প্যারেডোলিয়ার খপ্পরে: যে ধোঁকায় আমরা সবাই বোকা

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

প্যারেডোলিয়ার খপ্পরে পড়ে আমার তো সে এক নাজেহাল অবস্থা! রীতিমত ঘামছিলাম, হাত-পা কাঁপছিল বেশ। শব্দটা যেন কিছুতেই থামছে না। কী করা যায়? কী হয়েছিলো? প্যারেডোলিয়া-ই বা কী?

বলছি সবই।

আমরা মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকাই, আকাশের বিশালতা অনুধাবন করার চেষ্টা করি। আকাশের বিশালতাকে আমাদের মস্তিষ্ক গুগল বানিয়ে বসে। খুঁজতে থাকে সবকিছু। খুঁজে বেড়ায় দুঃখ, কষ্ট, জীবনের অর্থ, ভবিষ্যৎ, আনন্দ ইত্যাদি সবকিছুর না জানা কারণ।

আচ্ছা নিচের ছবিটি লক্ষ্য করো তো:

ছবিটি কি এডিটেড? মঙ্গলের মাটিতে এ কীসের মুখ! কোথা থেকে আসলো? কীভাবে সম্ভব?

কী? মনে প্রশ্ন জাগছে, তাই না?

হ্যাঁ, এরকম অসংখ্য অদ্ভুতূড়ে ছবি আমরা দেখতে পাই। কিন্তু এই ছবিটি মোটেও এডিট করা নয় বরং সত্যি সত্যিই ধারণ করা। তাহলে এটা কীভাবে সম্ভব?

তাহলে চলো তোমাদেরকে একটি শব্দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেই। সেটি হচ্ছে ‘প্যারেডোলিয়া’ (Pareidolia)।

আবেগপ্রবণ বা ভাবপ্রবণ হয়ে এলোমেলো, এলোপাতাড়ি, কাকতালীয় বা অর্থহীন কোনো তথ্য থেকে কোনো অর্থপূর্ণ নিদর্শন খোঁজার প্রবণতাকে বা শুধু অনুভূতির ভিত্তিতে অসংশ্লিষ্ট ও স্বতঃস্ফূর্ত নয় কিছু ঘটনার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বা মিল খুঁজে পাওয়াকে মনোবিজ্ঞানীরা এক ধরনের সাময়িক মনোবৈকল্য বলে ভাবেন।

‘সম্পর্কহীনতার অর্থপূর্ণতা’ খোঁজার এই প্রবণতাকে বলা হয় অ্যাপোফেনিয়া (Apophenia)। এটা অনেকটা বাংলা প্রবাদের ‘রজ্জুতে সর্পভ্রম’- এর ভ্রমকে সত্য মনে করে রজ্জু বা দড়িকে সাপ ভেবে নেওয়ার মত। আবার অ্যাপোফেনিয়ারই একটু অংশ, বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা, বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় থেকে আমরা যেসকল অর্থপূর্ণ কোনো ইঙ্গিত বের করে ফেলি এবং সেটিই বিশ্বাস করতে শুরু করি, সেই কৌতূহলী প্রবণতাকেই বলা হয় ‘প্যারেডোলিয়া’ (Pareidolia) যা দুটি গ্রীক শব্দ ‘Para’ (যার অর্থ ‘পরিবর্তিত’) এবং ‘eidolon’ (যার অর্থ ‘আকৃতি বা অবয়ব’) নিয়ে গঠিত।

বিশেষত ছবি বা শব্দ থেকে অস্পষ্ট কোন নিদর্শনকে স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে প্যারেডোলিয়া। এতে ভ্রান্তি, বিভ্রম ও ভুল উপলব্ধিকেই সত্য দাবী করার এক ধরণের গোঁয়ার্তুমি দেখা যায়।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

বুঝতে কষ্ট হলো? তাহলে একটু সহজভাবে বুঝিয়ে বলি।

আকাশে যখন মেঘের মিলন হয় তখন আমরা খুবই অদ্ভুত একটি কাজ করি। সেটি হচ্ছে মেঘের হাজারো লক্ষ আকৃতির মাঝে নিজের কল্পনায় আসা আকৃতিটি খুঁজে বেড়ানো। মেঘভরা আকাশের দিকে তাকিয়ে কোনো না কোনো অবয়ব খোঁজার চেষ্টা করি। মাঝে মাঝে পেয়েও যাই। মুখের আকৃতি, ঘোড়ার আকৃতি, ড্রাগনের আকৃতি, হাতের ইশারা, কোনো শব্দ, সংখ্যা, প্রতীক, বাংলা অথবা ইংরেজি অক্ষর, মানুষের মুখ, হাসি মুখ, গোমড়া মুখ ইত্যাদি কত কিছুই না মিলিয়ে ফেলি।

মজার বিষয় হচ্ছে মাঝে মাঝে এতোটাই স্পষ্ট হয়ে যায় অবয়বগুলো, যেন মনে হয় প্রকৃতি সত্যিই আমাদের সাথে মজা করছে। কিন্তু আসলে এগুলো প্রকৃতির সহজাত সৃষ্টি। বলতে পারো এক ধরনের ধোঁকা!

একটু সহজভাবে চিন্তা করো। দেখো এই বিশাল পৃথিবীর অগণিত বস্তু ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সবগুলোই কোনো না কোনো আকৃতি ধারণ করে। কিন্তু যে সকল সৃষ্টিতে মানুষের কোনে হাত নেই সেগুলো কিন্তু প্রকৃতির নিয়মেই বিচ্ছিন্ন আকৃতি ধারণ করে। তাই এসকল অগণিত আকৃতির মধ্যে আমাদের পরিচিত যে কোনো আকৃতি মিলে যেতে পারে। আর তখন আমরা অবাক হয়ে রহস্য ভেদ করার চেষ্টা করি।

তবে তোমরা কি জানো, মানুষের সৃষ্ট বিভিন্ন বস্তুর মধ্যেও প্যারেডোলিয়ার কবলে পড়ি আমরা? যেমন, কাঠের দরজায় বিভিন্ন মুখাবয়ব, একটি চিত্র আঁকতে গিয়ে সেখানে অন্য কিছুর অবয়ব ফুটে ওঠা, খাবারের মাঝেও বিভিন্ন আকৃতি খুঁজে পাওয়া, আরও কতো কী!

জীবনে নিয়ে আসো বৈচিত্র্য!

জীবনে শুধু পড়াশুনা করলেই হয় না। এর সাথে প্রয়োজন এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি। আর তার সাথে যদি থাকে কিছু মোটিভেশনাল কথা, তাহলে জীবনে চলার পথ হয়ে ওঠে আরও সুন্দর।

আর তাই তোমাদের জন্যে আমাদের নতুন এই প্লে-লিস্টটি!

Motivational Talks সিরিজ!

চলো প্যারেডোলিয়ার কিছু অসাধারণ ছবি দেখে নিই :

Dragon at dusk by Sarah Chisholm Photography

Area of apache.A green haired man in Ebihens,France.

A woman’s face in the clouds.Captured from Saquarema,Brazil by Helio C. Vital.

Scared kitten. Source: Unknown.

গুগল ফেইসেস এর প্রধান ডিজাইনার সেড্রিক কাইফার কিন্তু মঙ্গলের মাটিতে মুখাবয়ব দেখে বেশ চমকে গিয়েছিলেন। শুধু কাইফার না। বরং ছবিটি এতই বিখ্যাত বনে যায় যে, গবেষকরা প্যারেডোলিয়া নিয়ে একের পর এক গবেষণাপত্র জাহির করতে থাকেন। কাইফার ছবিটি দেখে বলেছিলেন :

‘’How the psychological phenomenon of pareidolia could be generated by a machine?’’

‘’It seems like there is some fascinating facts about pareidolia’’

অর্থাৎ বুঝতেই পারছো যে মঙ্গলের সেই ছবিটি প্যারেডোলিয়া নিয়ে গবেষণাকে কতোটাই উৎসাহিত করেছিলো!

চলো একটু সাইকোলজির দিকে যাই।

আসলে পুরো বিষয়টিই আমাদের মস্তিষ্কের তৈরি ধাঁধা। আমরা যখন কোনো বৃত্ত এবং বৃত্তের মাঝে কয়েকটি বিন্দু বা রেখা দেখতে পাই, তখন সেখানেও একটি মুখের আকৃতি কল্পনা করার চেষ্টা করি যা আমাদের এক সহজাত প্রবণতা।

আসলে এই ধরনের মুখমণ্ডল শনাক্ত করার প্রবণতা মানুষের মস্তিষ্কের কর্টেক্সে খুব দ্রুত পরিবহন করে। এই উদ্দীপনা পরিবহনের ক্ষমতা অন্যান্য উদ্দীপনার চেয়েও দ্রুততর এবং মস্তিষ্কও সেই উদ্দীপনায় খুব দ্রুত সাড়া প্রদান করে। আর আমরা খুব সহজেই মুখমণ্ডল আকৃতির নয় এমন বস্তুর মধ্যেও মুখমণ্ডল খুঁজে বের করার চেষ্টা করি।

কথায় বলে, MUN is fun! আসলেই কি তাই? নিজেই দেখে নাও এই প্লে-লিস্ট থেকে।

ম্যাগনেটো এনসেফালোজি পদ্ধতিতে মানুষের মস্তিষ্ক পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে মানুষের আকৃতি মনে হওয়া ১৬৫ মিলিসেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তাহলে একটু ভাবো কত দ্রুততার সাথে আমরা কল্পনা করে ফেলি!

আমরা তো জানি প্যারেডোলিয়া হচ্ছে অ্যাপোফেনিয়ার একটি অংশ। কিন্তু অ্যাপোফেনিয়ারও কিছু মজার উপাংশ আছে।

যেমন :

Over fitting (যখন কোন তথ্য মূল গবেষণার পরিবর্তে শুধু বিশেষ কোন তথ্যকে সন্তুষ্ট করে),

Gambler’s fallacy (জুয়াড়ির হেত্বাভাস যা মূলত তাস, লটারি বা জুয়াতে প্যাটার্ন খোঁজার প্রবণতা),

Hidden meanings (লুকায়িত বা প্রচ্ছন্ন অর্থ যেমন- ভাগ্য গণনা, ভবিষ্যদ্বাণী ও জ্যোতিষবিদ্যা, হাত দেখা বা অ্যাস্ট্রোলজিকে সত্য ভাবা),

Confirmation bias (নিশ্চিতকরণ পক্ষপাত। যাতে ধারণা ও বিশ্বাসকে সত্য ভেবে ও বিপরীত ধারণাকে অগ্রাহ্য করে বিশ্বাস মোতাবেক সমাধান খোঁজা হয়)

কয়েকটি মজার ঘটনা বলি।

রাণীর চুলে শয়তানের ভর! 

১৯৫৪ সালে কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাণী এলিজাবেথের ছবি সহ পাঁচ ডলারের নোট প্রকাশ করে এবং নোটটি বাজারে আসার পর থেকেই সবাই অভিযোগ করতে থাকে যে ছবিতে রাণীর চুলের একটি অংশ নাকি শয়তানের অবয়ব ধারণ করেছে। রীতিমত সাড়া ফেলে দেয় ব্যাপারটা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশ ঝামেলায় পড়ে যায়। তীব্র সমালোচনার মুখে এক পর্যায়ে তারা সকল পাঁচ ডলারের নোট নষ্ট করে নতুন ডিজাইনের নোট বাজারে ছাড়ে।

কে হাঁটছে চাঁদের মাটিতে? 

চাঁদের মাটিতে মানুষ হাঁটছে! কী ভয়ঙ্কর বিষয়! গুগল মুনে ঠিক এমনই একটি ছবি ধরা পড়ার পর তা রীতিমত হইচই ফেলে দেয়। এক পর্যায়ে নাসা বলতে বাধ্য হয় যে এটি সম্পূর্ণই প্যারেডোলিয়া এবং প্রকৃতির ধোঁকাবাজি।

প্যারেডোলিয়া যখন ধোঁয়ায় নাচে!

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার কথা তো সকলেরই মনে আছে । ঐ দুঃখজনক মূহুর্তেও কিছু কৌতূহলী মানুষ আগুনের ধোঁয়ার মাঝে কথিত শয়তানের অবয়ব দেখতে পেয়েছিলেন ।

ম্যাডোনা যখন স্যান্ডউইচে!

১৯৯৪ সালে আমেরিকার ঘটনা। ডায়ানা খুব মজা করেই স্যান্ডউইচ খাচ্ছিলেন কিন্তু ম্যাডোনার এই ভক্ত শেষমেষ স্যান্ডউইচেই ম্যাডোনাকে আবিষ্কার করে বসলেন।

ঘটনার এখানেই সমাপ্তি নয়। জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘eBay’-তে তিনি এই ছবি সম্বলিত স্যান্ডউইচের টুকরাটি তৎকালীন ২৮,০০০ ডলারে বিক্রি করেন!

একটি শিশু যখন জন্মগ্রহণ করে তখন তাকে কোনো মানুষের সামনে নিলে প্রথমেই মানুষটির মুখের সাধারণ কিছু কাঠামোকে বেশ ভালোভাবেই মনে রাখবে। অর্থাৎ মোটামোটি একটি গোল এবং চোখ ও নাক হিসেবে কয়েকটি বিন্দু সম্মিলিত চিত্রই যে একটি মুখকে নির্দেশ করে সেটিই তখন সদ্যজাত শিশু মনে করে নেয়।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলেছেন যে প্যারেডোলিয়ার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে মানুষের কিছু বিবর্তন। যেমন প্রাচীনকালে আত্মরক্ষার জন্য মানুষ চিহ্ন দেখেই সতর্ক হয়ে যেত। ফলে এভাবে যুগের পর যুগ একটি নির্দিষ্ট আকৃতি দেখেই সেই হিসেবে সিদ্ধান্ত নিতে শিখলো। এটা তাদের বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ঠ প্রয়োজনীয় ছিলো এবং এই ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ সাইকোলজিক্যাল সোসাইটির ক্রিস্টোফার ফ্রেঞ্চ একমত পোষণ করেন। বিষয়টি অনেকটা ‘দেজা ভ্যু’ এর কাছাকাছিও বটে।

[দেজা ভ্যু? সেটা আবার কী? জেনে নাও এখানে : http://10minuteschool.com/blog/what-is-deja-vu/ ]

কম্পিউটার বনাম প্যারেডোলিয়া:

গুগলের তৈরি ‘DeepDream’ এমন একটি ভিশন প্রোগ্রাম যা একটি চিত্রের Image Recognition প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে বৈশিষ্ট্যগুলোকে নির্দিষ্ট করা হয়। যেমন তুমি তোমার চারপাশের বিভিন্ন বস্তুকে তোমার কল্পনায় তোমার মতো করেই দেখো, কিন্তু DeepDream এর ওয়েবসাইটে তোমার আপলোড করা ছবিটি মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মধ্যেই বলে দিবে যে কম্পিউটার সেই ছবি কোন দৃষ্টিতে দেখছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার খুবই দারুণ একটি সৃষ্টি!

তুমি সহজেই চিনতে পারো :

আমরা মুহূর্তের মধ্যেই ভাবতে থাকি আমাদের পরিচিত কোনো অবয়ব বা পরিচিত কোনো শব্দ যা আমাদের দেখা অথবা শোনা জিনিসগুলোর কাছাকাছি রূপ ধারণ করে। অথবা অসংখ্য চিত্রকর্মের মধ্যেও আমরা আমাদের পরিচিত কোনো অবয়ব খুঁজে বেড়াই। এটি সম্পূর্ণই স্বাভাবিক একটি ঘটনা।
চলো আমরা নিচের এই লেখাটি পড়ে ফেলি-

‘’Hlleo evreyone, do yuo knwo that 10 munite scoohl live has one mllione memrbes?

অর্থাৎ তুমি সহজেই পড়ে ফেলেছো, যদিও কিছু বানানগুলোর বিন্যাস ভুল করে দেয়া হয়েছে। কেন বলো তো?
আসলে তুমি শব্দগুলোর সাথে আগে থেকেই পরিচিত। তাই খুব সহজেই তুমি ভুল শব্দগুলোর মাঝ থেকে তোমার সঠিক শব্দ ধরে নিয়েছো।
ঠিক প্যারেডোলিয়ার ব্যাপারটাও একইরকম। যা তোমার মাথায় ছিলো, সেটিই খুঁজো বারবার।

কানে ঠিক মতো শোনা যাচ্ছে তো?

আচ্ছা ছবি, আকৃতি, অবয়ব এই শব্দগুলোই কি শুধুমাত্র প্যারেডোলিয়ার সাথে সম্পর্কিত? উত্তর হচ্ছে- না।
আরো একটি প্যারেডোলিয়া আছে। যাকে বলে ‘অডিও প্যারেডোলিয়া’। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা একে বলেন ‘Musical Ear Syndrome’ । সুতরাং বুঝতেই পারছো তোমরা! যে এটিও একটি ভ্রম যাকে বলা হয় ‘শব্দের ভ্রম’।

বাস্তব জীবনে আমরা সকলেই কখনো না কখনো এই অডিও প্যারেডোলিয়ার ফাঁদে পা দিয়েছি। অসংখ্য শব্দ বা কথার মাঝে কিছু নির্দিষ্ট শব্দ বা আওয়াজ যা আমাদের মস্তিষ্ককে কিছু সময়ের জন্য ঐ শব্দ বা আওয়াজের কাছাকাছি পরিচিত কোনো আওয়াজকে ধারণ করে এবং শব্দটি পরিচিত হওয়ায় আমরাও বেশ কৌতূহলী হয়ে যাই, একেই বলে অডিও প্যারেডোলিয়া।

এটিও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি ঘটনা এবং ক্ষণস্থায়ী মনোবৈকল্য। ১৯৭১ সালে লাতভিয়ার বিখ্যাত লেখক কন্সটান্টিন রডিভ ‘Breakthrough’ নামক একটি বই লিখেন যেখানে EVP সম্পর্কে তাঁর বিশ্বাসের কথা তুলে ধরা হয়েছে। EVP হলো Electronic Voice Phenomenon বা বৈদ্যুতিক কণ্ঠের ঘটনা।

কী হয়েছিলো আমার সাথে?

অনেক সময় আমরা কথার মাঝে এমন কিছু শব্দ শুনতে পাই যা বক্তা বলেনি, কিন্তু আমরা শুনেছি। আবার কোনো যন্ত্রের শব্দেও আমরা অদ্ভুতূড়ে আওয়াজ শুনতে পাই। কী, তুমিও হয়েছো এরকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন?

তবে আমার নিজের একটি ভয়ানক মজার অভিজ্ঞতা তোমাদের সাথে শেয়ার করি।

মধ্যরাতের আতঙ্ক!

একদিন মাঝরাতে আমার ঘুম ভেঙে যায় একটি অদ্ভুত আওয়াজে। মনে হচ্ছে কে যেনো আমার দরজায় নখ দিয়ে আঁচড়াচ্ছে । আমি তো রীতিমত ঘেমে একাকার। শব্দ থামছেই না। আম্মুকে ডাক দেয়ার মতো গলায় জোর নেই। গলা শুকিয়ে গেছে। অনেক সাহস করে লাইট জ্বালিয়ে ফ্যান বন্ধ করে দিলাম। যাতে শব্দের উৎসটা ভালোভাবে নির্দিষ্ট করতে পারি। কিন্তু ফ্যান বন্ধ করার সাথে সাথেই শব্দ থেমে যায়।

আবার চালু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই ভুতূড়ে আওয়াজ শুরু হয়ে যায়। খুবই ভয় পেয়ে গেলাম। ঘরের সব আনাচে কানাচে সাহস করে খুঁজতে শুরু করেও কোনো রহস্যভেদ করতে পারিনি। হঠাৎ করে পায়ের সাথে কিছু একটা লেগে ঐ ভুতূড়ে আওয়াজটা যেন পুরো রুম কাঁপিয়ে দিলো। পরে নিচে তাকিয়ে দেখি আসলে এটি ছিলো একটি প্লাস্টিক যা কোল্ড ড্রিংকসের মুখে প্যাঁচানো থাকে। আর ফ্যানের বাতাসে এটি গড়াগড়ি খাচ্ছিলো বলে এরকম ভুতূড়ে আওয়াজ হচ্ছিলো!

মানুষ রহস্যপ্রিয়। তাই কোনো কিছু অস্বাভাবিক দেখলেই মানুষের মস্তিষ্ক তার রহস্যভেদে তৎপর হয়ে ওঠে। ঠিক প্যারেডোলিয়াও এরকম একটি উদাহরণ যা আমাদেরকে দ্বিধায় ফেলে দেয়। আবার কিছু প্যারেডোলিয়া এতটাই বাস্তবভাবে ফুটে ওঠে যেন মনে হবে এটি সত্যিই মিরাকল। আবার এমন কিছু প্যারেডোলিয়াও আছে যে যতোবারই তাকাবে ততোবারই তোমার মনে রাখা চিত্রটিই ফুটে উঠবে। যতবারই শুনবে ততোবারই তোমার কানে শুনতে চাওয়া কাছাকাছি শব্দটিই বেজে উঠবে। অর্থাৎ তোমার পরিচিত ছবিটিই বারবার দেখতে পাবে। পরিচিত শব্দটিই শুনতে পারবে।

এখন থেকে আমরা যখন আকাশে তাকাবো, যদি দেখতে পাই আমার মতোই কোনো এক অবয়ব একজন আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে, আমরাও মুচকি হেসে হেসে জবাব দিবো

‘‘Hello Pareidolia!’’

সবশেষে Don Miguel Ruiz এর একটি উক্তি :

We only see what we want to see; we only hear what we want to hear. Our belief system is just like a mirror that only shows us what we believe

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে মনিরা আক্তার লাবনী


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Zehad Rahman

Zehad Rahman

3150 BC old ancient egyptian hieroglyphs are still fascinating me to be a different thinker. Being a passionate kid, strongly I can confide myself as I’m a slow walker but never step back. I’m a fan of Carl Sagan, like to walk on space when it’s time to sleep.
I’m studying Agricultural Engineering at Bangladesh Agricultural University.
Zehad Rahman
এই লেখকের অন্যন্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?