পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের ১০টি কার্যকরী টিপস

ভার্সিটি পড়ুয়া, কর্পোরেট, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, টিচার সবার জন্য PowerPoint জিনিসটা লাগে। Presentation তৈরি করতে সফটওয়্যার হিসেবে ৯৫ ভাগ Microsoft PowerPoint ব্যবহার করে।

জেনে অবাক হবেন প্রতিদিন ৩০ মিলিয়নেরও বেশি PowerPoint Presentation বানানো হয়,এবং তার মধ্যে ৮০% এরও বেশি হয় নিম্নমানের। অাপনার প্রেজেন্টেশান ওইসব ৮০% এর মধ্যে নয় তো? কিভাবে অামরা ভাল একটা Presentation বানাতে পারি সেটা নিয়ে মূলত অালোচনা করব।

১. থিম:

ডিফল্ট থিম ব্যবহার করা একরকম ক্রাইম। দেখতে ভালো লাগে না এবং আপনার বিষয়বস্তুর সাথেও হয়তো মিলবে না। নিজের বিষয়বস্তুর সাথে সম্পর্কিত থিম তৈরি করতে হবে। এতে দেখতে ভালো লাগবে এবং সহজে উপস্থাপন করতে পারবেন।

ঘুরে আসুন: যে গুণটি বদলে দেবে তোমার জীবন

২. কালার:

কালার একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফন্ট কালার, শেইপ কালার, ব্যাকগ্রাউন্ড কালার সবগুলোর জন্য প্রফেশনাল এবং স্ট্যান্ডার্ড কালার চেনা অনেক জরুরী। পাওয়ারপয়েন্টের নিজস্ব কালার স্কিমে কিছু কিছু স্ট্যান্ডার্ড কালার আছে। কয়েকটা কালার এর মিশ্রণে ভাল কালার তৈরি করা যায়। স্ট্যান্ডার্ড কালারের একটা বৈশিষ্ট্য হল দেখতে সহজবোধ্য হবে এবং BORING লাগবে না। ১৩ বা এর পরবর্তী ভার্সন গুলোতে EYE DROPPER TOLL দিয়ে ওয়েব থেকে যেকোন কালার আনা যায়। মনে রাখতে হবে কালার বাছাই করতে হবে স্লাইডের বিষয়, থিম এগুলোর উপর ভিত্তি করেই। একটা স্লাইডে একাধিক ফন্ট, শেইপ, কালার ব্যবহার করা ঠিক নয়। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রত্যেকটা স্লাইডে একটা COLOR COMBINATION থাকতে হবে।

৩. ফন্ট:

ফন্ট নির্বাচনের গুরুত্ব কম নয়। এক্ষেত্রেও আমাদের প্রফেশনাল ফন্ট বাছাই করতে হবে। যেটাই ব্যবহার করি না কেন একটা প্রেজেন্টেশানে ২ টা ফন্ট ব্যবহার করা উত্তম। একটা Title আর অন্যটা Subtitle বা বিবরণে। ফন্ট সাইজ এমন রাখতে হবে যেন পিছনের কেউ ও ভালভাবে দেখতে পায়।

৪. বুলেট পয়েন্ট:

বুলেট তো বুলেটই, একটা প্রেজেন্টেশান কে হত্যা করার জন্য এই বুলেট পয়েন্ট ই যথেষ্ট। মনে রাখতে হবে ONE IDEA ONE SLIDE। বুলেট পয়েন্ট দেয়ার মানে অনেক আইডিয়া বা পয়েন্ট একটা স্লাইডে যুক্ত করা। এটা যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে।

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশান ইত্যাদি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য 10 Minute School Skill Development Lab নামে ১০ মিনিট স্কুলের রয়েছে একটি ফেইসবুক গ্রুপ।

৫. সিম্পল স্লাইড:

অনেকেই দেখা যায় নিজে যা বলে তার সমস্ত কিছু স্লাইডে লিখে দেয়। যেকোন কিছুর সংজ্ঞা বা তথ্য সব লিখে দেয়। এতে কেউ প্রেজেন্টারের দিকে তাকাবে না। আইডিয়া টা বড় করে লিখে দিয়ে যথাসম্ভব বাকিগুলা নিজেকে ব্যাখ্যা করতে হবে।

৬. চিত্রবহুল:

মানুষ কিন্তু কম পড়তে ভালবাসে। তাই স্লাইডে অত লেখালেখি না করে যথাসম্ভব বিষয় সম্পর্কিত চিত্র, আইকন, গ্রাফ ব্যাবহার করতে হবে। এতে মানুষের দৃষ্টি এবং মনোযোগ দুটিই পাওয়া যায়।

 

৭. ট্রানজিশন এবং এনিমেশন:

প্রথম প্রথম পাওয়ারপয়েন্ট পেলে সবাই যত বেশি পারে ট্রানজিশন এবং এনিমেশন ব্যবহার করে। পাখি উড়ে যায়, পর্দা খুলে যায়, ফন্ট-শেইপ লাফাতে লাফাতে পড়ে। এটা করা যাবে না, প্রথমত এটা মনযোগ নষ্ট করে দ্বিতীয়ত সময় নষ্ট হয়। তবে ভালো মানের কিছু এনিমেশন ব্যবহার করা যায় যেখানে প্রয়োজন পড়ে। এতে প্রেজেন্টেশানের মান উন্নত হয়। যেমন বলতে পারি স্লাইড চেঞ্জের জন্য “Parallax Effect “.

৮. শেইপ:

পাওয়ারপয়েন্ট কিন্তু এক প্রকার শেইপের খেলা। শেইপ গুলো দিয়েই বানিয়ে ফেলতে পারেন অসাধারণ কিছু ডিজাইন, চিত্র বা অাইকন। এভাবে একটা প্রেজেন্টেশান কে প্রফেশনাল বানিয়ে ফেলতে পারেন।

পাওয়ারপয়েন্টের জাদুতে মুগ্ধ কর সবাইকে!

পাওয়ারপয়েন্ট ব্যবহার করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে ফেলা যায়!

পাওয়ারপয়েন্টের সহজ ব্যবহার শিখতে ঘুরে এসো স্কুলের এক্সক্লুসিভ এই প্লে-লিস্টটি থেকে!

শিখে ফেল পাওয়ারপয়েন্টের জাদু!

৯. কনট্রাস্ট ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয়বস্তু:

Contrast অন্যতম একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চোখ ধাঁধানো Contrast মানুষের দৃষ্টি ও মনোযোগ কমিয়ে দেয়। তাই Contrast সবসময় স্ট্যান্ডার্ড লেভেলে রাখা উচিত। বিনা কারণে ক্লিপ আর্ট, শেপ, ছবি এড করা মোটেও কাম্য নয়। খেয়াল রাখবেন প্রত্যেকটা ছবি, ক্লিপ অার্ট এমনকি ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডও বিনা প্রয়োজনে রাখা যাবে না।

ঘুরে আসুন: Google কীভাবে কাজ করে?

১০. জটিলতা:

জটিল কোন চিত্র, গ্রাফ স্লাইডে দেখানো কাম্য নয়। যথা সম্ভব সহজ-সরল এবং বোধগম্য ভাবে উপস্থাপন করুন যাতে সবাই সহজেই বিষয়টি বুঝে যায়।

আরো কিছু বিষয়:

* প্রেজেন্টেশানের পূর্বমুহূর্তে সবকিছু চেক করে নিন যাতে কোন কিছু এডিট বা ডিলিট হয়ে গেলে কিংবা ফাইল খুলতে প্রবলেম হলে ঠিক করে নিতে পারেন।সবসময় JPG ইমেজ ব্যাকআপ রাখার চেষ্টা করেন।
প্রেজেন্টেশান এর মাঝখানে কোন সমস্যা হলে শান্ত থাকুন, নিজের রাগ বা বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না। আর দেরি হলে ইমেজ দিয়েই শুরু করেন।
* গ্রুপ প্রেজেন্টেশান এর ক্ষেত্রে প্রথমজন সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিবে বা প্রথমেই পরিচয় হয়ে নিবেন।পরেরজন থেকে ”Hi! I am Amuk, Good Morning , thank you Tomuk for giving me floor!” এসব না বললেই ভাল।
প্রেজেন্টেশান Boring না করার জন্য মাঝেমাঝে হাসুন এবং প্রশ্ন করুন বা Interact করুন।

10 Minute School থেকে প্রদত্ত কিছু ওয়েবসাইট যা আপনাকে ভাল একটা প্রেজেন্টেশান বানাতে সাহায্য করবে এবং অাপনার সময়কে সময় বাঁচিয়ে দিবে।

তোমার স্বপ্নের পথে পা বাড়ানোর ক্ষেত্রে তোমার ইংরেজির জ্ঞান কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে! তাই আর দেরি না করে, আজই ঘুরে এসো ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লে-লিস্টটি থেকে!

Websites:
For Background image:
1. pixabay
2. unsplash
3. pixel

Color Palette Idea:
1. Adobe Kuler CC

Font:
1. dafont
2. fontsquirrel
3. whatsmyfont
4. 1001fonts

For inspiration:
1. colorhacks
2. creativeblog
3. typography
4. pinterest
5. designtaxi

Icon:
1. iconfinder
2. freepik


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?