ফেসবুকের সঠিক ব্যবহার করে হয়ে ওঠো আদর্শ নাগরিক


পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

ফেসবুক ব্যবহার করে না, বাঙ্গালি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই সংখ্যাটা দিনকে দিন এত অস্বাভাবিক হারে কমে আসছে যে কিছুদিন পর হয়তো আঙ্গুলের কর গুনে বলে দেয়া যাবে ফেসবুকে এখনো কোন তরুণ আসক্ত হয় নি! ফেসবুক অনেকদিন ধরেই আর নিছক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নয়, একে এখন বলা চলে ভার্চুয়াল একটা জগত, নীল সে জগতে বাস করছে বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ।

এই ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাকে কেবলমাত্র বিনোদনের কাজে না লাগিয়ে একটু চেষ্টা করলেই কিন্তু আমরা ফেসবুককে বানিয়ে ফেলতে পারি কার্যকর একটা জায়গা, যেখান থেকে সহায়তা পাওয়া যাবে চাইলেই! আজ বলবো এরকম কিছু উদ্যোগের কথা।

১। ফেসবুক সাংবাদিকতা

ফেসবুকের সাংবাদিক হবার সবথেকে ভালো বিষয়টা হচ্ছে যে তোমাকে কোন সাংবাদিকতায় ডিগ্রি নিতে হয় না। তোমার স্ট্যাটাস বারই হচ্ছে তোমার সংবাদ, ফেসবুকের নিউজ ফীড হলো সেই সংবাদপত্র। চারপাশে কিন্তু প্রচুর অসঙ্গতি দেখো তুমি। দেখারই কথা। হয়তো এগুলো দেখে হতাশ হয়ে চলে যাও তুমি। কিন্তু চাইলেই তুমি এর প্রতিবাদ করতে পারো, চাইতেই পারো একটা সুন্দর পৃথিবীর। যেটা করতে হবে, সেটা হলো এই ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে শুরু করে দাও প্রতিবাদ!

তোমার এলাকায় ডাস্টবিন নেই, সেটা লিখে শেয়ার করো সবাইকে, সবার প্রতিবাদে একসময় ডাস্টবিন আসবেই! ইভ টিজারদের বড় উৎপাত? ছবি আর ভিডিও করে শেয়ার করে দাও, পুলিশকে জানাও। ইভ টিজিং বন্ধ হতে বাধ্য হবে! ফেসবুকের সংবাদকে এভাবে কাজে লাগালে জীবন হবে আরো সুন্দর।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

২। রক্তদান হোক আরো সহজ!

প্রায়ই রক্ত দেবার জন্যে বিভিন্ন রক্তদাতা সংগঠন থেকে পোস্ট আসে। এই পোস্টগুলোয় কেউ সাড়া দিতে দিতে হয়তো রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়! তুমি যদি নিজের ফেসবুকের ছোট্ট যে বায়ো অংশটা আছে, সেখানে তোমার পরিচয়ের পাশাপাশি নিজের রক্তের গ্রুপটাও দিয়ে দাও, তাহলে কিন্তু সবার জন্যেই অনেক সহজ হবে পুরো বিষয়টা!

ভেবে দেখো, তোমার একটা বায়োতে ছোট্ট করে ব্লাড গ্রুপ লেখার কারণে হয়তো তুমি রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচাতে পারছো!

ঘুরে আসুন: কাজের আগে পরিকল্পনা: কেন এবং কীভাবে?

৩। সামাজিক ইস্যুতে ফেসবুক

ফেসবুককে এখন বলা যায় মানুষের মত প্রকাশের সবথেকে কার্যকর উপায়গুলোর একটা। ফেসবুকে যেভাবে তুমি সমাজের নানা বিষয় নিয়ে বলতে পারো, সামনাসামনিও হয়তো তেমনটা হয় না। আর এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে কিন্তু গণসচেতনতা গড়ে তুলতেই পারো তুমি।

MUN এর খুঁটিনাটি শিখে ফেল এই ছুটিতে!

Model United Nations বা MUN নিয়ে অনেকেরই আগ্রহের কোন কমতি নেই। কিভাবে এই কম্পিটিশনে অংশ নিলে সাফল্য পাওয়া যাবে, সেটি অজানা থাকার কারণে অনেকে ইচ্ছা সত্ত্বেও অংশগ্রহণ করার বদলে দু’পা পিছিয়ে যায়।

আর তাই ঘরে বসে MUN সম্পর্কে জানতে দেখে এসো ১০ মিনিট স্কুলের এই ভিডিও সিরিজটি!

১০ মিনিট স্কুলের MUN ভিডিও সিরিজটি

শাহবাগ চত্বরের সেই আন্দোলনের শুরুটাও কিন্তু ছিল একটা ফেসবুক পোস্ট থেকেই। আর তাই উদ্ভট অপ্রয়োজনীয় ইভেন্ট না খুলে দরকারি ইভেন্টের মাধ্যমে তুমিও গণজাগরনের শুরুটা করতে পারো!

৪। ফেসবুক শপকে কাজে লাগাও!

খেয়াল করেছো হয়তো, ফেসবুকে শপ নামে একটা চমৎকার অপশন রয়েছে। এই শপকে ব্যবহার করে কিন্তু অনলাইনে শপিং করতে পারো তুমি, কিছু বিক্রি করতে চাইলে ফেসবুকও কিন্তু দারুণ একটা মাধ্যম! ধরো তোমার একটা জার্সির দোকান আছে। তুমি যদি ফেসবুকে এই জার্সিগুলোকে শপে রাখো, তাহলে নির্দ্বিধায় তোমার দোকানের বিক্রি বাড়বে, জনপ্রিয়তাও বেড়ে যাবে!

ঘুরে আসুন: যেই তিনটি অভ্যাস আপনার ডিপ্রেশন দূর করতে সাহায্য করবে

৫। গ্রুপ চ্যাটকে বানিয়ে ফেলো শেখার মাধ্যম!

আমরা সবাই কোন না কোন ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপ চ্যাটে আছি। হোক সেটা বন্ধুদের গ্রুপ চ্যাট, হোক সেটা ডিপার্টমেন্টের কোন ক্লাবের গ্রুপ চ্যাট, কিংবা ছোটবেলার বন্ধুদের গ্রুপ চ্যাট। সেখানে আমরা সারাদিনই বিভিন্ন বিচিত্র বিষয় নিয়ে বকবক করতেই থাকি। এই গ্রুপ চ্যাটটাকে কিন্তু কোনকিছু শেখার জন্যে দারুণ কাজে লাগানো যায়!

ধরো তুমি ইংরেজি শিখতে চাও। এই গ্রুপ চ্যাটে যদি বন্ধুদের সাথে ইংরেজিতে কথা বলতে থাকো, তাহলে তাঁদের যেমন ইংরেজির প্র্যাকটিস হবে, তুমিও কিন্তু এই বিদেশী ভাষাটায় পারদর্শী হয়ে উঠবে! এছাড়া আরেকটা উপকার আছে এখানে। ধরো তোমার ইংরেজি দুর্বল। এমনিতে এই ভাষা প্র্যাকটিস করতে তাই লজ্জা লাগবে তোমাদের। কিন্তু বন্ধুদের মধ্যেই যদি কথা বলো, তাহলে আর লজ্জা কিসের?

দেশের বাইরে বেড়াতে যেতে চাইলে সেখানকার রাজধানীর নাম জেনে নেয়া অবশ্যই দরকার। তাই ১০ মিনিট স্কুলের এই মজার কুইজটির মধ্যমে জেনে নাও বিভিন্ন দেশের রাঝধানীর নাম!

ফেসবুক এখন আর কেবল বিনোদনের জায়গা নয়। আর এই ভার্চুয়াল জগতকে নিয়ে কাজ করে আদর্শ নাগরিক হতে পারলে অসাধারণ লাগবে না তোমার?


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?