কীভাবে শুরু করবে তোমার প্রেজেন্টেশন

তুমি যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই পড়ো না কেন, শিক্ষাজীবনের কোন না কোন সময়ে তোমাকে প্রেজেন্টেশন দিতেই হয়। যদি কোনকালে সেটাও না করা লাগে, দিনশেষে চাকুরিজীবনে এই প্রেজেন্টেশন নামের বিপদে পড়তেই হয় তোমাকে!

প্রেজেন্টেশনের বিষয়টা আসলে ক্লাস সিক্স সেভেনের ওই সরল অংকের মত। সরল অংকগুলো বিশাল, দেখলে অনেক ভয় লাগে, একটু ভুল হলেই পুরোটা শেষ! প্রেজেন্টেশনের বিষয়টাও সেরকম শুনতে অনেক বিশাল লাগে, মনে হয় কতই না জটিল এক একটা কাজ। কিন্তু সরল অংক একবার যে ঠিকভাবে শিখে ফেলে, তাকে যেমন বিশ্বের কোন সরল অংকই আটকাতে পারে না, প্রেজেন্টেশনের বিষয়টাও কিন্তু একদমই সেরকম। আপাতদৃষ্টিতে জটিল এই প্রেজেন্টেশনটা একবার যদি রপ্ত করে ফেলতে পারো, তাহলে আর কখনোই সেটা নিয়ে সমস্যা হবে না।

আমাকে যদি জিজ্ঞেস করো, আমার চোখে প্রেজেন্টেশনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর শুরুটা। কেন জানো? কারণ হচ্ছে শুরুতে তোমার দর্শকদের আগ্রহটা থাকে চূড়াতে। যদি একটা গ্রাফে আঁকাও দর্শকের আগ্রহটাকে, দেখবে যে প্রেজেন্টেশনের শুরুতে সবথেকে বেশি দর্শক আগ্রহী থাকে, আর যতো সময় যায় তাঁদের আগ্রহ ততোই কমতে থাকে। এই কারণেই দর্শকের মনোযোগ কেড়ে নিতে তোমার হাতে ওই শুরুর এক মিনিটই থাকে। এই এক মিনিটের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে তাই, একটা ভালো প্রেজেন্টেশন হতে হলে। এক্ষেত্রে কিছু টিপস দেয়া যেতে পারে।

১। শুরুটা করো একটা গল্প দিয়ে

গল্প শুনতে কে না ভালোবাসে? গল্প-সে যেরকমই হোক না কেন, মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রস্থলে সবসময়ই থাকে গল্পগুলো। আর এর সাথে যদি মানুষ নিজের জীবনকে রিলেট করতে পারে, তাহলে তো সোনায় সোহাগা!

গতানুগতিক শুরু তো সবাই করে। এই প্রেজেন্টেশনটা শুরু করছি আমি অমুক, প্রেজেন্টেশনটি করছি তমুক স্যারের কাছে- এসব কথা তো সবাই জানেই। তাহলে তুমি তোমার সর্বোচ্চ এটেনশনের সময়টাকে এইসব বলে নষ্ট করবে কেন? তুমি শুরু করো একটা গল্প দিয়ে।

গল্প হতে পারে তোমার প্রেজেন্টেশনের টপিকটা নিয়েই। পুরো প্রেজেন্টেশনটিকেই একটা গল্পের দুজন চরিত্রকে দিয়ে দেখাতে পারো। তাতে তোমার প্রেজেন্টেশনটা যেমন মনোমুগ্ধকর হবে, তেমনি দর্শকপ্রিয়তাও পাবে।

২। “আপনি জানেন কী?”

আমি একটা বিখ্যাত প্রেজেন্টেশন দেখেছিলাম। সেখানে শুরুতেই ন্যারেটর এয়ারটেলের টিউনটা গাইতে গাইতে আসে। এরপর দর্শককে জিজ্ঞেস করে, এই টিউনটা শুনলেই আমাদের মনে পড়ে না এয়ারটেলের কথা? দর্শক সারি তুমুল আনন্দে উত্তর দেয়, “হ্যাঁ!”

এভাবে যদি দর্শকদের নিয়েই কাজ করা যায়, যদি দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে আগ্রহী করে রাখা যায়, তাহলেই কেল্লাফতে! মনে রাখবে, যখনই দর্শক এবং বিচারকরা মনে করবেন যে তাদেরকে পুরো প্রেজেন্টেশনে ব্যস্ত রাখা যাচ্ছে, তখনই তোমার বোনাস পয়েন্ট!

৩। উক্তি বা ফ্যাক্টস ব্যবহার করো

তোমার প্রেজেন্টেশনটা যদি শুরু হয় খুব ইন্টারেস্টিং একটা ফ্যাক্ট দিয়ে, তাহলে কিন্তু ব্যাপারটা অনেক মজাদার হবে দর্শকদের জন্যে! ধরো তুমি তোমার টপিক রিলেটেড অদ্ভুত একটা তথ্য, যেটা বেশিরভাগ মানুষই জানে না- সেটা নিয়ে তুমি বলে বসলে। তাহলে অবশ্যই বিচারক এবং দর্শকরা বিমোহিত হবে!

আবার তুমি যদি চমৎকার কোন কোটেশন দিয়েই শুরুটা করে ফেলো, তাহলে কিন্তু আরেক রকম ব্যাপার হবে। অনেক দর্শক আছেন যারা গল্প পছন্দ করবেন না। তারা যদি একটুখানি জীবনধর্মী উক্তি শুনে প্রেজেন্টেশন দেখে, বোনাস পয়েন্টটা কিন্তু পাচ্ছো তুমিই!

৪। ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করো

আমার মনে আছে, কিছুদিন আগে একটা কম্পিটিশনের প্রেজেন্টেশনে গিয়েছিলাম আমি। সেখানে আমরা প্রেজেন্টেশনের শুরুটাই করেছিলাম একটা গান দিয়ে, সেই গানে নাচতে নাচতে প্রবেশ করেছিলাম স্টেজে। তাতে যেটা হলো, প্রায় ত্রিশটা দেশের মানুষ হাততালি দিয়ে অভিবাদন জানিয়েছিল আমাদের, কারণ শুরুটাই ছিল অভিনব।

তুমিও চাইলে এইরকম ইন্টারেস্টিং বা একটু আলাদা ধরণের আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে পারো। হ্যা, খেয়াল রাখতে হবে যে তোমার আইডিয়াটা যেন উগ্র না হয় এবং যেন ভদ্রতা আর এটিকেট বজায় থাকে, কিন্তু ফরম্যালি যতটুকু অভিনব থাকা যায়, ততো ভালো!

একটা প্রেজেন্টেশনের শুরুটাই বলা যায় প্রেজেন্টেশনের প্রাণ। তোমার পরের প্রেজেন্টেশনে এই টিপসগুলো কাজে লাগিয়েই দেখো, সাফল্য আগের থেকে বেশি হতেই হবে!

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?