স্মৃতিশক্তিকে বশে আনার দারুণ ৫টি হাতিয়ার!

এত এত পড়ছ তবু কিচ্ছু মনে থাকে না? এটা আসলেই একটা বড় সমস্যা। পরীক্ষার আগের রাতে এত এত পড়ি, পরীক্ষার হলে গিয়ে দেখি সব মাথা থেকে উধাও। উধাও মানে উধাও। মাঝে মাঝে দুই একটা জিনিস মনে থাকে হয়তো তাও পুরোপুরিভাবে না। স্মরণশক্তি কম হওয়ার ফল এটাই। এখন তাহলে উপায় কী?

বিজ্ঞানীর অনেক দিন ধরেই নানা ধরণের গবেষনার মাধ্যমে চেষ্টা করছেন স্মরণশক্তি বাড়ানোর কোন উপায় খুঁজে বের করতে। কিছু কিছু উপায় তাঁরা খুঁজে পেয়েছেনও যেগুলো স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করে।

নানা ধরণের গবেষণার ফলাফল এই পদ্ধতিগুলো। তাই এগুলো কাজ করবে কি করবে না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ খুব কমই আছে। চলো দেখে আসি কী কী করলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

কোন কিছু মনে রাখার প্রক্রিয়া:

স্মরণশক্তি বৃদ্ধির উপায় জানার পূর্বে আমাদের জানা প্রয়োজন আমাদের মস্তিষ্ক কীভাবে কোন কিছু মনে রাখে। কোন কিছু মনে রাখা আর তা সময়মত মনে করিয়ে দেয়ার জন্য মস্তিষ্ক সাধারণত তিনটি কাজ করে। স্মৃতি তৈরি করা, স্মৃতি সংরক্ষণ করা আর স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেয়া।

স্মৃতি তৈরি করা:

স্মৃতি তৈরি করার জন্য আমাদের মস্তিষ্ক ওই ঘটনার সাথে সম্পর্কিত কোন চিহ্ন দিয়ে তা সংকেত হিসেবে নিউরনে পাঠায় এবং নিউরনের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। দুটি নিউরনের সংযোগস্থলকে বলা হয় সিন্যাপ্স বা সাইন্যাপ্স।

স্মৃতিকে পাকাপোক্তভাবে সংরক্ষণ করা:

কোন স্মৃতি তৈরি করার কিছুক্ষণ বা কিছুদিনের মধ্যে আমরা তা ভুলে যাই। কিন্তু তা মস্তিষ্কে থেকে যায়। মস্তিষ্ক এটিকে দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি হিসেবে পাকাপোক্ত করে রাখে। এই কাজটি সাধারণত আমাদের ঘুমের মধ্যে হয়।

স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেয়া:

এটি হয় যখন আমরা স্মৃতিটি মনে করতে চাই। মস্তিষ্ক তখন আমাদের জানিয়ে দেয় ঘটনাটি। যতবার আমরা ঘটনাটি মনে করি, মস্তিষ্কে তার স্থান ততই শক্ত হতে থাকে। এভাবে আমাদের মাথায় কোন ঘটনা জমা হয়।

স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করার উপায়:

এবার আসি স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করার উপায়ে। উপরে কোন কিছু মনে রাখার প্রক্রিয়াটি আলোচনা করলাম কারণ আমরা এখন যেই উপায়গুলো দেখব তার একেকটি উপরোক্ত প্রক্রিয়ার একেক ধাপে কাজ করে।

১। মেডিটেশন করো স্মৃতি তৈরি করতে:

আমাদের মস্তিষ্কের ছোট একটি অংশ সবসময় তৈরি থাকে মনে রাখার মত কিছু হলেই সেটিকে ধরে ফেলতে। একে বলা হয় Working memory। এর কাজ হচ্ছে মনে রাখার মত কোন ঘটনা পেলেই খপ করে ধরে ফেলা আর কিছু সময়ের জন্য জমিয়ে রাখা।

এর মধ্যে যদি তুমি, মানে তোমার মস্তিষ্ক, বুঝতে পারে যে এই ঘটনার প্রয়োজন আছে তাহলে তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় স্মৃতি তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদে জমিয়ে রাখার জন্য। আর অপ্রয়োজনীয় ঘটনাকে ফেলে দেয়া হয় এখান থেকেই।

ঘুরে আসুন: যে দশটি কাজ করলে সকালের ঘুম চলে যেতে বাধ্য হবে!

মেডিটেশন এই Working memory কে দ্রুত কাজ করতে এবং এর সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে সহায়তা করে। বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মেডিটেশন মানুষের মনে রাখার ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে।

আর পাশাপাশি এটি মানুষের মনোযোগ বৃদ্ধি করে। আর তাই যদি তোমার মনে হয় যে তুমি কোন কিছু মনে রাখতে অর্থাৎ স্মৃতি হিসেবে জমিয়ে রাখতে পারছো না, মেডিটেশন করে সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করো।

জেনে নাও জীবন চালানোর সহজ পদ্ধতি!

আমাদের বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের একটা বড় সমস্যা হতাশা আর বিষণ্ণতা।

দেখে নাও আজকের প্লে-লিস্টটি আর শিখে নাও কীভাবে এসব থেকে বের হয়ে সাফল্য পাওয়া যায়!

১০ মিনিট স্কুলের Life Hacks সিরিজ

২। স্মৃতি সংরক্ষণ করতে কফি খাও:

কোন কিছু মনে রাখার জন্য আগে কফি খেলে কোন উপকার হয় কিনা তা এখনো বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করতে পারেনি। যেমন, তুমি যদি কফি খেয়ে পড়তে বসো তাহলে কফি খাওয়ার ফলে যে তোমার পড়া বেশি মনে থাকবে এ নিয়ে কোন শক্তিশালী যুক্তি নেই।

কোন কিছু শেখার আগে একটু ঘুমিয়ে নেয়াটাও মনে রাখতে সহায়তা করে

তবে কফি স্মৃতি সংরক্ষণে সহায়তা করে, অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন যে কোন কিছু শেখার পর কফি খেলে তা মোটামুটি ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত মনে থাকার সম্ভাবনা থাকে।

এক পরীক্ষার মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়েছে যেখানে অংশগ্রহণকারীদের কিছু ছবি দেখিয়ে পরবর্তীতে অনেক ছবির মাঝে তাদেরকে দেখানো ছবি খুঁজে বের করতে বলা হয়েছিল। এই পরীক্ষার ফলাফল থেকেই বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, কোন কিছু মনে রাখতে হলে তার আগে কফি খাওয়ার চেয়ে পরে খাওয়া বেশি উপকারী।

৩। ব্যায়াম স্মৃতি মনে করিয়ে দিতে সাহায্য করে:

ইঁদুর আর মানুষের উপর পরীক্ষা করে জানা গেছে যে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম আমাদের স্মৃতি উদঘাটনে সহায়তা করে। মস্তিষ্কের যে অংশ দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি ধরে রাখার কাজ করে সেটির নাম হল হিপোক্যাম্পাস।

এই হিপোক্যাম্পাস ব্যায়ামের দ্বারা উত্তেজিত ও স্ফীত হয়ে উঠে। নিয়মিত ব্যায়াম হিপোক্যাম্পাসের গঠন শক্তিশালী ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি ধরে রাখা ও সেটিকে প্রয়োজনে বের করে আনার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই ব্যায়াম করা জরুরি, যদি তুমি স্মরণশক্তি বাড়াতে চাও।

কিছু কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম আমাদের স্থান সংক্রান্ত স্মৃতি ধরে রাখতে সহায়তা করে। স্থান সংক্রান্ত স্মৃতি হচ্ছে তুমি কোথাও বেড়াতে গেলে, সেই জায়গাটি কেমন সেই স্মৃতি। অথবা তোমার কোন বন্ধুর বাসায় বেড়াতে গেলে, বাসার কোথায় কী আছে সেই স্মৃতি।

৪। স্মৃতিকে শক্তিশালী করতে চিউয়িং গাম খাও:

ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি চিউয়িং গাম খেলে দাঁতে পোকা হয়। চিউয়িং গাম খেতে গিয়ে দেখে আসছি বেশি খেলে চাপায় ব্যাথা হয়। কিন্তু স্মৃতিশক্তি বাড়ে এটা তো কখনো শুনিনি!

কিন্তু একদল গবেষক গবেষণা করে বের করেছেন যে কোন কিছু শেখার সময় চিউয়িং গাম খেলে সেটি বেশি মনে থাকে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের একটি কাজ দেয়া হয়েছিল যেখানে তাদের কোন কিছু দেখতে দিয়ে পরে সেটি আবার মনে করতে দেয়া হয়েছিল। দেখা গেছে যে যারা ওই জিনিসগুলো দেখার সময় চিউয়িং গাম খেয়েছিল তারা বেশি মনে রাখতে পেরেছে।

ঘুরে আসুন: রিভিশন দেওয়ার পন্থাগুলো কি জানো?

যদিও প্রমাণ করা গেছে যে চিউয়িং গাম স্মৃতিশক্তি শক্তিশালী করতে সহায়তা করে তবে এর কারণ এখনো অজানা। ধরা হয়ে থাকে চিউয়িং গাম মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসকে উদ্দীপ্ত করে তোলে।

৫। ঘুম স্মৃতিকে পাকাপোক্তভাবে সংরক্ষণ করতে সহায়তা করে:

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার জন্য ঘুম একটি কার্যকরী উপায়। কোন কিছু মনে রাখার প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপে বলা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে স্মৃতিকে সংরক্ষণ করার প্রক্রিয়াটি ঘটে। রাতের ঘুমের পাশাপাশি কাজের মধ্যে সামান্য ঘুমও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।

ইংরেজি ভাষা চর্চা করতে আমাদের নতুন গ্রুপ- 10 Minute School English Language Club-এ যোগদান করতে পারো!

একটি গবেষণা করেন একদল গবেষক যেখানে কিছু মানুষকে কিছু ছবি দিয়ে সেগুলো মনে রাখতে বলা হয়। এরপর ৪০ মিনিটের জন্য একটি দলকে ঘুমাতে দেয়া হয় আর অপর দল জেগে থাকে। ৪০ মিনিট পর তাদেরকে ওই ছবিগুলো মনে করতে বলা হয়। দেখা যায় যে যারা ঘুমিয়েছে তারা বেশি ছবি মনে রাখতে পেরেছে।

শুধু তাই নয়, কোন কিছু শেখার আগে একটু ঘুমিয়ে নেয়াটাও মনে রাখতে সহায়তা করে। যারা ঠিকমত ঘুমায় না তাদের কোন কিছু মনে রাখার ক্ষমতা একদমই কমে যায়। তাই এবার থেকে ঘুমটা হোক নিয়মিত, নাকি?

স্মরণশক্তি বৃদ্ধির উপরোক্ত উপায়গুলো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। চেষ্টা করে দেখ কোনটি তোমার জন্য ভালো কাজ করে আর জানিয়ে দাও আমাদের। ততক্ষণ আমরা নজর রাখি বিজ্ঞানীরা আর কী কী উপায় বের করেন স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর জন্য, নাকি?


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?