Uncategorized

পৌষ্টিকনালি, যকৃত, অগ্ন্যাশয়

Supported by Matador Stationary

আমাদের মধ্যে খেতে ভালোবাসিনা এমন কি কেউ আছি?

উত্তর টা হবে অবশ্যই না। পৃথিবীতে সকল মানুষেরই প্রিয় একটা কাজ হলো খাওয়া। যে মাছ খেতে পছন্দ করে না, সে হয়ত মাংস খেতে পছন্দ করে। আবার কেউ কেউ হয়ত অন্য কিছু খেতে পছন্দ করে।

বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই খাবার মুখে দেয়ার পরই আমাদের কাজ শেষ। ভেতরে যে কত ধরণের ক্রিয়া বিক্রিয়া হয় সেটা কারো খেয়াল রাখার সময় নেই।

আজকে আমরা খাবার খাওয়ার পর তা যে যে রাস্তা দিয়ে যায় সেটা আলোচনা করব আর খাবারের উপর কয়েকটা অঙ্গের প্রভাব দেখব। পরবর্তী স্মার্টবুকে খাবার কিভাবে পরিপাক হয় সেটা দেখব।

চলে আসি পড়ায়।

পরিপাকের সংজ্ঞা: যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় মানুষের পৌষ্টিকনালির ভেতরে গৃহীত জটিল, অদ্রবণীয়, অশোষনীয় খাদ্য উপাদানসমূহ হরমোনের প্রভাবে নির্দিষ্ট এনজাইমের সহায়তায় সরল, দ্রবণীয় ও তরল খাদ্যসারে পরিণত হয়ে দেহকোষের শোষণ উপযোগী হয় তাকে পরিপাক বলে।

কেউ কিছু বুঝছ নাকি? ভয় পাওয়ার দরকার নেই। ফর্মালিটি বজায় রাখতেই এই সংজ্ঞা।

খাবার খাওয়ার পর সেটা শরীরে বিভিন্ন ধরণের সরল অণুতে কনভার্ট হয়ে যায়। এটাকে পরিপাক বলে। আর এই সরল অণু রক্তে  প্রবেশ করার প্রক্রিয়াকে শোষন বলে।

পরিপাক ২ প্রকার। যান্ত্রিক এবং রাসায়নিক

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়


ড্রপ ডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


“মুখ থেকে পায়ুপথ” পর্যন্ত এই পুরো পথকে বলা হয় পৌষ্টিকনালী বা অ্যালিমেন্টারি ক্যানেল (Alimentary Canal)।

পৌষ্টিকনালি অনেকগুলো অংশে বিভক্ত। অংশগুলো ক্রমান্বয়ে নিম্নরুপ :


মুখগহ্বর (Mouth cavity)


হাইলাইট করা শব্দগুলোর উপর মাউসের কার্সর ধরতে হবে। মোবাইল ব্যবহারকারীরা শব্দগুলোর উপর স্পর্শ করো।

মুখগহ্বর পৌষ্টিকতন্ত্রের প্রথম অংশ। মুখগহ্বরে খাদ্য দুইভাগে পরিপাক হয়।

রাসায়নিক পরিপাক: মুখগহ্বরের রাসায়নিক পরিপাক করে লালারস (Saliva)। মানুষের মুখগহ্বরে তিনজোড়া লালাগ্রন্থি থাকে।
→ লালাগ্রন্থিগুলো থেকে লালারস নিঃসৃত হয়।
→ প্রতিদিন গড়ে ১০০০-১৫০০ মিলিলিটার লালাক্ষরণ হয়।
→ লালারসের Ph=৬.৪-৬.৮
→ লালারসের প্রায় ৯৫.৫% ই পানি।
→ বাকী .৫% এ টায়ালিন এবং লিঙ্গুয়াল লাইপেজ নামে এনজাইম থাকে।
→ এছাড়াও কিছু রোগপ্রতিরোধকারী কিছু ফ্যাক্টর এবং কিছু আয়ন থাকে।
→ এনজাইমের মধ্যে টায়ালিন অ্যামাইলোলাইটিক এবং লিঙ্গুয়াল লাইপেজ লাইপোলাইটিক এনজাইম। টায়ালিনের অন্য নাম স্যালাইভারি আলফা অ্যামাইলেজ।

যান্ত্রিক পরিপাক: মুখগহ্বরের যান্ত্রিক পরিপাক করে দাঁত এবং জিহ্বা। খাদ্যদ্রব্যেকে এনজাইমের সাথে মেশানোই হলো যান্ত্রিক পরিপাক।
দাঁত খাবারকে ছোট ছোট টুকরায় পরিণত করে। জিহ্বা সেই ছোট ছোট টুকরাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে লালারসের সাথে মিশিয়ে মন্ড তৈরি করে। এরপর জিহ্বা খাবারের মন্ড কে নিচে খাদ্যনালীতে ঠেলে দেয়



অন্ননালী (Esophagus)


অন্ননালী দেখতে টিউবের মত। মুখ থেকে খাবারকে পাকস্থলীতে নিয়ে যাওয়াই অন্ননালীর কাজ।


পাকস্থলী (Stomach)


পাকস্থলী দেখতে থলের মত। এটি বাম ফুসফুসের নিচে অবস্থান করে। পাকস্থলী উপরের দিকে অন্ননালীর সাথে যুক্ত আর নিচের দিকে ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামের সাথে যুক্ত।

পাকস্থলীতে খাদ্যের যান্ত্রিক এবং রাসায়নিক পরিপাক উভয়ই হয়।


পাকস্থলীতে যান্ত্রিক পরিপাক


পাকস্থলীতে এসে খাবার অনেক্ষণ অবস্থান করে (প্রায় ২-৬ ঘন্টা)। যেহেতু পাকস্থলী পেশী দ্বারা গঠিত, যখনই পেশীগুলো সংকুচিত হয় পাকস্থলীর ”গ্যাস্ট্রিক জুসের” সাথে খাদ্যবস্তু মিশে মন্ড বা কাইম গঠন করে।


পাকস্থলীতে রাসায়নিক পরিপাক


পাকস্থলীর প্রাচীরে অনেকগুলো গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থাকে (গ্যাস্ট্রিক =পাকস্থলী)। এই গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে গ্যাস্ট্রিক জুস নিঃসৃত হয়।

গ্যাস্ট্রিক জুসে থাকে HCl এসিড, কিছু আয়ন এবং প্রোটিওলাইটিক ও লাইপোলাইটিক এনজাইম এবং ইনট্রিনসিক ফ্যাক্টর।

এখানে একটি কথা আবার বলছি, পাকস্থলী কোন অ্যামাইলোলাইটিক এনজাইম থাকেনা।

→ প্রোটিওলাইটিক এনজাইম হিসেবে পেপসিনোজেন এবং প্রোরেনিন থাকে যা সাধারণত নিষ্ক্রিয় থাকে। তাই এদের জাইমোজেন (কারণ এরা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় নিঃসৃত হয় এবং পরে অন্য পদার্থের সংস্পর্শে সক্রিয় হয়) বলা হয়। নিঃসৃত হওয়ার পর HCl এর সংস্পর্শে এরা যথাক্রমে পেপসিন এবং রেনিন নামক সক্রিয় এনজাইমে পরিণত হয়।

→ লাইপোলাইটিক এনজাইম হিসেবে থাকে গ্যাস্ট্রিক লাইপেজ।


সত্য মিথ্যা যাচাই করো





ক্ষুদ্রান্ত্র (Small Intestine)


পাকস্থলীর নিচ প্রান্ত থেকে শুরু হয়। দেখতে প্যাঁচানো টিউবের মত। ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাককৃত খাবারের ৯০% ই শোষন হয়।

ক্ষুদ্রান্ত্র তিনটি অংশে বিভক্ত।
ডিওডেনাম: পিত্তনালী এবং অগ্ন্যাশয়নালী ভ্যাটার অব অ্যাম্পুলা নামক নালী দ্বারা ডিওডেনামে প্রবেশ করে।
পিত্তনালী দিয়ে পিত্তরস (Bile) এবং অগ্ন্যাশয়নালী দিয়ে অগ্ন্যাশয় রস নিঃসৃত হয়।
জেজুনাম
ইলিয়াম: ক্ষুদ্রান্ত্রে প্যারিস্টালসিস নামক একপ্রকার চলন হয় যা খাবারকে সামনের দিকে যাত্রা করায়।
ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে আন্ত্রিক রস (succus entericus) নামক রস নিঃসৃত হয়।

সাক্কাস এন্টিরিকাসে অ্যামাইলোলাইটিক, প্রোটিওলাইটিক, লাইপোলাইটিক তিন ধরণের এনজাইম-ই থাকে।

অ্যামাইলোলাইটিক
প্রোটিওলাইটিক
লাইপোলাইটিক


বৃহদন্ত্র (Large intestine)


ক্ষুদ্রান্ত্রের ইলিয়ামের শেষ প্রান্ত থেকে বৃহদন্ত্র শুরু হয়। বৃহদন্ত্রের আবার কয়েকটি অংশ রয়েছে।

(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


বৃহদন্ত্রের মিউকোসা স্তরে অবস্থিত গবলেট কোষ মিউকাস ক্ষরণ করে যা বৃহদন্ত্রের অন্তর্ভাগকে পিচ্ছিল রাখে।

বৃহদন্ত্রেও প্যারিস্টালসিস চলন হয় যা ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে আগত বর্জ্যকে মলাশয় অভিমুখী যাত্রা করায় (প্যারিস্টালসিস চলনের কাজই মূলত খাবারকে সামনের দিকে নিয়ে যায়)।

বৃহদন্ত্রে মোট পরিপাককৃত খাবারের বাকী ১০% শোষন হয়।

আর ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে আগত বর্জ্যে বিদ্যমান পানির প্রায় ৭০-৮০% অভিস্রবণের মাধ্যমে বৃহদন্ত্রে শোষিত হয়ে কঠিন মলের আকার ধারণ করে।

পরিপাক গ্রন্থি এবং তাদের কাজ


ড্রপ ডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


যকৃতের বিপাকীয় ভূমিকা


ড্রপ ডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


যকৃতের সঞ্চয়ী ভূমিকা


ড্রপ ডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


সঠিক উত্তরগুলোতে ক্লিক করো





অগ্ন্যাশয় (Pancreas)


অগ্ন্যাশয় দেখতে পাতার মত। অগ্ন্যাশয় ডিওডেনাম দিয়ে আবৃত থাকে। ডিওডেনামের সাথে লাগানো অংশকে মাথা বলে। এরপর দেহ, এবং সবশেষে লেজ।

অগ্ন্যাশয় একটি মিশ্র গ্রন্থি। অর্থাৎ এর বহিঃক্ষরা এবং অন্তক্ষরা উভয় কোষই রয়েছে।

অগ্ন্যাশয়ের ঠিক মাঝখানে করে একটি নালী থাকে। এটাকে প্যানক্রিয়াটিক ডাক্ট (Pancreatic duct) বলে। এই অগ্ন্যাশয় নালী দিয়ে এনজাইম ডিওডেনামে আসে।


অগ্ন্যাশয়ের বহিঃক্ষরা অংশ


এই এনজাইমগুলো ছাড়াও প্যানক্রিয়াটিক জুসে বাইকার্বনেট আয়ন (ক্ষারীয়) থাকে যা পাকস্থলী থেকে আসা অম্লীয় কাইমকে প্রশমিত করে ফেলে যেন এনজাইম এখানে কাজ করতে পারে।


অগ্ন্যাশয়ের লেজের দিকে আবার অন্তক্ষরা কিছু কোষ থাকে। এদের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস (ILET’S of langerhans) বলে। অন্তঃক্ষরা কোষ থেকে হরমোন নিঃসৃত হয়। আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানসে মোট ৪ ধরণের কোষ থাকে।


অগ্ন্যাশয় নিঃসৃত হরমোন সমূহ



সঠিক উত্তরে ক্লিক করো


পরিপাকে স্নায়ুতন্ত্র ও হরমোনের ভূমিকা


পরিপাক রস বা পাচক রস গুলো কিন্তু নিজে নিজে ক্ষরিত হয় না। কেউ তাদের ক্ষরণ হওয়া বা না হওয়াটা নিয়ন্ত্রণ করে। এই কেউ-ই হলো কিছু হরমোন আর স্নায়ু।

ধাপে ধাপে চলো পরিপাক রস কিভাবে ক্ষরিত হয় দেখে আসি:

ড্রপ ডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


এক নজরে চলো সব হরমোনের কাজ দেখে নিই: