প্রোগ্রামিং সিরিজ: প্রোগ্রাম খায়, পরে না মাথায় দেয়?

এই লেখাটি “আদর্শ” থেকে প্রকাশিত এবং ঝংকার মাহবুব-এর ১ম গ্রন্থ হাবলুদের জন্য প্রোগ্রামিং বই থেকে নেয়া হয়েছে।

অন্তুর সাথে রাশেদের পরিচয় লিটন ভাইয়ের চায়ের দোকানে। বছর তিনেক আগে, টিপটিপ বৃষ্টির দিনে। ছাতাহীন রাশেদ বের হয়েছিল বাসা খুঁজতে। এই লিটন ভাই-ই অন্তুর খোঁজ দেন। সেদিন থেকেই গলির শেষ বাড়িটার ছাদে রাশেদ আর অন্তু থাকে, ছোট্ট এক রুমের একটা টিনের ঘরে। সেই ঘরে শীতের রাতে সাইবেরিয়া, গরমের দিনে সাহারা দেখা দেয় বিনা নিমন্ত্রণে। ঝড়ের রাতে কালবৈশাখি এসে পাগলা নাচন দেখায় বিনা টিকিটে। বৃষ্টির দিনে বিছানায় শুয়েই ফ্রি গোসল পাওয়া যায়, টিনের চালের ছিদ্রের কল্যাণে।

প্রোগ্রাম খায়, পরে, না মাথায় দেয়

রাশেদের আড্ডা মারার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হচ্ছে লিটন ভাইয়ের চায়ের দোকান। সেখানে রাশেদ একটানা কথা বলে আর অন্তু চুপচাপ শোনে। আজও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। চায়ে চুমুক দিয়েই রাশেদ বলতে শুরু করল, তিন বছর ধরে লিটন ভাইয়ের দোকানে চা খেয়ে যাচ্ছস। চা বানানোর সিস্টেমটা ভালো করে খেয়াল করছিস?

চা বানানোর পদ্ধতি

চা চাওয়ার আগেই, লিটন ভাই কেটলির মধ্যে গরম পানিতে চা পাতা দিয়ে চুলার ওপরে বসিয়ে রাখে। চা চাওয়ার সাথে সাথে, কাপের মধ্যে চিনি আর কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে, ভালোভাবে নেড়ে, চা বানিয়ে দেয়। এই চা বানানোর জন্য অনেকগুলো ছোটখাটো, খুচরা-খাচরা কাজ করা লাগে। যেমন—   চা পাতা দেওয়া, চিনি দেওয়া, কনডেন্সড মিল্ক নেওয়া, চামচ দিয়ে নাড়া ইত্যাদি।

চা বানাতে গেলে যেসব ছোটখাটো খুচরা-খাচরা কাজ করা লাগে সেগুলোকে একসাথে বলতে পারিস— চা বানানোর পদ্ধতি। কেউ চা বানাতে বললে, লিটন ভাই একটার পর একটা ছোটখাটো কাজ করে চা বানিয়ে দেয়। এই চা বানানোর পদ্ধতিকে, চা বানানোর কাজ বা চা বানানোর প্রোগ্রামও বলতে পারিস।

প্রোগ্রাম কী জিনিস

শোন, প্রোগ্রাম হচ্ছে একটা কাজ বা অনেকগুলা খুচরা-খাচরা কাজের সমষ্টি। সেই কাজগুলো যদি লিটন ভাই করে, তাহলে সেটা লিটন ভাইয়ের প্রোগ্রাম, তুই করলে তোর প্রোগ্রাম আর কোনো একটা কম্পিউটার করলে কম্পিউটারের প্রোগ্রাম।

কলা ছিঁড়ার প্রোগ্রাম

চা বানানো ছাড়াও লিটন ভাই অনেক কাজ করে। যেমন, তুই লিটন ভাইরে একটা কলা দিতে বললে, সে একটা কলা ছিঁড়বে। তারপর সেটা তোকে দিবে। শুধু তুই কলা চাইলেই যে লিটন ভাই কলা ছিঁড়ে দিবে তা কিন্তু না। বরং অলিল, খলিল, জলিল যে কেউ এসে কলা চাইলে লিটন ভাই ওই একই পদ্ধতিতে কলা ছিঁড়ে দিবে। যেহেতু কলা ছিঁড়ার একই পদ্ধতি ব্যবহার করে বারবার কলা ছিঁড়ে, সেহেতু কলা ছিঁড়ার পদ্ধতিটাও একটা প্রোগ্রাম।

এই কলা ছিঁড়ার প্রোগ্রাম কেউ একজন লিটন ভাইরে ছোটবেলায় শিখায় দিছে। তারপর কলা দিতে বললেই, লিটন ভাই তার মাথার ভিতরের কলা ছিঁড়ার প্রোগ্রামটা চালিয়ে কলা ছিঁড়ে। কলা ছিঁড়ার একটা প্রোগ্রাম দিয়েই সে সাগর কলা, চাম্পা কলা, বাংলা কলা, বিচি কলাসহ সব কলা ছিঁড়ে দিতে পারে।

মোবাইলে কল করার প্রোগ্রাম

আরেকটা উদাহরণ দিই। ধর, তোর মোবাইলে কারও ফোন নাম্বার লিখে কল করলেই সেই নাম্বারে কল চলে যায়। এই কল করার পদ্ধতি ব্যবহার করে তুই তোর আব্বুকে কল করতে পারিস। একই পদ্ধতি ব্যবহার করে তোর আম্মুকে কল করতে পারিস। আবার সেই একই পদ্ধতি ব্যবহার করে তোর প্রেমিকাকেও কল করতে পারিস। যাকেই কল করিস না কেন, মোবাইল থেকে কল করার সিস্টেম কিন্তু একই।

যেহেতু কল করার একই পদ্ধতি ব্যবহার করে বিভিন্ন জনকে কল করা যায়, সেহেতু মোবাইল কল করার পদ্ধতিও একটা প্রোগ্রাম। 

প্রোগ্রামের বৈশিষ্ট্য

শোন, প্রোগ্রাম যে শুধু লিটন ভাইয়ের মাথায় আর তোর মোবাইলের ভিতরে থাকে, তা কিন্তু না। তোর মাথার ভিতরেও অনেক প্রোগ্রাম আছে। যেমন, তুই প্রতিদিন একই পদ্ধতিতে হাত দিয়ে ভাত খাস। এই ভাত খাওয়ার পদ্ধতি ছোটবেলায় তোর আম্মু তোকে শিখিয়ে দিয়েছে। এখন একই পদ্ধতি ব্যবহার করে বারবার ভাত খেতে পারিস। তাই ভাত খাওয়ার পদ্ধতিও একটা প্রোগ্রাম। একইভাবে দাঁত ব্রাশ করা, গোসল করা, টিভি দেখা, রিকশায় ওঠা, বাস থেকে নামাসহ যেসব কাজ তুই একই পদ্ধতিতে বারবার করিস, তার সবকিছুই প্রোগ্রাম।

তার মানে, প্রোগ্রাম হচ্ছে —

  1.  এক বা একাধিক ছোটখাটো কাজের সমষ্টি
  2.  একবার শিখে ফেললে একই পদ্ধতিতে বারবার করা যায়

প্রোগ্রাম খায়, পরে, না মাথায় দেয়

আজকের পর থেকে কেউ যদি জিজ্ঞেস করে, প্রোগ্রাম কী জিনিস? এইটা খায়, পিন্দে, না মাথায় দেয়? সাথে সাথে তুই চোখ বন্ধ করে বলে দিবি—

প্রোগ্রাম হচ্ছে এক বা একাধিক ছোটখাটো, খুচরা-খাচরা কাজের সমষ্টি, যেটা কেউ একজন একবার শিখিয়ে দেয়। পরবর্তীতে, ওই কাজ একই পদ্ধতিতে বারবার করা যায়।

সেটাও মনে রাখতে না পারলে বলে দিবি, লিটন ভাইয়ের চা বানানোই একটা প্রোগ্রাম।

নিজে নিজে কর

১.১: দৈনন্দিন জীবনে যেসব কাজ করস, সেখান থেকে এমন একটা কাজের নাম লেখ, যেটা একই পদ্ধতিতে বারবার করা যায়। ভাত খাওয়া, দাঁত ব্রাশ করা, রিকশায় ওঠা বাদ দিয়ে অন্য একটা লেখ।

উত্তর:

১.২: ক্রিকেট খেলায় আম্পায়ার যেসব কাজ করে, সেখান থেকে এমন একটা কাজের নাম বল, যেটা আম্পায়ার একই পদ্ধতিতে বারবার করে।

 উত্তর:

১.৩: মোবাইল ফোন দিয়ে একই পদ্ধতিতে বারবার করা যায় এমন আরেকটা কাজের নাম লেখ। অবশ্যই কল করা ছাড়া অন্য আরেকটা কাজের নাম লিখবি।

উত্তর:

…ওপরের হিজিবিজি মার্কা প্রশ্ন দেখে মাথা ঘুরে অজ্ঞান হওয়ার আগেই  www.habluderAdda. com/basic/program.html-এ যা। সেখানে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারবি, অন্যদের উত্তর দেখতে পারবি, এমনকি তিব্বত কদুর তেল দিয়ে মাথা ঠান্ডা রাখতে পারবি।


ঝংকার মাহবুবের অন্যান্য লেখা সম্পর্কে জানতে চলে যাও এই লিংকে!
ঝংকার মাহবুবকে ফলো করতে পারো ফেসবুক পেইজেও!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

Author
Jhankar Mahbub

Jhankar Mahbub

খুব অল্প বয়সেই লেখালেখি শুরু করেন ঝংকার মাহবুব। শুরুটা ছিল বাসার দেয়ালে, বোনদের বইয়ের পাতাতে, কিংবা ঘুমন্ত অবস্থায় বাবার শরীরে আঁকাআঁকি করে। তারপর থেকে তিন দশক ধরে উনার লেখালেখির পুরোটাই গেছে পরীক্ষার খাতায়, পাশ নম্বরের আশায়।
Jhankar Mahbub
এই লেখকের অন্যন্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?