IELTS Writing Task 2-Tips

IELTS এর সবচেয়ে জটিল এবং কষ্টসাধ্য অংশ এর লিখিত অংশ। এবং এই Writing Task এ পরীক্ষার্থীর উত্তর এবং পরীক্ষকের মতামত খুবই ব্যক্তিনির্ভর। অন্যভাবে বলতে গেলে সঠিক উত্তর কোনটা সেটা নির্দিষ্ট ভাবে বলা যায় না।

তাই এই লিখিত বিভাগ এর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হল প্রশ্নপত্রের প্রসঙ্গকে পুরোপুরি বুঝে পরীক্ষক কী ধরনের প্রত্যাশা করেছেন তা মাথায় রেখে লেখা। এ কাজে তুমি নিচের পরামর্শগুলো অনুসরণ করলে এবং খুবই সাধারণ কিন্তু গতানুগতিক ভুল এড়িয়ে চললে ভালো নম্বর তুলতে পারবে।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

সংক্ষিপ্ত সূচনা: কার্যকারিতা

খুব সংক্ষিপ্তভাবে প্রথমে Writing Task এর ব্যাপারে জেনে নিই। সর্বপ্রথমে এটি হচ্ছে রচনা লেখার প্রশ্ন। অর্থাৎ একটি সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ অথবা বিবৃতির উপর ভিত্তি করে উত্তর লিখতে হবে। প্রবন্ধটি পড়ার পরে প্রশ্ন থাকবে এবং এই প্রশ্নের উত্তর দরকারি কারণ ও উদাহরণসহ লিখতে হবে।

যেভাবে নম্বর দেয়া হয়:

চারটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে নম্বর দেয়া হবে

Task Achievement (25%)

Coherence and Cohesion (25%)

Vocabulary (25%)

Grammatical Range and Accuracy (25%)

তোমরা যারা গ্রামার নিয়ে অনেক চিন্তিত, তাদের জন্যে এটা আসলে একদিক দিয়ে সুসংবাদ যে ব্যাকরণগত ক্রটির জন্য অনেক নম্বর কাটা যাবে না। আবার এটা এই অর্থও বোঝায় যে, তুমি যে কোন একটি বিষয়কে অবহেলা করলে ২৫% নম্বর কাটার সম্ভাবনা থাকবে। তাই তোমাকে একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ রচনাই ভাল নম্বর পেতে সাহায্য করবে।

তুমি কতটুকু সময় পাবে?

সাধারনত একটি রচনা লেখার জন্য ৪০ মিনিট নির্ধারিত থাকে। তবে কীভাবে লিখতে হবে এই বিষয়ে যথার্থ প্রস্তুতি না থাকলে এই সময় খুব দ্রুতই পার হয়ে যায়। তাই নিচের পরামর্শগুলো ভালো করে পড়ে নাও এবং পরে প্র্যাকটিস করো, তাহলে ভাল একটি পরীক্ষা দিতে পারবেঃ

১. যে প্রশ্ন করা হয়েছে তার উত্তর দিতে হবে:

শুধুমাত্র বুদ্ধিমত্তার উপর রচনা লেখাটা নির্ভর করে না। দ্রুততার সাথে পড়তে গিয়ে অনেক সময় খুব প্রয়োজনীয় উপাদানও বাদ পড়ে যায়। নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রথম যে কাজটি করতে হবে তা হল, যে প্রবন্ধটি দেয়া হয়েছে তার মূল মার্ক এবং প্রয়োজনীয় তথ্যগুলোর নিচে দাগ দেয়া।

শুধুমাত্র টপিক এর উপরে লিখলেই হবে না। একটি উদাহরণ দেয়া হল- মো. কামাল আমাদের সমাজের সহিংসার পেছনে যে যুক্তি প্রদর্শন করেছেন তা কি তুমি সমর্থন কর? এক্ষেত্রে তুমি শুধু নিজের মতামত প্রদর্শন করবে না। মো. কামাল কী ভাবছেন যা কী না প্রবন্ধে দেয়া থাকবে, সেটা বিশ্লেষণ করতে হবে এবং সে সাপেক্ষে তুমি তার যুক্তিকে সমর্থন কর কি কর না তা ব্যাখ্যা করতে হবে। সুতরাং, প্রশ্নগুলি খেয়াল করে পড়ে তারপর উত্তর দিতে হবে।

দেখে নাও তোমার প্রয়োজনীয় ইনফরমেশন!

২. মূল উপকরণ:

অনেক সময় ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বলা হয় যে প্রশ্নে দেয়া বাক্য,চনায় হুবহু ব্যবহার করতে। তবে এই অভ্যাস কিন্তু শব্দ গণনার উপর প্রভাব ফেলে। সাধারণত একটি রচনা ১৫০২০০ শব্দের মধ্যে হতে হয়। কিন্তু এর থেকে ৫০টি শব্দ বেশী লিখলে (২০০ বা ৩০০) নম্বর কমানো হবে। এর ফলে সময় এবং নম্বর দুটোই অপচয় হতে পারে। সুতরাং হুবহু প্রশ্ন থেকে তুলে না দেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

৩. সময় ব্যবস্থাপনা:

২৫০ শব্দের একটি রচনার জন্য সাধারণত ৪০ মিনিট নেয়া উচিত (পুরো লিখিত বিভাগের জন্য ১ ঘণ্টা সময় নির্ধারিত থাকে যার প্রথম ২০ মিনিট লিখিত বিভাগের ১ম প্রশ্নের জন্য ব্যয় করতে হবে) যদিও মনে হবে যে সময় বেশি নেই, তারপরও উত্তর শুরু করার আগে ১০ মিনিট উত্তরের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করে একটা স্ট্রাটেজি দাঁড় করানো উচিত। তারপরেও ৩০ মিনিট থেকে যায় ২৫০ শব্দ লেখার জন্য। পরীক্ষক আসলে কতগুলো শব্দ শিখা ছিল সেই ব্যাপারে আগ্রহী না, লেখার মান নিয়ে তাঁর বেশি চিন্তা।

৪. প্রথমে রচনা লিখতে হবে:

আমরা জানি যে লিখিত বিভাগে ২টি পার্ট থাকে। এক্ষেত্রে প্রথমে রচনা বা টাস্ক-২ লিখে ফেলাই ভাল। কারণ এতে বেশি নম্বর থাকে এবং সময়ও বেশি লাগে। তবে সময় এক্ষেত্রে ৪০ মিনিট বা এর থেকে কম রাখাটাই ভাল, নাহলে অন্য পার্ট গুছিয়ে লিখতে কষ্ট হবে।

৫. পরীক্ষকের মাথার ভিতরে প্রবেশ করা:

এটা অবশ্যই মাথায় রাখা উচিত যে, পরীক্ষক যে-ই হোন না কেন, তিনি অবশ্যই অনেকগুলো খাতা দেখবেন। তাঁদেরকে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার মত উত্তর দিতে হবে না। পরীক্ষক Task Achievement, Coherence and Cohesion, Vocabulary, Grammatical Range and Accuracy এই চারটি বিষয়ের উপরই বিচার করবেন।

তাই রচনাকে অবশ্যই সুন্দরভাবে গোছানো এবং সঠিক হতে হবে। দুর্বোধ্য রচনা কোনভাবেই লেখা যাবেনা। সাধারণ কিন্তু সুগঠিত রচনাই ভালো যাতে পরীক্ষককে বারবার পিছনে ফিরে গিয়ে বুঝে আসতে না হয়। ভেবে দেখ, তাঁর যদি বিরক্ত লাগে তোমার লেখা পড়তে, তাহলে কি তিনি তোমাকে আরো নম্বর দেবেন?

মজায় মজায় ইংরেজি শিখ!

তোমার স্বপ্নের পথে পা বাড়ানোর ক্ষেত্রে তোমার ইংরেজির জ্ঞান কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে!

তাই আর দেরি না করে, আজই ঘুরে এস ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লে-লিস্টটি থেকে!

১০ মিনিট স্কুলের ইংরেজি ভিডিও সিরিজ

৬. ভোকাবুলারি:

সত্যিকার অর্থে লম্বা, কঠিন এবং আকর্ষণীয় শব্দচয়ন এতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। যে শব্দই ব্যবহার করা হোক না কেন, পুনরাবৃত্তিতা পরিহার করতে হবে। যখন রচনা লেখা শেষ হবে তখন দ্রুততার সাথে পেছনে ফিরে গিয়ে দেখতে হবে যে কোন শব্দ একের বেশিবার লেখা হয়েছে কিনা। বিশেষত, সহজ শব্দগুলো। যেমনঃ simple, good, hard কে শুধুমাত্র সেকেন্ডই লাগে পরিবর্তন করতে plain, nice, difficult হিসেবে লিখতে।

৭. সংযোগ এবং সংহতি (Coherence and Cohesion):

চারটি আলোচ্য বিষয়ের একটি ভিত্তি হলো সংহতি। তোমাকে বিচার করা হবে তুমি কত সুন্দরভাবে তোমার চিন্তাভাবনাকে শব্দ, বাক্য এবং প্যারাগ্রাফের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে পারো এবং এই কাজটি বেশিরভাগ মানুষের জন্যেই কঠিন। এর জন্য একটি  সহজ পদ্ধতি নিচে উদাহরণ সহ দেখানো হলোঃ

মনে করো,কয়লাকে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহারের উপকারিতা এবং অপকারিতাএই বিষয়ে রচনা লিখতে বলা হল। প্রথম প্যারাগ্রাফে উপকারিতা এবং দ্বিতীয় প্যারাগ্রাফে অপকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হল। এখন কীভাবে দুটি প্যারার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা উচিত যেন পাঠক তোমার চিন্তাধারা বুঝতে পারে? প্রথম অনুচ্ছেদের শেষ লাইনেই সংকেত প্রদান করতে হবে যে এর পরবর্তী প্যারাতে কী বলা হবে।

কখনোই একটি লম্বা অনুচ্ছেদে পুরো রচনা লেখা উচিত না

যদিও কয়লা অপেক্ষাকৃত নিরাপদ নির্ভরযোগ্য শক্তির উৎস। কিন্তু এর সাথে কিছু ক্ষতিকর প্রভাবও আছে।”

এখন পাঠক আগ্রহ বোধ করবে যে এই ক্ষতিকর প্রভাবগুলো কী?

মনে রাখা জরুরী যে, এই সংহতিপূর্ণ আলোচনার জন্যে ২৫% নম্বর বরাদ্দ। সেজন্য বিষয়ে নিজে নিজে প্র্যাকটিস করাটা জরুরী।

৮. ব্যান্ড ৬ এর উপরে কীভাবে স্কোর আনা যায়:

এই বিষয়ে সাফল্য অর্জন করতে হলে বেশ কিছু জিনিস করতে হবে। Coherence and Cohesion, Vocabulary, Grammatical Range and Accuracy এই চার বিষয়ের উপরে এর উপরে স্কোর দেয়া হবে এবং এর গড়ই হল চূড়ান্ত ফল।

৯. পেনাল্টি:

ব্যান্ড এর উপরে স্কোর উঠানোর পক্ষে বাধা হল এই পেনাল্টি। এগুলোকে অতিক্রম করতে পারলেই সাফল্য ধরা দেবে হাতের মুঠোয়।

১০. প্যারাগ্রাফের ব্যবহার:

শুধুমাত্র প্যারাগ্রাফ ব্যবহার করেই সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করা সম্ভব। কখনোই একটি লম্বা অনুচ্ছেদে পুরো রচনা লেখা উচিত না। বেশ কিছু প্যারাগ্রাফ ব্যবহার করা উচিত এবং তা যথাযথ ভাবে। যদিও কোন নির্দিষ্ট নম্বর নেই যে কয়টা ব্যবহার করা উচিৎ, তবে সূচনা উপসংহার সহ আরো তিনটি – মোট পাঁচটি প্যারাগ্রাফ যথেষ্ট। তবে এটা তোমার উত্তরের উপরেও নির্ভর করে।

সঠিকভাবে কোন ইংরেজি শব্দ উচ্চারণ করতে পারা ইংরেজিতে ভাল করার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

১১. সংযোগকারী শব্দ/ Linking Words:

লেখার অর্থ জটিল না করে, Complex sentence ব্যবহারে তোমার দক্ষতা দেখাতে হবে। আসলে তুমি যদি Complex sentence ব্যবহার না কর, তুমি ব্যান্ড৬ এর উপরে স্কোর করতে পারবে না। জন্য একটি সংযোগকারী শব্দের বা Linking Words এর লিস্ট বানিয়ে তা আয়ত্তে আনা উচিত।

এই ছিলো Writing Task-2 এর টিপস। ভালোভাবে প্র্যাকটিস করলে অবশ্যই তুমি সুন্দর একটি পরীক্ষা দিতে পারবে।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Md. Sohan Haidear

Md. Sohan Haidear

Sohan is a disciplined and dedicated individual who wants to save the world. Just like Batman. But instead of the Batmobile, batarangs and other cool gadgets, his weapons are his mind, his heart and his actions.
Md. Sohan Haidear
এই লেখকের অন্যন্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?