দেশে দেশে মা দিবস

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

“মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু জেনো ভাই, ইহার চেয়ে মধুর নাম ‍ত্রিভূবনে নাই।”

– কাজী কাদের নেওয়াজ

বহুল ব্যবহৃত কবিতার এই লাইনটি অত্যন্ত সুন্দর এবং বাস্তবিক অর্থে চিরন্তন সত্য। নশ্বর এই পৃথিবীতে আমাদের সবচেয়ে আপন ও কাছের মানুষ হচ্ছে মা। যত কষ্টই থাকুক না কেন, মায়ের কথা মনে হলে নিজের অজান্তেই যেন ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠে। যে মানুষটি সকল বিপদে আমাদের পাশে ছায়ার মত থাকেন তিনি আর কেউ নন, আমাদের সকলের প্রিয় মহীয়সী মা জননী।

আর তাই পৃথিবীর তাবৎ মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার পালিত হয় বিশ্ব মা দিবস। মাকে শ্রদ্ধা বা ভালোবাসা জানানোর রীতি এক এক দেশে বা সমাজে এক এক রকম।

আজ আমরা জানবো, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই বিশেষ দিবসটি কীভাবে উদযাপন করা হয়।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

১। USA বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র:

১৮৭০ সালে ইংলিশ কবি জুলিয়া ওয়ার্ড গৃহযুদ্ধকে নিয়ে “Battle Hymn of the Republic” নামে একটি গান লেখেন সে গানে সুরে সুরে তিনি মা দিবসের কথা বলেন। ১৮৭২ সালে তিনি বছরের একটি দিনকে মা দিবস ঘোষণা করে দিনটিকে অফিসিয়ালি পালন করার জন্য প্রস্তাব করেন।

পরবর্তীতে আন্না জাভিস নামে একজন সুকন্যা এ দিনটিকে সরকারি ছুটির দিন করার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চালান। তাঁর প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ ১৯১৪ সালে তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Woodrow Wilson মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মা দিবস হিসেবে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন।

“বছরের একটা দিন তারা পরিবার এবং মায়েদের সাথে দেখা করতে আসে এবং মায়ের পছন্দের ফুলটি উপহার দেয়।”

২। UK বা মার্কিন যুক্তরাজ্য:

১৬০০ অব্দে ইংল্যান্ড সর্বপ্রথম মা দিবস পালন করার জন্য একটি দিন ঠিক করে যা Mothering day নামে পরিচিত ছিল। ইংল্যান্ডে প্রথা অনুসারে পরিবারের ছেলে-মেয়েদের কাজ এবং পড়াশুনার জন্য বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। বছরের একটা দিন তারা পরিবার এবং মায়েদের সাথে দেখা করতে আসে এবং মায়ের পছন্দের ফুলটি উপহার দেয়।

মেয়েরা মায়ের জন্য তার পছন্দের কেক বানায়। দিনটি ছিল ইস্টার সানডের ঠিক তিন সপ্তাহ আগে। শিল্প বিপ্লবের পর থেকে এ প্রথাটি বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে USA-এর সাথে মিল রেখে মে মাসেই মা দিবস পালন করা হয় এ দেশটিতে।

জেনে নাও জীবনকে উপভোগ করার উপায় !

জীবনে সহজ ভাবে চলার জন্য জানা দরকার কিছু লাইফ হাক্স।

দেখে নাও আজকের প্লে-লিস্টটি আর শিখে নাও কিভাবে সাফল্য পাওয়া যায়!

১০ মিনিট স্কুলের Life Hacks সিরিজ

৩। Japan:

JAPAN-এ এই দিনটি Haha-no-hi নামে পরিচিত। এ দিনটিতে ছেলে-মেয়েরা খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে একটি সুন্দর বার্তার মাধ্যমে মাকে শুভেচ্ছা জানায় এবং মাকে তার পছন্দের ফুলটি উপহার দেয়। এটি মূলত জাপানের সম্রাজ্ঞী কুজন-এর জন্মদিন পালনের সময়, জাপানী ভাষায় যাকে বলা হয় শওয়া।

কিন্তু অনেকেই মনে করেন খ্রিস্টধর্মালম্বীদের অনুসরণে ১৯১৩ সালে এ দিনটি পালন করা শুরু হয়। ১৯৪৯ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিনটি উদযাপন করা হয়। এ দিনটিতে সরকারি ছুটি থাকে।

৪। Germany:

গ্রীকরা প্রথম মা দিবস-এর প্রচলন শুরু করে। শুরুর দিকে গ্রীকরা Zeus-এর মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনটি পালন করতেন। পরবর্তীতে এটি সকল মায়ের জন্য পালন করা হয়। ১৯২২ সালে প্রথম মা দিবস পালন করা হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত জার্মানিতে একটি বিশেষ প্রথা চালু ছিল। মায়েদের সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য স্বর্ণ, রৌপ্য ও তামার মেডেল দেয়া হতো। পরবর্তীতে এ প্রথাটি বাতিল হয়ে যায়। মাকে সুন্দর একটি ফুলের তোড়া ও কার্ড উপহার দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়। জার্মানিতেও দিনটি সরকারি ছুটির দিন।

এখন পড়াশোনা হবে আরো সহজে, স্মার্টবুকের সাহায্যে। কারণ স্মার্ট তোমার জন্যে প্রয়োজন স্মার্টবুক!

৫। France:

ফ্রান্স ইউরোপের বৃহত্তম দেশ কিন্তু জনসংখ্যা অনেক কম। নেপোলিয়ন এজন্য মা দিবস পালনের কথা ভাবেন। কিন্তু তখন এটি তেমন করে সম্ভব হয় নি। পরবর্তীতে ১৯১৫ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকান প্রথা অনুযায়ী ফ্রান্সে মা দিবস পালনের প্রচলন শুরু হয়।

কিন্তু ফ্রান্সে মা দিবস পালিত হয় মে মাসের শেষ রবিবার যা Fête des Mères নামে পরিচিত। সবচেয়ে মজার বিষয় হল এ দিনটিতে সন্তানরা তাদের মায়েদের জন্য গল্প ও কবিতা লিখে মায়ের জন্য তাদের ভালবাসা প্রকাশ করে।

মা আমাদের সকলের কাছেই অত্যন্ত প্রিয়জন, আত্মার আপন। মায়ের জন্য ভালোবাসা সার্বজনীন। বছরের নির্দিষ্ট একটি দিন নয়, বরং প্রতিটি দিনই হোক মা দিবস আমাদের সবার জন্য।

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে মনিরা আক্তার লাবনী


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Farhana Eirin

Farhana Eirin

ভালবাসি বই পড়তে আর টুকটাক লিখতে পছন্দ করি।
Farhana Eirin
What are you thinking?