হয়ে ওঠো পাওয়ারপয়েন্টের জাদুকর!

পাওয়ারপয়েন্ট নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভাসে সেই অতি পরিচিত সফটওয়্যারটি, প্রেজেন্টেশন বানানোর ক্ষেত্রে যার বিকল্প নেই বললেই চলে। দারুণ দরকারি এই সফটওয়্যারটির কাজের ক্ষেত্র কিন্তু শুধুমাত্র প্রেজেন্টেশনেই সীমাবদ্ধ নেই! বরং বলতে গেলে প্রেজেন্টেশনের স্লাইড বানানো পাওয়ারপয়েন্টের অনেকগুলো কাজের একটা মাত্র। মজাদার এই পাওয়ারপয়েন্ট দিয়ে দারুণ সব কাজ করে ফেলা যায়, যেগুলো তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে তোমাকে অনেকটা এগিয়ে রাখবে অন্যদের থেকে। তাহলে চলো দেখে আসা যাক পাওয়ারপয়েন্টের জাদু!

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

১। খুব সহজে ভিডিও বানানো:

পাওয়ারপয়েন্ট দিয়ে যে ভিডিও বানানো যায়, ব্যাপারটা শুনে অবাক হলে বুঝি? আসলেই পাওয়ারপয়েন্ট ব্যবহার করে দারুণ সব ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। দরকার শুধু সঠিক ব্যবহারটা জানা।
আমরা অনেকেই কিন্তু দেখেছি পাওয়ারপয়েন্টের সাহায্যে এনিমেশন করা। একটা লেখা বা ছবি অন্য দিকে চলে যায়, উড়তে থাকে- এমন কত কি। এগুলোকে যদি সেভ করার সময় mp4 এ কনভার্ট করা যায়, তাহলেই দারুণ মজাদার আর কাজের সব ভিডিও বানানো খুবই সম্ভব!

২। ইলাস্ট্রেটরের বিকল্প:

ইলাস্ট্রেটরে কাজ করতে গিয়ে অনেকেরই অনেক রকম সমস্যা হয়, যার মূল কারণ হলো এর কাজ বোঝা একটু জটিল। পাওয়ারপয়েন্টে এসব জটিলতার বালাই নেই, তাই প্রথমবার ডিজাইন করতে এসে যে কেউ মহানন্দে চমৎকার সব ডিজাইন করে ফেলতে পারে!

৩। নিজেই তৈরি করো ইনফোগ্রাফিক:

ইনফরমেশন আর গ্রাফিক- দুয়ে মিলে ইনফোগ্রাফিক। জটিল সব তথ্য গ্রাফিকে দেখিয়ে সহজে বুঝিয়ে দেবার অস্ত্র হলো ইনফোগ্রাফিক। দারুণ এই জিনিসটি তৈরি করা কিন্তু খুব কঠিন কিছু নয়!

তোমার পাওয়ারপয়েন্টের স্লাইডটিকে একটু লম্বা করে নাও, তারপর তোমার ছবি আর ইনফরমেশনগুলো সেখানে বসিয়ে ডিজাইন করে ফেলো। তারপর pdf বা ছবি আকারে এক্সপোর্ট করে ফেলো। তাহলেই হয়ে গেল তোমার ইনফোগ্রাফিক!

৪। আর নয় কভার ডিজাইন নিয়ে ঝামেলা:

আমরা অনেক সময় অনেক কাজেই কভার ডিজাইন নিয়ে ঝামেলায় পড়ি। ধরো তুমি তোমার ব্যাচ থেকে কোন ম্যাগাজিন বের করতে চাচ্ছো, সেটির জন্যে কভার ডিজাইন লাগবে। আবার যেকোন টার্ম পেপার বা এসাইনমেন্টের কভার ডিজাইন করতেও প্রায়ই ঘাম ছুটে যায় সবার।

অথচ পাওয়ারপয়েন্ট ব্যবহার করলে এই কাজটিই হয়ে যায় মহা সহজ! পাওয়ারপয়েন্টে সব ধরণের টুলস দেয়াই আছে, দরকার শুধু তোমার সদিচ্ছা আর সৃজনশীলতা।

বেরিয়ে এসো নিজের খোলস থেকে!

প্রেজেন্টেশান দেয়ার সময় কিছু ট্রিক্স তোমার প্রেজেন্টেশানকে করে তুলবে আরও আকর্ষণীয়।

আরও জানতে নিজেই ঘুরে এসো ১০ মিনিট স্কুলের এক্সক্লুসিভ এই প্লেলিস্টটি থেকে। 😀

১০ মিনিট স্কুলের Presentation Skills সিরিজ

৫। নিজের সিভি নিজেই ডিজাইন করো:

বিভিন্ন জব সেক্টরে চাকুরির জন্যে দরকার হয় একটি সিভি। তোমার সিভিই চাকুরির বাজারে তোমার পরিচয়, আর তাই সেটিকে হতে হয় চমৎকার। পাওয়ারপয়েন্ট দিয়ে এই মানসম্মত সিভি তৈরি করা সহজ হয়ে যায় অনেকটাই!

কিংবা ধরো কোন গুরুত্বপূর্ণ মানুষের সাথে পরিচিত হতে চাও তুমি। পাওয়ারপয়েন্টে ডিজাইন করা নিজের একটা বিজনেস কার্ড থাকলে ঝটপট তাকে দিয়ে ফেলে স্মার্টলি পরিচিত হতে পারো তুমি! দরকার শুধু বিভিন্ন সাইজে ডিজাইন করা তোমার সিভি।

৬। এনিমেশন তৈরি এখন হাতের নাগালে:

টিভি বা কম্পিউটারের পর্দায় এনিমেটেড কার্টুন দেখে বিমলানন্দ পাই আমরা সবাই। কিন্তু যদি বলি, এ ধরণের এনিমেশন তুমি ঘরে বসেই করতে পারবে? অবিশ্বাস্য লাগছে না শুনতে?

অবিশ্বাস্য হলেও এটি সত্যি। পাওয়ারপয়েন্টের জাদুর ছোঁয়ায় তুমিও পারবে নানা রকম এনিমেশন করে নিজের স্কিল বাড়াতে। সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে করতে অভিজ্ঞ হয়ে উঠতে পারো এনিমেশনেও।

৭। ওয়েবসাইট ডিজাইন করো নিজেই:

আমি যদি বলি, তোমরা এখন যে 10 Minute School এর ওয়েবসাইটটি দেখছো, সেটির পুরো ডিজাইন করা হয়েছে পাওয়ারপয়েন্টে?

অস্বাভাবিক শোনালেও এটাই সত্যি, যে পাওয়ারপয়েন্টের সাহায্যে ওয়েবসাইটের ডিজাইনগুলোও করা সম্ভব। পাওয়ারপয়েন্টে যেসব টুল রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করে নিজেই করে ফেলতে পারো একটি ওয়েবসাইটের ডিজাইন।

৮। ঝামেলাবিহীন লিফলেট ডিজাইন:

ধরো, তুমি ছোটখাট একটা ব্যবসা শুরু করেছো। তোমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে এখনো কেউ চেনে না। সবাইকে চেনাতে হলে তাই দরকার ব্যাপক প্রচার। এটির শুরু করতে হবে তোমাকে লিফলেট তৈরি করে। না, অমুক ভাইকে তমুক মার্কায় ভোট দিন- এরকম লিফলেট তৈরি করলে কিন্তু হবে না!

পাওয়ারপয়েন্টে একটি স্লাইড নিয়ে সেটি A4 সাইজ করে মনমতো ডিজাইন করে ফেলো। তারপর সেটিকে প্রিন্ট করো। বাস, হয়ে গেল তোমার লিফলেট!

পাওয়ারপয়েন্ট ব্যবহার করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে ফেলা যায়! তাই, আর দেরি না করে ১০ মিনিট স্কুলের এক্সক্লুসিভ এই প্লে-লিস্টটি থেকে ঘুরে এসো, এক্ষুনি!

৯। ফেসবুক পোস্ট ডিজাইন করা:

তুমি নিশ্চয়ই দেখেছো ফেসবুকে বড় বড় পেজগুলো বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করে, যেগুলোর কোনটিতে হয়তো কোন বিজ্ঞাপন, কোনটিতে announcement আবার কোন কোনটি তথ্য নিয়ে। এই পোস্টগুলো কিন্তু তুমিও বানিয়ে ফেলতে পারো! কিভাবে?

প্রথমে পাওয়ারপয়েন্টে যাও। এরপর তোমার স্লাইডটাকে Square আকারে রাখো। তারপর ওটার উপরে ডিজাইন করেই ছবি আকারে এক্সপোর্ট করো। এবং এরই সাথে সাথে তুমিও বানিয়ে ফেললে চটকদার ফেসবুক পোস্ট!

তাহলে আর দেরি কেন? ঝটপট ঘুরে এসো পাওয়ারপয়েন্টের রাজ্য থেকে আর নিজেকে দক্ষ করে তোলো প্রযুক্তির নতুন এই যুগে।

লেখাটি লিখতে সহায়তা করেছে অভিক রেহমান
এই লেখাটি নেয়া হয়েছে লেখকের ‘নেভার স্টপ লার্নিং‘ বইটি থেকে। পুরো বইটি কিনতে চাইলে ঘুরে এসো এই লিংক থেকে!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

What are you thinking?