Uncategorized

তড়িৎ পরিবাহী ও প্রকারভেদ, তড়িৎ বিশ্লেষ্যের পরিবাহিতা ও প্রকারভেদ

Supported by Matador Stationary

আসিফদের এলাকায় স্কুল থেকে বাজারে যাওয়ার পথে একটা জায়গা পড়ে। কিছুটা গাছে ঢাকা, একটু অন্ধকার। এমনিতে জায়গাটা বেশ ব্যস্ত। সবসময়ই লোকের আনাগানো থাকে। কিন্তু ঐ নির্দিষ্ট জায়গাটির পাশ দিয়ে পেরোতেই নাকাল সবাই। নাক মুখ চেপে কোনভাবে পার হতে হয় ঐ পথটুকু। কারণটা কি ধরতে পেরেছো? হ্যাঁ, দুর্গন্ধ!! জায়গাটাকে অলিখিত পাবলিক টয়লেটে পরিণত করেছে কিছু মানুষজন।

বাকিরা তো নাক মুখ চেপে যাতায়াত করেই খালাস। কিন্তু জায়গাটা আসিফদের বাসার একেবারে কাছে হওয়ায় বারান্দায় সবসময় থাকতো দুর্গন্ধ। অনেকদিন ধরে “এখানে প্রস্রাব করিবেন না” লেখাটায় যখন কোন কাজ হল না, আসিফ তার বন্ধুদের নিয়ে নতুন ফন্দি আটলো।

ব্যাপারটা কাজে লাগানোর পর একদিনের অপেক্ষা। মাঝে মাঝে কিছু “উহহুউ….” চিৎকারের শব্দ। তারপরই ম্যাজিকের মতো হয়ে গেল সমস্যার সমাধান।

যারা ‘থি ইডিয়টস’ ছবিটি দেখেছো, তারা নিশ্চয়ই এতোক্ষণে ধরে ফেলেছো আসিফদের বুদ্ধিটা। যারা ধরতে পারো নি, তাদের জন্যেও কোন সমস্যা নেই। খোলাসা করছি… তবে তার জন্য চলো শিখে আসি একটুখানি রসায়ন।

বিস্তারিত জানতে turn এ ক্লিক করো!



এখন ফিরে যাই আসিফদের ঘটনায়। সে জায়গাটিকে প্রস্রাব করার জন্য যারা বেছে নিয়েছিল, আসিফ তার বন্ধুদের মিলে তাদেরকে ইলেকট্রিক শক দেয়ার ব্যবস্থা করেছিল। কিভাবে? বুঝতেই পারছো, কোন তড়িৎ পরিবাহীর সাহায্য নিয়েছিল তারা। সেটি কিভাবে কাজ করেছিল তা জানবো। তার আগে চলো একটা ছোট্ট পরীক্ষা হয়ে যাক!   




ইলেকট্রনীয় পরিবাহীর শ্রেণীবিভাগ



তড়িৎ বিশ্লেষ্যের শ্রেণীবিভাগ


তোমরা হয়তো ভাবছো ১০% বা ৯০% আয়নিত হওয়া বলতে কি বোঝায়। উপরের ছবিটিতে দেখো, পানির দ্রবণে নাইট্রিক এসিড ভেঙে এর ঋণাত্বকধনাত্বক অংশ আলাদা হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে ঋণাত্বক আয়নধনাত্বক আয়ন এখন ১০০ অণু নাইট্রিক এসিডের মধ্যে ৯০টি অণু আয়নিত হলে, অর্থাৎ এভাবে ভেঙে ধনাত্বক ও ঋণাত্বক আয়ন তৈরী করলে তাকে আমরা বলবো ৯০% আয়নিত। নাইট্রিক এসিডের মতো সবল তড়িৎ বিশ্লেষ্যের ক্ষেত্রে এই আয়নিত হওয়ার পরিমাণ সাধারণত অনেক বেশি। কিন্তু এসিটিক এসিডের ক্ষেত্রে তা অনেক কম। কারণ এটি একটি জৈব এসিডপোলার সমযোজী যৌগের বেলায়ও একই ঘটনা ঘটে। তাই এরা দূর্বল তড়িৎ বিশ্লেষ্য। এছাড়া, যেসব যৌগ পানিতে আয়নিত হয় না, তাদের তড়িৎ অবিশ্লেষ্য নামে ডাকা হয়। যেমনঃ চিনির দ্রবণ, [হাইড্রোকার্বন] ইত্যাদি।

এবার ফিরে যাই আসিফদের ঘটনায়। মানুষের মূত্র বিভিন্ন তড়িৎ বিশ্লেষ্যের দ্রবণ। এখন এই তড়িৎ বিশ্লেষ্য দিয়ে যদি তড়িৎ প্রবাহিত করা যায়, তাহলেই ঘায়েল হবে জায়গাটি নোংরাকারী লোকেরা। কিন্তু তড়িতের উৎস কি হবে? বুঝতেই পারছো বন্ধুরা, এর জন্য প্রয়োজন হবে ইলেকট্রনীয় পরিবাহীর। তাই জায়গাটিতে কিছু বড় লোহার পাত রেখে সেটির সাথে তার দিয়ে ব্যাটারি সংযোগ দিয়ে রেখেছিল আসিফ আর তার বন্ধুরা। ফলাফল বিদ্যুৎ পরিবহন আর ইলেকট্রিক শক!
এবার পরিষ্কার হয়ে গেছে ব্যাপারটা? তড়িৎ পরিবাহী নিয়ে তোমার কনসেপ্ট কতটা পরিস্কার হল তা পরীক্ষা করতে জলদি মিলিয়ে ফেলো নিচের কুইজটি!



তড়িৎ বিশ্লেষ্যের এই তড়িৎ পরিবহন করার ক্ষমতার নাম তড়িৎ পরিবাহিতা। এটি পরিমাপ করা যায়। ধরো, আসিফ সেই জায়গাটি দিয়ে যেভাবে চলাচল করে, আয়নগুলোও গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তেমনি চলাচলের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ ঘটায়।

এখন চলাচলের সময় তো রাস্তা ফাঁকা থাকে না, আরো মানুষ চলাচলের জন্য ভীড় আর এই ভীড় থেকে ধাক্কাধাক্কির সৃষ্টি হয়, তাই না? এখন আসিফ তত ভালো চলাচল করতে পারবে, রাস্তায় এই ধাক্কাধাক্কির পরিমাণ যত কম হবে। তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে আয়ন চলাচলের ক্ষেত্রেও তড়িৎ পরিবহনের বিরুদ্ধে এক প্রকার বাঁধার সৃষ্টি হয়। এই বাঁধার নাম রোধ। এর একক ohm (ওহম)।

তড়িৎ পরিবাহিতা, রোধের ব্যস্তানুপাতিক। তড়িৎ বিশ্লেষ্যের রোধ R এবং পরিবাহিতা L হলে,

L=1/R

এই কারণে তড়িৎ পরিবাহিতার একক ও রোধের এককের উলটো। অর্থাৎ, Ohm-1 বা Siemens (S)।

তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণের মধ্যে ওহমের সূত্র মেনে চলে। কঠিন বস্তুর বিদ্যুৎ পরিবহনের ধর্ম সম্পর্কে ধারণা পেতে সাধারণত রোধ পরিমাপ করা হয়। কিন্তু তড়িৎ বিশ্লেষ্যের জন্য মাপা হয় পরিবাহিতা। এ সম্পর্কে আমরা আরো জানবো। দেখবো তড়িৎ কোষ কিভাবে কাজ করে। তার জন্য 10 Minute School এর পরবর্তী স্মার্টবুকগুলোতে চোখ রেখো। আর বিদায় নেবার আগে নিচের কুইজটি থাকছে তোমার জন্য। শুভকামনা!


সত্য মিথ্যা নির্ণয় করো


প্রিয় শিক্ষার্থীরা, এরই সাথে এখানে শেষ করছি আমাদের এই স্মার্টবুকটি। তোমাদের জানার পরিধি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারলেই আমাদের এই স্বল্প প্রয়াস হবে সার্থক। Never stop Learning!