ফুটবলারদের জীবনের কিছু জানা-অজানা গল্প

ফুটবলাররা আয় করেন মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার, কিন্তু তারা সবাই কি সোনার চামচ মুখে জন্মেছিলেন? দুই পায়ের নৈপুণ্যে গোল করা তাদের জন্য যেমন সহজ মনে হয়, তাদের জীবনের ছেলেবেলাও কি ছিল এমনই সহজ? তবে জেনে নেয়া যাক কয়েকজন ফুটবলারদের জীবনের অবিশ্বাস্য সংগ্রামের জানা-অজানা গল্প!

1. Pelé (Brazil)

ব্রাজিলের ত্রেস কোরাকোয়েস শহরের এক বস্তিতে জন্ম পেলের। দরিদ্র পরিবারের প্রথম সন্তান হিসেবে অভাব অনটন মেটানোর জন্য ছেলেবেলাতেই তাকে চায়ের দোকানে কাজ করতে হয়। এর সাথে রেলস্টেশনে ঝাড়ু দেবার পাশাপাশি কিছুদিন জুতা পরিষ্কার করার কাজও করেছিলেন।

ফুটবলের দেশ ব্রাজিলে জন্ম নেয়া কৃষ্ণাঙ্গ ছেলেটির ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন ছিল ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু ছোটবেলায় ফুটবল কেনার টাকা ছিল না। মোজার ভিতর খবরের কাগজ ঢুকিয়ে বল বানিয়ে খেলতেন পাড়ার রাস্তায়। ১৯৭৭ সালে জটিলতার কারণে পেলের ডান কিডনি অপসারণ করা হয়।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

এমনই চরম দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে তিনি হয়ে উঠেছেন সর্বকালের সেরা ফুটবলার ‘ফুটবল সম্রাট পেলে’।

2. Cristiano Ronaldo (Portugal)

মা ছিলেন রাঁধুনি আর বাবা ছিলেন বাগানের মালি। বেড়ে ওঠেন বড় তিন ভাইবোনের সাথে টিনের ছাদের একটি ঘরেই। ছোট্ট রোনালদোর জন্য খেলনা কিংবা বড়দিনের উপহার প্রত্যাশা করা ছিল বিলাসিতা! ১৪ বছর বয়সে টিচারের গায়ে চেয়ার ছুঁড়ে মারার অপরাধে স্কুল থেকে বহিস্কৃত হন। তার ভাষ্যমতে, সেই টিচার তাকে অসম্মান করেছিলেন!

পরবর্তী বছর অর্থাৎ মাত্র ১৫ বছর বয়সে ধরা পড়ে রেসিং হার্ট ডিজিজ অর্থাৎ তার হার্টবিটের হার ছিল স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। শঙ্কার মুখে পড়ে তার স্বপ্নের ফুটবল ক্যারিয়ার, কারণ এই রোগে আগেও অনেক ফুটবলার মাঠেই হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন। ডাক্তার বলেন তাকে ফুটবল খেলা ছেড়ে দিতে হবে নতুবা জীবনের ঝুকি নিয়ে লেজার সার্জারি করাতে হবে। রোনালদো নির্দ্বিধায় দ্বিতীয় পথে বেছে নেন এবং অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ফিরে আসেন ফুটবল খেলায়।

সেই ছেলেটিই আজ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যার নামই তার যথেষ্ট পরিচয়!

3. Lionel Messi (Argentina)

তার বাবা ইস্পাতের কারখানায় কাজ করতেন এবং মা ছিলেন একজন খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতা কর্মী। ১১ বছর বয়সে মেসির গ্রোথ হরমোনের সমস্যা ধরা পড়ে যার ফলে তার স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি ঘটছিল না। চিকিৎসা হিসেবে প্রতিদিন একটি করে ইঞ্জেকশন দিতে হবে, আর এর পিছনে মাসিক খরচ হবে ৯০০ মার্কিন ডলার। কিন্তু এই খরচ বহন করা মেসির পরিবারের পক্ষে অসম্ভব ছিল।

স্থানীয় ক্লাব রিভার প্লেট আগ্রহ দেখালেও সেসময় তারা মেসির চিকিৎসা খরচ বহন করতে অপারগ ছিল। বার্সেলোনার তৎকালীন ক্রীড়া পরিচালক ‘কার্লেস রেক্সাস’ মেসির খেলা দেখে মুগ্ধ হন। হাতের কাছে কাগজ না পেয়ে একটি ন্যাপকিন পেপারে মেসির বাবার সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেন। বার্সেলোনা তার চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করতে রাজি হয়। এরপর মেসি এবং তার বাবা বার্সেলোনায় পাড়ি জমান। সেখানে মেসিকে বার্সেলোনার যুব একাডেমি ‘লা মাসিয়া’র সদস্য করে নেয়া হয়।

4. Angel Di Maria (Argentina)

শৈশবে ডি মারিয়া ছিলেন হাইপার-অ্যাক্টিভ অর্থাৎ অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক চঞ্চল। একবার তিনি কুয়োতেও পড়ে গিয়েছিলেন। ডাক্তারের পরামর্শে ফুটবল খেলা শুরু করেন মাত্র তিন বছর বয়সেই। শৈশব পেরিয়ে যখন কৈশোরে পা দিলেন তখন উপলব্ধি করলেন পরিবারের দারিদ্র্য।

ঘুরে আসুন: পড়াশোনার সময় কিভাবে “না” বলবেন মোবাইল ফোনকে

ফুটবলার হবার স্বপ্ন দেখলেও তাকে ফুটবল বুট কিনে দেবার মতো সামর্থ্য তার বাবা-মায়ের ছিল না। আর এটি ছিল তাদের প্রচণ্ড আফসোস ও দুঃখের বিষয়। ডি মারিয়া তার দুই বোনকে সাথে নিয়ে বাবা-মাকে স্থানীয় কয়লার খনিতে কাজে সাহায্য করতেন।

5. Luis Suárez (Uruguay)

সাত ভাইয়ের মধ্যে লুইস ছিলেন চতুর্থ। উরুগুয়ের রাজধানী মন্তেভিদেও-তে পাড়ি জমান সাত বছর বয়সে। দু’বছর পরই বাবা মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটলে পরে সাত ছেলেকে মানুষ করা লুইসের মায়ের পক্ষে নিতান্তই দুঃসাধ্য হয়ে উঠে। সেসময় লুইস মন্তেভিদেও’র নোংরা রাস্তায় ফুটবল খেলতেন, সেইসাথে কখনো ঝাড়ুদারের কাজ করতেন।

১১ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার লা প্লাটা-তে একটি জাতীয় যুব প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ডাক পেলে ফুটবল নিয়ে স্বপ্নটা হাতছানি দেয়। কিন্তু তা ব্যয়সাধ্য হওয়ায় সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হন কারণ, তখন তার একজোড়া জুতা কেনার মতোও অর্থ ছিল না।

দারিদ্যের শিকল ভেঙে ছুটে চলা সেই ছেলেটিই আজ ফুটবল তারকা লুইস সুয়ারেজ।

6. Rivaldo (Brazil)

ব্রাজিলের বস্তিতে বেড়ে ওঠা রিভালদো সংগ্রাম করেছেন চরম দারিদ্যের সঙ্গে। তার অপুষ্টিজনিত ‘জিনু ভিরাম’ রোগে ভোগা ও বেশ কয়েকটি দাঁত হারানোই সেই দারিদ্যের গল্পের নীরব সাক্ষী।

তার যখন ১৭ বছর বয়স, তখন তার বাবা মারা গেলেও এই দুঃখের ছায়ায় হারিয়ে যেতে দেননি তার ফুটবলার হবার স্বপ্ন। সেই বছরই স্থানীয় ‘পলিস্টানো ফুটবল ক্লাব’-এ যোগ দেন। শারীরিক সুগঠন না থাকায় ক্লাবের কোচ তার ফুটবলার হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তাকে ভুল প্রমাণ করে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ইতিহাসে আজ নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়েছেন রিভালদো।

7. Zlatan Ibrahimovic (Sweden)

বাবা ছিলেন বসনিয়ান ও মুসলিম, আর মা ছিলেন ক্রোয়েশিয়ান ও ক্যাথোলিক। ইব্রাহিমোভিচের যখন মাত্র দুই বছর বয়স তখন তার বাবা মা বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। স্কুলে থাকতে তিনি মাস্তান প্রকৃতির ছিলেন এবং সুযোগ পেলেই সাইকেল চুরি করতেন।

ছয় বছর বয়সে জন্মদিনে ফুটবল উপহার পাওয়ার পর থেকে ফুটবল খেলার শুরু। সেইসাথে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্নের বীজ বোনেন। কৈশোরে স্থানীয় ক্লাব মালমো এফ.এফ.-এ খেলা শুরু করলেও ১৫ বছর বয়সে তার আয়ের পরিমাণ নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না, জীবন তখনও বেশ কঠিন ছিল।

তিনি সিদ্ধান্ত নেন ফুটবল খেলা ছেড়ে দিয়ে ফেরিঘাটে কাজ করবেন। কিন্তু তার কোচ তাকে উৎসাহিত করেন ফুটবল নিয়েই আরও এগিয়ে যেতে। তিনি তাই করলেন। তারপর বাকিটা তো ইতিহাস! আজকের ইব্রাহিমোভিচ হবার গল্পমাত্র! যেমনটি তিনি বলেছেন, “কে ভেবেছিল রোসেনগার্ডের সেই ছেলেটা একদিন সুইডেন জাতীয় দলের ক্যাপ্টেইন হবে?”

8. Franck Ribery (France)

ফ্রান্সের প্রত্যন্ত এলাকার এক দরিদ্র পরিবারে তার বেড়ে ওঠা। ১৯৮৫ সালে, রিবেরির বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখন তিনি তার পরিবারসহ এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। ছোট্ট রিবেরি তার মুখমণ্ডলে গুরুতর আঘাত পান যার জন্য প্রায় একশ’টিরও বেশি সেলাই দিতে হয়েছিল। তার মুখের ডান পাশে ও ভ্রু-এর উপর বড় তিনটি সেলাইয়ের চিহ্ন আমরা আজও দেখতে পাই।

এই দূর্ঘটনা সম্পর্কে রিবেরি বলেন, “In a certain way this accident helped me. As a child it motivated me. God gave me this difference. The scars are part of me, and people will just have to take me the way I am”
২০০৩ সালের পূর্বে রিবেরি তার বাবার সাথে নির্মাণকর্মীর কাজ করতেন। তার ভাষ্যমতে এটি ছিল একটি শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা।

জীবনের এমন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়েও ফুটবলকে ভালোবেসে তিনি হয়ে উঠেছেন কালের অন্যতম সেরা ফুটবলার। আর তাইতো জিনেদিন জিদান তাকে ‘ফরাসি ফুটবলের রত্ন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

9. Eric Abidal (France)

‘ক্যান্সার’ নামের কঠিন বাস্তবতাকেও যিনি হার মানিয়েছেন তিনি হলেন বার্সেলোনার ফরাসি ডিফেন্ডার এরিক আবিদাল। ২০১১ সালের মার্চে তার লিভারে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ধরা পড়ে। জরুরি অপারেশন করা হয়। হাসি ফিরে আসে সকলের প্রিয় এরিকের মুখে।

নিয়তির নিষ্ঠুরতা আবার ফিরে আসে। ২০১২ সালে চিকিৎসকরা জানান তার লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে হবে কারণ, আগের অপারেশনের পরও বেশ কিছু সমস্যা রয়ে গিয়েছে। ১০ই এপ্রিল তার সার্জারি করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনি সুস্থ  হয়ে ফিরে আসেন সকলের মাঝে।

এখন জীবন হবে আরও সুন্দর!

জীবনে শুধু পড়াশুনা করলেই হয় না। এর সাথে প্রয়োজন এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি। আর তার সাথে যদি থাকে কিছু মোটিভেশনাল কথা, তাহলে জীবনে চলার পথ হয়ে ওঠে আরও সুন্দর।

আর তাই তোমাদের জন্যে আমাদের নতুন এই প্লে-লিস্টটি!

Motivational Talks সিরিজ!

তিনি জানান তার বন্ধু ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার দানি আলভেস তাকে লিভার দান করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন কিন্তু দানি’র জীবনের কথা চিন্তা করে এরিক সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। ক্যান্সারের সময় সম্পর্কে এরিক বলেন,
“In football I could make a mistake, but the next day I had to get up and fight again, this helped me to fight my illness, even when there were days I was incredibly tired, I just had to fight to get to tomorrow.”

10. Dani Alves (Brazil)

ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার দানি আলভেসের বাবা ছিলেন একজন কৃষক। দানির বয়স যখন ছয় বছর তখন তিন ঘরের দেয়ালে নিজের নাম লিখতেন আর স্বপ্ন দেখতেন এই সামান্য নামটা একদিন অটোগ্রাফ হবে যা তার ভক্তরা দুহাত প্রসারিত করে চাইবে।

সেই ছেলেমানুষি স্বপ্ন আর আজকের বাস্তবতার মাঝে রয়েছে দানির নিরলস পরিশ্রম। ভোরের আলো ফুটার আগেই দানি তার সিমেন্টের বিছানা ছেড়ে উঠে মাঠে গিয়ে তার বাবার সাথে কাজ করতেন। কখনো আবার সম্ভব হলে ওয়েটার কিংবা দোকানির কাজ করতেন।

11. Luka Modric (Croatia)

মড্রিচের বাবা ছিলেন বিমানের মিস্ত্রী এবং মা ছিলেন তাঁত শিল্পী। ক্রোয়েশিয়ার ‘মড্রিচি’ নামক ছোট্ট গ্রামে তার বেড়ে ওঠা। সদা হাসিখুশি মড্রিচকে দেখে বোঝাই যাবে না তার শৈশবটা ছিল কতটা ভয়াবহ। ১৯৯১ সালে তার বয়স যখন মাত্র পাঁচ বছর তখনই অকস্মাৎ শুরু হয় ক্রোয়েশিয়ান স্বাধীনতা যুদ্ধ। বাবা ক্রোয়েশিয়ান আর্মিতে যোগদান করেন এবং এই যুদ্ধেই মারা যান।

মড্রিচের দাদাকে হত্যা করা হয়, আর তাদের বাড়ি পুড়িয়ে ফেলা হয়। মড্রিচ ও তার পরিবার জাদারের একটি হোটেলের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়। দীর্ঘ সাত বছর সেখানে থাকতে হয় তাদের। শহরে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ছিল নিয়মিত ঘটনা। সেই দুঃস্বপ্নরূপী বাস্তবতাকে ভুলে থাকতে ছোট্ট মড্রিচ তখন হোটেলের বাইরের খোলা আঙিনায় ফুটবল খেলতো।

ছোটখাটো শারীরিক গঠনের কারণে তার প্রিয় ক্লাব ‘Hajduk Split’ থেকে প্রত্যাখ্যাত হন অথচ আজ তিনি রিয়াল মাদ্রিদের মত ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। জীবনের এতোসব কঠিন বাস্তবতাকেও হার মানিয়ে আজ তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার লুকা মড্রিচ!

12. Alexis Sanchez (Chile)

বেকারত্বের হতাশায় ডুবে যখন তার বাবা বাড়ি ত্যাগ করে চলে যান তখন সানচেজের বয়স মাত্র কয়েক মাস। চার সন্তানকে মানুষ করার জন্য একাই লড়াই করে যান তার মা। তিনি সানচেজের স্কুলেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন। ফুটবলের প্রতি আগ্রহ দেখে তার মামা তাকে ফুটবল ট্রেইনিং একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দেন। সেখানকার খরচ যোগানোর জন্য সানচেজ কখনো গাড়ি পরিষ্কার, কখনো খনিতে কাজ আবার কখনোবা রাস্তায় অ্যাক্রোব্যাটিকস দেখিয়ে অর্থ উপার্জন করতেন।

আজকের অ্যালেক্সিস সানচেজ হয়ে ওঠার পেছনে পেরিয়ে আসা পথটা ছিল এতোটাই বন্ধুর!

13. Jakub ‘Kuba’ Błaszczykowski (Poland)

মাত্র দশ বছর বয়সে চোখের সামনে নিজের মাকে খুন হতে দেখেছেন তারই বাবার হাতে। এমন ভয়ঙ্কর এক দৃশ্যের স্মৃতি তাকে তিলে তিলে ধ্বংস করতে থাকে। জীবনের উপর থেকে সব আশা হারিয়ে ফেলেন। তার বাবার ১৫ বছরের জেল হয়, সেসময় তার ও তার বড় ভাইয়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন তাদের দিদিমা।

সেই ভয়ানক ঘটনার পর ব্লাজেকোওস্কি ফুটবল খেলা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন, কিন্তু তার চাচা জের্জি ব্রেজেক (যিনি পোল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক)-এর অনুপ্রেরণায় পরে খেলা চালিয়ে যান। এখন তিনি ১৬ নম্বর জার্সি গায়ে পোল্যান্ড জাতীয় দলে খেলেন। তিনি বলেন, তার জীবনের সাফল্যের পিছনে অবদান তার দিদিমার। ব্লাজেকোওস্কি নিজের দেয়া প্রতিটা গোল তার মাকে উৎসর্গ করে থাকেন।

14. Romelu Lukaku (Belgium)

ছয় বছর বয়সে একদিন স্কুল থেকে ফিরে মাকে দুধের সাথে নির্দ্বিধায় পানি মেশাতে দেখে ছোট্ট রোমেলুর প্রথম ধারণা হয়েছিল দারিদ্র্যে জর্জড়িত নিজের জীবন সম্পর্কে। গোসলের জন্য গরম পানির ব্যবস্থা ছিল না, ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। নিজের সাথে প্রতিজ্ঞা করেন পরিবারের এই অবস্থা বদলে দেয়ার। তারপর বাকিটা কেবল এক আত্মবিশ্বাসী তরুণের হার না মানা গল্প!

15. Yaya Toure (Ivory Coast)

নয় ভাইবোনের মধ্যে ইয়াইয়া টুরে ছিলেন দ্বিতীয়। জীবন তার জন্য ছিল বেশ কঠিন। এমনকি অনেক সময়ই দিনে একবেলা খেয়ে থাকতে হতো তাকে। বড় ভাই কোলো টুরে-ও একজন পেশাদার ফুটবলার। শৈশবে পরিবারের দারিদ্র্য ঘুচাতে তাকে মুচির কাজে সাহায্য করতেন ইয়াইয়া।

এখন পড়াশোনা হবে আরো সহজে, স্মার্টবুকের সাহায্যে। কারণ স্মার্ট তোমার জন্যে প্রয়োজন স্মার্টবুক!

যখন বুঝতে পারলেন এই কাজ দিয়ে দারিদ্র্যের অভিশাপের সাথে লড়াই করা কঠিন তখন বড় ভাইয়ের মতো শুরু করলেন ফুটবল খেলা। জীবনের প্রথম ফুটবল দলে খেলেছেন বুট ছাড়াই। ১০ বছর বয়স হবার পর নিজের বুট জুতা কেনার সৌভাগ্য হয় তার।

16. Victor Moses (Nigeria)

মাত্র এগারো বছর বয়সে বাবা মা দুজনেই নিহত হন নাইজেরিয়ার ধর্মযুদ্ধে। সপ্তাহখানেক পর তার আত্মীয়দের কথায় মসেস যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান শরণার্থী হিসেবে। সেখানে একটি পরিবার তাকে লালনপালনের দায়িত্ব নেয়। জীবনের এমন নির্মমতার প্রভাব পড়তে দেননি তার ফুটবলার হবার স্বপ্নের উপর।

সেই ইয়াতীম ছেলেটিই আজ চেলসি ফুটবল ক্লাব ও নাইজেরিয়া জাতীয় দলের উইঙ্গার ‘ভিক্টর মসেস’!

17. Carlos Bacca (Colombia)

কলম্বিয়ার দরিদ্র পরিবারে তার জন্ম। দারিদ্যের সাথে যুদ্ধ করতে কখনো নদীতে জেলে হয়ে মাছ ধরতেন আবার কখনো বাস ড্রাইভারের সহযোগী হয়ে টিকেট সংগ্রহের কাজ করতেন।

18. Juan Cuadrado (Colombia)

বাবা ছিলেন একজন ট্রাক ড্রাইভার। জুয়ান মাত্র চার বছর বয়সে গৃহযুদ্ধের সময় এক সশস্ত্র দলের হাতে বাবাকে খুন হতে দেখেন। মায়ের নির্দেশে ছোট্ট জুয়ান তখন বিছানার নিচে লুকিয়ে ছিলেন। পরিবারের হাল ধরতে তার মা একটি আইসক্রীমের দোকানে কাজ শুরু করেন। কাজ শেষে বাড়তি আয়ের উদ্দেশ্যে কলা বিক্রি করতেন। স্কুল থেকে ফিরে এসে সেই কাজে সাহায্য করতেন জুয়ান।

হয়তো এমনই আরও অনেক গল্প খুঁজে পাওয়া যাবে ফুটবলারদের জীবন থেকে। জয় হোক পৃথিবীর সমস্ত হার না মানা মানুষদের। জয় হোক ফুটবলের!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Ariful Hasan Shuvo

Ariful Hasan Shuvo

A simple human being who lives in two universes in parallel. One you see, the other one is inside his head where there's nothing but thoughts and dreams!
Currently a student of Shahjalal University of Science and Technology
Ariful Hasan Shuvo
এই লেখকের অন্যন্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?