বিশ্বকাপ যেভাবে ঘোরালো অর্থনীতির চাকা

 

                       

পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ আয়োজন নামে খ্যাত ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে ফুটবল প্রেমীদের মাঝে জল্পনা কল্পনার যেনো কোনো শেষ নেই। প্রতি ৪ বছর পরপর এই আয়োজনের জন্য মুখিয়ে থাকে কোটি কোটি ভক্ত। বিশ্বকাপ ফুটবল চলে এলে পুরো প্রায় একটি মাস ধরে থাকে এর উন্মাদনা। ভক্তদের নানারকম পাগলামী বাড়িয়ে তুলে এই আয়োজনের উত্তেজনা। কেউ কেউ নিজের দেহকে পছন্দের দলের পতাকার রঙে রঙিন করে জানান দেন তাদের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকে। কেউ কেউ আবার নিজের সম্পূর্ণ বাড়িকেই পতাকার রঙে করে ফেলেন রঙিন। এ যেন এক বিশাল প্রতিযোগিতা, নেই কোন যার শেষ। নিত্যনতুন উপায়ে প্রতিপক্ষ দলের ভক্তদের অপদস্ত করতে সাধারণ ভক্তরা অসাধারণ সব উপায় নিয়ে যেনো সদা প্রস্তুত।

হোক সেটা প্রতিপক্ষ দলের ভক্তদের থেকে বড় পতাকা কিনে কিংবা খেলা শেষে বিশাল আকারের মিছিল দিয়ে সমর্থকগোষ্ঠীর সংখ্যার আকার প্রদর্শনের মাধ্যমে। সাধারণ অবস্থায় এলাকার চায়ের দোকানে যেখানে চায়ের কাপে ঝড় উঠে রাজনৈতিক কোনো বিষয় নিয়ে, বিশ্বকাপ ফুটবলের মাসে সেই ঝড়টা অধিকাংশ সময়ই উঠে খেলার বিশ্লেষণ নিয়ে। নিজের দলকে অন্য সকল দল থেকে সেরা প্রমাণ করতে কেউ কোনো সুযোগ হাতছাড়া করেন না। আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান চায়ের শেষ চুমুকটি পর্যন্ত।

অনেকে তো আবার অনেক বছর ধরে অর্থ সঞ্চয় করতে থাকেন এই বিশাল আয়োজন সরাসরি উপভোগ করার জন্য। খেলা দেখতে দলবল নিয়ে চলে যান সরাসরি ভেন্যুতে। বিশ্বসেরা এই আয়োজনে যখন ইতি টানা হয় তখন শুরু হয় চার বছরের অধীর প্রতীক্ষা। এ প্রতীক্ষা যেন শেষ হবার নয়। অস্বাভাবিক উন্মাদনা থেকে ফিরে আসে মানুষ তাদের স্বাভাবিক জীবনে। কিন্তু ফুটবল প্রেমীদের কাছে যেটা নিছক বিনোদন, ফুটবল আয়োজনকারীদের কাছে সেটি বিশাল ব্যবসার সম্ভাবনা।

আমি হলফ করে বলতে পারি আমাদের অধিকাংশই এই আয়োজনকে ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে কখনো চিন্তা করে দেখিনি। কিন্তু এত সুন্দর একটি খেলা, এতগুলো দল, এতগুলো দর্শক, এত বিশাল আয়োজন একটি দেশে কোন ধরনের কোন ব্যবসা বিনিয়োগ ছাড়া এমনি এমনি তো আর ঘটে যায় না, তাই না? মজার ব্যাপার হচ্ছে এই আয়োজনকে ঘিরে এত রমরমা একটি ব্যবসা হয়, যেটি ঘুরিয়ে দিতে পারে একটি দেশের অর্থনীতির চাকা। যেমনটা বরাবরের মত হয়েছিল এবারের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮, রাশিয়াতেও।

এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের রুশ অর্থনীতির ওপর প্রভাব পর্যালোচনা করলেই একটি বিশ্বকাপ আয়োজন কিভাবে একটি দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দিতে পারে তা সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যাবে। চলুন ফিফা বিশ্বকাপ ২০১৮-কে দেখে নিই অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এবং জেনে নেই রুশ অর্থনীতিতে এর প্রভাব সম্পর্কে। তবে তার আগে জেনে নেয়া যাক এ বিশাল আয়োজনের আয়োজক সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় সম্পর্কে।

এবার ঘরে বসেই হবে মডেল টেস্ট! পরীক্ষা শেষ হবার সাথে সাথেই চলে আসবে রেজাল্ট, মেরিট পজিশন। সাথে উত্তরপত্রতো থাকছেই!

ফিফা:

ফিফা এর পূর্ণাঙ্গ রূপ হচ্ছে “ইন্টারন্যাশনাল  ফেডারেশন অফ এসোসিয়েশান ফুটবল” এর ফরাসি অনুবাদটি। এই সংগঠনটি এসোসিয়েশান ফুটবল, ফুটসাল, বিচ সকার এর আন্তর্জাতিক পরিচালনা পর্ষদ হিসেবে কাজ করে। গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে গুলো ফিফা ই আয়োজন করে থাকে। ফিফা ১৯০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানী, নেদারল্যান্ড, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড এর জাতীয় এসোসিয়েশন গুলোর মাঝে প্রতিযোগিতা তদারকি করার জন্য। সংগঠনের প্রধান কার্যালয় জুরিখ এ। বর্তমানে ২১১ টি ন্যাশনাল এসোসিয়েশন এই সংগঠনের সদস্য। টুর্নামেন্ট আয়োজন করা এবং তাদের প্রমোশনের যাবতীয় কর্মকাণ্ড সম্পাদন করা ফিফার দায়িত্ব গুলোর মধ্যে অন্যতম।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০১৮ এর অর্থনৈতিক প্রভাব:

ফিফা বিশ্বকাপ এমন একটা আয়োজন যার সমর্থক ছড়িয়ে রয়েছে পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেকটি কোনায়। যুগ যুগ ধরে সমর্থক গোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছেই। ফিফার মতে বিশ্বের ২৫০ মিলিয়ন মানুষ ফুটবল খেলে এবং এর সমর্থক গোষ্ঠী সংখ্যা ১.৩ বিলিয়ন এরও উপরে। আয়োজনটির এত জনপ্রিয়তা এবং সমর্থক গোষ্ঠীর এত বিশালতার কারণে এর অর্থনৈতিক প্রভাবও লক্ষ করার মতো।

আয়োজক দেশটির জন্য এ আয়োজনটি তাদের খেলার দক্ষতা দেখানোর সাথে সাথে সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিপত্তি দেখানোর এক সুবর্ণ সুযোগ। সফলভাবে আয়োজন সম্পন্ন করার মাধ্যমে আয়োজক দেশটি বিশ্ব দরবারে নিজেদের গুরুত্ব তুলে ধরে। তবে এই আয়োজনকে সফল ভাবে সম্পন্ন করা চাট্টিখানি কথা নয়। এর জন্য খরচ করতে হয় বিশাল অংক। এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আয়োজন গুলোর মধ্যে একটি।

রুশ সরকারের মতে ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপে খরচ হয়েছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের মতো। এর মধ্যে, ৪.২২ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে খেলার জন্য অবকাঠামো প্রস্তুতিতে। ৩.৬৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে খেলার ভেন্যু গুলোতে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করতে। ১.১৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে সহকারি অবকাঠামো প্রস্তুতিতে। পরিচালনা কাজে আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ হয়েছে ১.৮৫ বিলিয়ন ডলার। চলুন দেখে নেই বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ কে কেন্দ্র করে রুশ সরকারের বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

স্টেডিয়াম তৈরি:

খেলার জন্য অবকাঠামো প্রস্তুতিতে খরচ হয়েছে মোট খরচের সবচেয়ে বেশি অংশ। এ খরচ মোট খরচের ৩৮ শতাংশেরও বেশি। রাশিয়ার ১১ টি শহরে খেলার জন্য তৈরি এবং সংস্করণ করা হয়েছে ১২ টি স্টেডিয়াম। স্টেডিয়ামগুলোতে মোট আসন ধারণ ক্ষমতা ছিল ৫৫০০০০ টি। যে শহরগুলোতে স্টেডিয়ামগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে সেগুলো হলো সেন্ট পিটার্সবার্গ, কাজান, মস্কো, সচি, কালিনিনগ্রাদ, ভলগোগ্রাদ, সারানস্ক, নিঝনি নভোগরদ, রস্তভ অন দন, ইয়েকাতেরিনবার্গ এবং সামারা। এই নির্মাণ এবং সংস্কার কাজে খরচ হয়েছে ৪.২২ বিলিয়ন ডলার।

১৬ হাজার শিশু এবং কিশোরদের জন্য তৈরি করা হয়েছে ৯৬ টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বিশ্বকাপ পরবর্তী পরিকল্পনার জন্যই এ উদ্যোগ।

যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন:

যাতায়াত এবং বিমান খাতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য রাশিয়া বিশাল অংক খরচ করেছে। এই অংকের পরিমাণ প্রায় ১.৯ বিলিয়ন ডলার। উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে রুশ সরকার তৈরি করে তিনটি নতুন মেট্রো স্টেশন, ১২ টি নতুন রাস্তা এবং জংশন। ২০ টি রেলওয়ে স্টেশনে সংস্কার কাজ করা হয়েছে। তৈরি এবং সংস্কার করা হয়েছে ১৭৮ কিলোমিটার রাস্তা। বিমান খাতে উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১১ টি বিমান বন্দরে নতুন টার্মিনাল যুক্ত করা হয়েছে।

মস্কোর বিমানবন্দরগুলো এই উন্নয়নের ফলে বিশ্বকাপ আয়োজন শেষেও এর সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে। উন্নততর অবকাঠামোর ফলে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত যাত্রীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হবে এখন পূর্বের থেকে সহজতর। ২ বিলিয়ন ডলার খরচ করে তৈরি করা হয়েছে মস্কো সেন্ট্রাল রিং নামে একটি নতুন রেলওয়ে লাইন। ৩১ টি স্টেশন সম্বলিত এই রেললাইন যদিও বিশ্বকাপ ফুটবলের অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ নয়, তবুও বিশ্বকাপ আয়োজন কে মাথায় রেখে আয়োজন শুরুর ঠিক পূর্বে এর কাজ শেষ হওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থাকে এটি করেছে আরো সহজতর।

আবাসন এবং চিকিৎসা খাতে উন্নয়ন:

ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনকে সফল করতে সহকারি অবকাঠামোগত উন্নয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এরই অংশ হিসাবে রুশ সরকার ১৩ টি হাসপাতালে সংস্কার কাজ সম্পাদন করে। ২৯ টি সেবা এবং ১২ টি পাওয়ার স্টেশন তৈরি এবং সংস্কার করা হয়। বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে আসা প্রচুর পরিমাণে দর্শকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে 27 টি নতুন হোটেল। এতে আবাসন সংকট লাঘব হয়। পানি সরবরাহ এবং পয়ঃনিষ্কাশন  ব্যবস্থা উন্নতিকরণে হাতে নেয়া হয় ১০টি প্রজেক্ট। নর্দমাগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ৪ টি প্রজেক্ট হাতে নেয়া হয়। ৮০০ হেক্টর জায়গাজুড়ে একাধিক ভেন্যুকে ঘিরে বিভিন্ন পার্ক তৈরি করা হয়েছে। আবাসন এবং চিকিৎসা খাতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ১.১৮ বিলিয়ন ডলার। রুশ ইকোনমিতে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী।

এ তো গেল আয়োজনকে সফল করার জন্য রুশ সরকারের হাতে নেয়া বিভিন্ন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ। চলুন দেখে নেই এ পদক্ষেপগুলোর ফলে কিভাবে লাভের অংকের মালিক  হয় রুশ অর্থনীতি।

দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি:

রুশ সরকারের মতে ২০১৮ এর জুন ও জুলাই মাসে রাশিয়া তে অতিরিক্ত ৫৭০০০০ জন দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। প্রায় ৭০০০০০ রুশ নাগরিকও ম্যাচগুলোতে দর্শক হিসেবে অংশগ্রহণ করে। এর অর্থনৈতিক প্রভাব সবচেয়ে লক্ষণীয় হবে বিক্রেতা, রেস্তোরাঁ এবং হোটেল গুলোর জন্য। দর্শনার্থীদের প্রত্যেকের আনুমানিক গড় খরচ ৫০০০ থেকে ৮০০০ ডলার। এর প্রভাবে ভোগ্য পণ্যের বাজারে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যবসা হয়। বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় এরকম বড় ধরনের আয়োজনে আয়োজনকারী দেশগুলোতে আয়োজন পরবর্তী বছর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। বিপুল পরিমাণে দর্শনার্থীরা আগমনের ফলে সহজেই ঘুরে যেতে পারে একটি দেশের অর্থনীতির চাকা।

জেনে নাও লিডারশীপ এর খুঁটিনাটি!

জীবনে সহজ ভাবে চলার জন্য জানা দরকার কিছু লাইফ হ্যাকস।

দেখে নাও আজকের প্লে-লিস্টটি আর শিখে নাও কীভাবে সাফল্য পাওয়া যায়!

১০ মিনিট স্কুলের Life Hacks সিরিজ

নতুন চাকুরী সৃষ্টি এবং আয়বৃদ্ধি:

ভোগ্য পণ্য বিক্রয় বৃদ্ধি ছাড়াও বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ রাশিয়াতে নতুন চাকরি সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি উন্নয়নে এক বিরাট ভূমিকা পালন করছে। বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ এর প্রস্তুতি এবং আয়োজন কালে অতিরিক্ত প্রায় ২২০০০০ নতুন চাকুরী তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে বেড়েছে রুশ নাগরিকদের মাথাপিছু আয়। মোট ব্যক্তিগত আয় বেড়েছে ৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার। সাধারণত বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনকারী দেশগুলো তাদের যাতায়াত, সেবা এবং বিক্রয় খাতে আয়োজনের বছর অস্থায়ী কর্মসংস্থানের বৃদ্ধি উপভোগ করে।

রুশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী ২১০০০০ রুশ নাগরিক বিরাট আয়োজনের প্রস্তুতিতে অতিরিক্ত দক্ষতা অর্জন করে। এর মাঝে ৭৯০০০ মানুষ নির্মাণ কাজে তাদের দক্ষতা বাড়ায়। ৩৮০০০ মানুষ হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের দক্ষতা বাড়ায়। ১৮০০০ মানুষ যাতায়াত এবং যোগাযোগ খাতে নতুন চাকুরীর সুযোগ পায়। ১৮০০০ ব্যক্তিগত এবং সামাজিক সেবা খাতে নিজেদের দক্ষতা বাড়ায়। ৫২০০০ বানর স্বেচ্ছাসেবক হওয়ার প্রশিক্ষণ পায়। ৫০০০ মানুষ গণসংযোগ এবং নিরাপত্তা সম্পর্কিত খাতগুলোতে কাজ পায়।

ব্লগটা পড়তে পড়তে চল খেলে আসি সংখ্যা নিয়ে কিছু ব্রেইন টিজার গেইম!

রুশ অর্থনীতিতে বিশ্বকাপ ২০১৮ এর সামগ্রিক প্রভাব:

ইতিহাসের সফলতম বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন গুলোর একটি সম্পন্ন করায় রাশিয়াকে ঘিরে মানুষের আকর্ষণের যেন শেষ নেই। এ সফলতার ফলে রাশিয়ার জাতিগত গৌরব এবং আন্তর্জাতিক প্রচার ও প্রসার সর্বোচ্চ পর্যায়ে় গমন করে। এ সফলতার গল্প যেন শুরু হয় দ্বিতীয় রাউন্ডে স্পেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে রাশিয়ার প্রবেশ দ্বারা। আশাহীন একটি দলকে পরাক্রমশালী একটি দলে পরিণত করার এই গল্প ফুটবলপ্রেমীদের মনে আজীবন গেঁথে থাকবে।

তবে রাশিয়ার সাফল্য শুধু যে খেলার মাঠে সীমাবদ্ধ ছিল তা কিন্তু নয়। এ সফলতা ছড়িয়ে পড়ে রুশ অর্থনীতিতেও। রাশিয়াতে আগত ফুটবল সমর্থকরা বিভিন্ন খাতে খরচ করে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার। এবং এই পুরো খরচটাই ঘটে টুর্নামেন্টের ওই এক মাসেই। রাশিয়ার রাজনীতি এবং নিরাপত্তা নিয়ে নানা জনের নানা রকম অভিমত থাকলেও, কোন ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়া একটি সফল ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের মাধ্যমে রাশিয়া দর্শনার্থীদের মনে একটি বিশেষ জায়গা দখল করে নিয়েছে।

আয়োজনকে ঘিরে রাশিয়ার আতিথেয়তা তার পূর্বের রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিতিকে মুছে দিয়েছে। ফিফার বর্তমান প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফ্যানটিনো এর মতে রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ ছিল সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্বকাপ আয়োজন। তিনি দাবি করেন যে এ আয়োজনের মাধ্যমে রাশিয়া বিশ্ববাসীর কাছে নতুনভাবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। সাবারব্যাংক রিপোর্ট অনুযায়ী এই ব্যাংকটি একাই ১৯৪ টি দেশের ৮৯৯০০০ বিদেশি ব্যাংক এর কার্ড সেবা প্রদান করেছে। এর মাঝে আমেরিকা এবং চীনের নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি খরচ করে।

মার্কিন নাগরিকরা খরচ করে ৫.৬ বিলিয়ন রুবল এবং চীনা নাগরিকরা খরচ করে ৪.১ বিলিয়ন রুবল। এই দেশগুলো দর্শনার্থীদেরমোট খরচের যথাক্রমে ১৪.৫ শতাংশ এবং ১০.৬ শতাংশ খরচ করে। এ খরচের বেশির ভাগই যায় জুয়েলারি, কসমেটিকস এবং খাদ্যপণ্যের  পিছনে। রুশ সরকার আশা করে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ এর প্রভাবে রাশিয়ার জিডিপি ১৩.৮ বিলিয়ন ডলার বাড়বে। এটি রাশিয়ার মোট জিডিপির ১ শতাংশ। তারা আরো আশা করেছে ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দশ বছর মেয়াদে রাশিয়ার জিডিপি ২৬ থেকে ৩০.৮ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পাবে।

বড় ধরনের বিনিয়োগ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের সুদুরপ্রসারী প্রভাব থাকে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০১৮ এর রুশ অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় প্রভাব বর্তমানে খুব বেশি দৃশ্যমান না হলেও ভবিষ্যতে এর প্রভাব আমাদের সামনে ফুটে উঠবে। রুশ সরকারের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বকাপ  ২০১৮ এর প্রভাব রুশ উত্তরাধিকারগণ ভবিষ্যতে ভোগ করতে পারবেন।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Tousif Wahid Tanim

Tousif Wahid Tanim

This is Tousif Wahid Tanim. I'm currently studying BBA in Finance and Banking at Jahangirnagar University. Reading tech articles and watching tech videos are among the things I'm obsessed with.
Tousif Wahid Tanim
এই লেখকের অন্যন্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?