পরীক্ষার ফলাফল এবং হাজার টাকার গল্প

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

বড় বড় পরীক্ষার ফলাফল যেদিন প্রকাশিত হয়, তার পরদিন খবরের কাগজ খুললেই ঝলমলে অনেক হাসিমুখের ছবি দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা একটি ভাল ফলাফলের জন্য দিনরাত খেটে প্রস্তুতি নিয়েছে এবং বহুদিনের পরিশ্রমের ফসল হিসেবে আজ তারা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেয়েছে- সেই আনন্দে উদ্ভাসিত স্বপ্নিল মুখগুলো দেখে বড় ভাল লাগে। সবাই সেগুলো নিয়েই বলাবলি করে- কতোজন এবার জিপিএ পাঁচ পেয়েছে, কোন বোর্ডে পাশের হার কতো। মিষ্টির দোকানগুলো খালি হয়ে যায়, ফেসবুকে বয়ে যায় “Congratulations”- এর উচ্ছ্বাসমাখা ঝড়।

কিন্তু এগুলো সবই প্রদীপের আলোর দিক। প্রদীপের তলানিতে একটি অন্ধকার দিক রয়েছে সেটি নিয়ে কেউ কথা বলে না। শুধু পত্রিকার পাতায় ছোট করে বক্স নিউজে খবর আসে- “দেশজুড়ে এতোজন পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা।” এই বাচ্চাগুলো জীবনটা সবে শুরু করতে যাচ্ছে, তার মাঝে ফলাফল বিপর্যয়ের এতো বড় একটি ধাক্কা, বাবা-মার বকাঝকা, পাশের বাড়ির আন্টিদের খোঁচা মারা কথা তাদের মনোজগৎ এলোমেলো করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। হঠাৎ করে আবিষ্কার করে এই দুঃসময়ে সে একদম একা এবং তাকে একটু আদর করে বুঝিয়ে দু’টো কথা বলার কেউ নেই! অনেকখানি অভিমান এবং ক্ষোভ থেকে জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটি নিয়ে নেয় তারা এই অপরিণত বয়সে- নিজের জীবনটাই কেড়ে নেয়! পালিয়ে যায় বহুদূরে, সব বকাঝকা, গালমন্দ, মারধোর থেকে অনেক দূরে।

আমি আজ একটি গল্প বলবো সেই অভিমানী ছেলে-মেয়েগুলোর জন্য। এই গল্পটি পৃথিবীর সব ব্যর্থ মানুষদের স্বপ্ন দেখিয়েছে, সাহায্য করেছে ঘুরে দাঁড়াতে। আশা করি তোমরাও গল্পটি থেকে অনুপ্রেরণা নেবে, নতুন করে আবার একটি ফাইট দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে জীবনে এগিয়ে যাবে।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

“সভায় সমবেত হাজারো অতিথির কথোপকথনে নীরবতা নেমে এল প্রধান বক্তার আগমনে। লম্বা, ঋজু পদক্ষেপে মঞ্চে উঠে এলেন তিনি, তীক্ষ্ণ চোখ জোড়ায় ব্যক্তিত্বের ছটা। পিনপতন নীরবতার মাঝে পকেট থেকে এক হাজার টাকার একটি নোট বের করলেন তিনি। তুলে ধরলেন হাত মেলে উপরে, দৃপ্তকণ্ঠে বললেন “আপনাদের মাঝে কে কে চায় এই নোটটি?”

ঘুরে আসুন: হয়ে যাক Spoken English-এ হাতেখড়ি!

কোন কথা নেই, সারি সারি হাত উঠে গেল উপরে। সবাই চায় নোটটি!

মৃদু হাসি খেলে গেল বক্তার ঠোঁটের কোণে, নোটটি হাতের মুঠোয় মুচড়ে দুমড়ে আবার তুলে ধরলেন, “এবার কে কে চান?”

সবগুলো হাত উঠে গেল আবারও, ঠিক আগেরবারের মতোই।

“আচ্ছা! আমি আপনাদের কাউকে অবশ্যই দেব টাকাটি, কিন্তু তার আগে একটি কাজ করবো!”

এই বলে নোটটি মাটিতে ফেলে জুতো দিয়ে মাড়ালেন তিনি। ধুলো-ময়লা মাখা কুঁচকানো নোটটি দেখিয়ে কৌতুকমাখা স্বরে বললেন, “এই ময়লা নোটটি নিতেও আপত্তি নেই আপনাদের?”

এখন জীবন হবে আরও সুন্দর!

জীবনে শুধু পড়াশুনা করলেই হয় না। এর সাথে প্রয়োজন এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি। আর তার সাথে যদি থাকে কিছু মোটিভেশনাল কথা, তাহলে জীবনে চলার পথ হয়ে ওঠে আরও সুন্দর।

আর তাই তোমাদের জন্যে আমাদের নতুন এই প্লে-লিস্টটি!

Motivational Talks সিরিজ!

উপস্থিত অতিথিবৃন্দ মাথা নেড়ে জানিয়ে দিলেন কারো আপত্তি নেই তাতে!

“সুপ্রিয় অতিথিবৃন্দ! আপনারা এইমাত্র জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা প্রত্যক্ষ করলেন। এক হাজার টাকার এই নোটটিকে আমি দুমড়ে মুচড়ে মাটিতে ফেলে জুতো দিয়ে মাড়িয়েছি, কিন্তু তারপরও আপনারা টাকাটি পেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন- কারণ যত যা-ই করি না কেন আমি টাকাটির মূল্য তাতে এতটুকু কমেনি! ঝকঝকে নোটটি আর এই কুঁচকানো ময়লা নোটটিতে কোন পার্থক্য নেই, এটি এখনো এক হাজার টাকা মূল্যমানের!

জীবনে আমাদের অনেক দুঃখ, বেদনা, হতাশা, ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয়, আমাদের আত্মবিশ্বাস একদম তলানিতে গিয়ে ঠেকে, নিজেকে আয়নায় দেখে ভাবি, “আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না!”

এই বিপর্যয়ের মুহূর্তগুলোয় মনে রাখতে হবে এই এক হাজার টাকার নোটটির গল্প। দুমড়ে-মুচড়ে ধুলি ধূসরিত হয়ে নোটটির মর্যাদা কি একটুও কমেছে? কমেনি!

ঘুরে আসুন: যা চেয়েছিলাম, যা পেয়েছিলাম

আপনাকে যতবার ব্যর্থতা গ্রাস করবে, হতাশায় মুষড়ে পড়বেন, ততোবার নিজেকে টেনে তুলবেন নতুন আত্মবিশ্বাসে। এই পৃথিবীতে যে আপনার মতো আর দ্বিতীয়টি নেই কেউ! আপনি অনন্য, অতুলনীয়, পৃথিবীকে আপনার দেওয়ার আছে অজস্র ঐশ্বর্য। কোন ব্যর্থতা-গ্লানির সাধ্য আছে কি সেই গৌরবোজ্জ্বল দ্যুতিকে ম্লান করতে পারে?”

পাওয়ারপয়েন্ট ব্যবহার করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে ফেলা যায়! তাই, আর দেরি না করে ১০ মিনিট স্কুলের এক্সক্লুসিভ এই প্লে-লিস্টটি থেকে ঘুরে এসো, এক্ষুনি!

পৃথিবীর সবাই কিছু না কিছু একটা প্রতিভা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। খুব বিরল কিছু সৌভাগ্যবান মানুষ নিজের ভেতরের সেই প্রতিভাটি খুঁজে পায়। সবাইকেই যে পড়ালেখাতে ভাল হতে হবে এমন না। সাকিব আল হাসান ক্রিকেট খেলার গুণ নিয়ে জন্মেছেন, তিনি যদি আজকে ক্রিকেট খেলার বদলে রাতদিন লাইব্রেরিতে বসে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতেন তাহলে নিশ্চয়ই সেটা খুব ভাল কিছু হতো না, তাই না? তাঁর খুব সৌভাগ্য তিনি ছেলেবেলাতেই নিজের ভালবাসার জায়গাটি খুঁজে পেয়েছিলেন।

তোমার ভেতরেও এমন একটি প্রতিভা আছে, সেটিকে খুঁজে বের করার জন্য কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন। হতাশা নামক বিলাসিতা নয়, চাই আশার বিচ্ছুরণ। আমি চাই তোমরা বুকের ভেতরের সেই বারুদটিকে খুঁজে বের করো, জ্বালিয়ে দাও প্রতিভার বিস্ফোরণে, পৃথিবীকে জানিয়ে দাও তোমার স্বপ্নগাঁথা।

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে নাসরোহ নাজিয়াত


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Tashfikal Sami

Tashfikal Sami

Tashfikal Sami is a diehard wrestling & horror movie fan. Passionately loves bodybuilding, writing, drawing cartoons & a wannabe horror film director. He's currently studying at the Institute of Business Administration (IBA), University of Dhaka.
Tashfikal Sami
এই লেখকের অন্যন্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?