দূরদর্শী নেতৃত্বে দরকার রূপকল্প: পর্ব তিন

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

একজন নেতা যদি তার লোকজন ও অনুসারীদের জানে এবং তাদের চলাফেরা সম্পর্কে বোঝে তবে এটা তাকে সামনে নিয়ে যাবে। লোকজনকে বুঝতে পারাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে নেতা দ্বিতীয় ধাপে উন্নীত হবে। প্রভাব বিস্তার করার সাথে সাথে নেতাকে এটাও দেখতে হবে, এই প্রভাব লোকজনের ওপর কেমন কাজ করছে।

রূপকল্প পূরণে বাধাগুলো কী কী তা আপনি জানতে পেরেছেন। এটা ছিল প্রথম ধাপ। এখন পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে দ্বিতীয় ধাপ। এই দ্বিতীয় ধাপ খুবই জরুরি। কারণ আপনি যখন লোকজনকে প্রভাবিত করবেন, চিনবেন ও বুঝবেন তখনই তাদের নিয়ে রূপকল্প পূরণে একত্রে কাজ করতে পারবেন। এজন্যই দ্বিতীয় ধাপের ব্যাপারটি যথাযথভাবে জানা ও মেনে চলা জরুরি।

তাদের পাশে দাঁড়ান

আপনি কী চান তা বলার আগে আপনার হৃদয়ে কী আছে তাই দেখান। লোকজনের সাথে আন্তরিক একটি সম্পর্ক তৈরি করুন। আপনার কাজ নিয়ে লোকজন আগ্রহী নয়। লোকজন নিজেদের নিয়ে আগ্রহী। লোকজন তখনই আগ্রহী হবে যখন তারা দেখবে যে আপনি তাদের প্রতি যত্নশীল। যত্নশীল হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটার মানে এই না যে তাদেরকে অর্থ দেবেন। অর্থ ছাড়াও অনেকভাবে মূল্যায়ন করা যায়। যেমন ভালোবাসা, আন্তরিকতা, সম্মান, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, তার অনুপস্থিতিতে তার ভালো গুণাবলির প্রশংসা করা ইত্যাদি।

লোকজন নেতার রূপকল্প দেখার আগে নেতার চরিত্র দেখে, কাজকর্ম দেখে। তাই চেষ্টা করুন লোকজনের আস্থা অর্জন করতে, নিজেকে স্বচ্ছ ও ধৈর্যশীল বানান। কথা ও কাজে স্বচ্ছতা দেখান। যেখানে আছেন, যা আছে তাই দিয়ে কাজ আরম্ভ করুন। লোকজনের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। তাদের স্বপ্ন ও আশা খুঁজে বের করুন। তাদের স্বপ্ন পূরণ করার পথ ও আপনার রূপকল্প পূরণ করার পথের মধ্যে সেতু নির্মাণের চেষ্টা করুন।

দুই পথ এক করতে যাবেন না। কেবল একটি সেতু নির্মাণ করুন। পথ এক না করেও সেতু নির্মাণ করা যায়। তাদের ব্যক্তিগত স্বপ্ন পূরণে উৎসাহ দিন। এমন একটি পথ খুঁজুন যাতে তারা তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, আর আপনার রূপকল্পও পূরণ করা সম্ভব হয়। সমাধান খুঁজলে পাওয়া যায়। ধৈর্য হারাবেন না। এই কাজটি ঠিকভাবে করুন। এতে উভয়েই জয়ী হবেন। এটা করা সম্ভব। জয়ী হওয়ার জন্য অন্যকে পরাজিত করার দরকার নেই। বর্তমানে সাফল্যের সূত্র হচ্ছে অন্যকে জয়ী হতে সহায়তা করা, তিনিও আপনাকে জয়ী হতে সহায়তা করবেন। এতে করে দুইজনই জয়ী-জয়ী মনোভাব নিয়ে কাজ করতে পারবেন।

আবারও বলছি, আপনি যখন অন্যকে তার স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করবেন, তখন আপনার স্বপ্ন পূরণ করতে আপনার যা যা দরকার সেই লোক তাই দিয়ে সহায়তা করবে। এমনকি তারা অন্যদের কাছ থেকে যোগাড় করে হলেও আপনাকে সহায়তা করবে। কিন্তু প্রথমে আপনাকে সহায়তার হাত বাড়াতে হবে। এটা একমাত্র তখনই সম্ভব যখন আপনি লোকজনের সাথে আন্তরিকতার একটি দৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করবেন।

তাদের সামনে ছবি এঁকে দিন

আমি একবার পড়েছিলাম যে, কোন মহান গুরু তার রূপকল্প ব্যাখ্যা করে না। তিনি অন্যকে তার পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ দেন ও অন্যকে দেখার সুযোগ দেন। যাতে অন্যরা নিজ থেকেই সেই রূপকল্পের ইতিবাচক দিকগুলো দেখতে পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবেও এই সূত্রটি প্রয়োগ করেছি। আর দেখেছি যে আসলেই এটা কাজ করে। তবে আমার মনে হয় এর সাথে আরেকটু যোগ করতে হবে।

মহান নেতারা অন্যের মানসচিত্তে ছবি এঁকে দেন। এই সম্পর্কে জন ডব্লিউ প্যাটারসন বলেছেন, ‘আমি প্রথমে নিজে দেখার চেষ্টা করি। তারপর অন্যদেরকে আমার সাথে এনে দেখানোর চেষ্টা করি। ব্যবসায় সাফল্য অর্জন করার জন্য আপনি যা দেখেন তা অন্যকেও দেখানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে কেবল দেখলে হবে না, আপনার রূপকল্পকে নিজের মধ্যে অনুভব করতে হবে।’

প্রতিটি রূপকল্পেরই কিছু নির্দিষ্ট দিক থাকে। মহান নেতারা লোকজনকে বোঝেন, অন্যদের প্রশংসা করেন, অভিনন্দন জানান ও তাদেরকেও রূপকল্প অনুধাবন করার সুযোগ দেন।

দৃষ্টিকোণ

বিভিন্ন লোকজনের বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থাকে। একজন নেতার রূপকল্প লোকজনের এই দৃষ্টিকোণকে বজায় রাখে। এই রূপকল্প পূরণে লোকজন তাদের নিজেদের সম্ভাবনা দেখতে পায়। লোকজন যখন দেখবে যে এই রূপকল্প পূরণ করলে তাদের নিজেদের সম্ভাবনা আছে, সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ আছে তখন তারা নিজেরাই রূপকল্প পূরণে চেষ্টা করবে।

প্রত্যেক স্বতন্ত্র ব্যক্তিই তার নিজ কর্মগুণে সফল হয়। আপনার কাজ হচ্ছে তাদেরকে পথ দেখানো, সুযোগ দেওয়া, যাতে তারা উপরে উঠতে পারে। পল হারভে বলেছেন, ‘একজন অন্ধ লোক তার হাতের স্পর্শ দ্বারা বিশ্বকে দেখে। একজন অজ্ঞ লোক তার নিজের সীমাবদ্ধ জ্ঞান দিয়ে বিশ্বকে দেখে। আর একজন মহান লোক তার রূপকল্প দিয়ে বিশ্বকে গড়ে।’

সূর্য

সূর্য হচ্ছে আশা ও উষ্ণতার প্রতীক। সূর্য যেমন আলো দিয়ে আমাদেরকে পথ চলতে সহায়তা করে তেমনি রূপকল্প অন্যদেরকে উন্নত হতে, সমৃদ্ধ হতে সহায়তা করে। একজন নেতার প্রথম কাজ হচ্ছে আশাকে বাঁচিয়ে রাখা। অন্যদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করা। রূপকল্প পূরণে অবিরত অন্যদের উজ্জীবিত করা। ফ্রান্সের সম্রাট নেপোলিয়ন বলেছেন, ‘নেতারা অন্যকে স্বপ্ন দেখতে সহায়তা করে, আশা দেয়।’

পাহাড়

প্রতিটি রূপকল্প পূরণেই বাধা আসে। প্রতিটি কাজেরই নিজস্ব চ্যালেঞ্জ আছে। ভারতের বিহারের গয়া শহরে বাস করেন এক লোক। তার নাম দশরথ। তিনি আকাশসম একটি পর্বত ভেঙে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। তিনি নিজের হাতে, একা, কেবল হাতুড়ি-বাটালি নিয়ে, দীর্ঘ ২২ বছরে এই পর্বত ভেঙে মধ্য দিয়ে রাস্তা বানান। তাই যেকোন কাজকে অসম্ভব বলার আগে দ্বিতীয়বার চিন্তা করুন।

এডউইন ল্যান্ড বলেছেন, ‘প্রথমে আপনাকে বুঝতে হবে যে রূপকল্প পূরণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আবার এটা পূরণ করা একই সাথে প্রায় অসম্ভব। এটাই তো একজনের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি করবে।’

পাখি

পাখি স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক। আপনি যদি একটি ঈগলকে আকাশে উড়তে দেখেন তবে আপনার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার একটি অনুভূতি তৈরি হবে। বলা হয়ে থাকে, ‘অস্ত্র দিয়ে হয়ত যুদ্ধ করা যায়, কিন্তু যারা লড়াই করে তাদের চেতনা ও যে নেতৃত্ব দেয় তার চেতনার যোগফলেই যুদ্ধে বিজয়ী হওয়া যায়।’

ফুল

যেকোন মহান রূপকল্প অর্জন করতে সময় লাগে। এই ধরনের একটি দীর্ঘ যাত্রায় আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে। দূরের পথে যাত্রা করার সময় খেয়াল রাখবেন যাতে মাঝে মাঝে বিশ্রাম নেওয়া যায়। পথের ধারে অজানা কোন ফুলের সুবাসে মুগ্ধ হওয়া যায়। পরিবারের সাথে সময় কাটান। আপনার পিতা, মাতা, ভাই-বোন, স্ত্রী, সন্তানদের সাথে কোথাও ঘুরতে যান।

ছোট ছোট জয়ে বন্ধুদের নিয়ে উদযাপন করুন। এতে করে আপনার মধ্যে সজীবতা আসবে, ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। দীর্ঘ যাত্রা বিরক্তকর না হয়ে আনন্দদায়ক হয়ে উঠবে। সাফল্য হচ্ছে পূর্বনির্দিষ্ট করা একটি লক্ষ্য। যা অর্জন করার জন্য আপনি কেবল চেষ্টাই করেননি; বরং এই যাত্রাপথ উপভোগও করেছেন।

পথ

লোকজন নির্দেশনা চায়, আরম্ভ করার জন্য একটি জায়গা চায় এবং অনুসরণ করার জন্য একটি পথ চায়। একবার এক পর্যটক ভারত ভ্রমণে গিয়েছিল। সে হিমালয় পর্বতে বেড়াতে গিয়েছিল। গহীন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সে ও তার একজন ভারতীয় গাইড এগিয়ে চললো। পর্যটক তার গাইডকে জিজ্ঞেস করলো, ‘তুমি কীভাবে এই ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে পথ চেন? তুমি কি কখনো তোমার পথ হারাওনি?’

“একজন নেতার কাজ হচ্ছে লোকজনকে অনুভব করানো, তাদেরকে যা দেখা উচিত তাই দেখতে সহায়তা করা।”

গাইড জবাব দিলো, ‘জনাব, আমার দুইটি চোখ। একচোখ দিয়ে আমি আমার সামনের জিনিস দেখি। আর অন্যচোখ দিয়ে আমি দূরের গন্তব্যস্থল দেখি। আমি যখন চলি তখন আমি আমার সামনের চোখ দিয়ে চলি। আর অন্যচোখ দিয়ে আকাশের তারা দেখি ও নিজের গতিপথ ঠিক রাখি।’

আপনি নিজে

আপনার নিজেকে ছাড়া কখনো একটি রূপকল্প আকঁবেন না। আপনি আপনার রূপকল্পে কোথায় আছেন, কীভাবে আছেন এটা খুব স্পষ্টভাবে বর্ণনা করুন। আপনার রূপকল্পকে এগিয়ে নিতে এটার নেতৃত্বে আপনার নিজেকেই থাকতে হবে। এতে করে আপনি যে অঙ্গীকার করেছেন তা পূরণ করবেন বলে দেখা যাবে। আর লোকজনের সাথে আপনি একত্রে চলতে চান তাও দেখা যাবে।

জাতিসংঘে ভাষণদান কালে ওয়ারেন আর. অস্টিন বলেছেন, ‘আপনি যদি আমাকে উপরে উঠাতে চান, তারমানে আপনি আগে উপরে উঠেছেন।’

রজার ভন অচ, তার বই A kick in the seat of the pants-এ চমৎকার একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আপনি যেখানে বসে আছেন তার আশেপাশে পাঁচটি নীল রঙের জিনিস খুঁজে বের করুন। এটা বেশ মজার। এখনই করে দেখুন।

‘আপনি যখন নীল খুঁজবেন বলে মনকে ঠিক করেছেন তখন দেখবেন নীলরঙের জিনিসপত্র লাফ দিয়ে আপনার সামনে আসছে: নীল মলাটের একটি বই, নীল একটি কলম, নীল চিরুনি, নীল গেঞ্জি, নীল বালিশের কাভার, আরও কত কী!

‘ঠিক এমন ভাবেই আপনি একটি নতুন গাড়ি ক্রয়ের পরে দেখবেন যে সবখানেই ঐ ধরনের গাড়ি। তার কারণ লোকজন তাই খুঁজে পায় যা তারা দেখতে চায়।’

একজন নেতার কাজ হচ্ছে লোকজনকে অনুভব করানো, তাদেরকে যা দেখা উচিত তাই দেখতে সহায়তা করা। যদি ছবিটা ঠিকমতো আকাঁ যায় এবং অবিরত দেখানো যায়, তবে দেখবেন যে লোকজন নিজেরাই এটাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। যা কাজ করছে তার মধ্যেই রূপকল্পকে তুলে ধরছে। তাদের মনটা রূপকল্পের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে গেছে। তারপর রূপকল্প পূরণের জন্য কেবল একটি জিনিসই দরকার।

তারা যেসব জিনিস ভালোবাসে সেগুলোকে ছবির মধ্যে রাখুন

লোকজন অন্যের স্মৃতি বহন করে, রূপকল্প পূরণে সহায়তা করে যদি এটাতে তাদের ভালোবাসার জিনিস থাকে। আপনার রূপকল্পে এমন উপাদান রাখুন যেগুলো লোকজন ভালোবাসে। এতে করে রূপকল্পটি লোকজনের নিজেদের রূপকল্পে পরিণত হবে। আপনার স্বপ্ন এখন লোকজনেরই স্বপ্ন হয়ে দাঁড়াবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হাজারো প্যারাসুট বানানো হয়। শ্রমিকদের জন্য প্যারাসুট বানানো ছিল একটি ক্লান্তিকর কাজ। তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে আট-দশ ঘণ্টা সেলাই করা, রঙহীন কাপড় কাটা, এগুলোকে একত্র করা খুবই ক্লান্তিকর। কিন্তু প্রতিদিন সকালে কাজ আরম্ভ করার আগে পরিচালক শ্রমিকদের বলতেন যে প্রতিটি সেলাই হচ্ছে জীবন রক্ষাকারী সেলাই।

আপনাদের সেলাই করা প্রতিটি প্যারাসুটই একজনের জীবন রক্ষা করবে। হতে পারে সেই একজন হবে আপনার স্বামী, আপনার ভাই বা আপনার পুত্র। তাদেরকে এভাবে চিন্তা করতে অনুরোধ করা হয়। তারা এভাবে চিন্তা করেই তাদের কাজগুলো করেছিল।

যদিও কাজটি ছিল দীর্ঘ সময়ব্যপী। কিন্তু প্রতিটি পুরুষ ও নারী শ্রমিক বুঝতে পেরেছিলেন, তারা তাদের আপনজনদের সহায়তা করছেন। তারা বড় ও মহৎ চিত্রটি দেখতে পেয়েছিলেন।

এই পর্যায়ে আমাদেরকে নিজেদের জিজ্ঞেস করতে হবে, কীভাবে লোকজনকে রূপকল্পের সমান বৃদ্ধি করা যায়। এটার মানে একটাই, নেতাকে সবসময় কাজ করে যেতে হবে, লোকজনকে যথেষ্ট উপরে উঠাতে হবে যাতে তারা রূপকল্পকে দেখতে পায়।

একজন নেতাকে পর্যায় ৩ এ উঠে কিছু পদক্ষেপ নিতেই হবে। প্রথমত, নেতাকে এমন লোকজন খুঁজতে হবে যারা বিজয়ী মনোভাব সম্পন্ন। এসব লোকদের নিজ দলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কীভাবে বিজয়ী মনোভাব সম্পন্ন লোকদের খুঁজবেন সেই ব্যাপারে কিছু ইঙ্গিত দিয়ে দিচ্ছি:

 বিজয়ী মনোভাব সম্পন্ন লোক প্রত্যাখ্যান ও অসমর্থন নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন নয়।

বিজয়ী মনোভাব সম্পন্ন লোক ‘সর্বশেষ ফলাফল’ নিয়ে চিন্তা করে।

বিজয়ী মনোভাব সম্পন্ন লোক তার হাতের কাজটির দিকে বেশি মনোযোগী। (যেকোন একটি কাজের দিকে বেশি মনোযোগী। একটি কাজ সম্পন্ন হলে আরেকটি কাজ আরম্ভ করে এমন।)

বিজয়ী মনোভাব সম্পন্ন লোক কুসংস্কার মানে না। তারা বলে, ‘এটাই তো জীবন।’

– বিজয়ী মনোভাব সম্পন্ন লোক ব্যর্থ হলেও আত্ম-সম্মান বজায় রাখে।

বিজয়ী মনোভাব সম্পন্ন লোক কখনো নিজের প্রতিষ্ঠার জন্য, অগ্রগতির জন্য চেষ্টা থামায় না।

বিজয়ী মনোভাব সম্পন্ন লোক বড় ও মহান চিত্র দেখে।

বিজয়ী মনোভাব সম্পন্ন লোক চ্যালেঞ্জকে আশার চোখে দেখে।

বিজয়ী মনোভাব সম্পন্ন লোক অনর্থক চিন্তা করে নিজের সময় অপচয় করে না।

একবার যখন বিজয়ী মনোভাব সম্পন্ন লোক দলে যুক্ত হয়, তখন তারা অন্য প্রভাব বিস্তারকারীদের সাথে সহজেই মিশে যেতে পারে। এই মুহূর্তে নেতার মুখ্য কাজ হচ্ছে এই প্রভাব বিস্তারকারীদের সাথে সময় কাটানো। তারা কী নিয়ে আগ্রহী, তারা কোন ব্যাপারকে মূল্যায়ন করে তা জানতে হবে। নেতার মুখ্য কাজ হচ্ছে এই প্রভাব বিস্তারকারীদের উন্নতিতে সহায়তা করা, তাদের কঠিন সময়ে তারা যাতে এগিয়ে যেতে পারে তা নিশ্চিত করা। তাদেরকে বেড়ে উঠার সময় ও জায়গা করে দেওয়া। তাদের পরিবার ও কাজকে অভিনন্দন জানানো। তাদের শক্তিগুলো খুঁজে পেতে তাদেরকে সহায়তা করা। তাদেরকে সংগঠনের সাথে যুক্ত রাখা ও এগিয়ে যেতে সহায়তা করা।

এই বিজয়ী মনোভাব সম্পন্ন লোকদের মেন্টর হওয়াটা একজন নেতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদেরকে (পূর্বের ও বর্তমানের) মহান সব বই পাঠ করার জন্য বই উপহার দিন। তাদেরকে মহান জায়গায় নিয়ে যেতে হবে, মহান ঘটনা ও লোকজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। আপনার মধ্যে, নেতার মধ্যে তারা যেন ভালো গুণাবলি দেখে, শিখতে পারে এবং আপনার রূপকল্প পূরণে তাদের আগ্রহকে বজায় রাখতে হবে। আপনার রূপকল্পের সাথে তাদের ব্যক্তিগত আগ্রহ ও মুনাফা যাতে বজায় থাকে। পারস্পরিক এই সম্পর্ক যখন তৈরি করতে পারবেন তখন দেখবেন তারা স্বাভাবিক ভাবেই আপনার সংগঠনকে ও আপনার রূপকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

একজন নেতা এই তিনটি পর্যায়ে সফল হতে গিয়ে যেসব বিষয় দেখবে :

১. অনুভবনীয় পর্যায়: এই পর্যায়ে কাজ করার পাশাপাশি আপনি সাফল্য সম্বন্ধে অনুভব করবেন। এই পর্যায়ে নেতার কাজ হচ্ছে অন্যদেরকে শ্রবণ করা।

২. সম্ভাব্য পর্যায়: এই পর্যায়ে আপনার সূক্ষ বিচারবুদ্ধি কাজে লাগাতে হবে। এই পর্যায়ে একজন নেতা নেতৃত্ব দিতে আরম্ভ করে।

৩. সম্ভাবনা পর্যায়: এই পর্যায়ে নেতারা তাদের রূপকল্প দেখে। তারা তাদের স্বপ্নকে পূরণ করে ও উপভোগ করে।

রূপকল্প একজন নেতার সামর্থ্যকে বৃদ্ধি করে। একজন নেতা যে রূপকল্প দেখেন তিনি কেবল রূপকল্প পূরণ করতে পারবেন এই বিশ্বাসই রাখেন না; বরং এটা অবশ্যই পূরণ করা উচিত তাও মনে করেন। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। সাফল্য প্রকাশনীর রূপকল্প হচ্ছে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৬৪টি অনুপ্রেরণার বই প্রকাশ করা। আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশের জনগণকে ভালো ও সৎ কাজে অনুপ্রাণিত করা দরকার। এই উদ্দেশ্যে আমরা ৬৪টি অনুপ্রেরণার বই প্রকাশ করবো। এজন্য পাঠক, লেখক, প্রকাশক, বিনিয়োগকারী ও সর্বস্তরের জনগণের সহায়তা কামনা করছি। আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ ভালো ও সৎ কাজ করবে এবং অন্যকেও অনুপ্রাণিত করবে। এই দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের বন্দী শিবির থেকে যারা মারা যায়নি তাদের ওপর একটি গবেষণা হয়। ভিক্টর ফ্রাঙ্ক ছিলেন এমনই একজন। তিনি সেই বন্দী অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর একজন অনুপ্রেরণার বক্তা হয়ে ওঠেন। তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমি আজকে বেঁচে আছি এটার একটাই কারণ। কারণটি হচ্ছেন আপনারা।

আমার সঙ্গী বন্দীরা আশা ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু আমি স্বপ্ন দেখতাম যে আমি একদিন আপনাদের বলবো, ভিক্টর ফ্রাঙ্ক নাজিদের বন্দী শিবির থেকে বেঁচে এসেছে। আমি আজকের এই মঞ্চে আগে কখনো আসিনি। আমি আগে কখনো আপনাদের দেখিনি। আমি আগে কখনো এই বক্তব্য দেইনি। কিন্তু বন্দী দিনগুলোতে, আমার স্বপ্নে আমি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি এবং আজকের এই কথাগুলো হাজারোবার বলেছি।’ এটাই হচ্ছে রূপকল্প যা অন্য সবকিছু থেকে আলাদা।

যখন আমি তরুণ ছিলাম তখন আমি একটি কবিতা শিখেছিলাম। এই অধ্যায় শেষ করার মুহূর্তে এই কবিতা দিয়ে অধ্যায়টি সমাপ্ত করছি।

Ah, great it is to believe the dream,

As we stand in youth by the starry stream.

But a greater thing is to live life through,

And say at the end, the dream came true.

নেতারা নিজেদের জন্য ও অন্যের জন্য এই কাজটি করে।

এই লেখাটি লেখকের ডিভেলপিং দ্য লিডার উইদিন ইউ বইটি থেকে নেয়া হয়েছে। পুরো বইটি কিনতে চাইলে ঘুরে আসুন এই লিংক থেকে।

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে সুফি আহমেদ হামিম


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?