধারণ করার পরেও তা বাস্তবায়ন করতে পারি না কেন? তার কারণ হচ্ছে আমরা লক্ষ্যার্জনে এত ব্যস্ত হয়ে পড়ি যে তাকে নিয়মিত পর্যালোচনা করতে বেমালুম ভুলে যাই।

আশা করা যায় এরপর থেকে, আমরা লক্ষ্যার্জনের জন্য পরিশ্রম করার সাথে সাথে, Monitoring and Controlling এর মাধ্যমে নিয়মিত আমাদের লক্ষ্যগুলো পর্যালোচনায়ও সমান গুরুত্ব দিবো।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?