এখনই লিখে ফেলো তোমার সিভি!

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

আমাদের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একটা সমস্যা খুব প্রকট। এই সমস্যাটা অনেকদিন থেকেই হয়ে আসছে, আর এর কোন প্রতিকারও দেখিনি এখনো। সমস্যাটা হলো, আমাদের প্রজন্ম মনে করে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে সিভি লেখার কোন দরকার নেই। পড়ালেখার পাট চুকিয়ে, চাকরির সন্ধান করার সময়ে সিভি লিখলেই তো চলে!

এই ধারণাটা যে কতোটা ভুল, সেটা একটা গল্প দিয়ে বলা যায়।

গল্পটা এমন…

ধরা যাক, রাশিক আলম নামের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে নিয়ে এই গল্প। ছেলেটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, তার বিষয়টা নিয়ে বেশ একটা গর্ববোধ কাজ করে। আশেপাশের কিছু বন্ধুদের যখন দেখে ক্লাবিং করে বেড়াতে, কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ করতে, সে তখন ভাবে- কী দরকার? পড়ালেখা শেষ করেই এসব করা যাবে’খন!

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশান ইত্যাদি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য 10 Minute School Skill Development Lab নামে ১০ মিনিট স্কুলের রয়েছে একটি ফেইসবুক গ্রুপ।

রাশিকের বন্ধু-বান্ধবরা সিভি বানিয়ে ফেলে, আর সে তার ওই ধারণায় পড়ে থাকে- সিভি থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজকর্ম সে করে ফেলবে পড়ালেখা শেষ করে। এক্সট্রা কারিকুলার কোনকিছুতেও সে নেই, সে শুধু নাকমুখ গুঁজে পড়ালেখা করে, ওইটুকুই।

যাহোক, একটা সময়ে পড়ালেখা শেষ হয় তার। সে শুরু করে চাকরি খোঁজা, সিভি বানানোর কাজটাও শুরু করে ফেলে সে। সিভি বানাতে গিয়ে সে অবাক হয়ে আবিষ্কার করে, তার সিভিটা আসলে আধা পৃষ্ঠাতেই আটকা পড়ে গেছে। সে চেষ্টা করে ফন্ট সাইজ বাড়িয়ে একটু বড় করতে, তাতে হয়তো টেনেটুনে এক পৃষ্ঠার একটা সিভি হয়, কিন্তু সেটা মোটেও খুব ভালো কিছু হয় না।

রাশিক একটা সময়ে গিয়ে খেয়াল করে, যে সব সিভিতেই অ্যাচিভমেন্ট, এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ আর জব এক্সপেরিয়েন্সের কথা লেখা আছে। কিন্তু সে তো এগুলোর কোনটাই করে নি! তাহলে তার সিভি কী করে ভালো হবে?

ঘুরে আসুন: অভিজ্ঞতা হোক চাকরির আগেই!

সত্যি বলতে কী, তার সিভি এখন আর ভালো করার কোন সুযোগ নেই। তবে, এই লেখাটা যারা পড়ছো, তোমাদের খুব ভালোভাবেই এই সুযোগটা রয়েছে, আর সেটা হেলায় হারানো মোটেও উচিত না। একটা কাজ করা এখানে খুব কার্যকর হবে।

“ভালো একটা সিভিকে না করার সাধ্যি আছে কার?”

 

তুমি যদি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া হয়ে থাকো, তাহলে প্রথম বর্ষেই সিভি বানিয়ে প্রতি সেমিস্টারে নতুন করে সিভিটাকে আপডেট করতে থাকো। যদি এক সেমিস্টারে সিভিতে নতুন কিছুই যোগ না হয়, তাহলে সেটা তোমার জন্যে একটা অশনি সংকেত, এর মানে ওই সেমিস্টারে তুমি করার মতো কিছুই করো নাই! নিজের সিভির দিকে তাকালেই বুঝে ফেলতে পারবে পুরো সেমিস্টারে তুমি কী কী করেছো আসলে!

সিভি তৈরির কৌশল জেনে নাও ঘরে বসেই!

পাওয়ারপয়েন্ট ব্যবহার করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে ফেলতে পারেন আপনি!

তাই, আর দেরি না করে ১০ মিনিট স্কুলের এক্সক্লুসিভ এই প্লে-লিস্টটি থেকে ঘুরে আসুন, এক্ষুনি!

১০ মিনিট স্কুলের পাওয়ার পয়েন্ট সিরিজ

সিভি লেখার সময় খুব কমন কিছু ভুল করে এই প্রজন্ম, সেগুলো নিয়েও একটু বলা দরকার।

প্রথম ভুল:

সিভিতে যে ছবিটা দাও তোমরা, তাতে দুই ধরনের ভুল থাকে। প্রথমত, সিভি হতে হয় ফরমাল ছবির। এখন তুমি যদি সিভির ছবিতে নিজের গোয়াল ঘরের পাশে সানগ্লাস পরা ছবিটা দাও, সেক্ষেত্রে সেটা তো আর নেয়া যাবে না! আরেকটা সমস্যা হচ্ছে পুরনো ছবি দেয়া। হ্যাঁ, এটা হতে পারে যে তোমার কোন পুরনো ছবি দেয়া হয়নি। তার মানে কিন্তু এটা না যে তুমি এমন একটা ছবি দেবে যেটা দেখে তোমার সাথে মিলের চেয়ে অমিল বেশি পাওয়া যাবে! তাই ছবি দিতে হবে ফরমাল, ছবি হতে হবে সাম্প্রতিক, যেখানে তোমাকে চেনা যাবে।

দ্বিতীয় ভুল:

এখনো অনেক সিভিতে মেইল এড্রেসে দেখা যায় [email protected] কিংবা [email protected]। এরকম ছেলেখেলার মতো করে যদি সিভি দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে ওই সিভিটা সিলেক্ট হবার সম্ভাবনা যে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর, সেটা তো বুঝতেই পারছো! ইমেইল আইডিতে যাবে নিজের নাম। সেখানে এসব উদ্ভট নাম দিলে আসলেই সম্ভাবনাটা আর থাকে না।

তোমার স্বপ্নের পথে পা বাড়ানোর ক্ষেত্রে তোমার ইংরেজির জ্ঞান কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে! তাই আর দেরি না করে, আজই ঘুরে এস ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লে-লিস্টটি থেকে!

ঠিক এ কারণেই ইমেইল আইডির নামটা ঠিকঠাক উপায়ে লিখতে হয়। কঠিন কোন কাজ তো আর না, নিজের ইমেইল আইডিতে নিজের নামটাই লিখে দিলে সমস্যা হবার তো কথা না!

তৃতীয় ভুল:

সিভিতে তুমি একাডেমিক ক্যারিয়ার যখন দেবে, তখন সেটা অবশ্যই হতে হবে সাম্প্রতিক থেকে পুরনো। শুরুতেই যদি এসএসসি দিয়ে রাখো, সেটা তাহলে আর সিভির ফরম্যাট হলো না। এই বিষয়টা তোমাদের কাছে হয়তো নতুন, কিন্তু শেখার জন্যে মহা দরকারি। একাডেমিক ক্যারিয়ারের শুরুতেই থাকবে তুমি এখন কীসে পড়ছো, সেটা। তারপরে তার আগের একাডেমিক ডিগ্রি, তারপরে তারও আগেরটা। এভাবেই উলটো করে চলবে সিভির একাডেমিক সিরিয়াল।

ঘুরে আসুন: সফল ব্যক্তিদের অবসর কীভাবে কাটে?

তাহলে আর দেরি কেন? নিজের একটা সুখী আর সুন্দর ক্যারিয়ার গড়তে এখনই বসে যাও সিভি বানাতে! ভালো একটা সিভিকে না করার সাধ্যি আছে কার?

এই লেখাটি নেয়া হয়েছে লেখকের ‘নেভার স্টপ লার্নিং‘ বইটি থেকে। পুরো বইটি কিনতে চাইলে ঘুরে এসো এই লিংক থেকে!

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে তাহমিনা ইসলাম তামিমা


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?