পৃথিবীর যত অমীমাংসিত রহস্য (পর্ব ১)

বিবিধ [Fetching...]

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

নিতুর নিত্যনতুন রহস্য নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে খুব ভালো লাগে। সে প্রায়ই রহস্য নিয়ে লেখা বিভিন্ন ধরনের বই পড়ে। বই পড়ার সুবাদে জানতে পেরেছে অসংখ্য রহস্যের ব্যাপারে এবং শেষ পর্যন্ত সেই রহস্যগুলো কীভাবে সমাধান হয়েছে সে ব্যাপারেও তার আগ্রহের কোন শেষ নেই।

রহস্য শব্দটিই এমন, শোনার সাথে সাথে আমাদের চোখ কপালে উঠে যায়একই সাথে সেই রহস্যের কীভাবে সমাধান হয়েছে বা কীভাবে করা যায় তা নিয়েও আমাদের আগ্রহের কোন শেষ থাকে না। পৃথিবীর নানান রহস্য কিন্তু আমাদের জ্ঞানভান্ডারকেও সমৃদ্ধ করে।

নিতু যখন বুঝতে পেরেছে রহস্যের নানান বই শুধু চিত্তবিনোদন দিচ্ছে তা নয় বরং তা জ্ঞানভান্ডারকে করছে সমৃদ্ধ, তখন থেকে রহস্যের উপর লিখিত বই নিতু সবচেয়ে প্রিয়। এমনকি নিত্যনতুন রহস্য এবং তার সমাধান নিয়ে নিতু প্রায়ই গল্প করতো তার বন্ধুদের সাথে। প্রতিটি রহস্যের গল্প জানবার পর সবারই আর্কষণ থাকতো রহস্যের সমাধান জানার প্রতি।

 

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

নিঃসন্দেহে পৃথিবীর নানান রহস্য তোমার জ্ঞানের ভান্ডারকে করবে সমৃদ্ধ। কিন্তু তোমরা জেনে অবাক হবেপৃথিবীর এমন অনেক রহস্য রয়েছে যেগুলোর সমাধান আজ অব্দি হয়নি। এরকম কিছু অমীমাংসিত রহস্য নিয়ে জানাতে তিন পর্বে লেখা সিরিজের প্রথম অংশ আজকের এই লেখাটি। জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ করতে জেনে নিতে পারো পৃথিবীর রহস্যগুলোর সম্পর্কে।

 

ঘুরে আসুন: সাফল্য যাদের মানেনি বয়সের বাধা

১. টাওস হোম

টাওস হোম হচ্ছে নিউ মেক্সিকোর একটি ছোট শহর। সেই শহরে প্রায়ই ডিজেল চালিত ইঞ্জিনের শব্দের মতো শব্দ শোনা যায়।জানা যায় এই শব্দে অনেক মানুষ পাগল হয়ে গেছেন। এই শব্দটি শুধু খোলা কানেই শোনা যায়, কিন্তু কোন শব্দ শনাক্তকারী ডিভাইসের মাধ্যমে এই শব্দ শোনা যায় না। এমনকি তোমরা জেনে অবাক হবে এখন অব্দি কেউই কোথা থেকে এই শব্দের উৎপত্তি- তা শনাক্ত করতে পারেনি।

 

২. ভয়নিখ ম্যানু্স্ক্রীপ্ট

ভয়নিখ ম্যানুস্ক্রীপ্ট  লিখা হয়েছে ভ্যালুমের (পশুর চামড়া) উপর ১৫০০ শতাব্দীতে। অজানা ভাষায় লিখিত বইটির মাত্র ২৪০ টি পৃষ্ঠা পাওয়া গিয়েছে,আরো অনেক পৃষ্ঠাই হারিয়ে গিয়েছে। বইটিতে রয়েছে অসংখ্য ডায়াগ্রাম,ইলাস্ট্রেশন এবং কোড। এবং বইটিতে লেখাগুলো বাম দিক থেকে ডান দিকে লেখা হয়েছে।

ভয়নিখ ম্যানুস্ক্রীপ্ট পড়েছেন অসংখ্য প্রফেশনাল ক্রীপ্টোগ্রাফার এবং আমেরিকা ও ব্রিটেনের অসংখ্য জনপ্রিয় কোডব্রেকাররা। যাদের কেউ অজানা ভাষায় মুদ্রিত এই বইয়ের লেখাডায়াগ্রামকোড, ইলাসস্ট্রেশনের সমাধান করতে পারেননি এবং এখন পর্যন্ত বইটি জনপ্রিয় একটি রহস্য হিসেবে রয়ে গেছে ক্রীপ্টোগ্রাফারদের নিকট।

 

৩. জ্যাক দ্য রিপার

জ্যাক দ্য রিপারের নাম হয়তো আমরা বিভিন্ন বই এবং মুভিতে শুনেছি কিন্তু জ্যাক আসলে কে ছিলেন- ইতিহাস সেই রহস্যের উন্মোচন আজও করতে পারে নি। জ্যাক ছিলেন একজন সিরিয়াল কিলার, যিনি কিনা ১৮০০ শতাব্দীতে লন্ডনের প্রাচ্যদেশের ১১ জন মহিলাকে খুন করেছিলেন, যাদের প্রত্যকের দেহই বিকৃত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায় কিন্তু এই খুনীর আসল পরিচয় পাওয়া যায়নি এবং তাকেও কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

 

৪. বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল

সমুদ্রের এই অদ্ভুত ব্যাসটি রয়েছে মিয়ামিবারমুডা এবং পুয়ের্টোরিকোর মাঝামাঝিতে। পাইলটেরা এই ব্যাসের মাঝামাঝিতে চলাচলের সময় অত্যন্ত উত্তেজিত থাকেন। অসংখ্য জাহাজ এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে হারিয়ে গিয়েছে। এক ধরনের অজানা বাষ্পীয় বুদবুদ নিঃসরিত হয় এই জায়গা থেকে। আর এই অদ্ভুত ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোন সমাধান বের করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। কেন এত জাহাজ এই জায়গায় হারিয়ে গিয়েছেসেগুলো কই আছে তাও জানা যায়নি, এমনকি জাহাজগুলোর কোন অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।

 

৫. ক্রীপ্টস

ল্যাংলিভার্জিনিয়াতে CIA- এর হেডকোয়ার্টারের বাইরে দেখতে পাবে একটা শিলারুপযার উপরিতল নানান কোডেড ইন্সক্রিপশন করা। এই চিত্তাকর্ষক ভাস্কর্য তৈরি করেছেন জিম সানবরন, তিনি বুঝাতে চেয়েছেন সবকিছুই সমাধান এবং  রহস্যোদ্ধার করা সম্ভব কোড এবং সংকেত ব্যবহার করে। দেয়ালের গায়ে চারটি  ইনস্ক্রিপশন সেকশনের  মধ্যে তিনটির সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। দেয়ালের গায়ে নানান কোডের সমাধান হয়েছে,কিন্তু চার নম্বর দেয়ালের ইনস্ক্রিপশন সমাধান করা সম্ভব হয়নি। CIA এর কোন মেধাবীও এই চার নম্বর সেকশনের সমাধান করতে পারেনি এটি পৃথিবীর অন্যতম সমাধানহীন রহস্যের মধ্যে একটি।

 

চলে এলো Interactive Video!

এতদিন আমরা শুধু বিভিন্ন ইন্সট্রাক্টর ভাইয়া-আপু’দের ভিডিও দেখেছি। কেমন হবে যদি ভিডিও চলার মাঝখানে আমরা কতটুকু শিখেছি সেটার উপর ছোট ছোট প্রশ্ন থাকে?
না। ম্যাজিক না। দেখে নাও আমাদের Interactive Video প্লে-লিস্ট থেকে!

১০ মিনিট স্কুলের Interactive Video!

৬. সেপার্ডস মনুমেন্ট ইনস্ক্রিপশন :

ইংল্যান্ডের স্টার্ফোডশ্যায়ারে একটি ভাস্কর্য রয়েছে যা কিনা বুদ্ধিজীবীদের জন্য তৈরি করা হয়েছিলো। সে ভাস্কর্যে লিখিত ইনস্ক্রিপশন এবং একটি শব্দ DOUOSVAVVM , যার অর্থ এবং উদ্দেশ্য কোনটিরই কোন সমাধান পাওয়া যায়নি। সেপার্ড মনুমেন্টটি তৈরি করা হয়েছিলো ১৮০০ শতাব্দীতে এবং ওই মনুমেন্টে পাওয়া শব্দটির কোন সমাধান করা সম্ভব হয়নি

 

৭. তামাম সউদ

১৯৪৮ সালের ডিসেম্বর মাসে একজন অচেনা লোকের লাশ খুঁজে পাওয়া যায় সার্মমোটন সমুদ্রে, এই সমুদ্রটি অবস্থিত অস্ট্রেলিয়াতে। লোকটির শার্টের পকেটে একটি কাগজের টুকরা খুঁজে পাওয়া যায়কাগজের ওই টুকরাটিতে লেখা ছিলো “Tamam Saud” – তামাম সউদ। যা অনুবাদ করলে হয়সমাপ্তবাশেষ রুবাইয়তের ওমার খৈয়ামের বিশেষজ্ঞদের চেষ্টায় শব্দটির অনুবাদ করা হয়। এরপর ওই দেশের সরকারের শত প্রচেষ্টায় পরেও লোকটির কোন পরিচয় জানা যায়নি। এমনকি ইতিহাস তাকে একজন রহস্যময় ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিতি প্রদান করেছে।

 

৮. রাশিচক্র অক্ষর

১৯৬০ এবং ১৯৭০ দশকের দিকে একজন আসামির সন্ধান পাওয়া যায় স্যান ফ্রান্সিসকোর সমুদ্র এলাকাতে। তাকে রাশিচক্র খুনি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, কারণ তিনি রাশিচক্র ব্যবহার করে ভয়ানক কিছু চিঠি পুলিশ এবং প্রেসে পাঠান। চারটি চিঠির একটি চিঠির রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছিলো। তার ব্যবহৃত রাশিচক্রের কারণ সম্পর্কে জানা গিয়েছিলো যা ছিলো খুবই আপত্তিকর এবং ভয়ংকর কিছু কারণ। কিন্তু বাকি তিনটি চিঠির  রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয় নিসেই চিঠিতে ব্যবহৃত রাশিচক্রের কোন সমাধান আজ অব্দিও হয়নি।

 

৯. জর্জিয়া গাইডস্টোন

রহস্যের চাদরে ঘেরা জর্জিয়া গাইডস্টোন অবস্থিত আলবার্টে। জর্জিয়া গাইডস্টোন দুর্গটি তৈরি হয়েছে ১৯৭৯ সালে। দুর্গের দেয়ালে ১০টি নতুন প্রত্যাদেশ  লেখা হয়েছে। এই প্রত্যাদেশগুলো লেখা হয়েছে ইংরেজি, হিন্দীহিব্রু, আরবিচায়নিজরাশিয়ান, স্প্যানিশ ভাষায়, কিন্তু কেন এবং কাদের জন্য এই প্রত্যাদেশগুলো লেখা হয়েছে,সেই রহস্যের কোন সমাধান হয়নি।

 

১০. রংগরংগ

মোয়ায় অবস্থিত রহস্যময় পৃর্ব দ্বীপে খুঁজে পাওয়া যায় আধিভৌতিক প্রতীক সম্বলিত একটি কাঠের বা পাথরের টুকরার মতো অংশ যা রংগরংগ নামে পরিচিত। এই আধিভৌতিক প্রতীকগুলোর আজ পর্যন্ত পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয় নি। এই প্রতীকগুলো দিয়ে কী বুঝানো হয়েছে বা কী লিখা হয়েছে সেই রহস্যের কোন সমাধান হয়নি আজ পর্যন্ত।

 

১১. দ্যা লচ নেস মনস্টার

বছরের পর বছর মানুষ শুনে এসেছে লচ নেস মনস্টার-এর ব্যাপারে এবং এখন পর্যন্ত অনেকেই ভেবে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যায়। এই মনস্টার আর সকল প্রাণীর মতোই সৃষ্ট একটি জীব। বহুবছর যাবত বিভিন্ন ভিডিও এবং ফুটেজ বারবার দেখে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেছে হয়তো এটা কোন সমুদ্র উপকূলীয় সাপ বা এরকম সমুদ্র প্রাণী হবে। এমনকি এখনো ভাবে লচ নেস মনস্টার এখনো আছেএবং এরা সমুদ্রের নিচে পানিতে চলাচল করে। কিন্তু আসলে এই মনস্টারের ব্যাপারে রহস্যের কোন শেষ নেই।

 

এখন স্মার্টবুকের সাথে পড়াশোনা হবে আর স্মার্টভাবে! এই লিঙ্কে চলে যাও আর দেখে নাও আমাদের স্মার্টবুকগুলো।

১২. বিগফুট

বিগফুট জীবটি বসবাস করে ইউনাইটেড স্টেট এবং কানাডার  বরফাচ্ছন্ন পাহাড়ি এলাকায়। প্রথমে এটাকে গরিলা ভাবা হতো। এই জীবটির পায়ের ছাপ একদম মানুষের পায়ের ছাপের মতো, কিন্তু এই জীবটির ব্যাপারে সঠিক এবং কার্যকরী কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। একটি জীব যার পায়ের ছাপ মানুষের মতো, অথচ সে মানুষ বা গরিলা নয়তাহলেকী? এই রহস্যের সমাধান এখনো হয়নি।

 

১৩. ব্ল্যাক ডালিয়া মার্ডার

২২ বছর বয়সী এলিজাবেথ (যার কুচকুচে কালো চুলের জন্যে তিনি ব্ল্যাক ডালিয়া নামে খ্যাত ছিলেন) সে সময় শোবিজ জগতে নিজেকে তুলে ধরতে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। এমন সময় ব্ল্যাক ডালিয়া খুন হন। কে বা কারা তাকে খুন করেছিলেন, কেন খুন করেছিলেন সে ব্যাপারে অনেক অনুসন্ধানের পরও কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।  ইতিহাসে ব্ল্যাক ডালিয়ার খুন অন্যতম একটি রহস্যময় খুন হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

 

ঘুরে আসুন: কলেজ জীবনেই বাজিমাত: হয়ে ওঠো উদ্যোক্তা!

১৪. স্টোনহেঞ্জ

স্টোনহেঞ্জ তার সমগ্র সৌন্দর্য এবং বিভ্রান্তিকর রহস্য নিয়ে অবস্থিত রয়েছে ইংল্যান্ডে। জায়গাটিতে অনেক  পাথর একটার উপর আরেকটা  বসে,সুন্দরভাবে সজ্জিত রয়েছে। প্রতিটি পাথর প্রায় ছয় টন করে ওজন। স্টোনহেঞ্জ এখন পর্যন্ত মানবসভ্যতার অত্যন্ত জনপ্রিয় রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে। অনেকের মতে এই স্থাপত্য হয়তো প্রকৃতির নিয়মে জমাট বেধে সৃষ্টি হয়েছে,অনেকে মনে করেন এটি হয়তো মানব সৃষ্ট স্থাপত্য অথবা অনেকে ভাবেন হয়তো অন্য গ্রহের কোন প্রাণী এটা সৃষ্টি করেছেন। সেই আদি যুগে কীভাবে পাথরগুলো এভাবে সজ্জিত করা হয়েছিলো সেটার সমাধান আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

 

১৫.দ্যা লস্ট সিটি অফ আটলান্টিস

দ্যা লস্ট সিটি অফ আটলান্টিসকে কল্পনা করা হয় অত্যন্ত সুন্দর একটি শহর হিসেবে, যেখানে মারমেইড এবং মারমেইনরা বসবার করতো। কিন্তু এই শহর সমুদ্রের অতলে ডুবে যায়। কল্পনা করা হয় এই শহরটির অস্তিত্ব সত্যিই বাস্তবে ছিলো। সমুদ্রের নিচে হয়তো এই শহরের অবশিষ্টাংশ আছে,যা প্রমাণ করবে এই শহরের অতীত সৌন্দর্য। কিন্তু এই শহর নিয়ে জল্পনা কল্পনার কোন সঠিক সমাধান এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। নিঃসন্দেহে এই শহরটি রহস্যময় শহর হিসেবে জনমনে রয়ে গেছে।

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে মনিরা আক্তার লাবনী


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Nusrat Jahan

Nusrat Jahan

I love to read books as a hobby. Alongside watching movies is my favourite leisure activity. I love to write which is something I am very passionate about .My aim is to work in the field of marketing. I am currently doing BBA from University of Asia Pacific.
Nusrat Jahan
এই লেখকের অন্যন্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?