সফল যারা কেমন তারা – পর্ব ১

সাফল্য ও সম্ভাবনাময় ই-কদেশের ই-কমার্স বিজনেসকে যারা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের মাঝে সেরাদের কথা বলতে গেলে প্রথম সারিতে যাদের নাম আসবে তাদের মধ্যে আদনান ইমতিয়াজ হালিম অন্যতম।

তিনি বর্তমানে Sheba.xyz এর সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। Sheba.xyz বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স বিজনেস প্লাটফর্ম। ৭০ জন উদ্যমী তরুনের সুসংঘঠিত টিম প্রতি মাসে চার শতাধিকের বেশি বিভিন্ন রকমের সেবা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ক্লায়েন্টকে দিচ্ছেন। Sheba.xyz মূলত এমন একটি সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম যেখান থেকে বিভিন্ন সেবা দান কারী প্রতিষ্ঠান সেবা দিতে ও একজন ক্লায়েন্ট সরাসরি সেবা নিতে পারেন।সেবা মূলত একটি বিটুসি টাইপ প্রতিষ্ঠান যেটি ২০১৫ সাল থেকে সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

উন্নত সেবা প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠানটি জিপি এক্সিলারেটর পুরস্কার পেয়েছিলো। সম্প্রতি ডি ডাব্লিউ ফাউন্ডার্স ভ্যালী থেকে পৃথিবীব্যাপী সেরা ১০টি ই-কমার্স উদ্যোগের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছে Sheba.xyz. যার মাধ্যমে বাংলাদেশে ই- কমার্স স্টার্টআপের সম্ভাবনার কথা গুলো বৈশ্বিক প্লাটফর্মে তুলে ধরবে Sheba.xyz.

সেবার সাফল্যের নানান দিক ও এদেশে ই কমার্স বিজনেসের অপার সম্ভাবনার নানান দিক তুলে ধরেছেন sheba.xyz এর সিইও আদনান ইমতিয়াজ হালিম, সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন রিজিউম ডেভলপমেন্ট স্পেশালিস্ট ও কর্পোরেট আস্কের সিইও নিয়াজ আহমেদ।

নিয়াজ আহমেদঃ প্রথমেই জানতে চাইবো sheba.xyz এর সফল হবার প্রধান কারণ কি?

আদনান ইমতিয়াজ হালিমঃ sheba.xyz এর রয়েছে একঝাক দক্ষ নিবেদিত প্রাণ কর্মী যারা প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকা শক্তি। sheba.xyz মূলত একটি প্লাটফর্ম যা বিভিন্ন সার্ভিসদাতা এবং কাস্টমারকে একে অন্যকে খুঁজে পেতে সাহায্য করে। কাস্টমারকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে আমরা বদ্ধ পরিকর। সুতরাং দক্ষ টিম, সম্মিলিত প্লাটফর্ম এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা এই তিনই সেবার সফল হবার মূল কারন। সেই সাথে বলে রাখা ভালো যে সেবা কোন প্রোডাক্ট সেল করে না, শুধুমাত্র সার্ভিস দাতাদের আর ক্লায়েন্টদের মাঝে একটি বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।

নিয়াজ আহমেদঃ তরুণদের অনেকের প্রবনতাই থাকে ই- কমার্স প্লাটফর্ম বানিয়ে বিজনেস করার। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা সফল হয় না, এই ব্যর্থতার কারণ কি কি বলে আপনি মনে করেন?

ঘুরে আসুন: যে গুণটি বদলে দেবে তোমার জীবন

আদনান ইমতিয়াজ হালিমঃ যেকোন ব্যবসাই হচ্ছে বহুবিধ দক্ষতার সমষ্টিগত ফলাফল। আমরা সবাই একটি ব্যবসার মুনাফার দিকটি দেখি, কিন্তু ব্যবসা দাড় করাতে যে কষ্ট করতে হয়, যে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয় সেটা দেখি না। এজন্যই অনেকে ব্যর্থ হন। তবে ই-কমার্স ব্যবসায় সফল হতে হলে সবচেয়ে বেশি জরুরি যেটা তা হচ্ছে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা। আমি এমন অনেককেই চিনি যারা ব্যবসার শুরুতে ভাল করেন নি কিন্তু এখন তাদেরকেই ই-কমার্স ব্যাবসার মডেল ধরা হয়। চালডাল, সহজ, পাঠাও ইত্যাদি নানান ই-কমার্স সেবা গত তিন বছরে বাংলাদেশে বিস্তার লাভ করেছে এবং প্রশংসিত ও জনপ্রিয় হয়েছে। তাই আমি মনে করি প্রতিশ্রুতি রক্ষার সাথে সাথে প্রডাক্ট বা সার্ভিস টাও ইউনিক হতে হবে। সমাজের যেকোনো একটি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যবসার পরিকল্পনা দাড় করাতে হবে। প্রতিটি ব্যবসাই এক প্রকার সাহায্য।

নিয়াজ আহমেদঃ ই-কমার্স বিজনেসে মূলধন কি রকম লাগে? সরকারি কি কি কাগজ পত্র নিয়ে বিজনেস শুরু করতে হবে?

আদনান ইমতিয়াজ হালিমঃ মূলধনের ব্যাপারটা ডিপেন্ড করছে আপনি প্রোডাক্ট সেল করতে চাচ্ছেন নাকি সার্ভিস। যেমন ধরুন, উবার, পাঠাও, চলো এদের বিজনেস অনেকটা আইডিয়া কেন্দ্রিক। এরপর সার্ভিস দিতে কিছু লোক লেগেছে, সফটওয়্যার তৈরি করতে হয়েছে। কিন্তু এদের নিজেদের কোন প্রোডাক্ট নেই। অপরের প্রোডাক্ট, এরা কাজ করছে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে। আবার আপনি যদি চালডাল, রকমারি ইত্যাদি কোম্পানির কথা ভাবেন, তাহলে তারা প্রোডাক্টও দিচ্ছে, সেই সাথে সার্ভিসকে সহজ করেছে। আপনি যদি প্রোডাক্ট ও সার্ভিস দুই নিয়ে কাজ করতে চান, আপনার মূলধন ওই অনুযায়ী লাগবে। আর যদি আপনি কেবল সার্ভিস দাতা কোম্পানি হতে চান তাহলে কম পুজি নিয়েও শুরু করতে পারবেন। অন্য সকল বিজনেসের মতোই ই কমার্স বিজনেস করতে আপনার টিআইএন, কোম্পানির একাউন্ট, ভ্যাট সার্টিফিকেট ও সব রকমের বৈধ কাগজ পত্র রাখতে হবে।

নিয়াজ আহমেদঃ নতুনরা কিভাবে এই পেশায় অগ্রসর হলে ভুল কম হবে?

আদনান ইমতিয়াজ হালিমঃ নতুনদের উদ্দেশ্যে আমার পরমর্শ যে কোন একটি স্টার্টআপ কোম্পানিতে দুই বছর জব করে আসা। এই দুই বছরের মধ্যে বিজনেন সম্পর্কে আইডিয়া নেয়া, বিজনেসে কি কি ভুল হতে পারে সেটা জানা, সেগুলো কিভাবে এড়িয়ে চলা যায় সেটা জানা ও ভুল হয়ে গেলে সেটা কিভাবে শোধরানো যায় সেটা জানা, বিজনেসের চ্যালেঞ্জ গুলো বোঝা ও হাতে কলমে কাজ করা। এতে করে নিজের বিজনেসে চ্যালেঞ্জগুলো কম আসবে। নিজে ভুল করে শেখার চেয়ে অন্যের ভুল থেকে শেখাই শ্রেয়। আর যে কোন কাজে সফল হতে গেলে কমপক্ষে ১০ হাজার ঘন্টা কাজের পিছনে লেগে থাকতে হয়। তাই সময় দিলে, গেলে থাকলে ও শিখে কাজ করলে ভুল ও ঝুকি দুটোই কমে যাবে, যা কিনা পক্ষান্তরে সফল হবার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিবে।

 

ফটোশপের দক্ষতায় মুগ্ধ কর সবাইকে!

ফটোশপের জগতটা খুব ইন্টারেস্টিং। একটা ছবি থেকে কতোকিছু যে করা যায় ফটোশপের সাহায্যে!

অদ্ভুত এই ছবি এডিটিংয়ের জগতে ঘুরে এসো প্লেলিস্টটি দেখে!

শিখে ফেল ফটোশপের জাদু!

নিয়াজ আহমেদঃ ই-কমার্স বিজনেস করতে গেলে কি কি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়?

আদনান ইমতিয়াজ হালিমঃ কমিটমেন্ট ঠিক রাখাটাই বিজনেসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য চাই যথাযথ পরিকল্পনা, ইনভেন্টরি চেক করা এবং সকল ক্ষেত্রে প্রফেশনালিজম বজায় রাখা। প্রফেশনালিজম বলতে আমি বোঝাচ্ছি আপনার কি আছে সেটা জানা, আপনি কি করতে পারবেন সেটা জানা এবং আপনার কি নেই বা আপনি কি করতে পারবেন না সেটা জানা। আপনার প্রোডাক্ট , সার্ভিস, স্টোর, লোকবল ভালোভাবে জানুন। স্ট্রেন্থ ও উইকনেস গুলো জানুন। কাউকে ভুল কমিটমেন্ট দিবেন না। কাজ হোক বা না হোক, যেটুক দিতে পারবেন, সেটুকুই বলবেন। কাজ পেতে ভুল প্রতিশ্রুতি দিবেন না। তাহলে নেগেটিভ ফিডব্যাক আসবে না, রিপিট বিজসেন আসা শুরু হবে।

নিয়াজ আহমেদঃ অনেকেই অনলাইনে প্রোডাক্ট কিনে বা সার্ভিস নিয়ে প্রতারিত হন, এতে করে টোটাল অনলাইন ভিত্তিক বিজনেসের উপর তার মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। একজন ক্লায়েন্ট কিভাবে বুঝবে যে কোন কোম্পানিটির সার্ভিস দক্ষ ও কার উপর আস্থা রাখা যায়?

আদনান ইমতিয়াজ হালিমঃ এরকম অনেকে আছেন, যারা এক রকমের প্রোডাক্ট দেখিয়ে বিক্রির পর আরেক রকমের প্রোডাক্ট পাঠান। এতে করে ক্লায়েন্ট বিব্রত হন। অনেক ক্ষেত্রে অনেকে দুই থেকে চার গুন দাম নিয়ে প্রতারনা করেন। তাই কাস্টোমারের উচিত এক্ষেত্রে কোম্পানির ব্যাক গ্রাউন্ড, রেটিং, পূর্ববর্তী কাস্টোমারদের ফিডব্যাক দেখে শুনে বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া।

নিয়াজ আহমেদঃ দেশে ই কমার্স বিজনেস এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষাক্ষেত্রে কি পরিবর্তন আনা উচিত।

আদনান ইমতিয়াজ হালিমঃ বাইরের দেশের পড়াশুনা সিস্টেম ভিন্ন, সেখানে একজন স্টুডেন্ট তিন থেকে পাচ বার পর্যন্ত ইন্টার্নশিপ করে। এতে করে তাদের প্রাক্টিকাল জ্ঞান বাড়ে। তারা বিজনেসের গ্যাপ বুঝতে পারে। প্রতিষ্ঠানের কাঠামো বুঝতে পারে। চ্যালেঞ্জ বুঝতে পারে। এতে করে তাদের ভিতরে ডিসিশন টেকিং স্কিল, ক্রিটিকাল থিংকিং স্কিল, কমিউনিকেশন স্কিল ইত্যাদি আরো বেশি ডেভলপ করে। আমাদের দেশের পুথিগত শিক্ষা দেয়া হয় যার সাথে বাস্তব শিক্ষার অনেক ব্যাবধান। তাই স্টুডেন্টদের বাস্তবমুখী শিক্ষা দিতে পারলেই কেবল তাদের পক্ষে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহন করাটা আরো সহজতর হবে।

নিয়াজ আহমেদঃ ই-কমার্স টাইপ বিজনেসের এই বিশাল প্লেসে জব পাওয়ার সম্ভাবনা কেমন?

আদনান ইমতিয়াজ হালিমঃ দেশে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার লোক ই- কমার্স বিজনেসের সাথে যুক্ত, এই সংযুক্তি আগামী ৫ বছরে কমপক্ষে আরো ২০ গুন বাড়বে। সবাই এখন সার্ভিসের পেছনে ছুটছে। সবাই কমফোর্ট চায়। এছাড়া বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের ব্যাবহার বেড়েছে বহুগুনে। তবে এই মুহূর্তে অধিকাংশ ই- কমার্স বিজনেসই ঢাকা কেন্দ্রিক। তবে অতি দ্রুত দেশব্যাপী এই সার্ভিসে ছড়িয়ে পড়ছে, নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে আমাদের তরুণরা অনেকে কাজ করছে। এটি একটি সম্ভাবনাময় খেত্র।

কথায় বলে, MUN is fun! আসলেই কি তাই? নিজেই দেখে নাও এই প্লে-লিস্ট থেকে।

নিয়াজ আহমেদঃ নতুনদের মাঝে আপনি কি কি সমস্যা দেখতে পান? সমস্যা কাটিয়ে সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়তে কিরূপে প্রিপারেশান নেয়া দরকার?

আদনান ইমতিয়াজ হালিমঃ নতুনদের মাঝে অস্থিরতা দেখতে পাই, তারা খুব দ্রুতই সফল হতে চায়। স্টেপ বাই স্টেপ ক্যারিয়ার গ্রোথ নিয়ে খুব কম লোকই ভাবে। ক্যারিয়ার নিয়ে নির্দিষ্ট প্ল্যানিং নেই। যে কোন একটা চাকরী পাওয়াকে অনেকে জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে ফেলে। জব করুন আর উদ্যোগতা হোন, সেই সীদ্ধান্ত আপনার। কিন্তু যেটা ভালো লাগে সেটাই করুন। ভালো লাগার জায়গায় নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিন। কারন জীবনটা আপনার। তাই, আপনার জীবনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার কেবল আপনারই আছে।

নিয়াজ আহমেদঃ ই-কমার্স সেক্টরে জব পেতে হলে তাকে কিরূপে ক্যারিয়ার প্লানিং করতে হবে? এই পেশায় ক্যারিয়ার গ্রোথ কেমন?

আদনান ইমতিয়াজ হালিমঃ যেহেতু এটি নতুন সেক্টর, ক্যারিয়ারের শুরুতে এই সেক্টরকে বেছে নিলে সামনের দিনগুলোতে এই সেক্টর যখন এগিয়ে যাবে, তখন আপনিই অভিজ্ঞদের মাঝে আগে থাকবেন। তবে প্রথমে আপনাকে বুঝতে হবে আপনি এই সেক্টরে কাজ করতে প্যাশনেট কি না। হুজুকে পড়ে সিদ্ধন্ত নিলে ক্যারিয়ারের মাঝে গিয়ে বিপাকে পড়বেন। কিন্তু আপনি যদি প্যাশনেট থাকেন, আপনার যদি ডিটারমিনেশন থাকে, তাহলে সাফল্য সুনিশ্চিত।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?