মাধ্যমিকের খারাপ ফলাফল পরবর্তী ৫টি সমস্যা এবং তার সমাধান

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

প্রতি বছর বাংলাদেশে চারটি করে পাবলিক পরীক্ষা হয় এবং সেই পরীক্ষাগুলোতে খারাপ ফলাফল করলে একজন তরুণ শিক্ষার্থীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশে প্রতি বছর পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল করার কারণে কেউ না কেউ আত্মহত্যা করে। কিছুদিন আগে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল দিয়েছে এবং এবারও অনেকেই অনেক বড় একটা ধাক্কা খেয়েছে।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

আমার এই লেখাটির উদ্দেশ্য তাদেরকে এইটা বলা না যে ফলাফল শুধুই এক পেজের একটি কাগজ এবং সেই কাগজ তোমার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফলই গুরুত্বপূর্ণ এবং খারাপ করলে একজন শিক্ষার্থী অবশ্যই পিছিয়ে পড়ে। আমার আজকের লেখাটার উদ্দেশ্য একজন হতাশ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে এটা বোঝানো যে তুমি পিছিয়ে পড়েছ, কিন্তু তার মানে এই না যে তোমার জীবন এখানেই শেষ।

anti-depression, life hacks, motivational

এ প্লাস না পেয়েও পরবর্তীতে ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাবার বহু উদাহরণ রয়েছে। সেজন্য প্রয়োজন মনোবল এবং একাগ্রতা। এরকম পরিস্থিতিতে মূলত পাঁচটি সমস্যার মধ্যে মানুষকে পড়তে হয় এবং সেই সমস্যাগুলোকে কাটিয়ে উঠতে একজন মানুষের মনোবলই সবচেয়ে বড় শক্তি। সমস্যাগুলো মূলত এরকম:

১) দুঃসময়ের মাছি:

তুমি এ জীবনে একশোটা ভাল ফলাফল করতে পার, তখন এই মানুষদের দেখা পাবে না। কিন্তু শুধু একবার খারাপ ফলাফল করলেই দেখতে পাবে উনাদের আনাগোনা। উনারা তখন তোমার সবচেয়ে বড় হিতাকাঙ্ক্ষী(!) হয়ে উঠে ক্রমাগত তোমার অভিভাবক এবং তোমাকে অপদস্থ করবে।

এখন এই সমস্যাটির একটিমাত্র পরীক্ষিত সমাধান হচ্ছে তাদের কথা এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে আরেক কান দিয়ে বের করে দেয়া। তোমার জীবন তোমার নিজের, কারো কথায় সেই জীবনের কিছুই যাবে আসবে না। এখন যদি বাইরের একটা মানুষের কথায় হতাশ হয়ে তুমি হাল ছেড়ে দাও, তাহলে এ জীবনে কোন দিন ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না!

 

আর হবে না মন খারাপ!

আমাদের বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের একটা বড় সমস্যা হতাশা আর বিষণ্ণতা।

দেখে নাও আজকের প্লে-লিস্টটি আর শিখে নাও কিভাবে এসব থেকে বের হয়ে সাফল্য পাওয়া যায়!

১০ মিনিট স্কুলের Life Hacks সিরিজ

২) পরিবারের কলঙ্ক:

বাইরের মানুষের কথা এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে আরেক কান দিয়ে বের করে দেওয়া সহজ হলেও যদি নিজের পরিবারও বিরুদ্ধে চলে যায়, তাহলে আসলে সামনে এগিয়ে যাওয়াটা অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায়। আমাদের দেশে ছেলে-মেয়েদের ওপর একটি অভাবনীয় চাপের বোঝা অনেক সময়ই বাবা-মা চাপিয়ে দেন। বাবা-মা যখন সন্তানের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ান না, সেটি অত্যন্ত নির্দয় একটি কাজ।

কিন্তু এই পরিস্থিতিতে যদি কেউ হাল ছেড়ে দেয়, তবে তার জীবন সেখানেই শেষ। জীবনটা যে একটা পরীক্ষার ফলাফলেই শেষ হয়ে যায় না, সেটা অভিভাবককে দেখিয়ে দেওয়াকে তোমার জীবনের লক্ষ্য হিসেবে নিতে হবে। সেই লক্ষ্যে পড়ালেখা করে যেতে হবে।

৩) ভালো কলেজ না পাওয়া:

বর্তমানের ইঁদুর দৌড়ে একটু পা হড়কালেই আর ভালো কলেজে ভর্তি হওয়া যায় না। যখন তুমি তোমার বন্ধুদের দেখবে, দেশের খ্যাতনামা কলেজগুলোতে পড়ছে এবং তুমি সেই সুযোগটি পাওনি, তোমার নিঃসন্দেহে খারাপ লাগবে। ভালো কলেজের কোন দাম নেই, এ ধরনের কোন কথা যুক্তিসঙ্গত নয়। ভালো কলেজগুলো তাদের নিজগুণেই ভালো হয়েছে। তবে সেখানকার শিক্ষার্থীদের তাদের নিজেদের চেষ্টাতে পড়ালেখা করেই ভাল করতে হবে ভবিষ্যতে, ঠিক তোমার মতই।

একাগ্রচিত্তে চেষ্টা করলে সফলতা না আসার কোন কারণ নেই

তারা হয়তো কিছু সুযোগ-সুবিধা বেশি পাবে, কিন্তু বর্তমান যুগে কেউ সুযোগের অভাবের অজুহাত দিতে পারে না ব্যর্থতার জন্য। বর্তমানে ইন্টারনেটে পাওয়া যায় না এমন কোন তথ্য নেই, টেন মিনিট স্কুলে নিয়মিত সকল বিষয়ের ক্লাস হয়। তাই, প্রয়োজন শুধু ইচ্ছা শক্তির। ইচ্ছা থাকলে নিজের চেষ্টায় খ্যাতনামা কোন কলেজে না পড়েও ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল করা সম্ভব।

কোনো সমস্যায় আটকে আছো? প্রশ্ন করার মত কাউকে খুঁজে পাচ্ছ না? যেকোনো প্রশ্নের উত্তর পেতে চলে যাও ১০ মিনিট স্কুল লাইভ গ্রুপটিতে!

৪) ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে নম্বর কমে যাওয়া:

মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকে খারাপ ফলাফল করলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে জিপিএর ভিত্তিতে যেই নম্বরটি ধরা হয়, সেখানে নম্বর কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে হয়তো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ নাও মিলতে পারে, সেক্ষেত্রে আসলে এখন আর তোমার হাত নেই। তুমি যেটা করতে পার, সেটা হচ্ছে নম্বর কম থাকার ঘাটতি পুষিয়ে নিতে আরো বেশি করে চেষ্টা করতে পার। কম নম্বরের কথা মনে করে মন খারাপ করে বসে থাকলে সেই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে কখনোই পারবে না।

৫) হতাশা:

সবচেয়ে বড় সমস্যা এটাই। অন্যের সাথে যুদ্ধ করা যায়, কিন্তু নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করাই সবচেয়ে কঠিন। বারবার নিজের খারাপ ফলাফলের কথা মনে করে তুমি হতাশ হয়ে যাবে, কিন্তু সেই হতাশাকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। অতীতের হতাশা নিয়ে বসে থাকলে মানুষের জীবনে কখনো সফলতা আসে না। হতাশা ঝেড়ে নিয়মিত পড়ালেখা করতে হবে।

anti-depression, life hacks, motivational
Via: www.innerdrive.co.uk

আগে যতটুকু চেষ্টা তুমি করেছিলে, তার থেকেও বেশি চেষ্টা করতে হবে যাতে অন্তত পক্ষে পরবর্তীতে এই আফসোস না থাকে আরেকটু চেষ্টা করলেই হয়ে যেত! বিশ্বাস করো, আজীবন তুমি এই আফসোস কোনভাবেই বয়ে বেড়াতে চাও না! তাই, দুই বছর নিজের পুরোটা ঢেলে দাও। একাগ্রচিত্তে চেষ্টা করলে সফলতা না আসার কোন কারণ নেই।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?