Nervousness- কে জয় করার ৭টি উপায়

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

‘একটু পরেই স্টেজে উঠতে হবে। আমি ঠিকঠাক প্রেজেন্টেশন দিতে পারবো তো?’ কিংবা, ‘ইন্টারভিউ তো একটু পরেই, কী হবে ভেতরে?’ পরিস্থিতিগুলো অনেকটা পরিচিত লাগছে, তাই না? খুব সম্ভবত তুমি এই ব্লগটি পড়ছো কারণ, nervousness-এর শিকার তুমি কয়েকবার হয়েছো। এবং, তুমি কাজের প্রতি nervous না থেকে confident থাকতে ইচ্ছুক।

আমাদের সবার, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সাধারণ জীবনে এমন কতগুলো মুহূর্ত চলে আসে যখন এক প্রকার ভয়ের উদ্দীপনা বেশ জোরালো অবস্থায় কাজ করে। (বলে রাখা ভালো যে, এই nervousness একটি উদ্দীপনা ছাড়া আর কিছুই নয়। কেন, তা একটু পরে বুঝিয়ে বলছি।)

ধরো, একটু পরেই পরীক্ষার হলে ঢুকতে যাওয়া, বা ইন্টারভিউ দিতে হচ্ছে, প্রেজেন্টেশনের খুব একটা সময় নেই, কিংবা স্কুল-কলেজে উপস্থিতভাবে কোন বক্তব্য দেওয়ার আগ মুহূর্তে, বিতর্ক করার আগে- এসব সময়ে আমরা প্রচুর ঘামতে শুরু করি, সবচেয়ে ভয়াবহ সম্ভাবনাটির কথা ভাবি, আমাদের হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, তাই না?

এবার ঘরে বসেই হবে মডেল টেস্ট! পরীক্ষা শেষ হবার সাথে সাথেই চলে আসবে রেজাল্ট, মেরিট পজিশন। সাথে উত্তরপত্রতো থাকছেই!

প্রথমে বুঝে নেয়া উচিত আমাদের nervous হবার কারণ। মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, আমাদের অচেতন মন (unconscious mind)কোন কিছু ঘটে যাওয়ার আগেই তার ভেতরকার সম্ভাবনাময় বিপদকে খানিকটা অনুভব করতে পারে। ফলে আমরা ঐ বিপদের আশঙ্কাকে বুঝতে পারি। যেমন, ‘কী হবে যদি স্টেজে গিয়ে যা বলার তা ভুলেই যাই?’ অথবা, ‘পরীক্ষা অনেক বেশি কঠিন হলে কী করব?’- এই চিন্তাগুলো একটি বিপদের আশঙ্কার উপর ভিত্তি করে অনুমান করা হচ্ছে। যা বাস্তব নয়, যা এখনও ঘটেনি, তা-ই আমাদের মন সত্য বলে ধরে নিচ্ছে আগে থেকেই।

Nervousness-ঘটিত উদ্দীপনা প্রত্যেকটি মানুষের হয় এবং এটা খুবই স্বাভাবিক একটা শারীরিক-মনস্তাত্ত্বিক ক্রিয়া। একে অস্বাভাবিক ভাবা, অথবা ‘এই উদ্দীপনা হতে দেয়া যাবে না’ বলে মন স্থির করে নেয়া উচিত নয়। এতে কোন সমাধান হবে না।
তবে কেমন হতো, যদি এই nervousness দ্বারা আমরা আর ক্ষতিগ্রস্ত না হতাম? চলো, তবে দেখে নিই nervousness-কে জয় করার ৭টিউপায়:

১. নিজের কল্পনার শিকার হবে না:

এখন আমরা জানি কীভাবে আমাদের অচেতন মনের স্বাভাবিক ক্রিয়া আমাদের nervous হবার উদ্দীপনাগুলো দেয়। যখন আমরা অনেক কিছুই আগে থেকে অনুমান করে নিচ্ছি, তখন এই অনুমানকেই আসল ফলাফল হিসেবে ধরে নিলে খুব বড় ভুল করা হবে।

যেমন, একটা ইন্টারভিউ-এর উদাহরণই দেয়া যাক, x কিছুক্ষণ পরেই ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছে এবং অনুভব করছে যে তার ইন্টারভিউটি কোন কারণে মনের মত হবে না, সে কোন-না-কোন ভুল করে বসবে, সে বাদ পড়ে যাবে, ইত্যাদি। তখন ঐ ভাবনাকে (যা সত্যি নয়) যদি x সত্যি বলেই ধরে নেয়, তবে দেখা যাবে সে তার অজান্তেই nervous হয়ে যাবে এবং সত্যি সত্যিই তার ইন্টারভিউটি ভাল হবে না। তার মানে x কেবলই তার এক বিমূর্ত কল্পনার শিকার হচ্ছে।

তাই বুঝে নিতে হবে যে nervousness-এর উদ্দীপনার কারণে দুশ্চিন্তা শুধুই একটি অনুমান মাত্র, এবং এই অনুমানকে যৌক্তিক মনে করার মধ্যে কোন ভিত্তি নেই। এই দুশ্চিন্তা তোমার অজান্তেই তোমার মনকে নার্ভাস করে ফেলবে। তাই এখানে সবচেয়ে যৌক্তিক কাজ হচ্ছে দুশ্চিন্তায় অগোছানো ভাবনাগুলোকে আবার পরিষ্কারভাবে গুছিয়ে নেয়া। আর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের এবং নিজের প্রস্তুতির উপর বিশ্বাস রাখা, আর তার ফলাফল (তা যা-ই হোক না কেন) ইতিবাচক দৃষ্টিতে মেনে নেয়ার সাহসিকতা রাখা।

ঘুরে আসুন: যেই ৫টি উক্তি তোমার জীবনে ইতিবাচক প্রভাব আনতে পারে

২. পরিস্থিতি বুঝে শান্ত হওয়া:

কী, শুনতে অবাক লাগছে, তাই না? হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা অ্যালিসন ব্রুকস-এর গবেষণামতে, যেকোনো কঠিন মুহূর্তে পরিস্থিতিটি না বুঝেই শান্ত হবার অনরবত চেষ্টা করা মানে নিজের ভীতিকে বাড়িয়ে তোলা। কারণ, আমরা যখনই nervousness-এর উদ্দীপনাগুলো অনুভব করি, তখন আমাদের এটিকে জয় করার একটা সহজাত ধাপ হয়ে যায় বারবার মনকে শান্ত করার অনর্গল চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

এখানে দ্রুতই শান্ত হয়ে যাবার সম্ভাবনা খুবই কম। মনে রাখা জরুরি- নিজের ওপর আরোপ করে কখনও মনকে শান্ত করা সম্ভব নয়। সুতরাং, পরিস্থিতিটিকে ভালো করে যাচাই করে নিতে হবে।

জেনে নাও লিডারশীপ এর খুঁটিনাটি!

জীবনে সহজ ভাবে চলার জন্য জানা দরকার কিছু লাইফ হাক্স।

দেখে নাও আজকের প্লে-লিস্টটি আর শিখে নাও কিভাবে সাফল্য পাওয়া যায়!

১০ মিনিট স্কুলের Life Hacks সিরিজ

৩. কয়েকবার জোরে শ্বাস নাও:

নিজেকে শান্ত করার এই ধ্রুপদী বা ক্লাসিক্যাল পদ্ধতি সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি। তবে এর কার্যকারিতা সত্যিই বেশ আশ্চর্যজনক। সাধারণ শ্বাসপ্রশ্বাস আমাদের বেঁচে থাকার জন্য জরুরি। কিন্তু, কী হয় যখন আমরা জোরে শ্বাস নিই?

যখনই nervousঅনুভব করবে, প্রথমত নাক দিয়ে দীর্ঘশ্বাস নেবে। কিছুক্ষণ ধরে রেখে তা মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে ছেড়ে দেবে। এটা ক্রমাগত কয়েকবার করবে। এতে আমাদের রক্তচলনের ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে আমাদের মস্তিষ্ক থেকে এন্ডোরফিন নির্গত হয়। এই এন্ডোরফিন আমাদের শারীরিক ব্যথা, দুশ্চিন্তা এবং নার্ভাসনেস সরিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। ফলে দীর্ঘশ্বাস নিলে মন শান্ত হয়ে আসবে কিছুক্ষণের মধ্যেই।

৪. দৃষ্টিভঙ্গিই সব:

তোমার জন্য একটা ছোট্ট প্রশ্ন, কী হয় যখন আমরা অত্যন্ত nervous হয়ে যাই? আমাদের হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, আমরা ঘামতে শুরু করি এবং কী হতে পারে তা একটু বুঝতে পারি, তাই না? এবার বলো, কী হয় যখন আমরা অনেক বেশি excited অনুভব করি? মজার বিষয় হচ্ছে, তখনও আমাদের হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, আমরা ঘামতে শুরু করি এবং কী হতে পারে তা খানিকটা বুঝতে পারি।

এটা কী করে সম্ভব যে nervous এবং excited হবার চিহ্নগুলো হুবহু এক? এখন বলছি কেন nervousness কেবলই একটি উদ্দীপনা ছাড়া আর কিছুই নয়।

বৈজ্ঞানিকভাবেই nervousness এবং excitement-এর শারীরিক ও মানসিক ক্রিয়াগুলো সম্পূর্ণ এক। পার্থক্যটা দাঁড়ায় যার যার এই উদ্দীপনাকে দেখার ভঙ্গিতে। অনেকেই একে ‘নার্ভাসনেস’ বলেন এবং দুর্ভাগ্যক্রমে খুব অল্প সংখ্যক মানুষই এই উদ্দীপনাকে ‘এক্সাইটমেন্ট’ বলে মেনে নেন।

উদাহরণস্বরূপ:যেকোনো ভাল খেলোয়াড়ের, বা পেশাদার পাবলিক স্পীকারের মাঠে বা মঞ্চে উঠার আগে যখন এই উদ্দীপনাগুলো কাজ করে, তখন তাঁরা এটিকে ‘Nervousness’ না বলে ‘Excitement’ হিসেবে মেনে নেন। আর এই মেনে নেয়ামাত্রই তারা নিজেরাই হয়ে উঠছেন নিজেদের শারীরিক-মানসিক ক্রিয়ার একমাত্র নিয়ন্ত্রণকারী। তাই এরপর থেকে যখনই এই উদ্দীপনা কাজ করবে, নিজেকে বলবে, “আরে! এটা তো খুবই exciting!”

ব্লগটা পড়তে পড়তে চল খেলে আসি সংখ্যা নিয়ে কিছু ব্রেইন টিজার গেইম!

৫. হয়ে ওঠো মনের একমাত্র নিয়ন্ত্রক:

ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে, ‘Mind is an excellent servant, but a terrible master.’ আমাদের মন দুইভাবে কাজ করে। এক, যখন মনের উপর আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে। এবং দুই, যখন আমাদের উপর মনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে।

অতএব, তোমার সবসময়ই মনের প্রতি সজাগ থাকতে হবে। বুঝে নিতে হবে যে, এরকম উদ্দীপনার সময় ভাবনা একটি প্রবাহমান নদীর মত কাজ করে। এই নদীতে বেশিরভাগ সময়ই এমন সব ভাবনা থাকে যা আমাদের ইচ্ছার সম্পূর্ণ বিপরীত। এবং, খুব অল্পই থাকে সেই বাস্তবিক ভাবনাগুলো, যা ঐ পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো পরখ করা, যে কোন ভাবনাটির মধ্যে যৌক্তিকতা আছে আর কোনটির মধ্যে নেই। এবং সে অনুপাতে কোনটি গ্রহণযোগ্য তা বিচার করার দায়িত্বও একমাত্র তোমার।

৬. Unpredictabilityকে ভালবাসতে শেখো:

Unpredictable কোন কিছু,বা যা আগে থেকে বলা ও অনুমান করা যায় না, তা নিয়ে অহেতুক দুশ্চিন্তায় থাকার কোন মানে নেই। এখানে দৃষ্টিভঙ্গির একটা ব্যাপার আছে। এই unpredictability-কে ভালবাসা বলতে বোঝানো হয় যা অজানা, তার প্রতি এক প্রকার excitement কাজ করা।

ঠিক যেমন পাহাড়ে চড়া, কিংবা জঙ্গল ভ্রমণের মধ্যে বিভিন্নরকমের বিপদ হতে পারে, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে জেনেও সাহসী মানুষরা থেমে থাকেন না, রোমাঞ্চকর মনে করে এগিয়ে যান, ওভাবেই জীবনের প্রতিটা মুহূর্তকে unpredictable ভেবে নিলে কোন মুহূর্তেই তোমার nervous লাগবে না। তা সবসময় রোমাঞ্চকরই থেকে যাবে।

৭. আত্মবিশ্বাসের চেয়ে বড় কিছুই নেই:

পৃথিবীর ইতিহাসে আত্মবিশ্বাসের অনেক নিদর্শন পাওয়া যায়। কী হতো, যদি স্টিভ জবস তার দূরদর্শিতা নিয়ে সামনে না এগিয়ে যেতেন? কী হতো যদি মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র তাঁর সেই প্রেরণাদানকারী ভাষণ “I have a Dream”-এর বার্তা জনসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে না দিতেন? কিংবা যদি নিকোলা টেসলা আত্মবিশ্বাসের সাথে দিনরাত না কষ্ট করতেন?

ঘুরে আসুন: Communication Skill গড়ে তোলার সহজ উপায়!

আমরা হয়তো শ্রেষ্ঠ প্রযুক্তি পেতাম না, মানুষ হয়তো তাদের অধিকার ও শোষণ সম্পর্কে সজাগ হতে পারতো না, হয়তো বিদ্যুৎ সংযোগ আমরা আজকের মতো করে পেতাম না। অর্থাৎ, পৃথিবীর সকল বিজয়ীরই এই উদ্দীপনা বিভিন্ন সময়ে কাজ করেছে। কেবলমাত্র কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ফলাফল নিয়ে মাথা না ঘামানোর কারণেই তারা জয়ী হতে পেরেছেন।

পরবর্তী সময়ে যখনই তোমার মনে হবে যে তুমি nervous, গভীরভাবে অনুভব করবে তুমি যা করতে যাচ্ছো তা কতটা রোমাঞ্চকর, গুরুত্বপূর্ণ। এবং রাখবে নিজের প্রতি অগাধ বিশ্বাস।

বিশ্ববরেণ্য দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলেরএকটি কথা মনে রাখবে:

“One of the symptoms of an approaching nervous breakdown is the belief that one’s work is terribly important.”

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে আব্দুল্লাহ আল মেহেদী


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Adnan Mahmud

Adnan Mahmud

Adnan Mahmud noticed the innermost connection between a paper and a pen, and became a witness to the celestial magic they produce.
Adnan Mahmud
এই লেখকের অন্যন্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?