Uncategorized

ন্যানো পার্টিকেল ও ন্যানো প্রযুক্তি

Supported by Matador Stationary

হাইলাইট করা শব্দের উপর মাউসের কার্সর ধরতে হবে । মোবাইল ব্যবহারকারীরা শব্দগুলোর উপর স্পর্শ করো।

খুবই গুরুত্বপূর্ণ আর গোপন একটা মিশনে নেমেছ তুমি। তোমার গোয়েন্দাবাহিনীকে নিয়ে এক মুহূর্ত দেরি না করে চলে গেলে ধূ ধূ এক মরুভূমিতে যেখানে শত্রুপক্ষ আমাদের সরকারের মহামূল্যবান একটা দলিল লুকিয়ে রেখেছে। যাবার পথে গ্যালন গ্যালন পানি নিয়ে গেলে খাবার জন্য। ওমা! তুমি যে ভেবেছিলে মরুভূমিতে পানির অনেক সংকট! এখানে যে পুরোই উল্টো! “ওয়াটার হারভেস্টর”নামক একটি যন্ত্র তোমাদের তাঁবু থেকে কিছু দূরেই বসানো হয়েছে যার মাধ্যমে সেখানকার পানি সমস্যা দূর করেছে স্থানীয়রা! কি তাজ্জব ব্যাপার! আর এই যন্ত্রটি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে ন্যানো পার্টিকেল এবং এই বিষয়টি আসলে ন্যানো প্রযুক্তির অন্তর্গত!
স্কেল অনুযায়ী, 1 m= 10⁻⁹nm

ন্যানো কণা নিয়ে আরো কিছু খুঁটিনাটি

১)যদি একটা বস্তুর কেবল দৈর্ঘ্য থাকে, তখন তাকে বলি একমাত্রিক; দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ থাকলে বলি দ্বিমাত্রিক, দৈর্ঘ্য,প্রস্থ এবং উচ্চতা থাকলে তাকে বলি ত্রিমাত্রিক। এবড়োথেবড়ো একটা বস্তুও কিন্তু ত্রিমাত্রিক হয় সে তো জানই! কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, ন্যানো কণার আকার এত ছোট যে, একে বলা হয় শূন্যমাত্রিক।

উপরের ছবিটি ন্যানো গোল্ডের। ন্যানো গোল্ডের মতই ন্যানো কণাগুলো অনিয়তাকার অর্থাৎ নির্দিষ্ট আকার নেই। আমরা ছবিতে দেখতে পাচ্ছি,অসংখ্য পরমাণু নিয়মিত ও সুবিন্যস্ত গঠন কাঠামোর মাঝে আবদ্ধ থাকে। এটি বাল্ক উপাদান জাতীয় পদার্থ। আচ্ছা তোমাদের মনে কী প্রশ্ন আসছে? বাল্ক উপাদান আসলে কী? উমমম! আমার তো আসছে!

প্লাস্টার, সিমেন্ট, বালি প্রভৃতিকে বাল্ক উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আবার আমরা কাঁচামাল চিনি, লবণ, ময়দা প্রভৃতিকেও বাল্ক উপাদান হিসেবে বিবেচনা করি। বাল্ক উপাদান বিচ্ছিন্ন কণার মতও হতে পারে আবার ইন্টিগ্রেটেড বা নিরবচ্ছিন্ন পদার্থের মতও হতে পারে। সিমেন্ট বা তেলের মত বাল্ক উপাদানগুলোকে পরিমাপ করা হয় সাধারণত আয়তন দিয়ে এবং খনিজ লবণ জাতীয় বাল্ক উপাদানকে ভর দিয়ে।

ন্যানো কণার বিচ্ছুরণ করার ক্ষমতাও কিন্তু তুলনামূলক বেশি। ন্যানো কণা উচ্চ আপেক্ষিক তাপ, চৌম্বক আচরণ, বর্ধিত যান্ত্রিক শক্তি প্রভৃতি ধর্মসম্পন্ন হয়।

ন্যানো কণা তার আণবিক এবং পারমাণবিক গঠনের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি করে। তোমরা নিশ্চয়ই জানো, একটি মৌলের পরমাণুর আকার হচ্ছে তার পারমাণবিক ব্যাসার্ধ (নিউক্লিয়াস থেকে শেষ যোজনী শেল পর্যন্ত দূরত্ব)। এখানে একটি কথা না বললেই নয়,

কোনো অণুর আকার> ন্যানো পার্টিকেল এর আকার> কোনো পরমাণুর আকার

সেজন্য ন্যানো পার্টিকেলকে বলা হয় অণু-পরমাণুর সেতুবন্ধন

আয়তনের তুলনায় এদের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল অনেক বড়। যেমন: একটা 1 mm³ আয়তনের 1 kg ভরের সোনার পৃষ্ঠতলের পরিমাপ যতটুকু, 1 nm³ আয়তনের 1 mg ভরের ন্যানো কণার পৃষ্ঠতলের পরিমাপও ততটুকু।

তোমরা অনেকেই পৃষ্ঠতল শব্দটা নিয়ে ভাবছ। ধর, তোমার কাছে একটা রুবিক কিউব আছে। রুবিক কিউবের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল হচ্ছে তার ছয়টি পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফলের যোগফল(6) অর্থাৎ পুরো সারফেস বা পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল যাকে বলছি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ন্যানো পার্টিকেলের আকার এত ছোট যে পুরো পার্টিকেলটাই তার পৃষ্ঠতল। একটা পদার্থ আরেকটা পদার্থের সাথে বিক্রিয়া করলে সেই বিক্রিয়া কিন্তু পৃষ্ঠতলেই সংঘটিত হয়। সে কারণেই ন্যানো পার্টিকেল রাসায়নিক ভাবে সাধারণ পদার্থের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয়। অনেক পদার্থ আছে যারা সাধারণত নিষ্ক্রিয় কিন্তু তাদের ন্যানো পার্টিকেল আবার সক্রিয় হয়। আমরা জানি, বস্তু যত বেশি ছোট হবে, তার শোষণ ক্ষমতাও তত বেশি হবে। তাই ন্যানো কণার বিকিরণ শোষণ করার মাত্রা অনেক বেশি।

সাইজ যেমনই হোক না কেন, ফিজিক্যাল ধর্মগুলো সাধারণত বাল্ক জাতীয় পদার্থের জন্য অপরিবর্তিত থাকে। কিন্তু ন্যানো স্কেলে দেখা যায়, আকার ছোট হওয়ার ফলে ওই পদার্থের ফিজিক্যাল বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আসে। এই যেমন ধর, কপার ন্যানো কণা। সাধারণত কপার ধাতু নরম কিন্তু ন্যানো স্কেলে কপার গ্রাফাইটের চেয়েও শক্ত আচরণ করে।
আকার এবং আকৃতি কিন্তু ভিন্ন বিষয়। আকার পরিমাপ করে নির্ণয় করি। কিন্তু আকৃতি হল বস্তুটি দেখতে কেমন (গোলাকৃতি, বর্গাকৃতি প্রভৃতি) তা। পরমাণুর আকৃতি আমরা গোলাকৃতি বিবেচনা করি। বিভিন্ন অণুর আকার বিভিন্ন রকম। যেমন: CO₂ সরলরৈখিক,  NH₃ ত্রিভুজীয়।

শিল্পে ন্যানো পার্টিকেলের সম্ভাবনা:

(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করো আর জেনে নাও সব বিস্তারিত

আমাদের মায়েরা যে চমৎকার সব গয়না পরেন, সেসবের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি, কিংবা ব্যবহার্য তৈজসপত্রের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি সেসবেও ন্যানো প্রযুক্তির অবদান রয়েছে। ন্যানো প্রযুক্তি হররোজ বিজ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এখন কথা হচ্ছে আমরা সেটিকে মানবকল্যাণে কাজে লাগাব নাকি কোনো বিধ্বংসী কাজে। তোমাদের উপরেই ছেড়ে দিলাম! আজকে তাহলে এ পর্যন্তই!

  Never Stop Learning!