Reverse Psychology : ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার খেলা

১.

আমাদের ব্লগ টিমের সবচেয়ে লম্বা ব্যক্তিটি হচ্ছেন আমাদের সাব এডিটর ভাইয়া। বড়ই ভালো মানুষ। এই হাসিখুশিলম্বাচশমা পরাফেসবুকে নিয়মিত স্ট্যাটাস দেওয়াআকাশের সুন্দর সুন্দর ছবি তোলা ভাইটিকে আমরা প্রায় সবাই যথেষ্ট প্যারা দিয়ে থাকি। তারপরো হাসিমুখে তিনি বলবেন প্যারা নাই! আমি আর ভাইয়া একই ডিপার্টমেন্টে পড়লেও ভাইয়ার সাথে আমার বড়ই অমিল উচ্চতায় আমি উনার অর্ধেক, ফেসবুকে আমি শেষ কবে স্ট্যাটাস দিয়েছি মনে করতে পারছি না এবং এস্থেটিক ছবি তোলা পুরোপুরি আমার সাধ্যের বাইরে। তবে সবচেয়ে বড় অমিল কী জানো? ভাইয়ার সবচেয়ে প্রিয় শব্দ হচ্ছেডেডলাইন ; আমার এটি সবচেয়ে অপ্রিয় শব্দ। তার সবচেয়ে প্রিয় বাক্য হচ্ছে, “এত তারিখের মধ্যে লেখা জমা দিয়ে দিবেযা কিনা আমার সবচেয়ে অপ্রিয় বাক্য!

আমার অপ্রিয় শব্দ আর বাক্য জেনে হয়তো বুঝতেই পারছো আমি কিছুটা অলস প্রকৃতির। আমার অনেকগুলো লেখা জমা দেওয়া বাকি আছে। একগাদা লেখা! আমার তো মাথায় হাত! কারণ, ডিপার্টমেন্টে বা ক্যাম্পাসে ভাইয়ার সাথে মুখোমুখি হলেই ভাইয়া বলবেন,

কেকাডেডলাইন কিন্তু পার হয়ে গিয়েছে অনেক আগেই!” ইশকী অপ্রিয় কথা!

Related image

একদিন কী হল,ইদের ছুটি সবেমাত্র শুরু হয়েছে।

আমি তখন প্ল্যান করছি ইদের ছুটিতে কোথায় কোথায় ঘোরা যায় এবং গ্রুপ চ্যাটে আমরা ইন্টার্ন ব্লগাররা ভাইয়া আপুদের থেকে ট্রিট পাওয়ার ফন্দি আঁটছি। হঠাৎ করে সাব এডিটর ভাইয়ের মেসেজ।

১০ মিনিট স্কুলের পক্ষ থেকে এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি-সহায়ক অনলাইন লাইভ এডমিশন কোচিংয়ের আয়োজন করা হচ্ছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে!

লেখাকেকা!

আমি সঙ্গে সঙ্গে ভেবে নিলাম আর মাত্র / মিনিটের মধ্যেই শুনতে হচ্ছে আমার অপ্রিয় বাক্য এবং অপ্রিয় শব্দ। কিন্তু ভাইয়া অবাক করে দিয়ে লিখলেন, সবাই ট্রিটের কথা বলছেদেখেছো? আমি তো অবাক। আমার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর,জ্বী ভাই। আমি তো ফুডব্যাংকে রেস্ট্রুরেন্ট খোঁজাও শুরু করে দিয়েছি।”

“আহারে! এত কষ্ট করার কী আছে? তুমি তো এমনেও ট্রিট পাচ্ছো না।“

“এহ? ইয়ে মানে… ভাই কেন?”

“লেখাগুলো আগে জমা দিতে হবে তো আগে!”

“সময় শেষ হয়ে যায় নাই তো ভাই! আমি জমা দিয়ে দিব তো।“

“হাহাহা। নাইস জোক। শুনো, প্যারা নাই। তুমি নিজেও জানো আর আমিও জানি তুমি সময়মত লেখা জমা দিতে পারবে না। তাই, ট্রিটের কথা ভেবে মন খারাপ করো না।“

“ভাই, এইটা কী বললেন? আমি ২ সপ্তাহের মধ্যে আমার সব লেখা জমা দিচ্ছি! প্রমিজ। ভরসা রাখেন, পারব আমি।“

“হাহাহা। দেখব কত পারো।“

সেদিনের মত আমার আর ভাইয়ার কথা বলা শেষ। কিন্তু আমার খুব রাগ উঠছিল এরকম একটা হাসিখুশি মানুষ এভাবে বলল আমাকে! আমি তো রাগ করে ভেবেই নিলাম যে, আর কক্ষনো উনার কোনো স্ট্যাটাসেই লাইক দিব না! এবং একটা জেদ চাপল। সব লেখা জমা দিয়ে দেখিয়ে দিব আমি।

ঘুরে আসুন: পড়াতে গিয়ে নিজেই শিখে ফেলতে পারো যে ৫টি গুণ!

২.

আমি যখন এতসব কিছু ভাবছিলাম তখন আমাদের সাব এডিটর ভাইয়া বাংলাদেশের অন্য সাইডে বসে মুচকি মুচকি হাসছিলেন। কারণ উনি যা চেয়েছেন উনি তা করে দেখিয়েছেন। আমার মত অলসকে একদম লাইনে আনার ব্যবস্থা করে ফেলেছেন। ভাইয়া চাচ্ছিল আমি আলসেমি ছেড়ে লেখা দিই এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই দিই। অথচ খেয়াল করো, উনি কিন্তু পুরো উল্টো কথাটাই আমাকে বলেছেন।

এখন মাথায় আসতেই পারো, যদি ভাইয়া চানই আমি ট্রিট পাই এবং লেখা শেষ করি তাহলে এভাবে উল্টো কথা বলার মানে কী? চাচ্ছেন একটা জিনিস, বলছেন আরেকটা। কেমন গোলমেলে ঠেকছে না?

ভাইয়া যা করেছেন তাকে সাইকোলজিতে বলে রিভার্স সাইকোলজি (reverse psychology)।

মানে তুমি যা চাও তার ঠিক বিপরীতটা বলবে। আরেকটু ভেঙ্গে বলি।

রিভার্স (reverse) মানে কী? একদম সোজা বাংলায় এর অর্থ হচ্ছে বিপরীত। আর সাইকোলজি মানে তো মনোবিজ্ঞান আমরা সবাই জানি।

Image result for reverse

Related image

সহজ কথায়, অন্যকে দিয়ে কোনো কাজ করানোর জন্য যে কাজটা করা হবে তার ঠিক বিপরীত কথা বলার আচরণকে reverse psychology বলে।

৩.

ব্যাপারটা হচ্ছে যখন একটা কাজ অন্যকে করতে বলব, তাহলে সরাসরি না বলে এত উল্টিয়ে পাল্টিয়ে বলার কী দরকার?

খোলাসা করছি ধীরে ধীরে।

আচ্ছা, যদি আমি বলি এই প্যারাটা পড়ার পর ব্লগটা আর পড়বে না। একদমই পড়বে না! তখন তোমার মনে প্রশ্ন জাগবে না? আরে, কী হলো এমন যে পরের প্যারা থেকে পড়তেই মানা করছে? কী আছে নেক্সট প্যারা থেকে? কোনো কিছুর পাসওয়ার্ড আছে নাকি?

Related image

এরকম নানারকম প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাবে। তখন মনে হতেই পারে, আচ্ছা একটু ঘুরে দেখিই না কী আছে অমন নেক্সট প্যারা থেকে।

আবার ধরো, কোথাও সাইনবোর্ড দেওয়া যে “পার্কিং নিষেধ।“ ঠিক সেখানেই দেখবে সারি সারি গাড়ি পার্ক করা আছে।

Image result for no parking sign

আরেকটা একদম পরিচিত ঘটনা হল, যেখানেই লেখা দেখবে ফুল ছেঁড়া নিষেধ, সেখানেই মানুষজন ফুল ছিঁড়ে বসে আছে!

বলে না, হিউম্যান ব্রেইন খুবই অদ্ভুত? সত্যিই তাই। আমাদের ব্রেইন চায় স্বাধীনতা। এর মধ্যে যখন হস্তক্ষেপ আসে তখন আমাদের স্বাধীনতার চিন্তাটা হুমকির মুখে পড়ে। তাই আমরা প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখাই বিদ্রোহ । যেমন উপরের কাজগুলোতে খেয়াল করে দেখ, সবগুলোতেই কিন্তু নিষেধাজ্ঞা আছে। এই নিষেধাজ্ঞাই মানুষের স্বাধীনভাবে কাজকর্ম করার পথে ব্যারিয়ার সৃষ্টি করে। তাই নিউটনের তৃতীয় সূত্রকে প্রমাণ করতেই হয়তোবা নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে আমরা প্রতিক্রিয়া দেখাতে চাই। যেটা করতে মানা করা হচ্ছে তার প্রতি উল্টো আগ্রহী হয়ে উঠি। এটাকে বলা যায় তোমার ব্রেইন বিদ্রোহী আচরণ  (rebellious behavior) করছে।

আসলে কী জানো? পুরো ব্যাপারটা নির্ভর করে আমরা কিভাবে রিয়েক্ট করছি তার উপর। একে বলে Reactance theroy. এ থিওরি অনুযায়ী, যেসব মানুষ মনে করে যে তাদের sense of freedom হুমকির মুখে বা তাদের নিজস্ব কন্ট্রোল আর থাকছে না, তখন তারা প্রতিক্রিয়াস্বরূপ তাদের কন্ট্রোল, স্বাধীনতা ফেরত পাওয়ার জন্য বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। এবং সেই কাজটাই করে যেটা তাদের করতে মানা করা হয়েছে। কারণ ঐটার প্রতিই তারা তখন আকৃষ্ট হয়।

 

নিজের জীবনকে করে তোল সহজতর!

জীবনের প্রায় প্রতিটি পদেই আমাদের কিছু বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়। এসকল বাঁধা উৎরে কিভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়, সেটির জানান দিতেই ১০ মিনিট স্কুল নিয়ে এসেছে এই ‘লাইফ হ্যাকস’ ভিডিও সিরিজটি!

তাই, দেরি না করে, এক্ষুনি ঘুরে এস ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লে-লিস্টটি থেকে!

ঘুরে এস ১০ মিনিট স্কুলের ‘লাইফ হ্যাকস’ সেকশন থেকে

১৯৮২ সালে উইলসন এবং ল্যাসিস্টার reactance থিওরির উপর ভিত্তি করে একটা এক্সপেরিমেন্ট করেন।

তাঁরা করলেন কী, কতগুলো বাচ্চাকে জড়ো করলেন একসাথে। দুইটি গ্রুপে ভাগ করলেন। এক গ্রুপের বাচ্চারা তাদের পছন্দমত খেলনা নিয়ে খেলতে পারবে, আরেকগ্রুপের বাচ্চারা সব খেলনা নিয়ে খেলতে পারবে তবে একটা নির্দিষ্ট খেলনা বাদে – যা কিনা তারা প্রথমে তেমন একটা পছন্দ করেনি।

পরবর্তীতে, ঐ নির্দিষ্ট খেলনা দিয়ে দুই গ্রুপকেই খেলতে দেয়া হয়। তখন দেখা যায়, দ্বিতীয় গ্রুপ যাদের প্রথমে খেলনাটি দিয়ে খেলা মানা ছিল তারাই পরে ঐ খেলনা দিয়ে প্রথম গ্রুপ থেকে ৩গুণ বেশি সময় যাবত খেলেছে।

আচ্ছা, এর মানে কী দাঁড়াল? যখন আমরা কোনো কিছুর উপর নিষেধাজ্ঞা দিই তখন সেটা আরো বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

আর এইভাবেই একশন রিয়েকশনের খেলা নিয়ে reverse psychology ভালোই জমে উঠে।

এখন ধরো, আমি বলেছি, নেক্সট প্যারা থেকে পড়তে না। অথচ দেখো তুমি কিন্তু আমার কথা মানোনি। ঠিকই পড়ছো। কারণ, আমি তোমার উপর একটা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলাম যার বিরুদ্ধে তোমার ব্রেইন রেবেলিয়াস আচরণ করেছে। মানুষ সবসময় তার চিন্তা, কাজকর্মের যে স্বাধীনতাটা চায় তাতে ব্যাঘাত ঘটলেই এমন আচরণ লক্ষণীয় হয়।

আর হিউম্যান ব্রেইনের এই প্রতিক্রিয়াকেই কাজে লাগানো হয় reverse psychology মেথডে। যেমন, এইখানে আমিও কিন্তু অল্পস্বল্প reverse psychology মেথড প্রয়োগ করেছি। কারণ আমি নিজেই চাচ্ছিলাম যে তুমি আমার পুরো লেখাটাই পড়ো, তাই এমনভাবে বলেছি যাতে তুমি নিজেই আরো আগ্রহী হয়ে পড়তে থাকো।

ব্যাপারটা কি ধীরে ধীরে খোলাসা হচ্ছে?

মানুষের এমন আচরণকে মাথায় রেখেই কোনো কাজ সাধনের জন্য যেটা করার দরকার তার ঠিক উল্টোটা চাওয়া হচ্ছে এমন ভান ধরাই হচ্ছে রিভার্স সাইকোলজির মেথড।

আর আমরা মানুষরা যেটা করতে বলা হয়েছে তার ঠিক উল্টোটাই করতে বেশি বেশি করতে চাই। কোনো কিছু করতে বলা হয়েছে মানে তোমাকে আদেশ দেওয়া হচ্ছে। বা নির্দিষ্ট কোনো রুল বা রেগুলেশনের মধ্যে আনা হচ্ছে। সেটাও কিন্তু তোমার ইচ্ছানুযায়ী কাজের স্বাধীনতার ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। ঠিক সেইজন্যই কিন্তু reverse psychology ব্যাপারটা ব্যবহার করা হয়।

৪.

এখন কথা হচ্ছে reverse psychology টেকনিক কি সব মানুষের সাথে প্রয়োগ করা যায়? সোজাসাপ্টা উত্তর হচ্ছে, না। তাহলে প্রশ্ন আসতেই পারে “কেন না?” আমি বরং একটা পাল্টা প্রশ্ন করি তোমাদের। সব মানুষ কি একরকম? উত্তরটা একদম সহজ, না। মানুষভেদে আচার-আচরণ, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হয়। তাই reverse psychology সব মানুষের জন্য প্রযোজ্য না।

আমাদের মধ্যেই অনেকেই আছে যারা ভীষণ জেদি এবং একরোখা। তারা নিজেদের মতো চলতেই ভালবাসে। কিন্তু যখন আদেশ দেওয়া হয় বা নিষেধ করা হয় তখন তাদের স্বাধীনতার ছন্দপতন ঘটে। যেটা তারা মানতে পারে না। এই ধরনের একরোখা, জেদি মানুষদের উপর reverse psychology অনেক ভালো খাটে। কারণ তাদেরকে যা করতে বলা হয়েছে সেই অনুযায়ী কাজ করাটাকে রীতিমত ঘৃণা করে। তেমনি, এসব ব্যক্তিদের আবার ইগো (ego) থাকে অনেক বেশি। অর্থাৎ, এসব ইগোস্টিক (egoistic) , একরোখা, রগচটা, জেদি মানুষদের জন্যই এই সাইকোলজি।

আবার কিছু মানুষ দেখবে খুবই আবেগপ্রবণ। এই ধরনের সেনসিটিভ মানুষদের জন্য ও এটা প্রযোজ্য।

মানে খুব শান্তশিষ্ট, বাধ্য মানুষদের উপর যদি এই মেথড প্রয়োগ করো তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই প্রাপ্ত বয়স্কের ক্ষেত্রে এই মেথড ব্যবহার করার আগে মানুষটি কেমন সেটা আগে জেনে নিতে হবে। না হলে reverse psychology প্রয়োগ করতে গিয়ে আমরা ভুলে রিভার্স-রিভার্স সাইকোলজি প্রয়োগ করে বসব!

কোনো সমস্যায় আটকে আছো? প্রশ্ন করার মত কাউকে খুঁজে পাচ্ছ না? যেকোনো প্রশ্নের উত্তর পেতে চলে যাও ১০ মিনিট স্কুল ফোরামে!

আবার বাবা-মারাও কিন্তু অনেক তাদের ছেলেমেয়েদের ঠিক করতে এটি ব্যবহার করতে পারেন।

আমি আবারো আমার কথা বলি। মিষ্টি কুমড়া নাকি চোখের জন্য অনেক ভালো। তাই আমার মা কী করতেন, তাঁর মোটা গ্লাসের চশমা পরা মেয়ের জন্য নিয়ম করে মিষ্টি কুমড়া রাঁধতেন। এবং আমি সবসময় একি কথাই বলতাম, “মা, মিষ্টি কুমড়া না বেশি মিষ্টি। খাব না!” অনেক আদর করে, মিনতি করে বলার পরও খেতাম না। একদিন আম্মু আবারো মিষ্টি কুমড়া রাঁধল। আমি তো “খাব না” এই কথাটা বলার মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছি খাবার টেবিলে বসে বসেই। তখন দেখলাম, আম্মু আমাকে বাদে আব্বু, বোনকে মিষ্টি কুমড়া দিল। এমনকি নিজের প্লেটেও নিল কিছু। আমি অবাক! কীরে! আমাকে বললই না! আমি বললাম, “আমাকে দিলে না কেন?”

আম্মু খুব শান্ত স্বরে বলল, “তুমি তো খাবা না, শুধু শুধু কেন দিব? আর মিষ্টি কুমড়া অনেক মিষ্টি। বাচ্চাদের খেতে নেই।“

Image result for reverse psychology experiments

চিত্র : livescience.com

শুনেই রাগে ফুঁসলে আমি বললাম, “আজকে সব মিষ্টি কুমড়া আমিই খাবো।“

বলেই গপগপ করে খেতে লাগলাম। আমি নিশ্চিত আম্মুর সেদিন মুখ টিপে হাসছিলেন।

আর বাচ্চাদের উপর reverse psychology অনেক বেশি কার্যকর। কারণ তারা বড়দের মত সেভাবে ধরতে পারে না পুরো বিষয়টা। মানে পুরো ব্যাপারটাই যে ভান সেটা ধরা কিছুটা কঠিন তাদের জন্য।

বুঝতেই পারছো রিভার্স সাইকোলজির জাদু?

ঘুরে আসুন:  Elon Musk-এর জীবন থেকে Productivity বাড়ানোর ৫ কৌশল

৫.

Reverse psychology কী, কাদের উপর ব্যবহার করা যায় সবই তো জানলাম। এখন কথা হচ্ছে কিভাবে প্রয়োগ করব?

Reverse psychology ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু টেকনিক অনুসরণ করতে হয়। কারণ, যার উপর ব্যবহার করছো সেই যদি বুঝে যায় যে তুমি reverse psychology ব্যবহার করছো তাহলে তো সব চেষ্টাই বৃথা। সেজন্য বুদ্ধি খাটিয়ে এগোতে হবে। টেকনিকগুলো হতে পারে এমন,

  • খুব ঠাণ্ডা মাথায় এবং স্বাভাবিক স্বরে কথাগুলো বলতে হবে। হেসে না রেগে না। এককথায় no overreaction!
  • পুরোপুরি বিপরীত কথা বলতে হবে যেটা চাওয়া হচ্ছে সেটার।
  • চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারো।
  • খুব কনভিনসিং শোনায় যাতে। নাইলেই ধরা!

মোদ্দা কথা হচ্ছে, ভাল অভিনয় করতে হবে।

৬.

Reverse psychology কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যায়। মার্কেটিং, ব্যবসা বাণিজ্য। যেমন, “১কোটি টাকার চ্যালেঞ্জ।“ ধরো, এমন একটি প্রোডাক্ট বিক্রি করা হচ্ছে যেখানে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে এর মধ্যে ভুল বের করতে পারলেই ১কোটি টাকা দেওয়া হবে। বা “বিফলে মূল্যফেরত” ধরনের কথা লেখা থাকে। এতে করে ক্রেতারা আরো বেশি আকৃষ্ট হয়ে ঐ পণ্যটা কেনে এবং কোম্পানি তাদের সেলস বাড়াতে থাকে। তবে এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ রিভার্স সাইকোলজির কুফলটাই পায়।

নেগেটিভ পাবলিসিটি এক ধরনের reverse psychology।

তাই রিভার্স সাইকোলজির খারাপ ভাল দুটোই আছে। এটা নির্ভর করছে কে কিভাবে তা ব্যবহার করছে তার উপর।

যাই হোক, আশা করছি সবাই reverse psychology আমাদের সাব এডিটর ভাইয়ার  মত ভালো ভালো কাজেই ব্যবহার করবে।

তথ্যসূত্রঃ

১। http://shoshikkha.com/archives/5070

২। https://brightside.me/inspiration-psychology/10-tips-to-master-the-art-of-reverse-psychology-231510/

৩। http://psychologyformarketers.com/how-to-use-reverse-psychology/

৪।http://changingminds.org/techniques/general/more_methods/reverse_psychology.htm

৫। https://www.livescience.com/55272-how-reverse-psychology-works.html


পড়াশোনা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্যের জন্য, সরাসরি চলে যেতে পারেন ১০ মিনিট স্কুলের ওয়েবসাইটে: www.10minuteschool.com

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি আপনার লেখাটি ই-মেইল করুন এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

 

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?