Uncategorized

আয়নিক যৌগের তড়িৎ বিশ্লেষণ

Supported by Matador Stationary

 

গাব্বুর মাথায় সবচেয়ে বিজ্ঞানের যত চিন্তা আছে ঘুরে! একদিন সে তার বোনের খেলনা গাড়ি থেকে ব্যাটারি খুলে সেটা নিয়ে কি কি পরীক্ষা করা যায় ভাবছিল। হঠাৎ তার মাথায় আসলে সোডিয়াম ক্লোরাইড এর সাথে ব্যাটারি সংযোগ দিলেই তো সে সোডিয়াম আর ক্লোরিন পেয়ে যাবে। সোডিয়াম আর ক্লোরিন তো সে কখনো দেখেনি, তাই সে তো একদম উৎসাহিত। সোডিয়াম ক্লোরাইড মানে যে খাবার লবণ তা সে তার বাবা থেকেই জেনেছে! তাই সে একটি বাটিতে খাবার লবণ নিয়ে সেখানে ব্যাটারি রেখে অপেক্ষা করতে থাকলো কখন সে সোডিয়াম আর ক্লোরিন পাবে!
গাব্বু কি আসলেই সোডিয়াম আর ক্লোরিন পেয়ে যাবে? কী মনে হয় তোমাদের? বলতে পারবে?

 

খাবার লবণ কেমন হয়? দানাদার না? এটি আসলে কঠিন পদার্থ। আর কঠিন পদার্থে বিপরীতধর্মী চার্জের আয়ন এতটা দৃঢ়ভাবে থাকে যে, এখানে চার্জ বাহকের চলাচল সম্ভব হয় না। তাই তখন খাবার লবণ কোনো তড়িৎ পরিবহন করে না। তাই গাব্বু আসলে কিছুই পাবে না!কিন্তু গাব্বু যদি কোনোভাবে সেই লবণকে গলিয়ে ফেলতে পারতো অথবা তরলে পরিণত করতে পারতো তাহলে কিন্তু ভিন্ন কথা। মনে করো, গাব্বু ৮০১ ডিগ্রী সেলসিয়াসে গরম করে বিগলিত সোডিয়াম ক্লোরাইড পেল। তখন কিন্তু তরলে সোডিয়াম ক্লোরাইড Na+এবং Cl-এ বিয়োজিত হয়ে যাবে! এই বিয়োজন তড়িৎ বিয়োজন নামে পরিচিত।


তড়িৎ বিশ্লেষন!

তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু অংশ আছে যাদের সম্পর্কে অবশ্যই জানতে হবে। নিচের চিত্রে ক্লিক করে জেনে নিই তাদের সম্পর্কে!


তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ার অংশ

“+” চিহ্নিত অংশে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত

এখন আগেই দেখেছো, সোডিয়াম ক্লোরাইড কঠিন পদার্থ। কিন্তু একটি নির্দিস্ট তাপমাত্রায় গরম করলে সোডিয়াম ক্লোরাইড বিয়োজিত হয়।

 

যখনই সোডিয়াম ক্লোরাইড ভেঙ্গে যায় তখন ধনাত্মক সোডিয়াম আয়ন ও ঋণাত্মক ক্লোরাইড আয়ন তড়িৎ বিশ্লেষ্য মুক্তভাবে বিচরণ করতে পারে।

এবার যখন তড়িৎ বিশ্লেষ্য তড়িৎদ্বার ঢুকিয়ে ব্যাটারি সংযোগ দিবো, তখন একটি মজার জিনিস হবে! ঋণাত্মক আয়নকে অ্যানোড এবং ধনাত্মক আয়নকে ক্যাথোড আকর্ষণ করবে!

তো কি হয় যখন আয়ন গুলো তড়িৎদ্বার এর কাছে আসে? দুই তড়িৎদ্বারে দুভাগে বিক্রিয়া সম্পন্ন হবে – ক্যাথোডে এবং অ্যানোডে।


তড়িৎ বিশ্লেষণের ক্রিয়াকৌশল

এবার দেখে নাও আসলে কিভাবে এই তড়িৎ বিশ্লেষণ হচ্ছে

দেখি ধারণা করতে পারো নাকি নিচের কোনটিতে কোন বস্তুটি হবে?

এখন গাব্বুর মনে কিছু প্রশ্ন জেগেছে। দেখোতো নিচের কার্ডগুলো তার উত্তর দিতে পারে কিনা!


তড়িৎ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ামক থাকে যারা তড়িৎ বিশ্লেষণে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এর ফলে দেখা যায় অ্যানোডে অথবা ক্যাথোডে ভিন্ন ভিন্ন মৌল জমা হয়েছে!

তো এমন কখন হবে? আর নিয়ামকগুলোই বা কি? নিচের চিত্রে ক্লিক করে আমরা তা বুঝে নিই চলো-

এভাবে নিয়ামক পরিবর্তন সাপেক্ষে ক্যাথোড কিংবা অ্যানোডে কি পাচ্ছি তাও পরিবর্তিত  হতে পারে! গাব্বু তাই যেভাবে সেভাবে এক্সপেরিমেন্ট করতে পারবে না। ভেবেচিন্তে করতে হবে তাকে সব পরীক্ষা!

রসায়নের অনেক মজার মজার জিনিস আমরা এই সাধারণ তড়িৎ বিশ্লেষণ এর মাধ্যমেই দেখতে পারি! এই যে তড়িৎদ্বারে কোন বস্তুটি আগে আসবে তা কিন্তু সক্রিয়তা সিরিজের উপরও নির্ভর করে; এ সম্পর্কে জানতে নিচের স্মার্টবুকটি থেকে ঘুরে আসো দেখি! [ লিংক – ধাতুর সক্রিয়তা সিরিজ ও সক্রিয়তা পরীক্ষা-র স্মার্টবুকের ]

এছাড়া এ অধ্যয় সম্পর্কে ভালভাবে জানতে দেখে আসতে পারো এই ভিডিওটি-