ছাত্রজীবনেই বিদেশ ঘুরে আসুন কম খরচে!

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

ভ্রমণের মতো খুব কম জিনিসই মানুষকে প্রকৃত জীবনের শিক্ষা দিতে পারে। নিজের বৃত্তের বাইরে যাওয়া যেমন আনন্দময় তেমনি রোমাঞ্চকর। কিন্তু অনেকের মধ্যেই এই ধারণাটি আছে যে ভ্রমণ-বিশেষ করে বিদেশ ভ্রমণ অনেক ব্যয়বহুল একটি ব্যাপার। ছাত্রাবস্থায় সীমিত অর্থে তা করা সম্ভব নয়।

আসলে ধারণাটি অনেকাংশে ভুল। একটু কৌশল অবলম্বন করলে ছাত্রাবস্থাতেই সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে খুব কম খরচে পৃথিবী চষে বেড়ানো যায়। এই ব্লগে মূলত আমরা দেখবো ভ্রমণে বের হয়ে যাবার পূর্বেই কী কী করা উচিত। তাহলে দেখে নেই ভ্রমণ পূর্ববর্তী টিপসগুলো –

১। সুপরিকল্পনা

একটি ভালো ভ্রমণের জন্য পরিকল্পনা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যতো আগে থেকে এবং যতো ভালো মতো আপনি পরিকল্পনা করতে পারবেন – আপনার ভ্রমণ ততোটাই আনন্দদায়ক ও কম খরচে হবে।

ঘুরে আসুন: ভিনদেশীদের থেকে শেখার আছে অনেক কিছু!

আপনি  কোথায় যেতে চান, কোন কোন জায়গায় ঘুরবেন, কী কী দেখবেন, যাওয়ার জন্য কী কী লাগবে – সব কিছু নোট ডাউন করে ফেলতে থাকুন। এ সকল তথ্য আপনি কিন্তু বাসায় বসে থেকেই পেতে পারবেন। ইউটিউবে রয়েছে অসংখ্য ভ্রমণের চ্যানেল, রয়েছে অসংখ্য ব্লগ ও ওয়েবসাইট। তাই যেকোনো তথ্য পেতে আপনার বেগ পেতে হবে না।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

২। অর্থ ব্যবস্থাপনা

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ – অর্থ। অনেকেই বলবেন – “আমার তো পার্ট-টাইম জব বা টিউশন থেকে আহামরি আয় হয় না। তাহলে?” এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয়টি হল – ইচ্ছা। প্রথমেই আপনার মনকে আপনার বুঝাতে হবে যে আপনি ভ্রমণ করতে চান। ইউটিউব বা টিভির পর্দায় দেখা সুন্দর জায়গাগুলো নিজের চোখে দেখতে চান।

আর এজন্য আপনার কিছুটা ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে। সেটা হল- আমাদের অনেক অপ্রয়োজনীয় ব্যয় থাকে, সেগুলো কমানো।

যেমন- মাসে একবার কম চিলক্সে বা টেক-আউটে যাওয়া, ঘন্টায় ঘন্টায় চা বা অন্য কিছু না খাওয়া। বিষয়গুলো ছোট মনে হলেও কয়েক মাস পর দেখবেন কত ভালো একটা সেভিং আপনার হাতে আছে।    

চলে এলো Interactive Video!

এতদিন আমরা শুধু বিভিন্ন ইন্সট্রাক্টর ভাইয়া-আপু’দের ভিডিও দেখেছি। কেমন হবে যদি ভিডিও চলার মাঝখানে আমরা কতটুকু শিখেছি সেটার উপর ছোট ছোট প্রশ্ন থাকে?
না, ম্যাজিক না। দেখে নাও আমাদের Interactive Video প্লে-লিস্ট থেকে!

১০ মিনিট স্কুলের Interactive Video!

৩। বুদ্ধি করে টিকেট কাটা

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনেক সময় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় – যাতায়াত। বিশেষ করে, প্লেনের টিকিটের দাম। এখানে কিছু কৌশল রয়েছে। যেমন – টিকিটের দাম সবসময় একরকম থাকে না। ভ্রমণের দিন থেকে যত আগে বুক দেয়া যায়, ততো কম থাকে।

এজন্য আপনাকে বেশ কিছুটা সময় ব্যয় করতে হবে ইন্টারনেটে তথ্য ঘাঁটাঘাঁটিতে।

আবার, বছরের কিছু কিছু সময় টিকিটের চাহিদা থাকে অনেক কম, তখন দামও কম থাকে। আবার কিছু কিছু সময় চাহিদা থাকে অনেক বেশি যেমন – বড়দিন বা নিউ ইয়ারের সময়ে। এছাড়াও অনেক Low Cost Carrier রয়েছে, যেসব এয়ারলাইন্সে আপনি অনেক কম খরচে যাচায়াত করতে পারেন।

এজন্য আপনাকে বেশ কিছুটা সময় ব্যয় করতে হবে ইন্টারনেটে তথ্য ঘাঁটাঘাঁটিতে। আরেকটি টিপস – বেশ কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে যেমন Student Universe এবং Student Travel Association যারা তাদের ওয়েবাসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য দেয় বড় বড় ছাড়।

৪। হোটেল বুকিংয়ের জারিজুরি

ভ্রমণে খরচের বিশাল অংশ ব্যয় হয় হোটেলে বা রিসোর্টে। হোটেল বুকিং এর পরিবর্তে এক্ষেত্রে আপনি যা বুক করতে পারেন সেটি হল – হোস্টেল বা ব্যাকপ্যাকারস ইন। হোস্টেল বা ব্যাকপ্যাকারস ইন – আমাদের দেশে খুব একটা জনপ্রিয় বা পরিচিত না হলেও সারা বিশ্বে, বিশেষ করে ইউরোপে এর প্রচলন আছে অনেক।

ঘুরে আসুন: গুগল ম্যাপের ৫টি চমৎকার ব্যবহার!

হোস্টেলে আপনি হোটেলের মতো আলাদা রুম পাবেন না। এক বিশাল রুমে ডর্মের মতো কয়েকটা বিছানায় কয়েকজন থাকবেন। আপনার জিনিস নিরাপদে রাখার জন্য থাকবে আলাদা লক-আপ। প্রথমেই মনে হতে পারে “এটা কি নিরাপদ নাকি?”। হ্যাঁ, সব ডর্মে আপনি ও আপনার জিনিসপত্র যেকোনো হোটেলের মতোই নিরাপদ।

এখন স্মার্টবুকের সাথে পড়াশোনা হবে আর স্মার্টভাবে! এই লিঙ্কে চলে যাও আর দেখে নাও আমাদের স্মার্টবুকগুলো।

শুধু অনেক খরচ বাঁচানোই নয়, ডর্মের সবচেয়ে বড় দিকটি হল – আপনার সুযোগ হবে সারা বিশ্ব থেকে আসা অনেক বিচিত্র ও মজাদার আপনার মতো তরুণদের সাথে আড্ডা দেয়া ও সময় কাটানোর। সে এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা।

ডর্ম আপনি বুক করতে পারবেন সহজেই booking.com বা hostelworld.com এর মাধ্যমে।

পরবর্তী পর্বে আমরা দেখবো, কীভাবে ভ্রমণকালীন সময়ে আপনি সহজেই কমিয়ে আনতে পারেন খরচ।

Bon Voyage!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?